মব জাস্টিস আর না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না

0

সম্প্রতি লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ফলিমারী গ্রামে সাত বছরের শিশু নন্দিনী রায়ের নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছে। নিখোঁজের একদিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ সন্দেহভাজন বিধান চন্দ্র রায়কে গ্রেপ্তার করলে ক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে ছিনিয়ে নিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। পুলিশ সুপার, জেলা প্রশাসকসহ অনেকে আহত হন, সরকারি গাড়ি ভাঙচুর হয় এবং অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়।

একইভাবে, গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ছাত্রশিবিরের বোনারপাড়া ইউনিয়ন সভাপতি সাইফুল্লাহ বারী (২৪) শাবল ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। তার সঙ্গী সালাউদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে বগুড়া মেডিকেলে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।

এভাবে মব জাস্টিস আর না। শিশু ধর্ষণ-হত্যা বা স্থানীয়-রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে প্রাণহানি দেখে রক্ত গরম হওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং এতে প্রমাণ নষ্ট হয়, নিরপরাধীরা ভিকটিম হয় এবং দোষীর সঠিক বিচার ব্যাহত হয়। এরকম আরও কিছু ঘটনা যেমন-  চট্টগ্রামের বাকলিয়া, ময়মনসিংহের ধোবাউড়াসহ বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও অন্যান্য অপরাধে মব সহিংসতা বেড়েছে। 

আইন নিজের হাতে তুলে নিলে বিশৃঙ্খলাকারিরা সহজেই সুযোগ পেয়ে যাবে। উত্তেজনার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা আরও অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে, যা সমাজকে আরও অস্থির করে। তাই সরকারকে সহযোগিতা করুন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করুন। পুলিশকে তথ্য দিন, সাক্ষ্য সংরক্ষণ করুন এবং শান্ত থাকুন।

কেন এটা করবেন?

এর ধরনের ঘটনায় নিরীহ মানুষ মারা যায়, আইনের শাসন ধ্বংস হয় এবং সমাজে ভয় ও বিশৃঙ্খলা বাড়ে।

তাহলে সমাধানের পথ কী? 

যেকোনো অপরাধে তাৎক্ষণিক পুলিশে অভিযোগ করুন। সরকারকে দ্রুত তদন্ত (১৫ দিন) ও বিচার (৯০ দিন) নিশ্চিত করতে চাপ দিন। সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়াবেন না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন।

আমরা চাই, লালমনিরহাটের নন্দিনী ও সাঘাটার সাইফুল্লাহসহ সব ঘটনায় দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হোক। ক্ষোভকে শক্তিতে রূপান্তরিত করুন—আইনের পথে। 

মব জাস্টিস আর না, আইন নিজের হাতে তুলে নিবেন না।

এটি সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। পতিত আওয়ামী লীগ ও তাদের দোসররা এর সুযোগ নিবে। 

সরকারকে সহযোগিতা করুন। সরকার সবসময় সচেষ্ট। মিরপুরের রামিসা হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার তার প্রমাণ। 

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo