Showing posts with label বিএনপি. Show all posts
Showing posts with label বিএনপি. Show all posts

২০১৫-এই ছিল সরকার পতনের এক দফা; তারেক রহমানের সেই প্রতিজ্ঞা আজ বাস্তব

 


২০১৫-এই ছিল সরকার পতনের এক দফা

তারেক রহমানের সেই প্রতিজ্ঞা আজ বাস্তব

২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি। লন্ডনে এক মিডিয়া ব্রিফিং। বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন—শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন তাঁর দেশে ফেরার শর্ত নয়। সুযোগ এলেই তিনি ফিরবেন। অন্য কোনো পথ ধরবেন না। তিনি ভয়ে দেশের বাইরে নেই। দেশের মানুষের সঙ্গে আন্দোলনে আছেন। নিরীহ মানুষের ক্ষতি করে নয়, বরং দমন-পীড়নের কবল থেকে মানুষকে মুক্ত করে অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তিনি থাকবেন। আন্দোলনের পথ ছেড়ে তিনি ফিরবেন না।

প্রথম আলো সেদিনের সেই সংবাদ প্রকাশ করেছিল। অনেকে তখন ভেবেছিলেন, এটি শুধু তাঁর ব্যক্তিগত প্রত্যাবর্তনের কৌশল। কিন্তু গভীরে তাকালে দেখা যায়—তারেক রহমান সেদিনই এক দফা দাবি রেখেছিলেন। সেই দাবি ছিল সরকারের পতন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, ক্ষমতার সাথে আপস করে বা আন্দোলনের পথ ত্যাগ করে তিনি দেশে ফিরবেন না। সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। মানুষকে দমন-পীড়ন থেকে মুক্ত করতে হবে। সেই সংগ্রামের মধ্য দিয়েই সুযোগ তৈরি হবে।

এখানেই ২০১৫ সালের সেই বক্তব্যের আসল তাৎপর্য। তিনি শুধু ‘ফিরব’ বলেননি। বলেছিলেন—আন্দোলনের পথ ধরেই ফিরব। অর্থাৎ সরকারের পতন ছাড়া, জনগণের বিজয় ছাড়া তিনি ফিরবেন না। এটিই ছিল তাঁর এক দফা।

সেই এক দফা আজ বাস্তব হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। মামলাগুলো খারিজ হয়। আইনি বাধা সরে যায়। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর, ১৭ বছরের নির্বাসনের পর তারেক রহমান লন্ডন থেকে ঢাকায় ফিরে আসেন। হাজার হাজার সমর্থকের সংবর্ধনায় তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন। কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর মা খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির জয়ের পর তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

১১ বছর আগে তিনি যা বলেছিলেন, আজ তা সত্যি প্রমাণিত। তিনি কখনোই বলেননি যে শেখ হাসিনার পদত্যাগ তাঁর ফেরার শর্ত। তিনি বলেছিলেন—আন্দোলনের পথ ছেড়ে ফিরব না। সুযোগ এলেই ফিরব। সেই সুযোগ এসেছিল জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। তিনি সেই পথেই ফিরেছেন। কোনো আপস করেননি।

দীর্ঘদিন ধরে প্রচার করা হয়েছিল—তারেক রহমান কেবল নিজের নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত স্বার্থে দেশের বাইরে আছেন। ২০১৫-এর সেই বক্তব্য সেই প্রচারণাকেই মিথ্যা প্রমাণ করে। তিনি বলেছিলেন, সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। আজ দেখা যাচ্ছে, তিনি সেই সংগ্রামের পথেই ফিরে এসেছেন।

এখন প্রশ্ন হলো—এই ফেরা কি কেবল একজন নেতার ব্যক্তিগত বিজয়? নাকি এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত? তারেক রহমান ফিরে এসে প্রতিশোধের রাজনীতির পরিবর্তে স্থিতিশীলতা ও সংস্কারের কথা বলছেন। তাঁর সরকার গঠনের পর এখন পর্যন্ত সেই ধারারই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

২০১৫ সালের সেই পুরনো খবর আজ নতুন করে পড়লে মনে হয়—তারেক রহমান সেদিনই এক দফা দিয়েছিলেন। সরকারের পতন। জনগণের মুক্তি। সংগ্রামের পথ। ১১ বছর পর সেই দফা বাস্তবায়িত হয়েছে। সুযোগ এসেছিল। তিনি ফিরেছেন।

© all rights reserved
made with by templateszoo