পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালিরা কীভাবে সেটেলার?


পার্বত্য চট্টগ্রাম বাঙালিরা কীভাবে সেটেলার?

পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেউ কেউ এমনভাবে উপস্থাপন করেন, যেন এটি কেবল ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের একান্ত ভূমি। বাঙালিদের সেখানে ‘সেটেলার’ বা অনধিকারী বলে আখ্যা দেওয়া হয়। এই বক্তব্যটি ইতিহাস, জনমিতি ও সংবিধান— কোনোটার সঙ্গেই মিলে না।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখানে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরাসহ বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ যেমন বসবাস করেন, তেমনি বাঙালিরাও দীর্ঘদিন ধরে এই পাহাড়ের বাসিন্দা। ২০২২ সালের জনশুমারি অনুসারে পার্বত্য তিন জেলার মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০.০৬ শতাংশই বাঙালি। অর্থাৎ সংখ্যায় তারা এখন অর্ধেকেরও বেশি বা প্রায় সমান। বান্দরবানে বাঙালিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, খাগড়াছড়িতেও তাদের অনুপাত বেশি। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে শুধু নৃ-গোষ্ঠীদের এলাকা বলার চেষ্টা সংবিধানবিরোধী।

বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট। দেশের যেকোনো নাগরিক যেকোনো স্থানে বসবাস, জমি ক্রয় ও জীবিকা নির্বাহের অধিকার রাখেন। পার্বত্য অঞ্চল এর ব্যতিক্রম নয়। কোনো এলাকাকে নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর একচেটিয়া সম্পত্তি বলে ঘোষণা করার কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিতে নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই চুক্তি বাঙালিদের অধিকার খর্ব করেনি বা তাদেরকে ‘বহিরাগত’ বলে চিহ্নিত করেনি।

তবুও কেন ‘সেটেলার’ শব্দটি এত জোরালোভাবে ব্যবহার করা হয়? এর পেছনে রয়েছে একধরনের রাজনৈতিক অবস্থান। ইতিহাসকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন বাঙালিরা হঠাৎ করে এসে পাহাড় দখল করেছে। বাস্তবতা ভিন্ন। পাহাড়ে বাঙালি বসতি অনেক পুরনো। ব্রিটিশ আমল থেকেই এখানে বাঙালিরা কৃষি, ব্যবসা ও প্রশাসনিক কাজে যুক্ত ছিলেন। স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির মাধ্যমে কিছু পরিবার এসেছে— এটা সত্য। কিন্তু সেটাকেই একমাত্র সত্য বলে উপস্থাপন করা এবং সব বাঙালিকে ‘অনধিকারী’ আখ্যা দেওয়া ইতিহাসের বিকৃতি।

যারা বাঙালিদের সেটেলার বলেন, তারা প্রশ্ন করেন না— নৃ-গোষ্ঠীগুলোই কি এই পাহাড়ের আদি বাসিন্দা? অনেক নৃ-গোষ্ঠীরই পূর্বপুরুষ বিভিন্ন সময়ে আরাকান, ত্রিপুরা বা অন্যান্য অঞ্চল থেকে এসেছেন। ইতিহাস জটিল। একপেশে বয়ান দিয়ে সত্য আড়াল করা যায় না।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি চাইলে বাস্তবতাকে স্বীকার করতে হবে। এখানে নৃ-গোষ্ঠী ও বাঙালি— উভয়েরই সমান অধিকার। একপক্ষকে ‘মূল’ আর অন্যপক্ষকে ‘সেটেলার’ বলে চিহ্নিত করা বিভাজন তৈরি করে। সংবিধান সব নাগরিককে সমান চোখে দেখে। জনমিতিও বলে, পাহাড় এখন আর শুধু এক গোষ্ঠীর নয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের। এখানে যারা নাগরিক, তারা সবাই এই মাটির অধিকারী।

আওয়ামী লীগের আদর্শ কী? কর্মীরা মার খাবে আর নেতারা পালিয়ে ফূর্তি করবে হোটেলে?


আওয়ামী লীগের আদর্শ কী? কর্মীরা মার খাবে আর নেতারা পালিয়ে ফূর্তি করবে হোটেলে? ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়ে, অন্যায় করে, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ টপ লিডাররা।

যারা ক্ষমতার মঞ্চে বসে নির্দেশ দিতেন, যারা আন্দোলন দমনে পুলিশ নামিয়েছিলেন, যারা ছাত্র-জনতার রক্তের দায় এড়াতে পারেননি— তাঁদের অধিকাংশই এখন বিদেশে। কেউ ভারতে, কেউ ইউরোপে, কেউ আরও দূরে। নিরাপদ দূরত্বে বসে তাঁরা এখন ‘ন্যায়ের’ কথা বলেন, ‘গণতন্ত্রের’ কথা বলেন।

আর যাঁরা এখনো দেশে বা কাছাকাছি আছেন, তাঁরা জনতার রোষের মধ্যেও ফূর্তি করছেন।

রোকেয়া প্রাচী তার একটা উদাহরণ। আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেত্রী। আন্দোলনের সময় সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এখন কলকাতার ওয়েস্টিন হোটেলে ছবি তুলছেন, এসি রুমে আরামে সময় কাটাচ্ছেন। আর দেশের ভেতরে যে কর্মীরা পুলিশের তাড়া খেয়ে লুকিয়ে আছে, যারা পরিচয় গোপন করে রিকশা চালাচ্ছে, যারা বাচ্চার দুধ কেনার টাকার জন্য রক্ত ঝরাচ্ছে— তাঁদের জন্য চোখের পানি ফেলছেন লাইভে।

এটা অন্যায়।

যারা ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা পালিয়ে নিরাপদ। আর যাঁরা এখনো আছেন, তাঁরা জনতার ক্ষোভের মধ্যেও বিলাসিতা উপভোগ করছেন। কর্মীরা যখন জীবন হাতে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছে, তখন নেতারা ফাইভ স্টারে ডিনার সেরে কফি হাতে বসে আছেন।

এই ব্যবধানটাই সবচেয়ে বড় অন্যায়। দেশের মানুষকে রক্তাক্ত করে, কর্মীদের বিপদের মধ্যে ফেলে, নিজেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফূর্তি করা— এটা কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না। নাকি এটাই আওয়ামী লীগের আদর্শ?

সারজিস ও পাটোয়ারী কি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত ডেকে আনছেন?


সারজিস ও পাটোয়ারী কি ইচ্ছাকৃতভাবে সংঘাত ডেকে আনছেন?

হবিগঞ্জের আজকের ঘটনায় সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী আহত হয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। এনসিপির ‘জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির পর ছাত্রদলের হামলার অভিযোগ উঠলেও অনেকে মনে করছেন, সারজিস ও পাটোয়ারী নিজেরাই এ ধরনের সংঘাতকে ইচ্ছাকৃতভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন বা উস্কে দিচ্ছেন। 

তারা এনসিপির মাঠপর্যায়ের প্রধান মুখ হিসেবে প্রায়ই বিএনপির শক্ত ঘাঁটিতে গিয়ে তীব্র ভাষায় পুরনো রাজনীতি, দুর্নীতি ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থানের সমালোচনা করেন। হবিগঞ্জেও একই ধরনের বক্তব্যের পর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সমালোচকদের মতে, তারা জানেন যে এমন আক্রমণাত্মক কর্মসূচি স্থানীয় উত্তেজনা তৈরি করবে, তারপরও তারা সেখানে যান। হামলা হলে তারা নির্যাতিত বিপ্লবী হিসেবে ইমেজ পান, যা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় এবং তাদের সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ ও ঐক্য বাড়ায়। 

আগের ঘটনাগুলোতেও একই নজির দেখা গেছে। ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন জেলায় অনুরূপ হামলার পর তারা দ্রুত ছাত্রদলকে দায়ী করে মিডিয়ায় চলে যান। এছাড়াও সরকারকে দোষারোপের রাজনীতিতে তারা অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপির নেতৃত্ব থেকে আসা “সহিংসতা চাইলে আমরাও পারি” জাতীয় বক্তব্য সংঘাতকে আরও উস্কে দেয় বলে অভিযোগ। নতুন দল হিসেবে জনপ্রিয়তা বাড়াতে এ ধরনের দৃশ্যমান সংঘাত তাদের কাছে রাজনৈতিক ব্র্যান্ডিংয়ের অংশ হয়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণ কোন্দল ঢাকতেও বাইরের সংঘাতকে কাজে লাগানো হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সারজিস ও পাটোয়ারী জেনেশুনে প্ররোচনা দিয়ে হামলা ডেকে আনছেন। শান্তিপূর্ণ রাজনীতি করতে চাইলে তারা এত তীব্র আক্রমণাত্মক কর্মসূচি করতেন না। তবে সংঘাত একপাক্ষিক নয়। এমনও হতে পারে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সহ অন্যান্য ছাত্রসংগঠনও নতুন শক্তির উত্থান মেনে নিতে পারছে না। 

তবু প্রশ্ন থেকেই যায়। সারজিস ও পাটোয়ারী যদি জেনেশুনে উত্তেজনা তৈরি করেন, তাহলে তারা আসলেই দেশ গড়ার রাজনীতি করছেন, নাকি সংঘাতকে পুঁজি বানিয়ে ক্ষমতার খেলায় নেমেছেন? জনগণের চোখে এই ন্যারেটিভ কতদূর গ্রহণযোগ্য হবে, সময়ই বলে দেবে। যদি এভাবে চলতে থাকে, তাহলে এনসিপি সংস্কারের দল না হয়ে সংঘাতের দল হয়ে যাবে।

মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়ন: সমাজ কি চুপ থাকবে?


 মাদ্রাসায় শিশু নিপীড়ন: সমাজ কি চুপ থাকবে?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক ভয়াবহ চিত্র ভাইরাল হচ্ছে। কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষক ছোট ছোট শিশুদের বেধড়ক প্রহার করছেন—ভিডিওতে দেখা যায় নিরীহ শিশুদের কান্না, চিৎকার, আর নির্যাতনের দৃশ্য। আরেক জায়গায় শিক্ষক শিশুর মুখে বেত ঢুকিয়ে নির্যাতন করে নিজেই ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন, ক্যাপশনে লেখেন—‘পিচ্চি পোলাপানকে কান্না করাতে ভালোই লাগে’। নরসিংদীতে সাত বছরের শিশুকে গোসল করতে অনীহা প্রকাশের অজুহাতে এমন মারধর করা হয় যে শরীরে গভীর ক্ষত আর রক্তপাত হয়। পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, লক্ষ্মীপুর, সাভার—একের পর এক মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠছে। শিক্ষকরা পালিয়ে যাচ্ছেন, শিশু নিখোঁজ হচ্ছে।

এসব চিত্র দেখেও সমাজ কি চুপ থাকবে?

ধর্মের নামে, শিক্ষার নামে এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে হাজার হাজার শিশু আশ্রয় নেয়। গরিব পরিবার তাদের সন্তানকে পাঠায় এই ভরসায় যে সেখানে ধর্মীয় শিক্ষা পাবে, খাবার-থাকার ব্যবস্থা হবে। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় সেই মাদ্রাসা পরিণত হয়েছে নির্যাতনের কেন্দ্রে। শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নিপীড়ন, এমনকি যৌন নির্যাতন—এসব এখন আর গোপন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রমাণ করে দিচ্ছে কতটা ভয়াবহ পরিস্থিতি।

তবু সমাজ নীরব। কেউ বলে ‘সব মাদ্রাসা এক নয়’। কেউ বলে ‘এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। কেউ আবার সালিশের নামে মীমাংসা করে দায় এড়ায়। প্রশাসনও অনেক সময় ধীরগতির, মামলা হলেও আপস হয়ে যায়, অভিযুক্তরা ছাড়া পেয়ে যায়। ফলে নির্যাতনকারীরা সাহস পায় আরও। শিশুরা ভয় পেয়ে মুখ বন্ধ রাখে। পরিবারগুলো লজ্জায় বা চাপে নীরব থাকে।

এই নীরবতাই সবচেয়ে বড় অপরাধ। শিশু নির্যাতন কোনো ধর্মের অংশ নয়, কোনো শিক্ষা ব্যবস্থার অংশ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। যে সমাজ শিশুর কান্না শুনেও চোখ বন্ধ করে রাখে, সে সমাজ নিজেই অসুস্থ। যে রাষ্ট্র শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, সে রাষ্ট্র ব্যর্থ।

এখন আর চুপ থাকার সময় নেই। মাদ্রাসাগুলোতে কঠোর মনিটরিং চাই। নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। শিশু সুরক্ষা আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ চাই। ধর্মীয় নেতৃত্বকেও সোচ্চার হতে হবে—নির্যাতনকারীদের আড়াল না করে প্রকাশ্যে নিন্দা জানাতে হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ার সেই রক্তাক্ত চিত্রগুলো শুধু ভিডিও নয়—এগুলো আমাদের সমাজের মুখোশ খুলে দিচ্ছে। এখন যদি আমরা চুপ থাকি, তাহলে আগামী প্রজন্মের কাছে আমরা অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত হব। শিশুর নিরাপত্তা কোনো বিতর্কের বিষয় নয়। এটি মানবতার ন্যূনতম দাবি। সমাজ কি এবার জেগে উঠবে, নাকি আবার নীরবতায় ডুবে থাকবে?

এনসিপির জনসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য: ইচ্ছা করেই সংঘাতের খোঁজ, নাকি চাপের রাজনীতি?


এনসিপির জনসভায় উস্কানিমূলক বক্তব্য: ইচ্ছা করেই সংঘাতের খোঁজ, নাকি চাপের রাজনীতি?

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)—যে দলটি সেই অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতৃত্ব থেকে জন্ম নিয়েছে—এখন রাস্তায়। ‘জুলাই পদযাত্রা’, পথসভা, জনসভা—একের পর এক কর্মসূচি। আর সেই মঞ্চ থেকে বারবার উচ্চারিত হচ্ছে কঠোর, উত্তেজক বক্তব্য। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগই যথেষ্ট নয়, তাঁকে গ্রেপ্তার করতে হবে। বিএনপি সরকার জুলাই সনদের গণরায়কে অস্বীকার করছে। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন মানে শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি। এমন কথা শোনা যাচ্ছে প্রায় প্রতিটি সমাবেশে।

কেন এই ভাষা?

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দেখলে চিত্রটা পরিষ্কার হয়। সাভারে এনসিপির সমাবেশস্থলে ককটেল বিস্ফোরণ। হবিগঞ্জে পদযাত্রার সময় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ। জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন। কিশোরগঞ্জে হামলার শঙ্কা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন। এনসিপি নেতারা বলছেন, এসব আওয়ামী লীগের ধ্বংসাবশেষ কিংবা বিএনপির কর্মীদের কাজ। প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থতার জন্য। একদিকে আক্রমণের অভিযোগ, অন্যদিকে মঞ্চ থেকে পাল্টা হুঁশিয়ারি—‘সমুচিত জবাব দেওয়া হবে’।

এই পরিস্থিতিতে উস্কানিমূলক বক্তব্য শুধু আবেগের বহিঃপ্রকাশ নয়। এটি কৌশলও। এনসিপি জানে, তাদের শক্তি এখনো সীমিত। সংসদে কয়েকজন এমপি, রাস্তায় যুবশক্তি। পুরনো দলগুলোর মতো সংগঠিত মেশিনারি নেই। তাই তীব্র ভাষা ব্যবহার করে মনোযোগ আকর্ষণ, নিজেদের ভিত্তিকে একত্র করা এবং সরকারের ওপর চাপ তৈরি করাই তাদের মূল অস্ত্র। জুলাই চেতনার ‘রক্ষক’ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা। সংস্কার না হলে, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হলে ও কর্মসংস্থানের দাবি পূরণ না হলে—তারা রাস্তায় থাকবে, এমন বার্তা বারবার দেওয়া হচ্ছে।

তারা কি ইচ্ছা করেই সংঘাত চাইছে?

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর উদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ উস্কানিমূলক বক্তব্য দেখে আপাতত তাই মনে হচ্ছে । ইচ্ছা করেই তারা সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ানোর মতো ভাষা ব্যবহার করছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন নজির নতুন নয়। শক্তিশালী হয়ে ওঠার জন্য অনেক দলই একসময় উত্তেজক স্লোগান ও হুমকির ভাষা ব্যবহার করেছে। এনসিপির ক্ষেত্রেও দেখা যাচ্ছে, তারা একদিকে ‘নতুন রাজনীতি’ ও ‘দ্বিতীয় বিপ্লব’-এর কথা বলছে, অন্যদিকে পুরনো ধারার রাজনীতির ভাষা ব্যবহার করছে। বিএনপির সমালোচনায় তারা যতটা কঠোর, নিজেদের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগ তুলেও ততটাই আক্রমণাত্মক।

বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এখানে দুই ধরনের হিসাব কাজ করছে। এক, অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতায় যাওয়ার  যে আশা তৈরি হয়েছিল, তার অপূর্ণতা নিয়ে হতাশা। দুই, রাজনৈতিক জায়গা দখলের প্রতিযোগিতা। বিএনপি ক্ষমতায়, জামায়াত এনসিপি বিরোধী দলে । এনসিপিকে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং ভোটারদের কাছে প্রাসঙ্গিক থাকতে হলে শক্ত অবস্থান দেখাতে হয়। নরম ভাষায় কথা বললে তারা হারিয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা হয়তো তাদের মধ্যে কাজ করছে।

তবে এই কৌশলের ঝুঁকিও আছে। উস্কানিমূলক বক্তব্য যখন রাস্তায় প্রতিফলিত হয়, তখন সহিংসতা বাড়তে পারে। সাভারের বিস্ফোরণ বা হবিগঞ্জের হামলার মতো ঘটনা যদি বারবার ঘটে, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। আর তখন দায় শুধু এক পক্ষের ওপর চাপানো যাবে না।

এনসিপির জনসভার ভাষা তাই শুধু বক্তৃতা নয়—এটি এক ধরনের রাজনৈতিক সংকেত। তারা সংঘাত চায়, তা নিশ্চিত করে বলা যায়। সংঘাতের পরিবেশ তৈরি হওয়ার মতো উপাদান তারা মঞ্চে তুলে ধরছে। জুলাইয়ের চেতনা যদি সত্যিই শান্তিপূর্ণ পরিবর্তন ও সংস্কারের হয়, তাহলে সেই চেতনাকে উত্তেজনার ভাষায় আটকে রাখা কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সে প্রশ্নটাও উঠছে।

নৈতিকতার মুখোশ খসে পড়ছে: বেরিয়ে আসছে জামায়াতের আসল চেহারা!!



নৈতিকতার মুখোশ খসে পড়ছে: বেরিয়ে আসছে জামায়াতের আসল চেহারা!! 

জামায়াতে ইসলামী বছরের পর বছর ধরে নিজেদের নৈতিকতার ঠিকাদার সেজে এসেছে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তারা অন্যদের অনৈতিকতা, দুর্নীতি আর চরিত্রহীনতার অভিযোগ করে। ইসলামী মূল্যবোধ, পারিবারিক পবিত্রতা, নারীর মর্যাদার কথা বলে তারা নিজেদের আলাদা বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তবতা কী? একের পর এক নারী-সংক্রান্ত কেলেঙ্কারি, ভিডিও, অভিযোগ আর দ্বৈত আচরণে তাদের সেই নৈতিকতার মুখোশ এখন প্রকাশ্যে ছিঁড়ে যাচ্ছে।

সবচেয়ে নগ্ন উদাহরণ সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত এমপি গাজী নজরুল ইসলাম। অল্প বয়স্ক এক তরুণীর সঙ্গে তাঁর ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দল প্রথমে এআই বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিল। পরে এমপি নিজেই দাবি করেন ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু বিয়ের কাগজপত্র, তারিখ, নারীর বয়স ও বৈবাহিক অবস্থা নিয়ে অসংগতি স্পষ্ট। দুই দিনের জনরোষের পর জামায়াত তাঁকে ‘নৈতিক স্খলন’-এর অভিযোগে বহিষ্কার করে। সংসদীয় ইতিহাসে প্রথমবার কোনো দল এমপিকে এমন কেলেঙ্কারিতে বের করে দিল। এটা কি নৈতিকতার জয়? না। এটা চাপের মুখে ক্ষতিপূরণের চেষ্টা।

এটি কোনো ব্যতিক্রম নয়। গত দুই বছরে জামায়াত ও শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের অভিযোগ একের পর এক এসেছে। রংপুরে ইউনিয়ন নেতার বিরুদ্ধে মহিলা মেম্বারের ধর্ষণ মামলা। ফেনীতে শিবির নেতার ধর্ষণচেষ্টা। ঝিনাইদহে শিশু ধর্ষণ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত অন্তত ৫০টির বেশি এমন অভিযোগ। যারা মঞ্চে নারীর সম্মান রক্ষার কথা বলে, তাদের নিজেদের লোকদের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ জমলে সেই নৈতিকতা কিসের?

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানকে ঘিরেও একই প্রশ্ন । ২০২৫ সালে তাঁর সঙ্গে নাহিদ ইসলামের ‘চুম্বনের’ ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এছাড়াও ইফতার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জামাত আমিরের ছেলেদের চুম্বনের দৃশ্য ভাইরাল হয় । প্রকাশ্যে এ ধরনের চুম্বন দলের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। এর আগে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য ছড়িয়ে পড়েছিল। পরে ‘হ্যাকিং’ বলে দাবি করা হয়। নারী সংগঠনগুলো তাঁর প্রার্থিতা বাতিলের দাবি তোলে। নৈতিকতার ধারক যদি এভাবে বারবার বিতর্কে জড়ান, তাহলে দাবির মূল্য কতটুকু থাকে?

খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকায় জামায়াত নেতাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নেশা, মাতলামিসহ নানা গুজব ও অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘুরছে। যশোরে এক জামায়াত এমপির মেয়ের আচরণ নিয়ে স্থানীয় ক্ষোভ ও বাড়ি ঘেরাওয়ের ঘটনাও ঘটেছে। আমাদের এসব পরকীয়া অশ্লীল কর্মকাণ্ড ও নারী ইস্যু দলের নৈতিকতার দাবির বিপরীতে জনমনে গভীর সন্দেহ তৈরি করেছে।

জামায়াত দাবি করে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—জনরোষ না উঠলে ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো তাগিদই দেখা যায় না। প্রথমে অস্বীকার, ‘ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া, তারপর চাপে পড়ে তদন্ত ও বহিষ্কার। এটা নৈতিক শৃঙ্খলার নমুনা নয়। এটা রাজনৈতিক ক্ষতি কমানোর কৌশল।

যে দল অন্যদের অনৈতিকতার অভিযোগ করে, তাদের নিজেদের ঘর থেকে যদি একের পর এক এমন কেলেঙ্কারি, ভিডিও আর অভিযোগ বেরিয়ে আসে, তাহলে সেই নৈতিকতার দাবি শুধু মুখের কথা। মুখোশ যখন এভাবে খসে পড়ে, তখন জনগণকে আর ধোঁকা দেওয়া যায় না। জামায়াত যদি সত্যিই নৈতিকতার ধারক হতে চায়, তাহলে শুধু বহিষ্কার নয়—নিজেদের অভ্যন্তরীণ সংস্কৃতি, নেতাকর্মীদের আচরণ ও জবাবদিহিতা নিয়ে কঠোর আত্মসমালোচনা করতে হবে। নইলে এই নৈতিকতার মুখোশ আর কতদিন টিকবে, সে প্রশ্ন এখন জনগণই জোরে জোরে করছে।

ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)- এর কথিত কমিটি ও অনুমোদনের নথিটি সম্পূর্ণ ভুয়া


 ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)- এর কথিত কমিটি ও অনুমোদনের নথিটি সম্পূর্ণ ভুয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের সংগঠন ‘ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)’-এর গঠন ও কমিটি অনুমোদন সংক্রান্ত ভুয়া নথি প্রচার করা হচ্ছে। 

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে হাস্যকর অসঙ্গতিতে ভরা এই নথিটি কোনো সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক দলিল নয়। এটি  উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা একটি সম্পূর্ণ ভুয়া কাগজ।

নথিটিতে যেসব গুরুতর অসঙ্গতি পাওয়া গেছে:

আবেদনকারীর নাম নেই: প্রথমত, নথিটির কাঠামো দেখলে স্পটভাবে প্রতীয়মান হয় যে  এটি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা অফিসিয়াল চিঠি নয়, বরং একটি আবেদনপত্র। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে এতে আবেদনকারী হিসেবে কারও নাম উল্লেখ নেই।

আবেদনকারী ও অনুমোদনকারী একই ব্যক্তি: চিঠিটির শুরুতে সম্বোধন করা হয়েছে 'মাননীয় কমান্ডার (ডিজিএফআই ও এসএসইউ) স্যার' হিসেবে। অর্থাৎ, যার কাছে আবেদন করা হয়েছে, তিনিই আবেদনকারীর জায়গায় স্বাক্ষর করেছেন এবং 

আবেদনপত্রে "অনুমোদিত" লিখেছেন আবেদনকারী নিজেই।

ভুল 'পদবী' ব্যবহার: 

নথির নিচে স্বাক্ষরকারী হিসেবে 'কর্নেল আবদুল্লাহ মো. আরিফ'-এর নাম দিয়ে নামের নিচে পদবি দেওয়া হয়েছে "ডেট কমান্ডার, ডিজিএফআই, খাগড়াছড়ি"। বাস্তবে ডিজিএফআই-তে 'ডেট কমান্ডার' নামে কোনো পদের অস্তিত্ব নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রকৃতপক্ষে ডিজিএফআই এর স্থানীয় প্রধান কর্মকর্তার পদটি হলো 'কর্নেল জিএস'।

দাপ্তরিক নথির ধরন ও উপাদানের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি: যে কোনো সরকারি বা বেসরকারী নথিতে নির্দিষ্ট স্মারক নম্বর, বিষয় এবং দাপ্তরিক ঠিকানা থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু আলোচিত এই নথিতে বিষয়, স্মারক নম্বর বা ঠিকানার কোনো অস্তিত্বই নেই।

অনুমোদন প্রদানকারী  আবেদন পত্রের আবেদনকারীর স্বাক্ষর, নাম ও পচিতির নীচে, খালি যায়গায় বা মার্জিনে 'অনুমদিত' লিখে স্বাক্ষর ও সিলমোহর দেন। নথিতে এর ব্যত্যয় সুস্পষ্টভাবে দৃশ্যমান।

দাপ্তরিক এই অসঙ্গতিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা নিশ্চিত করেছেন যে,  নথিগুলো তাদের নয়, এগুলো কাঁচা হাতে তৈরি ভূয়া নথি, সম্পূর্ণ বানোয়াট। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, ভুয়া এই নথিটি শ্যামল কান্তি চাকমার ফেসবুক আইডি থেকে প্রকাশ করা হয়েছে। শ্যামল কান্তি ফেসবুকে নিজেকে ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।

তবে গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বেশ কয়েক মাস আগেই শ্যামল কান্তি চাকমা ও তার অনুসারীরা একসঙ্গে অস্ত্রসহ দল বদল করে জেএসএস-এ যোগ দিয়েছেন এবং আত্মগোপন করে এখন ভারতে আছেন। 

বিশ্লেষকদের ধারণা, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় রাজনৈতিক ফায়দা লুটা ও জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতেই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই ভুয়া নথি প্রচার করেছেন শ্যামল কান্তি চাকমা।

পলাতক পিনাকী ভট্টাচার্য ফলোয়ার হারাচ্ছেন কেন?


পলাতক পিনাকী ভট্টাচার্য ফলোয়ার হারাচ্ছেন কেন?

ফ্রান্সে অবস্থানরত বিতর্কিত পলাতক ইউটিউবার ও ফেসবুক ব্যক্তিত্ব পিনাকী ভট্টাচার্যের সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এখন ধীরে ধীরে কমছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি দেশের বাইরে থেকে একের পর এক গুজবনির্ভর ভিডিও বানিয়ে দর্শক আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেই কৌশল আর কাজ করছে না।

সোশ্যাল ব্লেডের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ দিনে তার ফেসবুক পেজ থেকে প্রায় ২ হাজার ১০০ লাইক কমেছে। জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে প্রতিদিনই লাইক হ্রাসের ধারা অব্যাহত। সাপ্তাহিক গড়ে প্রায় ৩০০ লাইক কমছে। মাসিক লাইক বৃদ্ধির গ্রাফেও স্পষ্ট পতন দেখা যাচ্ছে। একসময় যে পেজ লাখ লাখ লাইক বাড়াত, এখন সেখানে নেতিবাচক প্রবণতা প্রকট।

‘টকিং অ্যাবাউট’ পরিসংখ্যানেও বড় ধরনের ওঠানামা ও পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দর্শকদের আগ্রহ কমে যাওয়ার ইঙ্গিত এটি। পিনাকীর পেজে এখনও ৩১ লাখের বেশি ফলোয়ার থাকলেও সক্রিয় সম্পৃক্ততা কমে আসছে।

এই পতনের পেছনে দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, দীর্ঘদিনের গুজব ও অতিরঞ্জিত সংবাদ দিয়ে দর্শক ধরে রাখার কৌশল আর কার্যকর হচ্ছে না। মানুষ এখন আর সহজে প্রভাবিত হচ্ছে না। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি সরাসরি জামায়াতের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এবং জামায়াত নেতাদের কেলেঙ্কারির ঘটনায় তার নৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এর ফলে অনেক দর্শক তার ফেসবুক ও ইউটিউব থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

পিনাকী ভট্টাচার্য একসময় রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতেন। কিন্তু গুজবনির্ভর কনটেন্ট এবং সাম্প্রতিক অবস্থানগত পরিবর্তনের কারণে তার আবেদন কমে আসছে। সামাজিক মাধ্যমের পরিসংখ্যানই বলছে—দর্শক এখন আর আগের মতো সাড়া দিচ্ছেন না।

ফেনী ডিসি মনিরা হকের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারিত অভিযোগ মিথ্যা: তদন্তে উঠে এলো সত্য

 


ফেনী ডিসি মনিরা হকের বিরুদ্ধে অনলাইনে প্রচারিত অভিযোগ মিথ্যা: তদন্তে উঠে এলো সত্য

ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হকের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত নেতিবাচক সংবাদগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে তদন্ত চালিয়ে তদন্তে দেখা গেছে, অভিযোগগুলো অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

গত ২ জুলাই ও ১১ জুলাই ২০২৬ তারিখে ‘দৈনিক শীর্ষ নিউজ’ নামক একটি অনলাইন পত্রিকায় ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হকের বিরুদ্ধে তিন পর্বে সংবাদ প্রকাশ করা হয়। সংবাদগুলোতে কৃষিজমি সুরক্ষা আইন প্রয়োগে ব্যর্থতা, মাটিখেকো সিন্ডিকেটকে ছাড়, মাদকের বিস্তার, অবৈধ ইটভাটা থেকে চাঁদাবাজি, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে বাধা এবং খাল খনন প্রকল্পে সাড়ে ১১ কোটি টাকার অর্ধেক আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়।

তদন্তে উঠে এসেছে, এই অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই বাস্তবসম্মত নয়। মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক মনিরা হক কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তথ্য পাওয়ামাত্রই ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। ইটভাটা, অবৈধ মাটি কাটা ও বালুমহল দখলের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে জানা গেছে, দাগনভূঁইয়া উপজেলার রাজাপুর ও কোরেশ মুন্সী এলাকায় ভবন নির্মাণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। ভূমি ওয়াকফ এস্টেটের নামে রেকর্ডভুক্ত এবং মালিকানা নিষ্পত্তি না হওয়ায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে টেন্ডার কার্যক্রম স্থগিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এটি আইনসম্মত পদক্ষেপ।

খাল খনন প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগও তদন্তে সত্য বলে প্রমাণিত হয়নি। এখন পর্যন্ত ফেনী জেলার কোথাও খাল খননের বিল উপস্থাপন করা হয়নি। শুধু সোনাগাজী উপজেলায় বিল দাবি করা হয়েছে। খাল খনন প্রকল্পগুলোর দায়িত্ব ইউএনও ও পিআইওদের। সোনাগাজীর ডাংখি খালের প্রাক্কলিত ব্যয় অস্বাভাবিক বেশি দেখানো হলে জেলা প্রশাসক নিজেই পুনঃযাচাইয়ের নির্দেশ দেন। এর ফলে ব্যয় কমিয়ে ৪ কোটি ৩২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তদন্তে আরও জানা গেছে, গত ১ জুলাই জেলা প্রশাসক ফেনীর সকল সংবাদপত্র ও অনলাইন পোর্টালকে নিয়মের আওতায় আনতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন। এতে ঘোষণাপত্র প্রমাণীকরণ ও নিবন্ধনের বিষয়ে সতর্ক করা হয়। এই পদক্ষেপের কারণে কিছু অনিবন্ধিত ও ভুয়া সাংবাদিক ক্ষুব্ধ হয়ে উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফেনীতে অনিবন্ধিত পত্রিকা, ইউটিউবার ও ভুয়া সাংবাদিকদের চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে।

তদন্তে জানা যায়, হলুদ সাংবাদিকতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণেই এ ধরনের নেতিবাচক প্রচার হতে পারে। উদ্দেশ্যমূলক ও অসত্য সংবাদগুলো সরিয়ে ফেলতে ইতোমধ্যে সংবাদ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসক মনিরা হককে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসক হিসেবে অভিহিত করে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী। 

The Protracted Rohingya Crisis: Not Just Bangladesh’s Burden, but a Humanitarian and Security Challenge for the Entire Region



The Protracted Rohingya Crisis: Not Just Bangladesh’s Burden, but a Humanitarian and Security Challenge for the Entire Region

The Rohingya crisis is no longer a temporary humanitarian problem. It has evolved into a long-term regional crisis. For nearly nine years, Bangladesh has been sheltering more than one and a half million Rohingya refugees. The refugee camps in Cox’s Bazar have become one of the most densely populated refugee settlements in the world. However, this burden does not belong to Bangladesh alone—it is a major humanitarian and security challenge for the whole of South and Southeast Asia.

The situation in Myanmar’s Rakhine State has become even more complex. The Arakan Army (AA) now controls most parts of Rakhine, including the border with Bangladesh. There has been no tangible progress in creating conditions conducive to repatriation. Instead, renewed conflict and violence continue. As a result, frustration among the Rohingya living in the camps is growing. Clashes among armed groups, smuggling, drug trafficking, and the risk of extremist linkages are becoming increasingly evident. This is not merely a matter of Bangladesh’s internal security—the potential impact could extend across borders to India’s northeastern states, Thailand, and Malaysia.

There are also significant gaps in regional cooperation. Forums such as BIMSTEC and ASEAN have often tended to avoid the Rohingya issue by treating it as a political matter. Yet this crisis has direct implications for regional stability. Both China and India have strategic interests in Rakhine. However, their role in exerting effective pressure regarding the Rohingyas’ citizenship, security, and repatriation has remained limited. As a result, Bangladesh continues to shoulder the burden alone—economically, environmentally, socially, and from a security perspective.

International funding is also steadily declining. The funding requirements of the Joint Response Plan are not being met. As food, healthcare, and protection services in the camps are reduced, the humanitarian situation is becoming increasingly fragile. Pressure on host communities is intensifying. Bangladesh has taken measures such as constructing border fencing and strengthening surveillance, but without addressing the root causes of the crisis, these measures can only provide temporary relief.

The root of this crisis lies in Myanmar’s political and structural failures. The Rohingya have been systematically rendered stateless. Making repatriation possible now requires not only engagement with Myanmar’s military authorities but also pragmatic dialogue with the de facto authorities controlling Rakhine. At the same time, regional countries must recognize this crisis as a matter of their own security interests.

Bangladesh has fulfilled its humanitarian responsibility for years. However, without a durable solution, this crisis will destabilize not only Bangladesh but the entire region. The time has come to acknowledge this reality and adopt a coordinated regional diplomatic and security strategy.

দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকট: শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ


 দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকট: শুধু বাংলাদেশের নয়, পুরো অঞ্চলের মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ

রোহিঙ্গা সংকট আর কোনো সাময়িক মানবিক সমস্যা নয়। এটি এখন দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রায় নয় বছর ধরে বাংলাদেশ দেড় লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। কক্সবাজারের ক্যাম্পগুলো এখন বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী বসতি। কিন্তু এই বোঝা শুধু বাংলাদেশের নয়—এটি পুরো দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার জন্য এক বড় মানবিক ও নিরাপত্তাগত চ্যালেঞ্জ।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। আরাগান আর্মি (এএ) এখন রাখাইনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যার মধ্যে বাংলাদেশ সীমান্তও রয়েছে। প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরির কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। বরং নতুন করে সংঘাত ও সহিংসতা চলছে। এর ফলে ক্যাম্পে থাকা রোহিঙ্গাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে। অস্ত্রধারী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা এবং চরমপন্থী সংযোগের আশঙ্কা ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এটি শুধু বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বিষয় নয়—সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া পর্যন্ত এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও ফাঁক রয়ে গেছে। বিমসটেক বা আসিয়ানের মতো ফোরামগুলোতে রোহিঙ্গা ইস্যুকে রাজনৈতিক বিষয় বলে এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। অথচ এই সংকট সরাসরি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে। চীন ও ভারত উভয়েরই রাখাইনে কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও প্রত্যাবাসনের বিষয়ে কার্যকর চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা সীমিত। এর ফলে বাংলাদেশ একাই বোঝা বহন করছে—অর্থনৈতিক, পরিবেশগত, সামাজিক এবং নিরাপত্তাগত সব দিক থেকেই।

আন্তর্জাতিক অর্থায়নও ক্রমশ কমে আসছে। জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। ক্যাম্পে খাদ্য, স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা সেবা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও নাজুক হয়ে উঠছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ বাড়ছে। সীমান্তে বেড়া নির্মাণ, নজরদারি বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিচ্ছেন বাংলাদেশ, কিন্তু মূল সমস্যার সমাধান ছাড়া এগুলো শুধু উপশম।

এই সংকটের মূল শিকড় মিয়ানমারের রাজনৈতিক ও কাঠামোগত ব্যর্থতায়। রোহিঙ্গাদের পরিকল্পিতভাবে রাষ্ট্রহীন করে তোলা হয়েছে। এখন প্রত্যাবাসন সম্ভব করতে হলে শুধু মিয়ানমার সামরিক কর্তৃপক্ষ নয়, রাখাইনের বাস্তব নিয়ন্ত্রক শক্তিগুলোর সঙ্গেও বাস্তবসম্মত আলোচনা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আঞ্চলিক দেশগুলোকে এই সংকটকে নিজেদের নিরাপত্তা স্বার্থ হিসেবে দেখতে হবে।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে মানবিক দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান ছাড়া এই সংকট শুধু বাংলাদেশকেই নয়—পুরো অঞ্চলকেই অস্থিতিশীল করে তুলবে। সময় এসেছে এই বাস্তবতাকে স্বীকার করে সমন্বিত আঞ্চলিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণের।

দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের একার বোঝা নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও রয়েছে



দীর্ঘমেয়াদি রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের একার বোঝা নয়, আঞ্চলিক নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জও রয়েছে

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সামরিক অভিযানের মুখে প্রায় সাত থেকে আট লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আজ প্রায় সাত বছর পার হয়ে গেছে, কক্সবাজার ও ভাসানচরে প্রায় দশ লাখের বেশি রোহিঙ্গা এখনও অস্থায়ী শিবিরে বসবাস করছে। এই সংকটকে শুধু "বাংলাদেশের সমস্যা" হিসেবে দেখা একটি বিপজ্জনক সরলীকরণ, কারণ এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছে গোটা অঞ্চলে।

মানবিক দিক থেকে দেখলে সংকট ক্রমেই দীর্ঘায়িত হচ্ছে আর সমাধান আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের কোনো বাস্তব অগ্রগতি নেই। রাখাইনে চলমান গৃহযুদ্ধ, আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে, ফলে যে পরিবেশে রোহিঙ্গারা নিরাপদে ফিরতে পারে, সেটাই অনুপস্থিত। এদিকে আন্তর্জাতিক তহবিল ক্রমাগত কমছে; জাতিসংঘের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি একাধিকবার রেশন কমাতে বাধ্য হয়েছে। এক প্রজন্ম শিশু রোহিঙ্গা শিবিরেই বেড়ে উঠছে, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ ছাড়াই।

নিরাপত্তার প্রশ্নটিও শুধু বাংলাদেশ সীমান্তে সীমাবদ্ধ নয়। দীর্ঘমেয়াদি শিবির-জীবন মানব পাচার, মাদক (বিশেষত ইয়াবা) চোরাচালান এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়োগের উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে। এই নেটওয়ার্কগুলো জাতীয় সীমানা মানে না, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া পর্যন্ত মানব পাচারের রুট বিস্তৃত। সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের বিপজ্জনক যাত্রা, বিশেষত আন্দামান সাগর ও মালাক্কা প্রণালী দিয়ে, নিয়মিত মানবিক বিপর্যয় ঘটায়, যা থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার উপকূলীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর সরাসরি চাপ তৈরি করে।

এই পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ভূমিকা ও দায় নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। রাখাইন রাজ্যের সংলগ্ন হওয়ায় এবং নিজস্ব উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারত এই সংকটে নীরব দর্শক থাকতে পারে না, যদিও তার নীতি মূলত মিয়ানমারের জান্তার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক রক্ষা এবং সীমিত মানবিক সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। চীন মিয়ানমারে তার বিনিয়োগ ও প্রভাবের কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার চেষ্টা করেছে, কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি সীমিত। আসিয়ান প্রাতিষ্ঠানিকভাবে "অ-হস্তক্ষেপ" নীতির কারণে জোটবদ্ধভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে, যদিও থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রত্যক্ষভাবে প্রভাবিত। আর জাতিসংঘ ও পশ্চিমা দাতাদের মনোযোগ ইউক্রেন, গাজাসহ অন্যান্য সংকটে সরে যাওয়ায় রোহিঙ্গা ইস্যু ক্রমেই "ভুলে যাওয়া সংকটে" পরিণত হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একাই এই বোঝা বহন করছে, আর্থিক, পরিবেশগত (কক্সবাজারের বনভূমি ধ্বংস), সামাজিক (স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পদ প্রতিযোগিতা) এবং নিরাপত্তাগত, সব দিক থেকে। অথচ সমাধানের চাবিকাঠি মূলত বাংলাদেশের সীমানার বাইরে: মিয়ানমারে রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতির পরিবর্তন, আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সমন্বিত কূটনৈতিক চাপ, এবং টেকসই তহবিল ব্যবস্থা। এই সংকটকে দ্বিপাক্ষিক বা স্থানীয় সমস্যা হিসেবে না দেখে যদি একটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও মানবিক অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা না হয়, তাহলে এর মূল্য একা বাংলাদেশ নয়, গোটা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকেই দীর্ঘমেয়াদে চোকাতে হবে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আম্মারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম


 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আম্মারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুম। জ্ঞানচর্চার স্থান। সেখানেই সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শোভনীয় নয়। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হাতে লাঠি, বেলচা। তার সঙ্গে শিবির নেতাকর্মীরা। তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ। ভিডিওতে দেখা যায়, আম্মারকে বেলচা হাতে লাইব্রেরির দিকে এগোতে চেষ্টা করতে, সহকর্মীরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। ভেতরে লাঠি, বাঁশ, রড, বেল্ট দিয়ে হামলার দৃশ্য।

এতদিন তার মুখের অশ্লীল বাক্য, গালিগালাজ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতি হুমকিমূলক পোস্ট শোনা যেত। এখন সেই ভাষা বাস্তবে রূপ নিয়েছে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্য উপস্থিতিতে। প্রক্টর অফিস থেকে শুরু করে রাকসু ভবন, তারপর লাইব্রেরি—ঘটনার ধারাবাহিকতায় আম্মার ও তার সঙ্গীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্নটা সোজা। সে কি ছাত্রলীগ হয়ে উঠছে? ছাত্রলীগের যে সংস্কৃতি একসময় ক্যাম্পাসকে জিম্মি করে রেখেছিল—লাঠি, হুমকি, প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করে মারধর—সেই সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি কি এখন নতুন মুখোশে ফিরে আসছে? আম্মার নিজে জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ছিলেন। আধিপত্যবিরোধী ঐক্যের ব্যানারে জিএস হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর তার আচরণে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেকের মনেই এই তুলনা জাগছে।

আরও গভীর প্রশ্ন—শিবিরের রগকাটা প্রকৃতি কি আবার ফিরে আসছে? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অতীত ইতিহাস কেউ ভোলেনি। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে যে সহিংসতার ধারা দেখা গিয়েছিল, তার ছায়া কি আবার ঘন হচ্ছে? রাকসুতে শিবির-সমর্থিত নেতৃত্বের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আম্মার যদিও আলাদা প্যানেল থেকে এসেছেন, বাস্তবে তার কর্মকাণ্ডে শিবির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও সমন্বয় স্পষ্ট। লাইব্রেরির ঘটনায় শিবির নেতাদের নামও উঠে এসেছে।

একে থামানোর কেউ নেই? প্রশাসন কোথায়? প্রক্টরিয়াল বডি কী করছে? পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে, কিন্তু মূল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা ভয়ে কথা বলতে চাইছে না। যারা মার খেয়েছে, তারা হাসপাতালে। প্রতিবাদ করলে পরের লক্ষ্য হওয়ার ভয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ডিগ্রি নয়। এটা চিন্তার স্বাধীনতার জায়গা। লাইব্রেরিতে লাঠি-বেলচা নিয়ে ঢোকা, শিক্ষার্থীদের মারধর—এসব কোনো ছাত্রনেতার কাজ নয়। এটা সন্ত্রাসী কার্যক্রমেরই নামান্তর। যারা একসময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, তারাই যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে জুলাইয়ের আদর্শ কোথায় গেল?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সংস্কৃতি চলতে দিলে ক্যাম্পাস আবার সেই পুরনো অন্ধকারে ফিরে যাবে। আম্মারকে থামানোর দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়—সচেতন শিক্ষার্থী সমাজেরও। নইলে আজ লাইব্রেরি, কাল পুরো ক্যাম্পাস।

সুহাস চাকমার বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ: পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার আড়ালে সত্য লুকিয়ে রাখার চেষ্টা


সুহাস চাকমার বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ: পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিরতার আড়ালে সত্য লুকিয়ে রাখার চেষ্টা

সুহাস চাকমার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টটি পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতাকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করেছে। তিনি যে ‘ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ডের নীতি’ এবং ডিজিএফআই-সেনাবাহিনীর ষড়যন্ত্রের গল্প বুনেছেন, তা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা একপেশে প্রচারেরই নতুন সংস্করণ মাত্র। এ ধরনের ন্যারেটিভ পার্বত্য অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে এবং বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে ব্যবহৃত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সহিংসতার মূল উৎস হলো আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব। ইউপিডিএফের বিভিন্ন উপদল এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে সংঘর্ষ নতুন কিছু নয়। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, হত্যা, অপহরণ ও অস্ত্রের লড়াই নিয়মিত ঘটনা। সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও এ ধরনের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে, যেখানে এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে। সেনাবাহিনী বা ডিজিএফআইকে এসবের পেছনে দেখানো হলেও বাস্তবে এগুলো মূলত গোষ্ঠীগত সংঘাত।

সেনাবাহিনী ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পার্বত্য অঞ্চলে অভিযান চালায় সশস্ত্র তৎপরতা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে। আইএসপিআরের বিবৃতিতে বারবার উল্লেখ করা হয়েছে যে, অভিযানের সময় সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা গুলি চালালে সেনাবাহিনী আত্মরক্ষায় পাল্টা ব্যবস্থা নেয় এবং অস্ত্র উদ্ধার করে। এ ধরনের অভিযানের ফলে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। একে ‘ভ্রাতৃঘাতী হত্যাকাণ্ডের নীতি’ বলে চালিয়ে দেওয়া হলো বাস্তবতাকে উল্টে দেখানোর চেষ্টা।

ডিজিএফআইর নামে ভুয়া নথি বা পত্রকে কেন্দ্র করে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা যাচাইযোগ্য প্রমাণ ছাড়াই উপস্থাপন করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার নামে এমন ভুয়া নথি যে কেউ কম্পিউটারে টাইপ করে প্রিন্ট করাতেই পারে। পার্বত্য অঞ্চলে বিভিন্ন গোষ্ঠীর নেতারা নিজেদের স্বার্থে এরকম নানা দলিল তৈরি বা প্রচার করে থাকেন। একজন নেতার অন্য গোষ্ঠীতে যোগ দেওয়া বা অভ্যন্তরীণ বিভেদকে রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র বলে চালিয়ে দেওয়া সহজ, কিন্তু তা সত্য প্রমাণ করে না। শ্যামল কান্তি চাকমা (তরু) নিজেই ডিজিএফআইয়ের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই বলে দাবি করেছেন। এ ধরনের অভ্যন্তরীণ ভাঙাগড়ার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ বলে দেখানো হলো উদ্দেশ্যমূলক।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও উন্নয়নের স্বার্থে কাজ করে আসছে। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তির পর অঞ্চলটিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, পর্যটন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতাই স্থানীয় জনগণের জীবনকে অস্থির করে তোলে। সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনী যখন এসব তৎপরতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তখন তাকে ‘নিপীড়ন’ বলে প্রচার করা হয়। অথচ বাস্তবে এ ধরনের ব্যবস্থা না নিলে সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ত।

সুহাস চাকমার মতো ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে একতরফা অভিযোগ তুলে আন্তর্জাতিক মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেন। তাদের ন্যারেটিভে পার্বত্য অঞ্চলের জটিল বাস্তবতা, গোষ্ঠীগত সংঘাত এবং স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তার প্রশ্ন প্রায় উপেক্ষিত থাকে। বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সকল সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অপ্রমাণিত অভিযোগ ও উসকানিমূলক প্রচার এই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে মাত্র।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন বাস্তবসম্মত আলোচনা ও চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত বন্ধ এবং অস্ত্র নিষ্ক্রিয়করণই প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়ী করে বিভ্রান্তি ছড়ানো কোনো সমাধান নয়—এটি শুধু অস্থিরতাকে উসকে দেয়।

সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও নবনীতা চৌধুরীর গুজব ফ্যাক্টরি


 সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও নবনীতা চৌধুরীর গুজব ফ্যাক্টরি

সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ও নবনীতা চৌধুরীর যৌথ উপস্থাপনা এখন একধরনের নিয়মিত গুজব কারখানায় পরিণত হয়েছে। তাদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু প্রায়ই একই—বাংলাদেশে উগ্রবাদ আছে, হামাসের উপস্থিতি আছে, দেশ বিপজ্জনক পথে হাঁটছে। অথচ বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো।

শোয়েব চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল-পন্থী অবস্থান নিয়ে পরিচিত। তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ইসরায়েলি গণমাধ্যমে নিয়মিত লেখেন। এই পরিচয় নিয়েই তিনি নবনীতা চৌধুরীর প্ল্যাটফর্মে বারবার উপস্থিত হয়ে বাংলাদেশকে ‘ইসরায়েলের লাল তালিকায়’ রাখার গল্প ছড়াচ্ছেন। একটি ইসরায়েলি কূটনীতিকের সাধারণ মন্তব্যকে তিনি ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে উপস্থাপন করছেন যেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে বিপজ্জনক তালিকাভুক্ত হয়ে গেছে। বাস্তবে এমন কোনো আনুষ্ঠানিক তালিকা বা ঘোষণা নেই।

আরও বিপজ্জনক হলো হামাস প্রসঙ্গ। শোয়েব চৌধুরী প্রতিনিয়ত দাবি করছেন বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি বা প্রভাব আছে। অথচ বাংলাদেশ সরকার, নিরাপত্তা সংস্থা বা কোনো নির্ভরযোগ্য আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে এমন কোনো প্রমাণ নেই যে হামাস এ দেশে সক্রিয়। বাংলাদেশে উগ্রবাদী তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সক্রিয়। তবুও শোয়েব চৌধুরী বারবার একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করছেন।

নবনীতা চৌধুরীর মঞ্চ এই ন্যারেটিভকে আরও বিস্তৃত করছে। একের পর এক শোতে শোয়েবকে নিয়ে এসে একই ধরনের আশঙ্কা ও অভিযোগ প্রচার করা হচ্ছে। ফলে সাধারণ দর্শকের মনে একধরনের ভয় ও সন্দেহ তৈরি হচ্ছে—যেন বাংলাদেশ সত্যিই উগ্রবাদের আঁতুড়ঘর। এটি দেশের বিরুদ্ধে কাজ করা ন্যারেটিভ ছাড়া আর কিছু নয়।

যারা বাংলাদেশকে নিয়ে বারবার এমন অপ্রমাণিত ও অতিরঞ্জিত অভিযোগ তোলেন, তারা কি সত্যিই দেশের স্বার্থে কথা বলছেন? নাকি নির্দিষ্ট আন্তর্জাতিক স্বার্থের পক্ষে বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার কাজ করছেন? শোয়েব চৌধুরীর অতীত ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থান দেখে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।

বাংলাদেশে হামাস নেই। যে কোনো ধরনের উগ্রবাদকে রাষ্ট্র দমন করেছে কঠোর হস্তে। তবুও একশ্রেণির মানুষ বারবার মিথ্যা ও অর্ধসত্য ছড়িয়ে দেশকে বিপজ্জনক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। এটি দেশপ্রেম নয়—এটি দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্তমূলক ন্যারেটিভ নির্মাণ।

টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, সেনাবাহিনী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার-ত্রাণ অব্যাহত


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, সেনাবাহিনী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার-ত্রাণ অব্যাহত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথমার্ধে আট দিনের অবিরাম বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রায় ৬১ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সরকারের আওতায় আরও প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক সেতু ও কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ধস ও সড়কের ওপর মাটি জমে যাওয়ার কারণে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেইলি সেতু ধসে পড়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিট ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড়ধসের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করেছে। রুমা সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১২২টি পরিবারের (যার মধ্যে ১১৬ জন পর্যটক) প্রায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ সচল করা হয়।

জেলা প্রশাসন ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে এবং জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রেখেছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও সড়ক মেরামতে কাজ করেছে। রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের ধসে পড়া বেইলি সেতু ১৩ দিন পর সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মেরামত ব্যয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াস স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।








হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

 


হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ঘটনার পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই অভিযুক্তকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত?

এপ্রিলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে নীতিগত সম্মতি হয়। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জুন মাসে আশা প্রকাশ করেন যে ভারত তাদের ফেরত দেবে। কিন্তু জুলাই শেষেও বাস্তবে কোনো হস্তান্তর হয়নি।

এটা সত্য যে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ নয়। আনুষ্ঠানিক নোট, আদালতের অনুমতি, কাগজপত্র যাচাই—এসব ধাপ পেরোতে সময় লাগে। তবে হাদি হত্যাকাণ্ড যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে, তাতে এই বিলম্ব প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। অথচ ভারতীয় পক্ষ থেকে স্পষ্ট সময়সীমা বা অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

এই ধীরগতি শুধু একটি মামলার বিষয় নয়। এটি দুই দেশের মধ্যে আইনি সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছার পরীক্ষা। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান আসামিদের উপস্থিতি অপরিহার্য। তাদের অনুপস্থিতিতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

জনমনে প্রশ্ন রয়েছে—যদি চুক্তি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে বাস্তবে কেন এত দেরি? আইনি জটিলতা না কি অন্য কোনো বিবেচনা কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

হাদির পরিবার ও তার সমর্থকরা ন্যায়বিচার চান। সেই ন্যায়বিচারের জন্য অভিযুক্তদের দেশে ফেরত আনা জরুরি। ভারত যদি সত্যিই আইনের শাসন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি সম্মান দেখায়, তাহলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। অন্যথায় ‘সম্মতি’ শুধু কূটনৈতিক কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

প্রশ্নটা এখনও একই—হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

জামায়াত নেতাদের নৈতিক স্খলন, দ্বিচারিতা ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের রাজনীতি (আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার)


জামায়াত নেতাদের নৈতিক স্খলন, দ্বিচারিতা ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের রাজনীতি (আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার)

জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নৈতিকতার দুর্গ বলে দাবি করে এসেছে। তারা সমাজে নারী পর্দা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শের কথা বলে ভোট চায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা এর সর্বশেষ উদাহরণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। প্রথমে দল ও সমর্থকরা দাবি করেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। পরে এমপি নিজেই বলেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের কাবিননামা ও পরিবারের সম্মতির কথাও তোলা হয়। কিন্তু বায়োডাটায় দেখা যায়, দাবিকৃত বিয়ের পরও তরুণীকে ‘অবিবাহিত’ দেখানো হয়েছে এবং এমপি নিজেই তাতে সুপারিশ করেছেন। তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করে। এটাই তাদের ড্যামেজ কন্ট্রোল—আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার।

এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতাদের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ফাঁস হলেই প্রথমে ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘এআই’ বলে চালানোর চেষ্টা হয়। ব্যর্থ হলে দ্রুত দলীয় ব্যবস্থা নিয়ে ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা চলে। এটা নীতির প্রয়োগ নয়, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

জামায়াতের নীতির দ্বিচারিতা আরও স্পষ্ট হয় নারী ইস্যুতে। একদিকে তারা নারী সুরক্ষা, আলাদা পরিবহন, কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। অন্যদিকে দলের শীর্ষ পদে নারীকে অযোগ্য ঘোষণা করে। নারীকে ‘আমির’ হিসেবে পুরুষকেই মানতে হয়—এমন ব্যাখ্যা তারা দিয়ে থাকে। অথচ নিজেদের নেতারা যখন নৈতিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেন, তখন সেই একই নীতির কঠোর প্রয়োগ হয় না। বরং ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের রাজনীতিই প্রাধান্য পায়।

এই দ্বিচারিতা দলের আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করে। যারা সমাজে নৈতিকতার পাহারাদার সেজে রাজনীতি করেন, তাদের নিজেদের ঘরের অভ্যন্তরীণ স্খলন জনগণের আস্থা নষ্ট করে। বারবার ভিডিও ফাঁস হওয়া এবং তারপর দ্রুত বহিষ্কারের কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছে—জামায়াত নৈতিকতার চেয়ে রাজনৈতিক টিকে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নীতির নামে যে আদর্শ তারা প্রচার করেন, বাস্তবে তার প্রয়োগেই তারা ব্যর্থ।

নীতিবাগিশ জামায়াতের নৈতিক দেউলিয়াগ্রস্ততা: আদর্শের আড়ালে ভণ্ডামির নোংরা উৎসব


নীতিবাগিশ জামায়াতের নৈতিক দেউলিয়াগ্রস্ততা: আদর্শের আড়ালে ভণ্ডামির নোংরা উৎসব

ইসলামের সুমহান আদর্শ, নীতি, এবং সুউচ্চ নৈতিকতার মোড়কে নিজেদের সবসময় অন্য সব রাজনৈতিক দলের চেয়ে পবিত্র ও শুদ্ধ দাবি করা দলটির নাম জামায়াতে ইসলামী। কিন্তু সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াত দলীয় সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের নোংরা ভিডিও কেলেঙ্কারি এবং পরবর্তীতে দলটির শীর্ষ নেতাদের আচরণ প্রমাণ করেছে যে, এই তথাকথিত পবিত্রতার আড়ালে লুকিয়ে আছে চরম প্রতারণা ও প্রাতিষ্ঠানিক মিথ্যাচার। যে দলটি সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে নারীদের পর্দা, শালীনতা ও ধর্মীয় অনুশাসন শেখানোর জন্য অবিরত বয়ান দিয়ে বেড়ায়, তাদেরই একজন পঁচাত্তর বছর বয়সী প্রবীণ শীর্ষ নেতার এমন জঘন্য চারিত্রিক স্খলন গোটা জাতির সামনে এক বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্ন ছুড়ে দিয়েছে।

সবচেয়ে বড় ও গা শিউরে ওঠা প্রশ্ন হলো—কীভাবে একটি দল, যারা নিজেদের প্রতিটি স্তরের নেতাকর্মীর ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি ও ‘আমলনামা’ পরীক্ষার দাবি করে, তারা একজন নেতার এত বড় অপরাধের কথা ঘুণাক্ষরেও টের পেল না? বছরের পর বছর ধরে যে নেতাকে তারা সৎ, যোগ্য ও খোদাভীরু হিসেবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করে ভোট চেয়ে এসেছে, তিনি যে আড়ালে এমন নিকৃষ্ট কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন, তা দলটির কেউ জানত না—এই দাবি কি বিশ্বাসযোগ্য? এটি আসলে কোনো অসচেতনতা নয়, বরং জামায়াতের ভেতরের প্রাতিষ্ঠানিক অন্ধত্ব ও অপরাধ লুকিয়ে রাখার এক পরিকল্পিত সংস্কৃতি। এটি স্পষ্ট করে দেয় যে, জামায়াতের নীতি কথা কেবলই জনসভার মঞ্চের জন্য, চার দেয়ালের ভেতরের সত্যটা তাদের চরম কুৎসিত ও নোংরা।

এই চরম অপরাধের পর জামায়াত যে ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ভাবমূর্তি রক্ষার রাজনীতিতে নেমেছে, তা তাদের প্রতারণামূলক চরিত্রের আসল নগ্ন রূপ। দল থেকে তাৎক্ষণিক বহিষ্কারের নাটক সাজিয়ে তারা জনগণের সামনে সাধু সাজার চেষ্টা করছে ঠিকই, কিন্তু মাঠের বাস্তবতায় তাদের নেতাদের মুখ থেকে ছিটকে বের হচ্ছে চরম মিথ্যাচার ও ঔদ্ধত্য। সাতক্ষীরা-২ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক প্রকাশ্য সংবর্ধনা মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই অপরাধকে যেভাবে জাস্টিফাই করেছেন, তা কেবল নিন্দনীয়ই নয়, বরং আইন ও ধর্মের চোখে এক চরম তামাশা। তিনি গণমাধ্যমের সামনে দাবি করেছেন, এই ঘটনাটি নাকি "অসামাজিক হয়েছে, তবে অনৈতিক ছিল না"! একজন বিবাহিত নেতার তরুণী মেয়েকে নিয়ে এমন অনৈতিক কুকীর্তি, বিয়ের ভুয়া নাটক এবং এমপির নিজের স্বাক্ষরে তরুণীর বায়োডাটাতে ‘অবিবাহিত’ লিখে জালিয়াতি করার পরও একে ‘অনৈসলামিক’ বা ‘অনৈতিক’ বলার সাহস জামায়াত নেতাদের নেই।

এই ধরণের বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত মূলত তাদের অন্ধ সমর্থক ও ধর্মপ্রাণ সাধারণ মানুষকে চরমভাবে প্রতারিত করছে। তরুণীটির "এমপি সাহেবের সেবা করার আবদার"-কে সামনে এনে এক নোংরা পুরুষতান্ত্রিক লালসাকে তারা ধর্মীয় আনুগত্যের চাদরে ঢাকার চেষ্টা করছে। জনগণের চোখে ধুলো দিতে এবং নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাংক ধরে রাখতে তারা এখন ঘটনার গভীরে না গিয়ে উল্টো একে ‘রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র’ বলে সস্তা সহানুভূতির কার্ড খেলছে।

পরিশেষে বলা যায়, নারী ইস্যুতে জামায়াতের এই কঠোর ও কদর্য রূপ তাদের আদর্শিক ভণ্ডামিকে পুরোপুরি নগ্ন করে দিয়েছে। নারীদের নিয়ে জনসমক্ষে বড় বড় নীতি কথা বলা এই দলটির আসল চেহারা আজ উন্মোচিত। যে দল নিজের ঘরের ভেতরের নেতার এত বড় নৈতিক পতন ও জালিয়াতি টের পায় না, কিংবা জেনেশুনে চেপে রাখে এবং পরবর্তীতে ভাষার চাতুর্যে তাকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করে—তাদের মুখে আর যাই হোক, ইসলাম ও নৈতিকতার কথা মানায় না। এটি কেবল একজন গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত পতন নয়, বরং এটি জামায়াতে ইসলামীর সামগ্রিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নৈতিক দেউলিয়াগ্রস্ততার এক ঐতিহাসিক দলিল।

তেলাপোকা আন্দোলনের জয় ও মোদি সরকারের ব্যর্থতা


তেলাপোকা আন্দোলনের জয় ও মোদি সরকারের ব্যর্থতা

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা সাধারণ রাজনৈতিক বিক্ষোভের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একদল তরুণ, যাদের অনেকেই নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি বলে পরিচয় দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিও জনগণের ক্ষোভের মুখে নতি স্বীকার করতে পারেন। শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার প্রতীক। তাঁর সরে যাওয়া জরুরি ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্তে দেরি করে মোদি সরকার নিজের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই তরুণেরা কোনো ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দলের ব্যানারে নয়, বরং নিজেদের মতো করে রাস্তায় নেমেছে। তারা জাতীয় সংগীত ও বন্দে মাতরম গেয়ে দেখিয়েছে যে জাতীয়তাবাদ কোনো এক দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। তাদের দাবি ছিল শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কর্মসংস্থান। মোদি সরকার গত এক যুগে অনেক নতুন সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দর তৈরি করেছে। মধ্যবিত্তের এক অংশ প্রথমে এতে আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সত্যিটা সামনে এসেছে। এই অবকাঠামো তাদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তব কোনো উন্নতি আনেনি। তারা এখনো দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার চক্রে বন্দী।

পরীক্ষা পাস করার পর চাকরি খোঁজার নতুন দুর্ভোগ শুরু হয়। বেসরকারি খাতে যোগ্যতা প্রমাণ করা কঠিন। সরকারি চাকরির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা বিদেশে চলে যায় অর্থনৈতিক শরণার্থী হিসেবে। দেশের ভেতরে থেকে যাওয়া তরুণরা হতাশ। মোদি সরকারের প্রচারিত ‘উন্নয়ন’ তাদের কাছে কেবল শব্দ মাত্র। যদি সত্যিই জীবনমান উন্নত হতো, তবে হাজার হাজার তরুণ রাজপথে নামত না।

সিজেপির আন্দোলন দেখিয়েছে যে নতুন প্রজন্ম পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো মেনে নিতে চায় না। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যারা বংশানুক্রমিক সুবিধাবাদের বাইরে থেকে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা ও হিন্দুত্বের পুরনো বিতর্ক এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তরুণরা চায় বাস্তব সমস্যার সমাধান—শিক্ষা, চাকরি ও মর্যাদার জীবন। মোদি সরকার যদি এই ক্ষোভকে উপেক্ষা করে, তাহলে আগামী নির্বাচনে তার মূল্য দিতে হতে পারে। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক, জনগণের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরকে দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায় না। তেলাপোকার মতোই তারা টিকে থাকবে এবং পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে যাবে।

#YouthRebellion #ModiFailure #CockroachMovement

বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা


বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক ডাক্তার দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়েছেন। কারণ স্পষ্ট—তারা বাংলাদেশি। অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে তিনি রাস্তায় তাদের থামিয়ে গালিগালাজ করে মারধর করেন। নসরীনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের ওপর এই আক্রমণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা সত্যিই বাংলাদেশি। এ ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশি পরিচয় শুনলেই ভারতের অনেক জায়গায় মব বা ব্যক্তিগত আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে ইদানীং। মুসলিম পরিচয় আর বাংলাদেশি পরিচয় দুটোই অনেকের কাছে সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক মাস আগে অভিনেতা মোশাররফ করিম কলকাতায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবকে এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব দেখে স্পষ্ট যে, ভারতে বাংলাদেশিদের প্রতি সহনশীলতা কমে গেছে। তবুও অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়ান। কেন?  একটু ভেবে দেখুন, ভ্রমণ বা শপিং এর জন্য কি এত ঝুঁকি নেওয়ার দরকার আছে?

অন্তর্বর্তী  সরকারের সময় ভিসা বন্ধ বা সীমিত করার সময় ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম ও হোটেল ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছিল। অনেক হোটেল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ করেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আত্মচিৎকার করেছেন। বাংলাদেশিরা না গেলে তারা দুমুঠো খেতে পারবে না বলে অনেকে বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। অথচ সেসময় কিন্তু বাংলাদেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। চিকিৎকার কথা যদি বলি ভারত না গিয়ে বরং চীন, তুরস্ক, ইরানসহ অন্যান্য দেশে সস্তায় চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সেই সময়ে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হননি। বরং ভারতের ন্যারেটিভ ভেঙে গেছে। তারা ছাড়া বাংলাদেশ অচল—এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন ট্যুরের জন্য নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, চীনসহ পুরো বিশ্ব খোলা। সেখানে ধর্মীয় প্রতিহিংসা বা মবের ভয় নেই। স্ক্যামারদেরও কম। তাহলে শুধু ভারতেই ভিড় করার কী প্রয়োজন? বেইজ্জতির ঝুঁকি নিয়ে কেন যেতে হবে?

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাওয়া যায়। কিন্তু আনন্দ ভ্রমণ বা সাধারণ ট্যুরের জন্য এ মুহূর্তে ভারতের পরিবেশ উপযোগী নয়। বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গে যখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে পরিবেশটা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। এর চেয়ে বরং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দিন। ডাক্তার-হাসপাতাল-টেস্ট-ঔষধ ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনুন। বাইরের দরজা খোলা আছে। নিরাপদ জায়গা বেছে নিন।

#BoycottIndiaTourism #ProtectBangladeshis #SafeTravelChoices

জুলাই চেতনা ধারণ করেই রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

 


জুলাই চেতনা ধারণ করেই রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামছুল ইসলাম ২৪ জুলাই শনিবার রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই ২০২৪’ অনুষ্ঠানে এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে অস্বীকার বা অবহেলা করে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

শামছুল ইসলাম বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্র ও সমাজ পুনর্গঠনের কাজ এগিয়ে নিতে চায়। একাত্তর যেমন স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল, তেমনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সুশাসন ও মানুষকেন্দ্রিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। এই চেতনার মূল ভিত্তি হলো বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।

তিনি জুলাই চেতনাকে তিনটি প্রধান স্তম্ভে ভাগ করেছেন। প্রথম স্তম্ভ—বৈষম্যের অবসান। কোনো নাগরিক বা প্রতিষ্ঠান যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বঞ্চনার শিকার না হয়। দ্বিতীয় স্তম্ভ—জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা। ক্ষমতা যেন এককেন্দ্রিক না হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সংবিধানিক পরিধির মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। তৃতীয় স্তম্ভ—জাতীয় সংহতি ও পুনর্মিলন। অতীতের ক্ষত সারিয়ে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের ওপর নির্যাতন ও গণতন্ত্র হত্যার ধারাবাহিকতায়। তিনি উল্লেখ করেন, সেই সময়ে অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তারাও ছাত্র-জনতার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ২৯ জুলাই প্রেসক্লাবের সামনে এবং ৩০ জুলাই শহীদ মিনারে তাদের একাত্মতা প্রকাশ এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন সেনা নিবাসে গণমিছিল ছিল আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট।

সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে শামছুল ইসলাম জানান, গেজেটভুক্ত জুলাই যোদ্ধাদের তিনটি শ্রেণিতে মাসিক সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহতদের থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও রাশিয়ায় চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। শহীদ ও আহত যোদ্ধা পরিবারের তথ্যভান্ডার তৈরি করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ-পুনর্বাসনের কাজ চলছে। বিগত সরকারের আমলে নির্যাতিত সশস্ত্র বাহিনীর কর্মকর্তাদের মর্যাদা ফিরিয়ে দিতে বোর্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। মেজর সিনহা হত্যা ও বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে তিনি জানান।

সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বাহিনীকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, পেশাদার, রাজনীতিমুক্ত ও জনমুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা হবে। পদোন্নতি ও দায়িত্ব বণ্টনে মেধা ও যোগ্যতাই হবে একমাত্র মানদণ্ড। সশস্ত্র বাহিনীকে কোনো ব্যক্তি বা দলের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বাহিনীর আনুগত্য থাকবে সংবিধান ও রাষ্ট্রের প্রতি।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ, সত্য ও ইতিহাস যেন অপব্যাখ্যা, বিভ্রান্তি বা সংকীর্ণ রাজনৈতিক স্বার্থে বিকৃত না হয়। কেউ কেউ জুলাইকে নিজেদের রাজনৈতিক বয়ানের অংশ হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছেন। ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা মানে সত্যকে ধারণ করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা।

জাতীয় সংহতির ওপর গুরুত্বারোপ করে শামছুল ইসলাম বলেন, বিভক্ত হলে আধিপত্যবাদী শক্তি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পায়। বাংলাদেশ কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথা নত করতে চায় না। জুলাইয়ের চেতনা ঐক্যের শিক্ষা দেয়। রাষ্ট্র ও জাতি পুনর্গঠনে ঐক্যের বিকল্প নেই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত শহীদ পরিবার, জুলাই যোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সম্মিলনকে তিনি জাতীয় সংহতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা এবং জুলাই যোদ্ধাদের সাহসের সমন্বয়েই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।

প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

 প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-তদবিরের পুরনো ধারা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও রেকর্ডিং, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং প্রতিদিনের ফল প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।


নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। প্রবেশপত্র যাচাই থেকে শুরু করে ৪০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ, মেডিক্যাল পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপ সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। দৌড়ের পুরো সময় রেকর্ড করা হয়, যাতে কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ না থাকে। অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পথে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়, যাতে পুনরায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকে।


শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিই নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরা মাঠে উপস্থিত থাকছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি প্রতিদিন পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে। নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. শহীদ আতাহার হোসেন সার্বক্ষণিক মাঠে অবস্থান করছেন, আর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কাগুজে তদারকির বদলে বাস্তব উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক নজরদারিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রতিদিনের শারীরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের তালিকা ফায়ার সার্ভিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীদের তদবিরের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ার প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উদ্দেশে দালাল ও প্রতারকদের প্রলোভন এড়াতে সতর্কতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। মাঠের ভেতর-বাইরে দালালবিরোধী ব্যানার টাঙানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ হবে, ততই অনিয়ম, তদবির ও দালালচক্রের প্রভাব কমবে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও সংরক্ষণ এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপস্থিতি শুধু বর্তমান প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখছে না, ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাইয়েরও সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের ব্যবস্থা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


লিখিত পরীক্ষা জুলাইয়ে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এই প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ মডেল যদি সফল হয়, তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের স্বচ্ছতা আনতে উৎসাহিত হতে পারে। অনিয়মের পথ বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারি চাকরির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে এবার প্রযুক্তির কড়া নজরদারি

 ফায়ার সার্ভিসের নিয়োগে এবার প্রযুক্তির কড়া নজরদারি


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগে অনিয়ম রোধে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও রেকর্ডিং এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছ রাখা হচ্ছে।


নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল ট্রেনিং গ্রাউন্ডে শারীরিক পরীক্ষা চলছে। ৪০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ ও মেডিক্যাল পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নির্বাচিতদের তালিকা ওয়েবসাইট ও ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছে। অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে বাইরে পাঠানো হয়।


মহাপরিচালকসহ উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা সরাসরি তদারকি করছেন। দালালদের প্রলোভন এড়াতে প্রার্থীদের সতর্ক করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা জুলাইয়ে এবং নিয়োগ আগস্টে শেষ হওয়ার কথা।


প্রযুক্তি ও কঠোর নজরদারির এই মডেল সরকারি নিয়োগে স্বচ্ছতার নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করছে।

ফায়ার সার্ভিসকে টার্গেট করে অপপ্রচার: গ্রেফতার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক

 ফায়ার সার্ভিসকে টার্গেট করে অপপ্রচার: গ্রেফতার সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে নিয়ে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগে রাজধানীতে গ্রেফতার হয়েছেন অনলাইন পোর্টাল ‘সকালের সংবাদ’-এর কথিত সাংবাদিক হাফিজুর রহমান শফিক। গত ২১ জুলাই রাতে মগবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে পুলিশ।

সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ধারা ২২(২), ২৫(১) ও ২৭-এর অধীনে মামলা দায়ের করা হয়। শাহবাগ থানার ওসি মনিরুজ্জামান জানান, মামলার ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


তদন্তসূত্র জানায়, হাফিজুর রহমান শফিক একটি সংঘবদ্ধ অপপ্রচার ও প্রতারণামূলক চক্রের অন্যতম সমন্বয়কারী। চক্রটিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়েছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো—এই ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস নিজে কোনো মামলা করেনি। অথচ অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রতিনিয়ত ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক সংবাদ প্রচার করে আসছিলেন। তার মূল লক্ষ্য ছিল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি করতে চাপ সৃষ্টি করা।

বর্তমানে ফায়ার সার্ভিস নিয়োগে প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছ ব্যবস্থা চালু করে অনিয়মের পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে। ঠিক এই সময়ে এ ধরনের অপপ্রচার চক্রের তৎপরতা নিয়োগ প্রক্রিয়াকে বিভ্রান্ত ও চাপের মুখে ফেলার চেষ্টা বলেই মনে করা হচ্ছে।


পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রের অন্যান্য সদস্য ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশের ছাত্ররা ভারতের ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা দেখাতেই পারে, কারণ তারাও দেখিয়েছিল


 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের কিছু ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়েছিল। কলকাতা ও দিল্লিতে তারা মিছিল করেছিল, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রাম হিসেবে দেখেছিল। সেই একাত্মতা মূলত মতাদর্শগত ও নীতিগত জায়গা থেকে এসেছিল।

এখন যদি উল্টো চিত্র দেখা যায়—অর্থাৎ ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্র সমর্থন জানায়—তাহলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলার কোনো যুক্তি নেই। ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও একাত্মতা নতুন কিছু নয়। এক দেশের শিক্ষার্থীরা যখন অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানায়, তখন সেটিকে সাধারণত মানবিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হয়।

ভারতের ছাত্ররা যখন বাংলাদেশের আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিল, তখন তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বা কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে নীতির জায়গা থেকে দাঁড়িয়েছিল। একই যুক্তিতে, বাংলাদেশের কিছু ছাত্র যদি ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানায়, তাহলে সেটিকেও একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত। এটি কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়; বরং ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সংহতিরই একটি স্বাভাবিক প্রকাশ।

অতএব, ভারতের ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্রের সমর্থন থাকা অস্বাভাবিক নয়। এটি সেই একই ধারার ধারাবাহিকতা, যেখানে ছাত্ররা সীমান্তের বাইরেও একে অপরের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেয়।

নেতার নৈতিক অধপতন: গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা থেকে কী শিক্ষা?

 নেতার নৈতিক অধপতন: গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা থেকে কী শিক্ষা?

একজন নেতার সবচেয়ে বড় সম্পদ তাঁর নৈতিক অবস্থান। ক্ষমতা, পদবি বা দলীয় পরিচয় নয়—চরিত্রই তাঁকে জনগণের আস্থা অর্জনের যোগ্য করে তোলে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সাম্প্রতিক ঘটনা সেই সত্যকেই আবারও সামনে এনেছে। ব্যক্তিগত জীবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে। তিনি দাবি করেছেন, ওই নারী তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। কিন্তু ঘটনার প্রেক্ষাপট, সময় এবং প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া মিলে এক ধরনের নৈতিক সংকটের জন্ম দিয়েছে, যা শুধু একজন ব্যক্তির ব্যর্থতা নয়—নেতৃত্বের চরিত্র নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

নেতাদের এমন অধপতন কেন ঘটে? মূল কারণ হলো ক্ষমতার অহংকার এবং জবাবদিহিতার অভাব। যখন কেউ নিজেকে অলঙ্ঘনীয় মনে করতে শুরু করে, তখন ব্যক্তিগত নীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা দুটোই শিথিল হয়ে পড়ে। ধর্মীয় বা আদর্শিক দলের ব্যানারে যারা নৈতিকতার কথা বলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনে দ্বৈত মানদণ্ড থাকলে তা আরও বেশি ক্ষতিকর হয়। জনগণ তখন শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো আদর্শকেই সন্দেহের চোখে দেখে। ক্ষমতার লোভ, নিরাপত্তাহীনতা এবং সামাজিক জবাবদিহিতার দুর্বলতা—এই তিনটি মিলে নেতৃত্বকে নৈতিকভাবে ভঙ্গুর করে তোলে।

পরবর্তী প্রজন্ম এ থেকে কী শিখবে? প্রথম শিক্ষা হলো—নেতৃত্ব মানে শুধু কথা বলা নয়, নিজের জীবন দিয়ে উদাহরণ তৈরি করা। যারা নৈতিকতার ধুয়ো তোলেন, তাঁদের ব্যক্তিগত জীবনকেও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক রাখতে হয়। দ্বিতীয়ত, জনগণের আস্থা একবার ভাঙলে তা সহজে ফিরে আসে না। তৃতীয়ত, ক্ষমতা বা পদবি কাউকে নৈতিকভাবে উঁচু করে না; বরং নৈতিকতাই ক্ষমতাকে অর্থবহ করে।

এই ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা হয় ব্যক্তিগত জীবনের অন্ধকার কোণায়। যেখানে ক্যামেরা নেই, যেখানে প্রশংসাকারী নেই—সেখানে কে কেমন, সেটাই চরিত্রের প্রকৃত পরিচয়। পরবর্তী প্রজন্ম যদি এই শিক্ষাটা গ্রহণ করে, তবে হয়তো ভবিষ্যতে নেতৃত্বের মানদণ্ড একটু হলেও উঁচু হবে। নইলে একই চক্র ঘুরতে থাকবে—ক্ষমতা, অধপতন, এবং জনগণের হতাশা।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এবার জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি


 জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনে এবার জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের প্রায় সাড়ে চার দশক পর সেই রহস্যের পর্দা উন্মোচনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক তৎকালীন মেজর মোজাফফর হোসেনকে (৭৭) দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজিরের পর এই আদেশ দেওয়া হয়। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, প্রসিকিউশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তাকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা সুবিধাজনক সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি সেনা হেফাজতেই থাকবেন।

এর আগে মঙ্গলবার মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রসিকিউশনের এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। চিফ প্রসিকিউটর জানিয়েছিলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে মোজাফফর হোসেনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সময় এবং ১/১১-এর ঘটনার সঙ্গেও তাঁর যোগসূত্র রয়েছে বলে তদন্ত সংস্থা প্রাথমিক তথ্য পেয়েছে। সে কারণেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। দুজনকে মুখোমুখি করে জিজ্ঞাসাবাদের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই রাত সাড়ে দশটায় বনানীর একটি বাসা থেকে ডিবি তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বিষয়টি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগকে জানানো হয় এবং পরদিন সন্ধ্যায় সেনাবাহিনীর মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে তিনি সেনা হেফাজতে রয়েছেন।

মোজাফফর হোসেন গত ১৬ বছর তৎকালীন সরকারের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের মতো এক যুগান্তকারী ঘটনার রহস্য উন্মোচনে এবার তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ কতটা নতুন তথ্য উদ্ঘাটন করতে পারবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে এটা নিশ্চিত যে, দীর্ঘদিনের নীরবতার পর এখন এই মামলার তদন্ত নতুন মোড় নিচ্ছে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি ও রাহুল গান্ধীর কঠোর অবস্থান

 শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি ও রাহুল গান্ধীর কঠোর অবস্থান

ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংকট এখন রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (NEET) প্রশ্নপত্র ফাঁসসহ বারবার পরীক্ষা পদ্ধতির ব্যর্থতার জেরে ছাত্রসমাজ যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, তা এখন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-এর নেতৃত্বে একব্যাপী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। এই আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা এসেছে—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন থামবে না।

সিজেপি নেতৃত্ব স্পষ্ট করে বলেছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ এখন আর আলোচনার বিষয় নয়, এটি আন্দোলনের অপরিহার্য শর্ত। তাদের ভাষ্যে, পরীক্ষা পদ্ধতির বারবার ব্যর্থতা, লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ধ্বংস এবং একাধিক আত্মহত্যার ঘটনার দায় এড়ানো যায় না। শিক্ষামন্ত্রীকে অপসারণ না করে কোনো ধরনের সংস্কার বা তদন্ত কমিটি গঠনকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করছে না।

এই অবস্থানের সঙ্গে সুর মিলিয়েছেন কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। তিনি আন্দোলনকারীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেছেন, গত এক দশকে ১৫২টি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে, যার শিকার হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ শিক্ষার্থী। তাঁর মতে, এখন আর শুধু তদন্ত বা আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষামন্ত্রীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই হবে।

দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান অনশন ও বিক্ষোভ এবং সংসদে বিরোধী দলগুলোর বিক্ষোভ—সবকিছুই এখন একই দাবিতে কেন্দ্রীভূত। সিজেপি ও বিরোধী নেতৃত্বের এই অভিন্ন অবস্থান সরকারকে চাপের মুখে ফেলেছে। যদিও সরকার দ্রুত বিচার ব্যবস্থা ও সংস্কারের কথা বলছে, আন্দোলনকারীরা তাতে সন্তুষ্ট নয়। তাদের বার্তা পরিষ্কার—শিক্ষামন্ত্রী পদত্যাগ না করা পর্যন্ত রাস্তা ছাড়া হবে না।

এই আন্দোলন এখন শুধু শিক্ষা সংকটের প্রতিবাদ নয়, যুবসমাজের ক্ষোভের রাজনৈতিক প্রকাশও। সিজেপি ও রাহুল গান্ধীর এই ঘোষণা সেই ক্ষোভকে আরও তীব্র করেছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ইস্যুটি এখন ভারতের রাজনৈতিক ময়দানের অন্যতম প্রধান দ্বন্দ্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।

ভারতে ছাত্র আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনের ছায়ায় এবার কি মোদির গদিই টার্গেট?

 ভারতে ছাত্র আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনের ছায়ায় এবার কি মোদির গদিই টার্গেট?

ভারতে এই মুহূর্তে যে ছাত্র আন্দোলন চলছে, তা শুধু পরীক্ষা ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়। এটি মোদি সরকারের শিক্ষা নীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের গভীর ক্ষোভের প্রকাশ। ২০২৬ সালের এনইইটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। জুন মাস থেকেই দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জান্তা পার্টির ব্যানারে যুবকেরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে তারা মিছিল করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও শতাধিক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এখন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। রাহুল গান্ধীর মতো নেতারাও আটক হয়েছেন। সাধারণ মানুষ খাবার ও পানি পাঠিয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছেন। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের মতো ব্যক্তিত্বরাও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই আন্দোলন শুধু শিক্ষা সংকটের প্রকাশ নয়। এটি যুব বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারের প্রতি আস্থার সংকটকেও সামনে এনেছে। মোদি সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুবশক্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা ফাঁস, চাকরির অভাব ও স্বচ্ছতার অভাবে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সরকারের কঠোর মনোভাব আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ফলে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখলে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে গণআন্দোলন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘটিয়েছিল। নেপালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুব ক্ষোভ বারবার সরকার পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান ক্ষমতার পালাবদল এনেছে। এই তিন দেশের ঘটনায় একটি সাধারণ সূত্র দেখা যায়—যখন তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাশ হয় এবং সরকার তা উপেক্ষা করে, তখন রাস্তার আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়।

ভারত অবশ্য অনেক বড় ও জটিল গণতন্ত্র। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়মিত চলে। তাই সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবুও ছাত্রদের এই ক্ষোভ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। পরীক্ষা ফাঁসের মতো ঘটনা বারবার ঘটলে এবং পুলিশি দমন অব্যাহত থাকলে যুবসমাজের আস্থা আরও ক্ষয় হবে। মোদি সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইতিহাস বলে, যখন শাসকগোষ্ঠী তরুণদের কণ্ঠস্বরকে দমন করতে চায়, তখন সেই কণ্ঠস্বর আরও জোরে প্রতিবাদী হয়। ভারতের ছাত্ররা এখন সেই পথেই হাঁটছে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনা যদি কোনো শিক্ষা দেয়, তা হলো—যুব ক্ষোভকে উপেক্ষা করা যায় না। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে তার ওপর। শিক্ষার্থীদের দাবি যদি উপেক্ষিত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের সম্ভাবনা একেবারে অস্বীকার করা যায় না।

#IndiaStudentProtests #NEETLeakCrisis #SouthAsiaYouthMovement

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team