জুলাইয়ের স্মৃতিতে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি: প্রথম আলোর সুক্ষ্ম দেশবিরোধী কারসাজি

0

 


জুলাইয়ের স্মৃতিতে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি: প্রথম আলোর সুক্ষ্ম দেশবিরোধী কারসাজি

আগস্টের ৫ তারিখ প্রথম আলোর ‘জুলাইয়ের তরজমা’ কলামে যে গ্রাফিতি ছাপা হয়েছে, তা নিছক কোনো শিল্পকর্মের পুনরুৎপাদন নয়। লক্ষাধিক ছবির মধ্যে থেকে ঠিক সেই বিতর্কিত গ্রাফিতিটি বেছে নেওয়া—যেখানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি স্পষ্টভাবে খোদিত—একটি সুক্ষ্ম অথচ সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক অভিযান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই সেই গ্রাফিতিকে পাঠ্যবইয়ের পেছনের কভার থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। কারণ এটি সংবিধান, পার্বত্য চুক্তি ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ প্রথম আলো সেই নিষিদ্ধ শব্দকেই আবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সংবেদনশীল একটি শব্দকে গণআন্দোলনের প্রতীকী ভাষার অংশ করে তোলা।

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা মাত্র সাড়ে তিনশো বছর আগে ভারত ও মায়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসী হিসেবে এসেছে। তারা নিজেরাও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজেদের আদিবাসী দাবি করেনি। ২০০৭ সালে আইএলও কনভেনশন ও জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষণাপত্র প্রকাশের পর থেকেই এই দাবি উঠেছে—সুবিধাভোগের লোভে, ভিনদেশি প্রভুদের শিখানো ভাষায়।

এই দাবির পেছনে লুকিয়ে আছে বিচ্ছিন্নতাবাদের নীলনকশা। পার্বত্য চট্টগ্রামকে খণ্ডিত করার সুগভীর পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার রসদ যোগায় প্রথম আলোর মতো কিছু সংবাদমাধ্যম। তারা ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’-এর অনুশীলন করে—দেশ ও দেশের মানুষ যা চায় না, সেটাই চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

৯ আগস্ট জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আদিবাসী দিবস’। বাংলাদেশে আদিবাসী না থাকায় এই দিবস পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবু প্রথম আলো এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত শব্দটিকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ব্যবহার করে তারা যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে, তা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিকৃত করারই অপচেষ্টা।

দেশের মানুষ জানে—জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের লড়াই। সেই লড়াইয়ের স্মৃতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া কোনো নিরীহ ভুল নয়। এটি ইচ্ছাকৃত, সুপরিকল্পিত এবং দেশবিরোধী।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo