Showing posts with label আওয়ামী লীগ. Show all posts
Showing posts with label আওয়ামী লীগ. Show all posts

আবু উবাইদা অরিনের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ


আবু উবাইদা অরিনের
রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ

গত আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত ‘Sheikh Hasina’s Homecoming’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী আবু উবাইদা অরিন বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার এই বাসিন্দা বর্তমানে ভারতে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন এবং সেখানেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, ARSA ও RSO নামের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনের বেশি ‘জঙ্গি’ পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ, সরকারি নথি, তদন্তের ফলাফল, নির্ভরযোগ্য সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও এ ধরনের দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেই প্রতীয়মান হয়।

আবু উবাইদা অরিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরিনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি সাতক্ষীরার জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। লেখাপড়ার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সেনাবাহিনীকে এভাবে অপ্রমাণিত অভিযোগের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার চেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অরিনের এই বক্তব্যে কোনো সত্যতা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং দায়িত্বহীন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

আবার আসিব ফিরে, ধানমণ্ডি ৩২ এর তীরে!

 আবার আসিব ফিরে, ধানমণ্ডি ৩২ এর তীরে! 


আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—  

হয়তো মানুষ নয়,  

হয়তো বা শঙ্খচিলের বেশে...হয়তোবা ডাইনির বেশে! 


জীবনানন্দ দাশের এই কবিতাটা হয়তো আপনি পড়েছেন। এখন একটু অন্যভাবে বললাম। 

কেননা, এটা কবির ভাষায় হলেও রাজনীতির ভাষায় ব্যাপারটা কঠিন। 

শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।  

চাইলেই কি ফিরে আসা যায়?


আগে তো চাইলেই ক্ষমতায় থাকা যেত।  

চাইলেই নির্বাচন জেতা যেত।  

চাইলেই বিরোধীদের জেলে পোরা যেত।  

চাইলেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা যেত।  

চাইলেই “আমি-ডামি” নির্বাচন করা যেত।


এখন চাইলেই দেশে ফিরে আসা যায়?


মৃত্যুদণ্ডের রায় আছে।  

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা আছে।  

দল নিষিদ্ধ।  

নেতারা কারাগারে।  

পরিবারের প্রায় সবাই বিদেশে নিরাপদ।  

আর তিনি বলছেন—আমি ফিরব।


দেশের বাইরে বসে বলা সহজ—  

“আমি ফিরব। ভয় পাই না। জেলে যেতে রাজি। মৃত্যুদণ্ড হলেও রাজি।”


কিন্তু সত্যিই চাইলেই কি ফিরে আসা যায়?

যদি চাইলেই ফিরে আসা যেত, তাহলে  

— পরিবারের সবাই কি এখনো বিদেশে থাকতেন?  

— নেতারা কি এখনো কারাগারে থাকতেন?  

— দল কি নিষিদ্ধ থাকত?


চাইলেই ক্ষমতা ছাড়া যায়নি।  চাইলেও ক্ষমতায় থাকা যায় নি। অনেক চাওয়ার পরও দেশে থাকা যায় নি। এখন চাইলেই কি ফিরে আসা যাবে? 

বোঝা যাচ্ছে—  

রাজনীতিতে “চাইলেই” শব্দটা খুবই শক্তিশালী হলেও অনেক কঠিন।  বিশেষ করে যখন দেশের বাইরে থেকে বলা হয়। আর দেশের মানুষ যখন বিপক্ষে থাকে। তখন তো আরও কঠিন। 

ডিসেম্বর আসছে।  

দেখা যাক, “চাইলেই” আসলে কতদূর যায়।  


আবার আসিব ফিরে...  

না কি শুধু বলব? আমি আসছি ডিসেম্বরে, কিন্তু কোন ডিসেম্বরে সেটা তো বলিনি। 

সাকিব আল হাসানকে দিয়ে গেম খেলছে আওয়ামী লীগ?

 

সাকিব আল হাসানকে দিয়ে গেম খেলছে আওয়ামী লীগ?

৫ আগস্ট ২০২৬। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনার প্রায় দুই বছর পর প্রথম ভার্চুয়াল মিডিয়া ইভেন্ট। সেখানে উপস্থিত হন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও সাবেক আওয়ামী লীগ সাংসদ সাকিব আল হাসান। ঘণ্টাখানেক পর মাগুরায় তার পৈতৃক বাড়িতে ইটপাটকেল, জানালা ভাঙচুর আর পেট্রোল বোমার হামলা। বাড়ি খালি ছিল, কেউ আহত হয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে—সাকিবকে দিয়ে কি আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক গেম খেলছে?

সাকিব ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়। তার জনসমর্থন রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর অনেক নেতা আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেলেও সাকিবের নাম এখনো মানুষের মুখে মুখে। সেই সাকিবকে হাসিনার অনুষ্ঠানে দেখানো, তারপর তার বাড়িতে হামলার খবর ছড়িয়ে দেওয়া—এতে একদিকে সহানুভূতি তৈরি হয়, অন্যদিকে ‘আওয়ামী লীগের ওপর নিপীড়ন’ চলছে বলে প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টে লিখেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগও বলেছে, এটি ‘প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার মূল্য’। অর্থাৎ, সাকিবের অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। সাকিব কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, নাকি তাকে ব্যবহার করা হয়েছে? একজন ক্রিকেট তারকাকে রাজনৈতিক মঞ্চে টেনে এনে, তারপর তার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে বড় করে তুলে ধরে সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আদায়ের চেষ্টা কি হচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয় মুখ ব্যবহারের নজির নতুন নয়। সাকিবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হিসাব-নিকাশ কাজ করতে পারে। তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে একদিকে দলকে ‘নির্যাতিত’ হিসেবে দেখানো, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘সহিংস’ বলে চিত্রিত করা—এই খেলায় সাকিব কি শুধু একজন খেলোয়াড়, নাকি গেমের অংশ?

হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। রাজনৈতিক মতের কারণে কারো সম্পত্তিতে হামলা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু একইসঙ্গে জনপ্রিয় মুখকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক মূলধন তৈরির চেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ। সাকিব আল হাসান কি সচেতনভাবে এই খেলায় নেমেছেন, নাকি তাকে দিয়ে খেলা হচ্ছে—এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে জোরালো।

কারাগারে দলের বহু নেতাদের বিপদে রেখে শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, এটাই কি আওয়ামী লীগের নীতি?


কারাগারে দলের বহু নেতাদের বিপদে রেখে শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, এটাই কি আওয়ামী লীগের নীতি?

২০২৪ সালের আগস্টে যখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর একটা চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়- শেখ পরিবারের প্রায় সবাই এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন নিরাপদে দেশের বাইরে চলে গেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাগারে।

শেখ হাসিনা নিজে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। রেহানা এর আগে যুক্তরাজ্যে থাকতেন। এখন তিনি লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে কর্মরত ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনিও দিল্লি ও দুবাইয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন।

শুধু পরিবার নয়। শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই, চাচাতো ভাই ও তাদের সন্তানদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়, নূর-ই-আলম চৌধুরীসহ অনেকে ভারতে, বিশেষ করে কলকাতার এলিট আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময় খবর বেরিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও দেশ ছাড়েন।

এই পরিবারের সদস্যরা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে সুবিধা ভোগ করেছেন। কিন্তু যখন পরিস্থিতি খারাপ হলো, তখন প্রায় সবাই সময়মতো পালিয়ে গেলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেন।

অন্যদিকে দলের সাধারণ নেতা-কর্মী ও মধ্যম সারির নেতৃত্বের অনেকেই এখন কারাগারে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় শত শত নেতা আটক। অনেকে পলাতক। কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েছেন। অথচ যারা ক্ষমতার সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন, তারা নিরাপদে বিদেশে।

এই বৈষম্য ও স্বার্থপর নীতিই আওয়ামী রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একদিকে শেখ পরিবার ও তাদের নিকটাত্মীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ে, অন্যদিকে দলের হাজার হাজার কর্মী কারাগারের অন্ধকারে। অনেকে বলছেন, ক্ষমতা যখন ছিল তখন সবাইকে ব্যবহার করা হয়েছে। যখন বিপদ এল, তখন শুধু পরিবার রক্ষা পেল।

এই স্বার্থপর রাজনীতিই এখন অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ও বিষ্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.  

While the people of Bangladesh were remembering the martyrs, the voice of Sheikh Hasina rose from a club in New Delhi.  

Through an audio link. She was not visible on video. But she was speaking.  

She announced that she would return to the country in December.  

And the Ministry of External Affairs of India said—  

“This is a private event. The government has no involvement whatsoever.”


But the question is—  

Does saying “we are not involved” end the responsibility?

Bangladesh was not silent.  

Before the event, Foreign Affairs Adviser Humayun Kabir had formally summoned the Indian High Commissioner and requested that Sheikh Hasina not be allowed to deliver political statements from Indian soil.  

He had clearly stated that such an event could harm the progress of bilateral relations.  


The High Commissioner had given assurances. But the event took place.  


After the event, the statement issued by the Ministry of Foreign Affairs of Bangladesh used extremely strong language.  


The official statement of the Ministry said—  

“Bangladesh is outraged that the absconding convicted genocider Sheikh Hasina was allowed this evening to engage in live interaction with the media in New Delhi where she and her henchmen launched venomous vitriol against the State of Bangladesh and her people.”

The statement further said—  

“Dhaka deeply regrets that in spite of concerns conveyed a priori to the Government of India about the likely ramifications of this event on the reset of our bilateral relations, this public event was permitted to be held.”


The statement clearly stated—  

“On a day when the people of Bangladesh are observing the second anniversary of the July Revolution, this interaction by Sheikh Hasina on the Indian soil stands as an affront to the sovereignty of Bangladesh and a grievous insult to the martyrs of the July Revolution.”


The Ministry further said—  

The denial of facts established by the United Nations, including the gruesome killing of innocent civilians including minor children during July-August 2024 by the fascist regime, stands as a futile attempt by the absconding convicted mass murderer Hasina and her criminal cohort to reverse the tide of history.  

The statement firmly declared—  

“Convicted mass murderer Hasina and her mafia enterprise will never have a place in the polity of Bangladesh.”

Sheikh Hasina is not an ordinary citizen.  

She has been convicted of crimes against humanity by the International Crimes Tribunal.  

She has been sentenced to death.  

She is a state fugitive subject to extradition.  

Such a person is making political declarations before the international media from foreign soil.  

This is not mere personal expression of opinion.  

This is active political activity against a state.  

The host country could have taken many steps if it wanted.  

But India did not take those paths.  

It only said—we are not involved.

At the end of the statement, Bangladesh clearly stated its position—  

“Bangladesh desires to maintain a constructive, mutually beneficial, and forward-looking relationship with India based on sovereign equality, mutual respect, non-interference in each other’s internal affairs, and national dignity.  

Regrettably, Bangladesh’s repeated requests to the Government of India for returning convicted criminal Hasina to Bangladesh under the Extradition Treaty signed between Bangladesh and India in 2013, has not yet elicited a response.  

On the contrary, allowing her the opportunity to openly interact with the media under any pretext is deeply hurtful to our people’s sentiment and detrimental to the development of harmonious bilateral relations between Bangladesh and India.”

Saying “we are not involved” does not end the responsibility.  

Especially when the issue concerns a political platform for a convicted fugitive.  

And the question of a neighbouring country’s sovereignty.  

If India truly follows the principle of non-interference in internal affairs—  

Then it must prove it not only in words, but also in actions.  


Otherwise, the phrase “private event” remains merely a convenient cover for avoiding responsibility.


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?

২০২৬ সালের ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। বাংলাদেশের মানুষ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, তখন নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় এক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে কথা বললেন শেখ হাসিনা। অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়নি। এটা তার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সরাসরি মিডিয়া মতবিনিময়।

শেখ হাসিনা বললেন, ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। গ্রেপ্তার হোক, কারাগারে যাক, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হোক—ভয় পাচ্ছেন না। তিনি দাবি করলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং ‘পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তন’। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও দাবি জানালেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বললেন, ভারত তাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা’ দিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট ও তীব্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে—‘ঢাকা ক্ষুব্ধ’। তারা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল যে এই অনুষ্ঠান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, ভারতীয় মাটিতে থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিষাক্ত আক্রমণ’ চালানো হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অপমান বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি ‘নির্বাসিত নেতা’?

না। তিনি গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে। হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের হিসাবে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণহত্যা রোধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত বলেছে, বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শেখ হাসিনা নিজেকে ‘নির্বাসিত’ দাবি করলেও বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি আদালতের রায় এড়িয়ে পলাতক। আন্তর্জাতিক আইনেও একজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশ থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ।

ভারত কি হস্তক্ষেপ করল?

ভারত সরকার বলেছে, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে। সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো মতামতকে সমর্থনও করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শেখ হাসিনা দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা পাচ্ছেন। প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় ভূখণ্ডে। বাংলাদেশ আগেই আপত্তি জানিয়েছিল। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সরকার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে। একজন দোষী সাব্যস্ত, পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ দেওয়া কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে প্রচেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তাতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে—সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা—এই ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগোতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স শুধু একজন পলাতক নেতার বক্তব্য নয়। এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া, গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ভারত যদি সত্যিই ‘বেসরকারি অনুষ্ঠান’ বলে দায় এড়াতে চায়, তাহলে এমন অনুষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার নৈতিক ও কূটনৈতিক দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়।

শেখ হাসিনা ‘নির্বাসিত নেতা’ নন, তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী

 শেখ হাসিনা ‘নির্বাসিত নেতা’ নন, তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ‘exiled political leader’ বা ‘নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতা’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা কেবল ভুল নয়, ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি। নির্বাসন মানে হলো কোনো শত্রুশক্তি বা বৈদেশিক হস্তক্ষেপে দেশছাড়া হওয়া। হাসিনা সেটা করেননি। তিনি নিজের শাসনামলে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানোর পর জনরোষ থেকে বাঁচতে সামরিক বিমানে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সেটা পলায়ন, নির্বাসন নয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া, গণহত্যায় উসকানি ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এসব রায় অনুপস্থিতিতে হলেও বাংলাদেশের আদালতের রায়। সেটাই আনুষ্ঠানিক রেকর্ড।

শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। দুর্নীতির মামলায়ও হাসিনা দোষী। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের একাধিক মামলায় তাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও একইভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়েছে।

যারা এখনও হাসিনাকে ‘নির্বাসিত নেতা’ বলে প্রচার করেন, তাদের কাছে একটা সহজ পরীক্ষা রাখা যায়। তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বা যেকোনো স্থলসীমান্ত দিয়ে ফিরে আসতে দিন। লাইভ সম্প্রচার করুন। দেখুন বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। তখনই বোঝা যাবে বাস্তবতা কী।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান- শেখ হাসিনাকে ‘নির্বাসিত’ বলে অপরাধকে ঢেকে রাখা যায় না। হাসিনা দোষী। জয় দোষী। আদালতের রায়ই চূড়ান্ত। সেটাই রিপোর্ট করা উচিত।

Sheikh Hasina is not an ‘exiled leader’. She is a convicted criminal found guilty of crimes against humanity.

 Sheikh Hasina is not an ‘exiled leader’. She is a convicted criminal found guilty of crimes against humanity.


International media outlets routinely describe Sheikh Hasina as an “exiled political leader.” This is not merely inaccurate — it is a deliberate distortion. Exile means being forced out of one’s country by a hostile power or foreign intervention. That is not what happened to Hasina. After ordering a massacre of unarmed students and ordinary citizens during her own rule, she fled the country on a military aircraft to escape the fury of the people she had governed with an iron fist. That was an escape, not exile.


The International Crimes Tribunal has already found her guilty of crimes against humanity and sentenced her to death. The charges proven against her include ordering the use of helicopters, drones and lethal weapons to crush the July-August 2024 student uprising, inciting mass killings, and failing to prevent or punish the atrocities. Former Home Minister Asaduzzaman Khan Kamal received the same death sentence in the same case. Although these verdicts were delivered in absentia, they remain the official judgments of a Bangladeshi court. That is the formal record.


Crimes against humanity are not her only convictions. She has also been found guilty in multiple corruption cases. In several cases involving irregularities in plot allotments under the Purbachal New Town project, she has been sentenced to a total of 21 years in prison. In the same cases, her son Sajeeb Wazed Joy was sentenced to five years’ imprisonment. Her daughter Saima Wazed Putul was likewise convicted. Other members of the family have also received sentences in various corruption cases.


Those who still insist on calling Hasina an “exiled leader” can take a simple test. Let her return through Dhaka’s Hazrat Shahjalal International Airport or any land border of her choosing. Broadcast it live and unedited. Let the world see the reception the people of Bangladesh have prepared for her. Then the reality will speak for itself.


A clear appeal to the international media: calling Sheikh Hasina “exiled” does not erase her crimes. Hasina is convicted. Joy is convicted. The court’s verdict is final. Report it as such.

এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা


এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা

পাঁচই আগস্টের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের পতনের পর জায়গা করে নিয়েছে বিএনপি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাসও হয়নি। এই স্বল্প সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মন্দা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা—সব মিলিয়ে চাপের মুখে পড়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সমস্যা আছে, দ্রব্যমূল্যের চাপ আছে। মানুষের দুর্ভোগও আছে। কিন্তু এই বাস্তবতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার বদলে এনসিপি ও জামাত যে পথে হাঁটছে, তা নিজেদের জন্যই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

তারা চেষ্টা করছে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের জায়গায় বসাতে। তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার জায়গায় দাঁড় করাতে। এই তুলনা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার সমান। আওয়ামী লীগের সতেরো বছরের শাসন ছিল দুর্নীতি, খুন, গুম, প্রতিহিংসা আর নির্মম দমনের ইতিহাস। বিরোধীদের ওপর যে মাত্রার নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অতুলনীয়। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও সংস্কৃতি সেই পথে হাঁটেনি। ছয় মাসের শাসনে একটিও গুম হয়নি, একটিও রাজনৈতিক হত্যা হয়নি। তারেক রহমান একবারও প্রতিহিংসার ভাষা ব্যবহার করেননি। হাসিনার সঙ্গে তার তুলনা মানুষ গ্রহণ করবে না। কারণ মানুষ ইতিহাস দেখেছে এবং বর্তমানও দেখছে।

এনসিপি যে পদযাত্রা করছে, তাতে জুলাইয়ের চেতনা বা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথা খুব কমই শোনা যায়। বরং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির বিরুদ্ধে কটূক্তি, গালিগালাজ আর উসকানিমূলক ভাষাই বেশি শোনা যায়। শুধুমাত্র বিরোধিতার নামে বিরোধিতা। গঠনমূলক সমালোচনার বদলে মানুষকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা। এই পথে হাঁটলে জনসমর্থন বাড়ে না, কমে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী দল হিসেবে যে জনপ্রিয়তা তারা অর্জন করেছিল, সেটাই এখন হারাতে বসেছে।

পাঁচই আগস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল এনসিপি ও জামাত। সেই পরিবর্তন না হলে জামাতের সংসদে আসার সুযোগ হতো না, এনসিপির জন্মও হতো না। বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন পেলে ক্ষমতায় আসতই। কিন্তু এখন তারা দ্রুত ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে। সোজা পথে জনসমর্থন অর্জনের বদলে বাঁকা পথে হাঁটতে চাইছে। এই কৌশল যদি আওয়ামী লীগকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে এনসিপি ও জামাতেরই। বিএনপি আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে টিকেছে। তারা আবারও টিকবে। কিন্তু এনসিপি ও জামাতের জন্য সেই সুযোগ আর সহজে আসবে না।

আওয়ামী লীগ এখনো জনগণের ওপর ভরসা করে না। তাদের ভরসা আমেরিকা, ভারত আর তথাকথিত ডিপ স্টেটের ওপর। জনগণের বিপক্ষে গিয়ে যারা ক্ষমতা ধরে রেখেছিল, তারা আবারও সেই পথেই হাঁটতে চায়। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘদিন জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না। এনসিপি ও জামাত যদি এই সত্য ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র সরকারবিরোধী উসকানিমূলক রাজনীতি করে, তাহলে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের পথ তৈরি করবে।

তাদের উচিত ছিল আদর্শ বিরোধী দল হিসেবে থেকে সরকারকে সময় দেওয়া। গঠনমূলক সমালোচনা করা। তারপর নির্বাচনে জনগণের রায় নেওয়া। কিন্তু তারা সেই পথ ছাড়ছে। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা এবং তারেক রহমানকে হাসিনার ছাঁচে ফেলার চেষ্টা—এই দুটোই আত্মঘাতী। এই ভুল কৌশল শুধু তাদের নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকেও বিষিয়ে তুলতে পারে।

জিয়াউল আহসান মামলার সাক্ষীকে কাফনের কাপড় ও হুমকির চিঠি


জিয়াউল আহসান মামলার সাক্ষীকে কাফনের কাপড় ও হুমকির চিঠি 

রংপুরের হাজিরহাট এলাকায় এক বাড়ির সামনে রবিবার রাতে একটা ছোট ব্যাগ পাওয়া গেছে। ব্যাগের ভিতরে ছিল সাদা কাফনের কাপড় আর একটা চিঠি। চিঠিতে হুমকি লেখা ছিল। বাড়ির মালিক ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস মামুন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য। আর তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি কয়েক সপ্তাহ আগে আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে সাবেক মেজর জেনারেল (কুখ্যাত) জিয়াউল আহসান অনেক মানুষকে গুম করে হত্যা করেছেন।

জিয়াউল আহসান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মহাপরিচালকও হয়েছিলেন। সেই সময় অনেক মানুষ রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে যেত। পরিবার খুঁজে পেত না। এখন আদালতে অভিযোগ উঠেছে যে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বা নেতৃত্বে একশোরও বেশি মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, বস্তায় বেঁধে ফেলা হতো। ইমরুল কায়েস সে সময় জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী বা রানার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি তার পাশে ছিলেন।

গত১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইমরুল কায়েস বলেছিলেন, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন অন্তত দেড় থেকে দুই শ মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিছু অভিযানে তিনি নিজেও সঙ্গে ছিলেন। কিছু অভিযান জিয়াউল আহসান একাই করতেন। সাক্ষ্য দেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ কেটেছে। এখন তার বাড়িতে কাফনের কাপড় এসেছে। মৃত্যুর প্রতীক। হুমকির চিঠি।

পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাপড় আর চিঠি উদ্ধার করেছে। ইমরুল কায়েস হাজিরহাট থানায় জিডি করেছেন। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তারা বলছে, কে পাঠিয়েছে, কেন পাঠিয়েছে, এর পেছনে কোনো বড় পরিকল্পনা আছে কি না—সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের প্রসিকিউশনও বিষয়টি জানতে পেরেছে। তারা সাক্ষীর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।

এ ঘটনা শুধু একজনের ওপর চাপ নয়। এটি সেই সময়ের ছায়া। যে সময় মানুষ ভয়ে কথা বলত না। এখন যখন সেই গুম-খুনের কথা আদালতে উঠছে, তখন সাক্ষীদের বাড়িতে কাফনের কাপড় পৌঁছে যাচ্ছে। ইমরুল কায়েস সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেই কি এই হুমকি এসেছে?

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় আরও সাক্ষী এসেছেন। কেউ বলেছেন কীভাবে বন্দিদের চোখ-হাত বেঁধে নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। কেউ বলেছেন গুলির আগে বালিশ ঠেকানো হতো। কেউ বলেছেন লাশের পেট কেটে নদীতে ফেলা হতো। ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্য সেই ধারায় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগ করেছে। তিনি শুধু দেখেছেন না, অনেক সময় লাশ সরানোর কাজেও যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। সেই স্বীকারোক্তিই এখন তার ওপর হুমকি ডেকে আনছে।

পুলিশ তদন্ত করছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। আওয়ামী আমলের সেই গুম-খুনের কাহিনি যখন আদালতে উঠছে, তখন পুরনো শক্তিরা কি আবার চাপ তৈরি করছে? কাফনের কাপড় শুধু একটা কাপড় নয়। এটি একটা বার্তা। বার্তাটি পরিষ্কার—কথা বললে এর পরিণতি হতে পারে মৃত্যু।  এরকম একজন কুখ্যাত লোকের পক্ষে এখনও সাফাই গাইছে আওয়ামী লীগ। এখনো তাদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জিয়াউল আহসানকে হিরো হিসেবে দেখানো হচ্ছে। 

 

আওয়ামী লীগের আদর্শ কী? কর্মীরা মার খাবে আর নেতারা পালিয়ে ফূর্তি করবে হোটেলে?


আওয়ামী লীগের আদর্শ কী? কর্মীরা মার খাবে আর নেতারা পালিয়ে ফূর্তি করবে হোটেলে? ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়ে, অন্যায় করে, মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ড করে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন আওয়ামী লীগের অধিকাংশ টপ লিডাররা।

যারা ক্ষমতার মঞ্চে বসে নির্দেশ দিতেন, যারা আন্দোলন দমনে পুলিশ নামিয়েছিলেন, যারা ছাত্র-জনতার রক্তের দায় এড়াতে পারেননি— তাঁদের অধিকাংশই এখন বিদেশে। কেউ ভারতে, কেউ ইউরোপে, কেউ আরও দূরে। নিরাপদ দূরত্বে বসে তাঁরা এখন ‘ন্যায়ের’ কথা বলেন, ‘গণতন্ত্রের’ কথা বলেন।

আর যাঁরা এখনো দেশে বা কাছাকাছি আছেন, তাঁরা জনতার রোষের মধ্যেও ফূর্তি করছেন।

রোকেয়া প্রাচী তার একটা উদাহরণ। আওয়ামী লীগের সক্রিয় নেত্রী। আন্দোলনের সময় সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। এখন কলকাতার ওয়েস্টিন হোটেলে ছবি তুলছেন, এসি রুমে আরামে সময় কাটাচ্ছেন। আর দেশের ভেতরে যে কর্মীরা পুলিশের তাড়া খেয়ে লুকিয়ে আছে, যারা পরিচয় গোপন করে রিকশা চালাচ্ছে, যারা বাচ্চার দুধ কেনার টাকার জন্য রক্ত ঝরাচ্ছে— তাঁদের জন্য চোখের পানি ফেলছেন লাইভে।

এটা অন্যায়।

যারা ছাত্রদের ওপর গুলি চালিয়ে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন, তাঁরা পালিয়ে নিরাপদ। আর যাঁরা এখনো আছেন, তাঁরা জনতার ক্ষোভের মধ্যেও বিলাসিতা উপভোগ করছেন। কর্মীরা যখন জীবন হাতে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াই করছে, তখন নেতারা ফাইভ স্টারে ডিনার সেরে কফি হাতে বসে আছেন।

এই ব্যবধানটাই সবচেয়ে বড় অন্যায়। দেশের মানুষকে রক্তাক্ত করে, কর্মীদের বিপদের মধ্যে ফেলে, নিজেরা নিরাপদ আশ্রয়ে ফূর্তি করা— এটা কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না। নাকি এটাই আওয়ামী লীগের আদর্শ?

শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

 শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকার রাস্তায় যে গণঅভ্যুত্থানের ঝড় উঠেছিল, তার ধাক্কায় ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এখন আবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরতে চান—দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে। সরাসরি আত্মসমর্পণ করেই।

তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে।” এই ‘যেতেই হবে’ শব্দ দুটি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তিনি কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি নির্বাসন থেকে রাজনৈতিক জায়গা ধরে রাখার জন্য একটি ঘোষণা দিচ্ছেন?

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে আহত-নিহতদের ব্যাপারে এখনো তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, দায় স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং হুমকি-ধামকি ও ‘দেখে নেব’ ধরনের কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি ঘৃণা এত তীব্র।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার ব্যাপারে ভারতের সাথে কথাবার্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এও বলা হচ্ছে- হাসিনা ফিরলে তাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আদালত রায় সংশোধন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে ফেরার পথও সহজ নয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে 'আইনি' ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে ভারত বলেছে, এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয় এবং এ বিষয়টিও সে অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।' এমন পরিস্থিতিতে হাসিনার ‘আমাকে যেতেই হবে’—এই কথা কি সত্যিকারের সাহস, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল?

ঢাকার রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করেন, এটা শুধুই ঘোষণা। আসলে ফেরার সম্ভাবনা খুব কম। আবার কেউ কেউ বলছেন, যদি ডিসেম্বরে সত্যিই পা রাখেন, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। যদিও হাসিনা নিজে বলছেন, জনগণই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু জনগণের রায় নেওয়ার আগেই এই ‘ফিরতেই হবে’ ঘোষণা রাজনীতিতে হাসিনার নতুন কৌশল।

শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে তিনি ফিরবেন কি না। তবে পলাতক আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের মতে, হাসিনার এই বক্তব্য কৌশল নাকি সত্যিকারের ফেরা তা সময়ই বলে দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক কৌশল? জনগণের ঘৃণা ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি যেখানে এখনো তাজা, সেখানে এই ঘোষণার ওজন কতটা, তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে।

দেশের ছেলেগুলো জেলে-রাস্তায়-মৃত্যুর মুখে, আর নেতারা বিদেশে বসে ফুর্তি! 😡

দেশের ছেলেগুলো জেলে-রাস্তায়-বিপদের মুখে, আর নেতারা বিদেশে বসে ফুর্তি! 😡 এটাই কি আওয়ামী লীগের আসল চেহারা? নাকি শুধু ‘ফাইভ স্টার রেজিস্ট্যান্স’ মডেল?

একদিকে তৃণমূলের কর্মী-ছাত্ররা চোরাগুপ্তা মিছিল করে লুকিয়ে লুকিয়ে "জয় বাংলা" বলছে, অতীত অপকর্মের জন্য গ্রেফতারের তালিকায় নাম উঠছে, গ্রেফতার আতঙ্কে রাতে ঘুমাতে পারছে না-

আরেকদিকে? শীর্ষ নেতারা কলকাতার এয়ার-কন্ডিশন্ড শপিং মলে বসে বিরিয়ানি আর ক্যাপুচিনো খেতে খেতে "রণকৌশল" সাজাচ্ছেন। দিল্লির সুরক্ষিত প্রাসাদে হাসিনা এসি চালিয়ে লাইভ করছেন — “ তোমরা মিছিল করো। আমি আসতেছি। আরেকটু ধৈর্য ধর, আমরা প্ল্যান করছি!” লন্ডন-নিউইয়র্কের নেতারা তো পুরোপুরি ছুটিতে — পুলের পাশে বসে সানগ্লাস পরে “দলের স্বার্থে” ইনস্টাগ্রামে লাইভ দিচ্ছেন।

দেশের ছেলেরা রক্ত দিচ্ছে, জেল খাটছে। আর নেতারা? তাদের জন্য বিদেশি পাসপোর্ট আর ব্যাংক ব্যালেন্সই যথেষ্ট। বিপদ দেখলেই “স্ট্র্যাটেজিক রিলোকেশন”। আর কর্মীরা? ওরা তো “বলির পাঁঠা স্পেশাল ফোর্স”।

কী অসাধারণ নেতৃত্ব ভাই! বিপদের সময় নেতারা পালিয়ে যাবেন, আর কর্মীরা দেশে থেকে “স্যাক্রিফাইস” করবে। তারপর বিদেশ থেকে ভিডিও বার্তা দিয়ে বলবেন — “তোমরা লড়ো, আমরা তোমাদের সাথে আছি (ভার্চুয়ালি)।”

এই দলের জন্য আর কত রক্ত ঝরবে? কত মা কাঁদবে? আর নেতারা কতদিন বিদেশের আরামে বসে “আমরা ফিরব, ধৈর্য ধরুন” বলে ফুর্তি করবেন?

সত্যটা খুব নিষ্ঠুর, কিন্তু হাস্যকরও বটে — নেতারা বাঁচলেন সোনার খাঁচায়, কর্মীরা মরল রাস্তায়। এটাই কি আওয়ামী লীগের আসল চেহারা? নাকি এটা তাদের নতুন স্লোগান: “তোমরা মরো, আমরা এনজয় করি”?


জুলাই অভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার আওয়ামী লীগের মিথ্যা ন্যারেটিভ: পুরোনো ভিডিও-নতুন ক্যাপশনের ডিজিটাল কৌশল

জুলাই অভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার আওয়ামী লীগের মিথ্যা ন্যারেটিভ: পুরোনো ভিডিও-নতুন ক্যাপশনের ডিজিটাল কৌশল

রাজনৈতিক অঙ্গনে তথ্যযুদ্ধ এখনো তীব্র। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে মুছে ফেলতে পতিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে পুরোনো ভিডিও, ছবি ও ঘটনাকে বিকৃত করে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের ডিজিটাল প্রোপাগান্ডারই ধারাবাহিকতা।

সম্প্রতি তুরাগ নদীতে সাধারণ মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পুরোনো দুর্ঘটনার ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে দাবি করছে যে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এ ধরনের কোনো গণহত্যা বা রাজনৈতিক হামলা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো দুর্ঘটনাজনিত। তবু ভাইরাল পোস্টগুলোতে পুরোনো ফুটেজ নতুন তারিখ ও ক্যাপশন দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রোপাগান্ডা চলছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে। নিষিদ্ধ দলটির সমর্থকরা কয়েক বছর আগের বড় মিছিল, সমাবেশের ছবি-ভিডিও নিয়ে নতুন করে “জনসমর্থন” দেখানোর চেষ্টা করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভিডিওকেও বিকৃত করে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর “হামলা” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এই কৌশলে মূলত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে “ষড়যন্ত্র” বা “বিদেশি চক্রান্ত” হিসেবে উপস্থাপন করে দলটির অত্যাচার, গুম, খুন ও দুর্নীতির ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

কেন এই মিথ্যা ন্যারেটিভ সফল হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? প্রথমত, পুরোনো ভিডিও আসল দেখে মানুষ সহজে আবেগে ভাসে। দ্বিতীয়ত, আবেগীয় কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমে দ্রুত ছড়ায়। তৃতীয়ত, অনেকে যাচাই না করেই শেয়ার করে। ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি মিথ্যা ভিকটিম ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “জুলাইকে ভুলিয়ে দিতে আওয়ামী লীগ এখন তথ্যযুদ্ধের নতুন অস্ত্র ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তারা ফেক অ্যাকাউন্ট ও সমর্থক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে জনগণের অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।”

তুরাগ নদীর ঘটনায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের বিকৃত পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্ল্যাটফর্মের সতর্কতা জরুরি। সাধারণ নাগরিকদের উচিত জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষায় সত্য যাচাই করে তথ্য প্রচার করা।

জুলাই অভ্যুত্থানের নায়করা ও সাধারণ জনতা বলছেন, “একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ দিয়ে ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না। আমরা সত্যের সঙ্গে আছি।”

তথ্যযুদ্ধের এই নতুন রূপ গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ের রক্তঝরা সংগ্রামকে বিকৃত না করে, সত্যকে ধরে রাখা ও প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সত্য যাচাই না করে কোনো প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস না করাই এখন সময়ের দাবি।

জুলাই ভুলাতে অন্য গল্প ফাঁদছে আওয়ামী লীগ

“জুলাই ভুলাতে অন্য গল্প ফাঁদছে আওয়ামী লীগ”

"জুলাই আসছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ চায় না এই জুলাইকে মনে রাখুক কেউ। তাই তারা নতুন করে গল্প ফাঁদছে। একের পর এক ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। যাতে জনগণের সেই ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ধীরে ধীরে মুছে যায় স্মৃতি থেকে।"

"২০২৪-এর জুলাই ছিল বাংলাদেশের জাগরণের মাস।

জনগণ রুখে দাঁড়িয়েছিল পনেরো বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি, লুটপাট, গুম, ক্রসফায়ার আর একচ্ছত্র আধিপত্যের বিরুদ্ধে। সেই রক্তঝরা আন্দোলনের মাধ্যমে এসেছে পরিবর্তন। কিন্তু হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতা ফিরে পেতে আওয়ামী লীগ এখন অন্য গল্প ফাঁদছে।"

"সীমান্তের ওপার থেকে আসা গোয়েন্দা অপারেটিভদের গ্রেপ্তার?

‘সস্তা প্রোপাগান্ডা’ বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থনীতির ধ্বংসযজ্ঞ? সব দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে নতুন সরকারের ঘাড়ে। তুরাগ নদীতে লাশের কাল্পনিক গল্প, প্রান্ত মির্জা কিংবা অন্যান্য ঘটনা? সেগুলোকে বড় করে তুলে জুলাইয়ের রক্তকে ম্লান করে দিতে চাইছে।

তাদের একটাই উদ্দেশ্য — জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়া। জনগণের বিজয়কে ষড়যন্ত্রের তত্ত্বে ঢেকে ফেলা।"


"হাসিনার আমলে যে দুর্নীতির মহোৎসব চলেছে, রিজার্ভ লুট হয়েছে, মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে — সেই ধ্বংসের দায় এড়াতে তারা এখন নতুন সরকারকে ‘দেউলিয়া’ বলে চিৎকার করছে।

জনগণের কাছে সত্য স্পষ্ট — এই সংকট তাদেরই উত্তরাধিকার।"


"নিজেদের শাসনামলে enforced disappearance, গুম আর বিচারবহির্ভূত হত্যার যে কালো রেকর্ড, সেটা চেপে রেখে তারা এখন প্রতিটি ছোট ঘটনাকে বড় করে দেখিয়ে বলছে — ‘দেখো, জুলাইয়ের পরও সহিংসতা!’

যে সাংবাদিককে একসময় তাদের বিরুদ্ধে লেখার জন্য ব্যবহার করতো, আজ তাকেই ষড়যন্ত্রকারী বলে আক্রমণ করছে। RAW-এর সঙ্গে যখন তাদের সুসম্পর্ক ছিল, তখন কোনো সমস্যা ছিল না। আজ যখন সেই একই নাম উঠছে, তখন সব ষড়যন্ত্র। এটাই তাদের চিরকালীন দ্বিচারিতা।"

"জঙ্গি দমনের নামে যে বিরোধী দমনের কারখানা চালিয়েছে, আজ সেই জঙ্গিবাদের ছায়া দেখলেই বলছে — ‘ডিপ স্টেটের খেলা’।

সবকিছুকে একটা বড় ষড়যন্ত্রের গল্পে পরিণত করে জুলাইয়ের আসল ঘটনাকে আড়াল করতে চাইছে।"


"কিন্তু জুলাই ভোলা যাবে না। জুলাই ছিল জনগণের জয়। জুলাই ছিল স্বৈরাচারের পতনের ঘণ্টা।

আওয়ামী লীগ যতই অন্য গল্প ফাঁদুক, যতই ষড়যন্ত্রের জাল বুনুক — জনগণ আর প্রতারিত হবে না।

জুলাই শুধু একটি মাস নয়। এটি একটি চেতনা। এটি একটি সতর্কবার্তা।

এবার জুলাই আসুক স্মরণে, সংগ্রামে এবং সত্যের জয়গানে।"


"জুলাইকে ভুলিয়ে দেওয়ার সব চেষ্টা ব্যর্থ হবে। কারণ জনগণ জেগে উঠেছে। আর জেগে ওঠা জনতাকে কেউ দমাতে পারে না।"

আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: জুলাইয়ের আগে পুরনো ন্যারেটিভের পুনরাবৃত্তি

 আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব: জুলাইয়ের আগে পুরনো ন্যারেটিভের পুনরাবৃত্তি

বাংলাদেশে এখন একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আছে। ২০২৬-এর নির্বাচনে জনগণের ভোটে BNP-নেতৃত্বাধীন সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের কার্যক্রম কোনো গোপন ষড়যন্ত্র বা লুকোচুরির বিষয় নয়—এটি প্রকাশ্য, জনগণের সামনে। অথচ আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক ইনফ্লুয়েন্সাররা জুলাই মাসকে কেন্দ্র করে পুরনো অভ্যাস অনুযায়ী একের পর এক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব বানিয়ে চলেছে। তাদের লক্ষ্য স্পষ্ট: জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার (deny) করা এবং নিজেদের ১৫ বছরের কর্তৃত্ববাদী শাসন, দুর্নীতি ও নৃশংসতার দায় এড়ানো।

সম্প্রতি যে কাউন্টার-ইন্টেলিজেন্স অভিযানে RAW-এর অপারেটিভদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাকে আওয়ামী লীগপন্থীরা “সস্তা প্রোপাগান্ডা” ও “ডাইভারশন” বলে উড়িয়ে দিচ্ছে। অথচ বাস্তবতা হলো—সীমান্তবর্তী দেশে গোয়েন্দা তৎপরতা নতুন কিছু নয়। সরকার এই তথ্য প্রকাশ্যে আনছে, লুকাচ্ছে না। এটিকে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ তোলা আসলে নিজেদের ব্যর্থতা ও অপরাধ ঢাকার চেষ্টা।

আওয়ামী লীগের প্রধান অভিযোগগুলোর বাস্তব চিত্র:

  • অর্থনৈতিক দেউলিয়াত্ব: Hasina আমলে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার ফলে দেশ তলানিতে পৌঁছেছিল। নতুন সরকার উত্তরাধিকার সূত্রে সেই সংকটের বোঝা নিয়ে শুরু করেছে। চীন-সৌদি মিশনের ফলাফল যাই হোক, এটি দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা। কিন্তু আওয়ামী লীগ এখন সব দোষ নতুন সরকারের ঘাড়ে চাপিয়ে “দেউলিয়া” বলে চিৎকার করছে—যাদের শাসনকালে রিজার্ভ লুট হয়েছে, মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছে।

  • তুরাগ, প্রান্ত মির্জা ও সহিংসতা: জুলাই অভ্যুত্থানের সময় এবং পরবর্তীতে উভয় পক্ষেরই হতাহত হয়েছে। আওয়ামী লীগ এখন শিখা অনির্বাণ নিভে যাওয়া কিংবা তুরাগ নদীতে লাশ ভাসার মতো গুজব ছড়িয়ে জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানকে ভুলিয়ে দিতে চায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের আমলে enforced disappearance, গুম, ক্রসফায়ার ও বিরোধীদের ওপর নির্যাতনের যে রেকর্ড আছে, সেগুলোকে তারা স্বীকার করে না। নতুন সরকারের সময়ে কোনো ঘটনা ঘটলে তা নিয়ে হইচই, কিন্তু নিজেদের ১৫ বছরের অত্যাচারকে “ষড়যন্ত্র” বলে চালিয়ে দিতে চায়।

  • জঙ্গিবাদের উত্থান: Hasina আমলে জঙ্গি দমনের নামে বিরোধীদের দমন করা হয়েছে। এখন যদি কোনো গ্রুপের তৎপরতা বাড়ে, তা নিয়ে সরকার সতর্ক। কিন্তু আওয়ামী লীগ এটিকেও ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র বলে চালাতে চায়—যাতে নিজেদের শাসনামলের ব্যর্থতা ঢাকা যায়।

আওয়ামী লীগ আগে ভারত ও RAW-এর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। এখন যখন একই Zulkarnain Saer খবর প্রকাশ করছেন, তখন তাঁকে তারা ষড়যন্ত্রকারী বলে আক্রমণ করছে। Hasina আমলে যখন তিনি তাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করতেন, তখন ভিন্ন সুরে কথা বলত। এটাই তাদের দ্বিচারিতা।

মূল কথা: জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি বাস্তব অধ্যায়—যেখানে জনগণ কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ এই সত্যকে ডিনাই করে সবকিছুকে ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্র বলে একটা একঘেয়ে গল্প বানিয়ে চলেছে। এটি তাদের পুরনো কৌশল: নিজেদের অপরাধ ঢেকে রেখে সবসময় ভিকটিম কার্ড খেলা।

গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। কিন্তু অতীতের অপরাধীদের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব দিয়ে দেশকে আবার অস্থিতিশীল করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। জুলাই আসছে—এটি হবে গণঅভ্যুত্থানের স্মরণ ও সতর্কতার মাস, ষড়যন্ত্রকারীদের নয়। জনগণ সত্য দেখতে শিখুক, প্রোপাগান্ডায় বিভ্রান্ত না হয়।

এটাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ামী লীগের চরম বৈশিষ্ট্য — মিথ্যা, গুজব আর পুরোনো ভিডিওর ভরসায় টিকে থাকা

২৩ জুন ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু এই দিনে তাদের কর্মীরা খোলাখুলি কোনো বড় সমাবেশ বা মিছিল করার সাহস পায়নি। কারণ জনগণের সামনে মুখ দেখানোর যোগ্যতা তাদের আর অবশিষ্ট নেই। তাই নিঝুম মজুমদারসহ আরও অনেকে পুরোনো ভিডিও ও ছবি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন এই পুরোনো ফুটেজ দেখিয়ে জনগণকে বোঝানো যাবে যে, তাদের এখনও শক্তি আছে।


বাস্তবতা কিন্তু একেবারে ভিন্ন।
২০২৪ এর বছরের জুলাই-আগস্টে এই আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের সামনে নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছে। প্রায় ১৪০০ নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। রক্তাক্ত রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেও তাদের দম্ভ কমেনি। কিন্তু ৫ আগস্ট সেই দম্ভের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতা-কর্মীরাও আজ পলাতক, গ্রেপ্তার এড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যে দল একসময় ক্ষমতার দম্ভে দেশ শাসন করত, আজ তারা চোরাগোপ্তা মিছিল আর অনলাইন গুজব ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না।
এখন তাদের একমাত্র ভরসা অনলাইনে গুজব ছড়ানো। পুরোনো ভিডিওতে নতুন তারিখের ক্যাপশন লাগিয়ে, এডিট করে, বা সম্পূর্ণ মিথ্যা কনটেক্সট দিয়ে পোস্ট করা — এটাই তাদের নতুন রণকৌশল। কিন্তু জনগণ আর এসব মিথ্যায় ভুলছে না। সবাই দেখছে — যে দল জনগণের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, আজ সেই দলই লুকিয়ে-ছাপিয়ে ছোট ছোট ঝটিকা মিছিল করে আর পুরোনো ফুটেজ ছড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার চেষ্টা করছে।
এই পলাতক দলের আর কোনো ভিত্তি নেই। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে তাদের সব দম্ভ ভেঙে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে তারা আর জনসমর্থনের মুখোমুখি হতে পারছে না। তাই অনলাইনেই তাদের যুদ্ধ — গুজবের যুদ্ধ। কিন্তু এই যুদ্ধও তাদের বাঁচাতে পারবে না।জনগণ সজাগ। জনগণ সতর্ক।
আওয়ামী লীগের এই মিথ্যা প্রচার আর চলবে না।

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র বলছে আওয়ামী ইনফ্লুয়েন্সাররা!!

 জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র বলছে আওয়ামী ইনফ্লুয়েন্সাররা!!

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক স্বতঃস্ফূর্ত জন-অভ্যুত্থান হিসেবে চিহ্নিত। ছাত্র-জনতার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ধীরে ধীরে সরকারবিরোধী ব্যাপক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়, যার ফলে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। এই অভ্যুত্থানকে দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমর্থন করে রাস্তায় নেমে আসে। কিন্তু আওয়ামী লীগের কিছু ইনফ্লুয়েন্সার এই জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উত্থানকে স্বীকার না করে বরং বিভিন্ন ষড়যন্ত্র তত্ত্বের আশ্রয় নিয়ে চলেছেন।

নবনীতা চৌধুরী, মাসুদা ভাট্টি, নিঝুম মজুমদারসহ আরও কয়েকজন এই ন্যারেটিভের প্রধান কণ্ঠস্বর। তাঁরা দাবি করেন যে এটি কোনো জনগণের আন্দোলন নয়, বরং বিএনপি-জামায়াত, ইসলামিস্ট শক্তি, বিদেশি ষড়যন্ত্র এবং অভ্যন্তরীণ শত্রুদের মিলিত চক্রান্ত। সোশ্যাল মিডিয়া ও ইউটিউবে তাঁদের ভিডিও ও পোস্টে বারবার এই গল্প প্রচার করা হয় — যেন দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন, নির্বাচনী কারচুপি, দুর্নীতি ও হত্যাকাণ্ডের জন্য জনরোষের কোনো ভূমিকাই নেই।

এই ইনফ্লুয়েন্সাররা আওয়ামী লীগের পতনের পর ভিকটিমহুডের ন্যারেটিভ তৈরি করে দলকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। নবনীতা চৌধুরী নিয়মিত “বয়ান” দিয়ে ষড়যন্ত্রের গল্প বলেন, মাসুদা ভাট্টি সরকারবিরোধী অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করেন, আর নিঝুম মজুমদার আওয়ামী সমর্থকদের মধ্যে সক্রিয় থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানান। এসব কথায় বাস্তবতা হলো — জনগণের দীর্ঘ অসন্তোষকে অস্বীকার করে শুধু বাইরের শত্রুর গল্প বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা।

এ ধরনের ন্যারেটিভ রাজনৈতিকভাবে বোঝা যায়, কিন্তু ইতিহাস ও জনমতের সামনে এটি টিকবে কি না তা সময় বলবে। গণঅভ্যুত্থানকে ষড়যন্ত্র বলে অস্বীকার করলে আসলে জনগণের কণ্ঠকেই অস্বীকার করা হয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিরপেক্ষ নির্বাচন, সত্য অনুসন্ধান ও জবাবদিহিতার ওপর নির্ভর করবে।

এই সেই জিয়াউল আহসান!!!

মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেছেন সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ গতকাল রোববার তিনি এমন জবানবন্দি দেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শতাধিক ব্যক্তিকে গুম করে হত্যার ঘটনায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন ইমরুল কায়েস। তিনি বর্তমানে রংপুর সেনানিবাসে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে ইমরুল কায়েস প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তিনি জিয়াউল আহসানের রানার বা বডিগার্ড হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০১ সালে তিনি সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে যোগ দেন।


জিয়াউল আহসান এই মামলার একমাত্র আসামি। গতকাল জবানবন্দির সময় তাঁকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে ইমরুল কায়েস সেনাবাহিনীর পোশাক পরে জবানবন্দি দেন।


জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ২০০৯ সালে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক বিডিআর সদস্যদের ধরার জন্য সারা দেশে ‘অপারেশন রেবেল হান্ট’ নামে একটি অপারেশন পরিচালনা করা হয়। সে সময় জিয়াউল আহসান ৮ থেকে ১০ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যা করেন। বিডিআর সদস্যদের দুভাবে হত্যা করা হয়। একটি ছিল ইনজেকশন দিয়ে। আরেকটি ছিল পোস্তগোলা ব্রিজের কাছে থাকা সেনা ক্যাম্পের ভেতর দিয়ে বোটে (নৌকা) করে ভুক্তভোগীদের নদীতে আনা হয়। গুলি করে হত্যার পর সিমেন্টের বস্তায় বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়।


ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গ


জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল র‍্যাব হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়াউল আহসান, মেজর নওশাদ, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফসহ তাঁরা মহাখালী ফ্লাইওভারের কাছে যান। কাকে গাড়িতে তোলা হবে, তা তিনি জানতেন না। জিয়াউল গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন টার্গেট কখন আসবে তা জানার জন্য। একপর্যায়ে জানা যায়, টার্গেট আসবে না। পরদিন থেকে তিনি (সাক্ষী) ৯ দিনের ছুটিতে যান। ছুটিতে থাকা অবস্থায় গণমাধ্যমে জানতে পারেন, ইলিয়াস আলী নামে একজন বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভারব্রিজের কাছ থেকে অপহরণ করা হয়েছে।


ছুটি শেষে ২৩ এপ্রিল যখন কর্মস্থলে যোগ দেন, তখন র‍্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ করেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারেন, কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়াউল নষ্ট করে ফেলেন।


একদিন জিয়াউল ফোনে কথা বলছিলেন উল্লেখ করে ইমরুল কায়েস বলেন, সে সময় অন্য একটি কল এলে জিয়াউল বলেন, ‘তুই রাখ, তারিক স্যার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক) ফোন দিয়েছেন।’ তারিকের সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন জিয়াউল। অভিযোগের সুরে জিয়াউল বলছিলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে! এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠাই দেন, এটাই আমার ভালো।’


‘প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার সময় অস্ত্র-অ্যামোনিশন থাকত’


সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে জিয়াউল আহসানের ভালো সম্পর্ক তৈরি হয় বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সাক্ষী ইমরুল কায়েস। তিনি বলেন, জিয়াউল যখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যেতেন, তখন তাঁর গাড়িতে অস্ত্র-অ্যামোনিশন থাকত। কিন্তু জিয়াউলের গাড়ি বিধায় তা তল্লাশি করা হতো না। ১১ জনকে হত্যা


জবানবন্দিতে সেনা কর্মকর্তা ইমরুল কায়েস বলেন, ২০১২ সালের প্রথম দিকে জিয়াউল আহসানের নেতৃত্বে ১১ জন আসামি নিয়ে পোস্তগোলা সেনা ক্যাম্পে যান তাঁরা। সব আসামিকে বোটে (নৌকা) ওঠানো হয়। তখন হঠাৎ একজন আসামি পানিতে ঝাঁপ দেন। জিয়াউলের আদেশে তিনি (সাক্ষী) পানিতে ঝাঁপ দিয়ে সেই আসামিকে ধরেন। বোটটি নদীর মাঝখানে নিয়ে ১১ জনকে হত্যা করে সিমেন্টের বস্তার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। 

© all rights reserved
made with by templateszoo