Showing posts with label আইনশৃঙ্খলা. Show all posts
Showing posts with label আইনশৃঙ্খলা. Show all posts

২০০৫ ও ২০২৬: একই ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি

 ২০০৫ ও ২০২৬: একই ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি

মনে আছে? ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশজুড়ে সিরিজ বোমা হামলা হয়েছিল?  সম্প্রতি আবারো বিএনপি সরকারের আমলে ঘটে যাওয়া মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনে পাওয়া গেল ছাতার ভেতর বোমা, আশুলিয়ায় পাওয়া গেল প্রেশার কুকারভিত্তিক আইইডি। শুধু তাই নয় এরপর ০১ আগস্ট মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনে পাওয়া গেল বিস্ফোরক। এ ঘটনাগুলোর মধ্যে এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। উভয় সময়েই নির্বাচিত বিএনপি সরকারকে অস্থিতিশীল করা, রাষ্ট্রকে অকার্যকর দেখানো এবং জনমনে ভয় ও নৈরাজ্য সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট চেষ্টা পরিলক্ষিত হয়।

২০০৫ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন একদিনে ৬৩ জেলায় বোমা হামলা চালানো হয়। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া চীন সফরে থাকাকালীন এই হামলা সংঘটিত হয়। উদ্দেশ্য ছিল দেশের ভেতরে ও বাইরে এই বার্তা দেওয়া যে সরকার দেশ চালাতে ব্যর্থ এবং উগ্রপন্থীরা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সরকারকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোণঠাসা করা এবং চরম বিপর্যয় সৃষ্টি করাই ছিল মূল লক্ষ্য।

২০২৬ সালে দীর্ঘ রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিএনপি সরকার গঠনের পর আবারও একই ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সফর চলাকালীন সময়ে এসব ঘটনা ঘটানো হয়। নির্বাচিত সরকারকে অর্থনৈতিক সংকট, বিদেশি বিনিয়োগে নিরুৎসাহ এবং সামাজিক অস্থিরতার মুখে ঠেলে দিয়ে জনমনে অসন্তোষ তৈরি করাই এই চক্রের প্রধান উদ্দেশ্য। এটি ২০০৫ সালের নাশকতারই আধুনিক ও পরিমার্জিত রূপ।

পতিত আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসররা বর্তমানে গণতান্ত্রিক ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সরকার যাতে সফলভাবে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনকল্যাণমূলক কাজ করতে না পারে, সেজন্য গোপন বৈঠক, সাইবার প্রোপাগান্ডা এবং অস্থিরতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে। ২০০৫ সালে যেমন উগ্রপন্থীদের ব্যবহার করা হয়েছিল, তেমনি এখনও দেশের বিভিন্ন স্থানে নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পেছনে তাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদ রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সাধারণ বস্তুর আড়ালে বিস্ফোরক গোপন করার কৌশল জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রতিক্রিয়া যাচাইয়ের ইঙ্গিত দেয়।

একইসঙ্গে কিছু শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি শক্তিও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করে চলেছে। ২০০৫ সালে বিএনপি সরকারকে চাপে ফেলতে উগ্রবাদের জুজু ব্যবহার করা হয়েছিল। এখনও সেই একই শক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের ভোটাধিকারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে সহ্য করতে পারছে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করার পেছনে পর্দার আড়ালে অর্থায়ন ও লজিস্টিক সাপোর্টের অভিযোগ রয়েছে। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করে নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করা।

২০০৫ সালের বোমা হামলা এবং ২০২৬ সালের চলমান ঘটনা দুটোই একই সূত্রে গাঁথা। পরাজিত ফ্যাসিবাদী শক্তি এবং তাদের মদদদাতা বিদেশি শক্তি যখনই জাতীয়তাবাদী সরকার ক্ষমতায় আসে, তখনই সন্ত্রাস, নাশকতা ও অস্থিরতার পথ বেছে নেয়। তবে ২০০৫ সালের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বর্তমান সরকার ও সচেতন জনগণ এ ধরনের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ।

পতিত শক্তির নাশকতামূলক খেলা, জঙ্গি কার্ড এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপ।

পতিত শক্তির নাশকতামূলক খেলা, জঙ্গি কার্ড এবং সরকারের কঠোর পদক্ষেপ।

গত জুলাই মাসে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে এবং ৩০ জুলাই আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকায় দুটি প্রাণঘাতী আইইডি উদ্ধার হয়েছে। একটি ছাতার ভেতরে লুকানো পাইপ বোমা, অন্যটি মুদি দোকানের সামনে রেখে যাওয়া প্রেশার কুকার বোমা। এরপর ১ আগস্ট তেঁজগাঁও মেট্রো স্টেশন ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সন্দেহজনক বস্তা পাওয়ার গুজব ছড়ায়। উভয় ক্ষেত্রেই জনবহুল স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে এবং সৌভাগ্যক্রমে বিস্ফোরণের আগেই সেগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনাগুলো নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ও গুজব নতুন সরকারের বিরুদ্ধে পতিত শক্তির পরিকল্পিত নাশকতামূলক প্রয়াসের ইঙ্গিত বহন করে।

বর্তমান বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে স্থিতিশীলতা ফিরে আসছে। ঠিক এ সময়ে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার ও সন্দেহজনক বস্তার গুজব ছড়ানো কাকতালীয় বলে মনে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূতের ঢাকা সফর এবং সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকের সময় এসব ঘটনা ঘটছে। বিশ্লেষকদের মতে, পতিত আওয়ামী লীগসহ কিছু স্বার্থগোষ্ঠী দেশে অস্থিরতার ছবি তুলে ধরে নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে এবং আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা দিতে চাইছে। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে বোমা হামলার মতো সমন্বিত নয়, তবে এগুলো বিচ্ছিন্ন কিন্তু পরিকল্পিত। প্রেশার কুকার বা ছাতার মতো আইইডি তৈরি সাধারণ অপরাধীর কাজ নয়; এতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও উদ্দেশ্যমূলক পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য প্রাণহানি ছাড়াও আতঙ্ক সৃষ্টি ও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে দুর্বল দেখানো। তেঁজগাঁও ও মিরপুর-১০-এর গুজবও একই উদ্দেশ্যে ছড়ানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমান সরকার এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয় ও সতর্ক। পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে উভয় বোমা নিয়ন্ত্রিতভাবে ধ্বংস করেছে। মেট্রো স্টেশনগুলোতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং গুজবের বিষয়ে তদন্ত চলছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বত্র তৎপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান, যা দায়ীদের শনাক্ত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করবে। এতে জনমনে আস্থা আরও বাড়বে এবং অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা ব্যর্থ হবে।

ফ্যাসিস্ট শক্তির পুরনো জঙ্গি কার্ড আর কতদিন চলবে, সে প্রশ্ন এখন জোরালো। সরকার জাতীয় স্বার্থ ও জননিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। কোনো রাজনৈতিক শক্তি বা স্বার্থগোষ্ঠী পরিস্থিতি ঘোলাটে করে জনগণের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি করতে চাইলেও সরকারের দৃঢ় অবস্থান তা প্রতিহত করবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং জনগণের সহায়তায় আরও শক্তিশালী হচ্ছে।

সার্বিকভাবে, এ ধরনের নাশকতামূলক প্রয়াস ও গুজব সরকারের সফলতায় বাধা দিতে পারবে না। দ্রুত তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার মাধ্যমে দায়ীদের শাস্তির আওতায় আনা উচিত বলে বিশেষজ্ঞদের মত। দেশের স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে সরকারের সতর্ক প্রহরাই এখন সবচেয়ে বড় শক্তি।

Who Plays the Militant Card When the BNP Is in Power?

Who Plays the Militant Card When the BNP Is in Power?

On 30 July, a pressure cooker bomb was recovered in Ashulia. On 24 July, a pipe bomb concealed inside an umbrella was found beneath Motijheel Metro Rail Station. Both devices were left in crowded public places by unidentified individuals. Both were discovered before they could explode. The election is over, and the BNP is now in power. Yet it is at precisely this moment that such incidents are occurring.

The obvious question is: Who plays the militant card when the BNP is in power?


Many still remember 2005. At the time, the BNP–Jamaat coalition government was in office under Prime Minister Khaleda Zia. On 17 August 2005, nearly 500 bombs exploded across 63 districts within just half an hour. Jama'atul Mujahideen Bangladesh (JMB) claimed responsibility. Courts, government buildings, and public places were targeted, while leaflets calling for Islamic rule were distributed. Although the death toll was relatively limited, the attacks spread fear across the country.


The same question arose then. How could such a large-scale militant campaign take place while the BNP was in power? Some argued that it reflected a failure of the government. Others suggested it was a calculated attempt to put the government under pressure. At the time, the Awami League was the main opposition party and accused the government of failing to maintain law and order.


Looking at today's situation, it appears that history may be repeating itself.


Could the defeated and ousted Awami League now be reverting to the same old strategy? Is it trying to portray Bangladesh as unstable under the new government by creating the impression of renewed militant activity? Is the objective to convince both the public and the international community that security deteriorates whenever the BNP governs?


Or is the reality even more complex? Could a foreign power or a regional interest group be seeking to exploit Bangladesh's internal politics by creating confusion and instability?


Similar questions were raised in 2005. Even then, some argued that militant violence might not simply reflect government failure but could also involve deliberate provocation by political rivals or external actors. Those same questions have resurfaced today.


Constructing a pressure cooker bomb or an umbrella IED is not a simple task. It requires technical expertise, access to materials, and careful planning. Choosing crowded public places and sensitive moments suggests that the objective may extend beyond causing casualties. It may also be intended to spread fear and expose perceived weaknesses in the government's security apparatus.


If militant or terrorist incidents repeatedly occur while the BNP is in office, who stands to benefit the most? Those who seek to portray the government as ineffective. Those who want to undermine public confidence. Those who wish to damage Bangladesh's image in the eyes of the international community.


The new government's greatest challenge is to identify those responsible through a swift, credible, and transparent investigation. Otherwise, an old narrative may once again gain momentum—that militant activity inevitably rises whenever the BNP is in power.


The question therefore remains, just as it did in 2005: Who plays the militant card when the BNP is in power? Is it the defeated and ousted Awami League? Or are foreign actors operating from the shadows? Until those responsible are identified and their motives established, suspicion and uncertainty will continue to linger.

মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশন ও তেজগাঁওয়ে সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার, বোমা নয়



০১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর পৌনে একটার দিকে রাজধানীর মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনের বি গেট সংলগ্ন বারান্দায় এবং তেজগাঁও এলাকায় দুটি সন্দেহজনক ব্যাগ উদ্ধার হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ককটেল বোমা সন্দেহে বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে পরীক্ষায় কোনো বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি।


মিরপুর মডেল থানাধীন মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে ডিউটিরত আনসার সদস্য মো. সোহেল রানা লিফট সংলগ্ন এলাকায় সাদা রঙের প্লাস্টিকের মুখবন্ধ একটি বস্তা দেখতে পান। তিনি এটিকে বোমা সন্দেহে রিপোর্ট করেন। ডিএমপির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট দ্রুত সাড়া দিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এক্স-রে পরীক্ষায় কৌটার মতো ছবি পাওয়া যায়। নিরাপত্তা প্রোটোকল অনুসারে ফ্রাঞ্জিবল ডিসরাপ্টার দিয়ে শট নেওয়া হয়। পরে দেখা যায়, ব্যাগের ভেতরে জর্দার কৌটা ও পান ছিল। কোনো বিস্ফোরক পদার্থ পাওয়া যায়নি।


একই সময়ে তেজগাঁও থানাধীন এলাকায় আরেকটি পরিত্যক্ত বস্তা বোমা সন্দেহে রিপোর্ট করা হয়। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে পর্যবেক্ষণ ও হ্যান্ড এন্ট্রি করে নিশ্চিত হয় যে বস্তায় কোনো বিস্ফোরক নেই।


ঘটনাস্থলে মিরপুর মডেল থানা পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণে রাখা হয়। বর্তমানে উভয় এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

৩০ জুলাই আশুলিয়ায় পাওয়া গেল প্রেশার কুকার বোমা। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে পাওয়া গেল ছাতার ভেতরে পাইপ বোমা। দুটিই জনবহুল স্থানে, দুটিই অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকের রেখে যাওয়া, দুটিই বিস্ফোরণের আগে উদ্ধার হল। নির্বাচন শেষ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। ঠিক এই সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

প্রশ্নটা সোজাসুজি উঠছে—বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

২০০৫ সালের স্মৃতি অনেকেরই মনে আছে। সে সময়ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৭ আগস্ট ২০০৫, মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬৩ জেলায় প্রায় ৫০০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেসময় জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) দায় স্বীকার করে। আদালত, সরকারি ভবন, জনসমাগমস্থল—সব জায়গায় বোমা। লিফলেটে ইসলামি শাসনের দাবি। প্রাণহানি কম হলেও সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সেই সময়ও একই প্রশ্ন উঠেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এত বড় জঙ্গি তৎপরতা কীভাবে সম্ভব? কেউ কেউ বলেছিলেন, এটি সরকারের ব্যর্থতা। কেউ কেউ বলেছিলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা। সে সময় আওয়ামী লীগ ছিল প্রধান বিরোধী দল। তারাও সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলেছিল।

আজকের পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, চক্রটা আবার ঘুরছে।

নির্বাচনে পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ কি এখন আবার সেই পুরনো কৌশল অবলম্বন করছে? দেশে জঙ্গি তৎপরতার ছবি তুলে ধরে নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল দেখাতে চাইছে কি? জনগণের কাছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা দিতে চাইছে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়?

নাকি এটি আরও জটিল কোনো খেলা? কোনো বিদেশি শক্তি বা আঞ্চলিক স্বার্থগোষ্ঠী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে?

২০০৫ সালেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। তখনও অনেকে বলেছিলেন, জঙ্গি তৎপরতা শুধু সরকারের ব্যর্থতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বাইরের কোনো শক্তির পরিকল্পিত উসকানিও হতে পারে। আজও সেই প্রশ্নগুলো ফিরে এসেছে।

প্রেশার কুকার বোমা বা ছাতায় আইইডি তৈরি করা সহজ কাজ নয়। এতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উপকরণ ও পরিকল্পনা লাগে। জনবহুল স্থান ও সংবেদনশীল সময় বেছে নেওয়া থেকে বোঝা যায়, উদ্দেশ্য শুধু প্রাণহানি নয়—আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরা।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় যদি বারবার জঙ্গি বা সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে, তাহলে সবচেয়ে বেশি লাভ কার হয়? যারা সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে চায়, তাদের। যারা জনমনে অবিশ্বাস তৈরি করতে চায়, তাদের। যারা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের।

নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা। না হলে পুরনো বয়ান আবার জোরালো হয়ে উঠবে—বিএনপি ক্ষমতায় এলেই জঙ্গি তৎপরতা বাড়ে।

প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। ২০০৫ সালে যেমন উঠেছিল, আজও তেমনই। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে? পতিত ও পরাজিত আওয়ামী লীগ? নাকি কোনো বিদেশি শক্তির ছায়া খেলা? উত্তর না মেলা পর্যন্ত সন্দেহের কালো মেঘ থেকেই যাবে।

পতিত শক্তির প্রত্যাবর্তন, নাকি নতুন কোনো খেলা? সাম্প্রতিক আইইডি উদ্ধারের ঘটনায় যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে-

পতিত শক্তির প্রত্যাবর্তন, নাকি নতুন কোনো খেলা? সাম্প্রতিক আইইডি উদ্ধারের ঘটনায় যেসব প্রশ্ন সামনে আসছে-

৩০ জুলাই ২০২৬ সন্ধ্যা। আশুলিয়ার খেজুর বাগান এলাকার একটি ছোট মুদি দোকানে ত্রিশোর্ধ্ব এক ব্যক্তি এসে একটি কোমল পানীয় কেনেন। তিনি বড় অঙ্কের একটি নোট দেন। দোকানদার খুচরা আনতে ব্যস্ত হয়ে পড়লে লোকটি নিঃশব্দে সেখান থেকে চলে যায়। যাওয়ার আগে দোকানের সামনে একটি বেঞ্চে একটি ব্যাগ রেখে যায়।

কয়েক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের সন্দেহ হলে ব্যাগটি খোলা হয়। ভেতরে পাওয়া যায় কালো টেপে মোড়ানো একটি প্রেসার কুকার, যার মধ্যে ছিল বিস্ফোরক পদার্থ ও অসংখ্য বেয়ারিং বল। এটি ছিল প্রাণঘাতী একটি ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (IED)। পরে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি ধ্বংস করে।

এর ঘটনার ঠিক এক সপ্তাহ আগে, ২৪ জুলাই রাজধানীর মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে উদ্ধার করা হয় আরেকটি অত্যন্ত কৌশলী আইইডি। একটি পরিত্যক্ত ছাতার ভেতরে লুকিয়ে রাখা ওই পাইপ বোমায় ছিল সালফার, বেয়ারিং বল, ব্যাটারি ও এমন একটি সার্কিট, যা ছাতা খোলার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারত। ঘটনাস্থলের পাশ দিয়েই সে সময় উল্টো রথযাত্রার শোভাযাত্রা অতিক্রম করছিল। বোমা নিষ্ক্রিয় করার সময় একজন পথচারী আহত হন।

মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে রাজধানী ও আশুলিয়ায় দুটি উন্নতমানের আইইডি উদ্ধার—দুটিই জনবহুল স্থানে, দুটিই অজ্ঞাত ব্যক্তির রেখে যাওয়া, এবং সৌভাগ্যক্রমে বিস্ফোরণের আগেই শনাক্ত হওয়া;  ঘটনাগুলো স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এই ঘটনাদুটোর সাথে মনে পড়ে যায়, ২০০৫ সালের ১৭ আগস্টের সেই ভয়াবহ দিনটির স্মৃতি। সেদিন জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৬৩ জেলায় প্রায় ৫০০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। আদালত, সরকারি স্থাপনা ও জনসমাগমস্থল ছিল হামলার লক্ষ্য। বিভিন্ন স্থানে ইসলামি শাসনব্যবস্থার দাবিতে লিফলেটও ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রাণহানি তেমন না হলেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল সারাদেশে।

তবে ২০২৬ সালের এ ঘটনাগুলোর ধরন ভিন্ন।

২০০৫ সালের হামলা ছিল সমন্বিত, দেশব্যাপী এবং একটি পরিচিত জঙ্গি সংগঠন প্রকাশ্যে দায়ও স্বীকার করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক দুটি আইইডি পাওয়াকে বলা যায় বিচ্ছিন্ন ঘটনা। অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে তৈরি হলেও এগুলো কোনো সমন্বিত বিস্ফোরণ অভিযানের অংশ বলে এখন পর্যন্ত প্রতীয়মান হয়নি। কোনো সংগঠন দায়ও স্বীকার করেনি, কোথাও কোনো লিফলেট বা রাজনৈতিক বার্তাও পাওয়া যায়নি। তবে এভাবে বিস্ফোরক রেখে অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার কৌশল দেখে কয়েকটা প্রশ্ন মাথায় আসছে।  

শুরুতেই আসি সময়ের প্রেক্ষাপট নিয়ে- 

জাতীয় নির্বাচন শেষ হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠন করেছে। নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই রাজধানী ও আশপাশে এ ধরনের বিস্ফোরক উদ্ধার হওয়া স্বাভাবিকভাবেই একাধিক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

এগুলো কি কেবল বিচ্ছিন্ন জঙ্গি তৎপরতার পুনরুত্থান? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য?

প্রশ্ন উঠছে—ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ কি দেশে অস্থিরতার একটি চিত্র তুলে ধরতে চায়? তারা কি জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে চাইছে যে সরকার পরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে? অথবা রাজনৈতিকভাবে নতুন সরকারকে চাপে ফেলতে কি কেউ পরিকল্পিতভাবে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে?

আবার অন্য দৃষ্টিকোণ থেকেও প্রশ্ন রয়েছে। কোনো বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বা সংগঠন কি নতুন সরকারের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরতে চায়? জনগণের মধ্যে সরকারের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি করাই কি উদ্দেশ্য?

আরও একটি সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে কোনো বিদেশি শক্তি, আঞ্চলিক স্বার্থগোষ্ঠী বা প্রক্সি নেটওয়ার্ক কি সক্রিয় হয়ে উঠেছে?

প্রেসার কুকার বোমা কিংবা ছাতার ভেতরে লুকানো আইইডি তৈরি করা সাধারণ অপরাধীর কাজ নয়। এ ধরনের বিস্ফোরক তৈরিতে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, উপকরণ সংগ্রহের সক্ষমতা এবং পরিকল্পিত প্রস্তুতির প্রয়োজন হয়। জনবহুল বাণিজ্যিক এলাকা ও গণপরিবহন কেন্দ্রকে লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেওয়া থেকে বোঝা যায়, উদ্দেশ্য শুধু প্রাণহানি নয়; বরং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকে দেখানোর জন্য সামনে নিয়ে আসা।

বিশেষ করে একটি ধর্মীয় শোভাযাত্রার রাস্তার কাছাকাছি এমন বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করে।

বাংলাদেশ অতীতে বহুবার রাজনৈতিক সহিংসতা ও জঙ্গিবাদের নামে নানা হয়রানি ও রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। বর্তমান ঘটনাগুলো আকারে ছোট হলেও উদ্বেগের কারণ কম নয়। কারণ এগুলো পরিচিত কৌশল কিন্তু নতুন কিছুর ইঙ্গিত বহন করছে। যদি বিস্ফোরণ ঘটত, তাহলে প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অনেক বড় হতে পারত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্কতা ও সরকারের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

তবে বিস্ফোরকগুলো উদ্ধার হওয়াই শেষ কথা নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—কারা এগুলো রেখেছিল, কেন রেখেছিল এবং তাদের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী? 

সরকারের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা। অন্যথায় পতিত শক্তি বা বিরোধী শক্তির উদ্দেশ্য সফল হবে, তারা জনমনে এমন ধারণা জন্ম নিতে পারে যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আবারও নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

যতক্ষণ পর্যন্ত দায়ীদের পরিচয় ও উদ্দেশ্য স্পষ্ট না হচ্ছে, ততক্ষণ এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মিলবে না—এটি কি নতুন কোনো জঙ্গি তৎপরতার সূচনা, নাকি নবগঠিত সরকারকে চাপে ফেলতে পরিকল্পিত রাজনৈতিক নাশকতার অংশ? নাকি পর্দার আড়ালে আরও জটিল কোনো খেলা ধীরে ধীরে রূপ নিচ্ছে?


Fallen Forces or New Game? Questions Behind the Recent IED Discoveries Is Someone Trying to Destabilise the New Government?

Fallen Forces or New Game? Questions Behind the Recent IED Discoveries

Is Someone Trying to Destabilise the New Government?

On the evening of 30 July 2026, a man in his early thirties entered a small grocery shop in the Khejur Bagan area of Ashulia. He asked for a soft drink, handed over a large note, and left when the shopkeeper went looking for change. Before disappearing, he placed a locked bag on a bench outside. Hours later, suspicious locals forced the bag open. Inside was a pressure cooker tightly wrapped in black adhesive tape, packed with explosive compound and bearing balls. It was designed to kill and maim. The police Bomb Disposal Unit later destroyed it in a controlled explosion.

Just a week earlier, on 24 July, another sophisticated improvised explosive device (IED) was found beneath Motijheel Metro Rail Station. Concealed inside an abandoned umbrella, the pipe bomb contained sulphur, bearing balls, batteries and a circuit rigged to detonate if the umbrella was opened. A reverse Rath Yatra procession was passing nearby at the time. One passer-by was injured during the controlled disposal.

Two advanced IEDs in public places within days of each other. Both recovered before detonation. Both left by unidentified individuals who vanished into the crowd.

The method evokes darker chapters. In August 2005, Jama’atul Mujahideen Bangladesh (JMB) detonated nearly 500 bombs almost simultaneously across 63 of the country’s 64 districts within roughly thirty minutes. Government buildings, courts and public places were targeted. Leaflets demanding Islamic rule were left at many sites. Two people were killed and more than a hundred injured, but the psychological impact was enormous.

Yet today’s pattern is different. The 2005 attacks were nationwide, highly coordinated, and publicly claimed by the militant group Jama'atul Mujahideen Bangladesh (JMB). The serial bombings of 17 August 2005 triggered widespread fear and were widely seen as an attempt to undermine public confidence in the government's ability to maintain security. The 2026 devices are isolated, carefully constructed for maximum local damage, and abandoned rather than detonated in a timed wave. No group has claimed responsibility. No leaflets. No manifesto. Only silent placement and disappearance.

The timing is different too. The election is over. The BNP is in power. Soon after the new government assumed office, such explosive devices have appeared in the capital and its outskirts, raising serious concern. The question arises—are these merely a resurgence of militant activity, or is there a deeper political calculation at work?

Awami League, other opposition forces, or some foreign power—who is behind this?

Is the fallen Awami League looking for opportunities to stage militant dramas? Does it want to show the people that the situation has become worse than before? After losing power, is it attempting to destabilise the new government through such provocative activities?

Or is this a strategy of other opposition parties or groups? Are they trying to demonstrate that the BNP government has failed to ensure public security? Is the plan to expose weaknesses in the new administration’s law-and-order management and create distrust among the people?

Or is something more complex at play—a foreign power or regional interest group seeking to muddy Bangladesh’s internal situation?

Pressure-cooker bombs and umbrella IEDs require a degree of technical knowledge and access to materials. Leaving them in busy commercial and transit zones suggests an intent less focused on striking high-value targets and more on terrorising ordinary people while highlighting vulnerabilities in the government’s security apparatus. The timing—post-election and close to a religious procession—adds another layer of ambiguity.

Bangladesh has lived through cycles of political violence and militant resurgence. The 2005 serial bombings forced a reckoning with domestic extremism. Today’s incidents are smaller in scale, yet more unsettling precisely because they feel both familiar and altered. Had they exploded, the devices could have caused serious casualties. That they did not is thanks to alert citizens and rapid police response. That they existed at all demands clearer answers than silence.

For the new government, the real test now is how quickly and transparently it can investigate these incidents and bring those responsible to account. Otherwise, a perception may take root that law and order is once again slipping out of control. Until the perpetrators are identified and the motive established, the question will linger: is this the beginning of a new campaign, a calculated provocation designed to put pressure on the new government, or something else entirely still taking shape in the shadows?

মব জাস্টিস আর না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না

সম্প্রতি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায়ের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করলে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ অনেকে আহত হন, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

একইভাবে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) শাবল ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তার সঙ্গী সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এভাবে মব জাস্টিস আর না। শিশু ধর্ষণ-হত্যা বা স্থানীয়-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে প্রাণহানি দেখে রক্ত গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং এতে প্রমাণ নষ্ট হয়, নিরপরাধীরা ভিকটিম হয় এবং দোষীর সঠিক বিচার ব্যাহত হয়। এরকম আরও কিছু ঘটনা যেমন-  চট্টগ্রামের বাকলিয়া, ময়মনসিংহের ধোবাউড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধে মব সহিংসতা বেড়েছে। 

আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বিশৃঙ্খলাকারিরা সহজেই সুযোগ পেয়ে যাবে। উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে, যা সমাজকে আরও অস্থির করে। তাই সরকারকে সহযোগিতা করুন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করুন। পুলিশকে তথ্য দিন, সাক্ষ্য সংরক্ষণ করুন এবং শান্ত থাকুন।

কেন এটা করবেন?

এর ধরনের ঘটনায় নিরীহ মানুষ মারা যায়, আইনের শাসন ধ্বংস হয় এবং সমাজে ভয় ও বিশৃঙ্খলা বাড়ে।

তাহলে সমাধানের পথ কী? 

যেকোনো অপরাধে তাৎক্ষণিক পুলিশে অভিযোগ করুন। সরকারকে দ্রুত তদন্ত (১৫ দিন) ও বিচার (৯০ দিন) নিশ্চিত করতে চাপ দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন।

আমরা চাই, লালমনিরহাটের নন্দিনী ও সাঘাটার সাইফুল্লাহসহ সব ঘটনায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। ক্ষোভকে শক্তিতে রূপান্তরিত করুন—আইনের পথে। 

মব জাস্টিস আর না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।

এটি সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এর সুযোগ নিবে। 

সরকারকে সহযোগিতা করুন। সরকার সবসময় সচেষ্ট। মিরপুরের রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার তার প্রমাণ। 

© all rights reserved
made with by templateszoo