Showing posts with label ট্রেন্ডিংবাজ. Show all posts
Showing posts with label ট্রেন্ডিংবাজ. Show all posts

One of the Principal Accused in the Assassination Case of Ziaur Rahman, Arrested

 

After 45 Years on the Run, Major (Fugitive) Mozaffar Hossain, One of the Principal Accused in the Assassination Case of Ziaur Rahman, Arrested; Handed Over to the Bangladesh Army for Court-Martial Proceedings

Major (Fugitive) Md. Mozaffar Hossain, one of the alleged masterminds in the assassination case of martyred President Ziaur Rahman and a fugitive for the past 45 years, has been arrested by the Detective Branch (DB) of Dhaka Metropolitan Police. He has subsequently been handed over to the Bangladesh Army.

Major (Fugitive) Mozaffar Hossain was one of the army officers involved in the assassination of then-President Ziaur Rahman at the Chattogram Circuit House on May 30, 1981. According to various historical accounts, published research, and descriptions related to the case, he is identified as one of the principal planners of the assassination and as a key figure in the direct shooting.

According to various accounts of the incident, a group of rogue army officers attacked the Chattogram Circuit House in the early hours of May 30, 1981. Among the attackers were Major Mozaffar Hossain and Captain Mosleh Uddin. Various narratives state that Major Mozaffar Hossain was the first to identify President Ziaur Rahman and then directly opened fire on him. After the assassination, he reportedly telephoned the then General Officer Commanding (GOC) of the 24th Infantry Division, Major General Abul Manzur, at Chattogram Cantonment and informed him, “The President has been killed.”

Following the assassination, the Bangladesh Army brought the situation under control. Major General Abul Manzur and several others were arrested, and Manzur was later killed. However, Major Mozaffar Hossain and Major S. M. Khaled managed to escape. Captain Mosleh Uddin, on the other hand, was arrested and was later sentenced to life imprisonment.

According to relevant sources, Major (Fugitive) Mozaffar Hossain remained in hiding in India for a long period. He is reported to have stayed there until 1997–98. Thereafter, according to investigation-related sources, he travelled under an assumed identity and crossed the border on multiple occasions.

After remaining in hiding for 45 years, he was finally arrested by the Detective Branch (DB) of Dhaka Metropolitan Police. Upon completion of the necessary legal procedures, he was handed over to the Bangladesh Army to undergo court-martial proceedings.

Very little information about the personal life of Major (Fugitive) Mozaffar Hossain or his military career has been made publicly available. However, he has long been known as one of the most prominent fugitive accused in the assassination case of President Ziaur Rahman in 1981. His arrest marks a significant development in one of the country's most high-profile and long-unresolved political assassination cases.

৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন

৪৫ বছর পলাতক থাকার পর গ্রেপ্তার জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম মূল আসামী মেজর (পলাতক) মোজাফফর হোসেন; কোর্টমার্শাল সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে পলাতক থাকা আসামি মেজর (পলাতক) মো. মোজাফফর হোসেনকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

মেজর (পলাতক) মোজাফফর হোসেন ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার ঘটনায় জড়িত সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম ছিলেন। বিভিন্ন ঐতিহাসিক বিবরণ, প্রকাশিত গবেষণা ও মামলাসংক্রান্ত বর্ণনা অনুযায়ী, তাকে ওই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম পরিকল্পনাকারী ও সরাসরি গুলি চালনার হোতা হিসেবে জানা যায়।

বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে হামলা চালায়। হামলাকারীদের মধ্যে মেজর মোজাফফর হোসেন ও ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন ছিলেন অন্যতম। বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, মেজর মোজাফফর হোসেনই প্রথম রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শনাক্ত করেন এবং পরে তাকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলি করেন। হত্যাকাণ্ডের পর তিনিই চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ২৪ পদাতিক ডিভিশনের তৎকালীন জিওসি মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরকে টেলিফোন করে জানান, “The President has been killed.”

হত্যাকাণ্ডের পর সেনাবাহিনীর অভিযানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে মেজর জেনারেল আবুল মঞ্জুরসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে মঞ্জুর নিহত হন। তবে মেজর মোজাফফর হোসেন ও মেজর এস. এম. খালেদ পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। অন্যদিকে ক্যাপ্টেন মোসলেহ উদ্দিন গ্রেপ্তার হন এবং পরে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মেজর (পলাতক) মোজাফফর হোসেন দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে ছিলেন। ১৯৯৭–৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন বলে জানা যায়। এরপর তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করে সীমান্ত অতিক্রম করে বিভিন্ন সময় যাতায়াত করতেন বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।

অবশেষে ৪৫ বছর আত্মগোপনে থাকার পর তাকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ আটক করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে কোর্ট মার্শাল সম্পন্ন করার জন্য হস্তান্তর করা হয়।

মেজর (পলাতক) মোজাফফর হোসেনের ব্যক্তিগত জীবন বা সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে খুব বেশি প্রকাশিত নয়। তবে ১৯৮১ সালের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আলোচিত ও দীর্ঘদিনের পলাতক আসামি হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। তার গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে দেশের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের একটি দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়ে নতুন অগ্রগতি এলো।
x

শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া। কে লাভবান হচ্ছে? কে উস্কানি দিচ্ছে?

শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া।  

কে লাভবান হচ্ছে? কে উস্কানি দিচ্ছে?



গত ১৪ জুলাই।  

ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আন্দোলন।  

কারণ বন্যা, জলাবদ্ধতা আর প্রশ্নপত্রের ত্রুটি।  

কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়।  

আন্দোলন আর শুধু পরীক্ষার দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।  

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান ওঠে সামনে।  

এরপর মার্চ টু এডুকেশন মিনিস্ট্রি।  

সড়ক অবরোধ। দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ।  


এখানে কি শুধু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি কাজ করছে?  

নাকি কিছু মহলের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে। আসুন দেখে নেয়া যাক-


এ ধরনের আন্দোলনে ঘি ঢালবে আওয়ামী লীগ।  

কিছু শিক্ষার্থীকে উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে তারা।  

অনলাইন প্রচারণায় ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তির সক্রিয়তা দেখা গেছে।  

অতীতেও দেখা গেছে—শিক্ষার্থী আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতা তৈরি করে পতিত শক্তি ফেরার সুযোগ খোঁজে।  

এবারও সেই পুরনো খেলা চলতে পারে।  


একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে এনসিপি ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে।  

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা এখন এনসিপির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।  

নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।  

হাসনাত আবদুল্লাহ।  

সারজিস আলম।  


তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট—তারা দাবির যৌক্তিক সমাধানের চেয়ে পদত্যাগ চাপ প্রয়োগের পথেই বেশি জোর দিচ্ছেন।  

দেশের বন্যা পরিস্থিতি, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জটিলতা বাদ দিয়ে কি তাঁরা দ্বিতীয় বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন?  

নাজুক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা কি চলছে?


অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ভূমিকা আরও সন্দেহজনক।  

দেশের বাইরে বসে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন, তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন না।  

বন্যা, জলাবদ্ধতা, পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা—এসব সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।  

তবুও তাঁরা হ্যাশট্যাগ, ভুয়া ছবি আর উত্তেজক কনটেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উসকাচ্ছেন।  


শিক্ষামন্ত্রীর দোষ কী?  

কোচিং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।  

যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া।  

শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।  

শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।  

এগুলো কি অপরাধ?  


সচেতন অভিভাবকরা বলছেন—বারবার পরীক্ষা পেছালে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট আর মানসিক চাপ বাড়বে।  

তাদের মতে, শুধু বন্যাকবলিত এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে বাকি জায়গায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াই বাস্তবসম্মত।  

এ ধরনের আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুয়া খবর আর গুজব।  

লাশ সংক্রান্ত সংবাদ।  

পুরনো সহিংসতার ভিডিও।  

বিভ্রান্তিকর ছবি।  

এসব দ্রুত ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।  

কারা এই পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছে?


শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করা যায় না।  

কিন্তু আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।  

আওয়ামী লীগের পুরনো খেলা।  

এনসিপি-জামায়াতের চাপ প্রয়োগ।  

বিদেশি অ্যাকটিভিস্টদের উস্কানি।  

এবং ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি।  


এসব থেকে সতর্ক না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।  

দেশের নাজুক পরিস্থিতিতে আর কোনো অস্থিরতা সহ্য করার মতো অবস্থা নেই।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢালছে কারা, উস্কানি দিচ্ছে কারা?

 শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢালছে কারা, উস্কানি দিচ্ছে কারা?

গত ১৪ জুলাই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আন্দোলন এখন শুধু পরীক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। বন্যা, জলাবদ্ধতা ও প্রশ্নপত্রের ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আন্দোলন দ্রুত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে কারা ঘি ঢালছে এবং কারা উস্কানি দিচ্ছে—সে প্রশ্ন এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে অনলাইন প্রভাবশালীদের তালিকা এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে কয়েকজন প্রভাবশালীকে। ইব্রাহিম খলিল শাওন নামের একজনের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় এক লাখ চুয়ান্ন হাজার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর এলাকার এই ব্যক্তি ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি করেছেন যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে তার পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের সাদিকুর রহমান সাদাবের ফলোয়ার এক লাখ চৌষট্টি হাজার। তিনি ১২ জুলাই থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। নেত্রকোণার ব্যারিস্টার জহিরুল ইসলামের ফলোয়ার পনেরো লাখ। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রামের নুরুল আজিম রনির ফলোয়ার পাঁচ লাখ চার হাজার। তিনিও আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকে উত্তপ্ত করছেন।

ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনও সক্রিয়। ময়মনসিংহের ভালুকার তৌহিদ ইসলাম হৃদয়ের ফলোয়ার বত্রিশ হাজার। তিনি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঢাকার মাকসুদুল আলম বাচ্চুর ফলোয়ার সাড়ে পাঁচ হাজার। তিনিও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত এবং উস্কানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন। আসিফ তালুকদারের ফলোয়ার সাতাশি হাজার। তিনিও একই ধরনের প্রচারণায় জড়িত। এছাড়া হাবিবুর রহমান, আরিফ ইস্তিয়াক, টি আর তাহামিদ ইস্তিয়াক, স্ক ইউসুফ ইসলাম রবিনসহ আরও অনেকে নিরপেক্ষ পরিচয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনলাইন প্রচারণাকারীদের প্রায় পঁচিশ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক। বাকিরা নিরপেক্ষ হলেও ভিউ ও জনপ্রিয়তার জন্য আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন।

মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের। এনসিপির আহ্বায়ক ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছেন। পনেরো জুলাই বগুড়ার এক সমাবেশে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বগুড়ায় জুলাই পদযাত্রায় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষমা চাওয়া এবং দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করলেও তার দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমেদও শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ছাত্রলীগের কিছু অংশ অনলাইনে ঘি ঢালছে। অন্যদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতারা মাঠ পর্যায়ে পদত্যাগের দাবিকে সামনে এনে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু ভুয়া খবর, পুরনো সহিংসতার ভিডিও এবং পরিকল্পিত উস্কানির মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহল এটিকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসব রাজনৈতিক খেলা থেকে দূরে থাকা জরুরি। অন্যথায় আন্দোলন তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং অন্য কেউ ফায়দা তুলবে।

শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া: কে লাভবান হচ্ছে, কে উস্কানি দিচ্ছে

 শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া: কে লাভবান হচ্ছে, কে উস্কানি দিচ্ছে

গত ১৪ জুলাই থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চলমান আন্দোলন এখন শুধু পরীক্ষা বা আবহাওয়ার ইস্যুতে সীমাবদ্ধ নেই। বন্যা-জলাবদ্ধতায় হাজার হাজার পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে বাধা, পদার্থবিজ্ঞানের প্রশ্নপত্রে ত্রুটি এবং শিক্ষামন্ত্রীর ‘ফার্মের মুরগি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আন্দোলন দ্রুত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। ‘মার্চ টু এডুকেশন মিনিস্ট্রি’ কর্মসূচি, সড়ক অবরোধ এবং দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দেখে মনে হচ্ছে—এখানে শুধু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি নয়, কিছু মহলের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও কাজ করছে।

এ ধরনের আন্দোলনে ঘি ঢালবে আওয়ামী লীগ। কিছু শিক্ষার্থীকে উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে তারা। ইতিমধ্যে অনলাইন প্রচারণায় আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তির সক্রিয়তা দেখা গেছে। অতীতেও দেখা গেছে—শিক্ষার্থী আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতা তৈরি করে পতিত শক্তি ফেরার সুযোগ খোঁজে। এবারও সেই পুরনো খেলা চলতে পারে। সতর্ক থাকা জরুরি।

একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে জামায়াত ও এনসিপির ভূমিকা নিয়ে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা এখন এনসিপির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলছেন। নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলমসহ কয়েকজনের বক্তব্যে স্পষ্ট—তারা দাবির যৌক্তিক সমাধানের চেয়ে পদত্যাগ চাপ প্রয়োগের পথেই বেশি জোর দিচ্ছেন। দেশের বন্যা পরিস্থিতি, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জটিলতা এবং শিক্ষার্থীদের বাস্তব সমস্যার কথা বাদ দিয়ে কি তারা ‘দ্বিতীয় বিপ্লবের’ স্বপ্ন দেখছেন? নাজুক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা কি চলছে? শিক্ষার্থীদের দাবির সমাধান না খুঁজে শুধু পদত্যাগের স্লোগান দিয়ে উস্কানি দেওয়ার পেছনে কী উদ্দেশ্য—এ প্রশ্ন এখন জরুরি।

অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ভূমিকা আরও সন্দেহজনক। দেশের বাইরে বসে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন, তাদের অনেকেই বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন না। বন্যা, জলাবদ্ধতা, পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা—এসব সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। তবুও তারা হ্যাশট্যাগ, ভুয়া ছবি-ভিডিও আর উত্তেজক কনটেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উসকাচ্ছেন। আন্দোলন মানেই যে তাদের উস্কানি—এমন ধারণা থেকে সাবধান থাকা দরকার। দেশের বাস্তবতা আর অনলাইনের আবেগ—দুটো আলাদা জিনিস।

শিক্ষামন্ত্রীর দোষ কী? কোচিং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা, শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা—এগুলো কি অপরাধ? বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য সমালোচনা হতেই পারে। কিন্তু পুরো ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের চেষ্টাকেই আক্রমণের লক্ষ্য বানিয়ে পদত্যাগ দাবি করা কতটা যৌক্তিক? সচেতন অভিভাবকরাও বলছেন—বারবার পরীক্ষা পেছালে সেশনজট ও মানসিক চাপ বাড়বে। শুধু বন্যাকবলিত এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে বাকি জায়গায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াই বাস্তবসম্মত। যা ইতোমধ্যে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে।

সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুয়া খবর ও গুজব। আন্দোলনকে ঘিরে লাশ সংক্রান্ত সংবাদ, পুরনো সহিংসতার ভিডিও, বিভ্রান্তিকর ছবি দ্রুত ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কে এই পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছে? সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইতিমধ্যে ২০২৪ সালের ঘটনা মিশিয়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার চেষ্টা করছে। এ ধরনের ভুয়া নিউজ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করে আন্দোলনকে সহিংসতার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করা যায় না। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কিছু এলাকায় পরীক্ষা স্থগিত, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা এবং নতুন সময়সূচি—এসব বিষয়ে দ্রুত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সরকার নিয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগের পুরনো খেলা, এনসিপি-জামায়াতের চাপ প্রয়োগ, বিদেশি অ্যাকটিভিস্টদের উস্কানি এবং ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি—এসব থেকে সতর্ক না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের নাজুক পরিস্থিতিতে আর কোনো অস্থিরতা সহ্য করার মতো অবস্থা নেই।

নাহিদ আর হাসনাতের এমপি হওয়া আর তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিন্তু এক নয়...

 নাহিদ আর হাসনাতের এমপি হওয়া আর তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া কিন্তু এক নয়...

নাহিদ ইসলাম আর হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি হয়েছেন ছাত্রদের রক্তে ভেজা জুলাই আন্দোলনের সুবাদে। কিন্তু তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন জনগণের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি আর বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায়। এ দুটো এক নয়।

হাসনাত আব্দুল্লাহ মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলছেন, “যাদের ফার্মের মুরগি বলা হয়েছে, তাদের কারণেই শিক্ষামন্ত্রী হয়েছেন আর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।” ভাই, একটু লজ্জা করুন। আপনার এমপি হওয়াটা পুরোপুরি জুলাইয়ের ফসল। কিন্তু তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। ২৪-এর আন্দোলন না হলেও তিনি ২৬ বা ২৭-এ প্রধানমন্ত্রী হতেন। জনগণের আস্থা আর দলের শক্তি ছিলই।

কিন্তু আপনি? আপনি আর নাহিদ যদি জুলাইয়ের আন্দোলন না করতেন, তাহলে আজ এমপির আসনে বসতে পারতেন কি না — সেটাই বড় প্রশ্ন। আগস্টের ৩ তারিখে হাসিনার সঙ্গে সমঝোতার যে চেষ্টা করেছিলেন, সেটা ইতিহাস মনে রেখেছে। যদি নাহিদ-আসিফের মতো নেতারা শক্ত অবস্থান না নিতেন, তাহলে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে আন্দোলনকে ধ্বংস করার চেষ্টা করতেন।

এখন সেই একই হাসনাত আব্দুল্লাহ ছাত্রদের আবেগকে উস্কে দিয়ে আবার রাজনীতি করছেন। শিক্ষামন্ত্রীকে আক্রমণ করে, পদত্যাগ দাবি করে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। ছাত্ররা রাস্তায় নামুক, দেশ অস্থিতিশীল হোক — এটাই যেন তাদের কাম্য।

নাহিদ-হাসনাত, আপনাদের এমপি হওয়া আর তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হওয়া কখনো এক হতে পারে না। একজন জনগণের ভালোবাসায় এসেছেন, আরেকজন ছাত্রদের রক্তের ওপর ভর করে। তাই এখন ছাত্রদের আবার রাস্তায় টেনে নামিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার চেষ্টা বন্ধ করুন।

ছাত্ররা পড়ুক, পরীক্ষা দিক। আপনাদের রাজনৈতিক স্বার্থের জন্য আর কোনো ছাত্রের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবেন না। ভণ্ডামি যথেষ্ট হয়েছে।

এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

 এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত: শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন


দেশজুড়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ চলমান রয়েছে। বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যে কেন এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এ নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং শুভানুধ্যায়ীদের উদ্বেগ ও প্রশ্ন রয়েছে। এ বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও যথেষ্ট ভেবেছে।


পারিপার্শ্বিক সব পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সব বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক এবং অন্যান্য অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে, বর্তমানে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ভারী বর্ষণের কারণে সাময়িক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে জানা গেছে, দেশজুড়ে পরিস্থিতির যথেষ্ট উন্নতি হয়েছে।


পরীক্ষার্থীরা আমাদের সন্তানতুল্য। তাদের ভবিষ্যৎ, স্বপ্ন ও মানসিক অবস্থার গুরুত্ব সরকার গভীরভাবে উপলব্ধি করে। জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে পরীক্ষা নিশ্চিত করা একটি দায়বদ্ধতা। পরীক্ষার্থীদের যেন কোনো দুর্ভোগ না হয় সেটি যেমন সরকারের লক্ষ্য, ঠিক তেমনি তাদের দীর্ঘদিনের পাঠ্যক্রম ও মানসিক প্রস্তুতিকে মূল্যায়ন করে যথাসময়ে ও সুষ্ঠুভাবে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সম্পন্ন করাও দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষাই অগ্রাধিকার।


এ কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিগত কয়েকদিন ধরেই আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছে। আজ সকালেও বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। সর্বসম্মত মতামত এসেছে যে, চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত দেশের সকল বোর্ডের আওতাধীন এলাকায় পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ বিদ্যমান। তবে একইসাথে সীমিতসংখ্যক হলেও, যেকোনো শিক্ষার্থীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।


চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় দেশের ২,৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- এই পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে ১৬ জুলাই পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। অন্যান্য জেলায় পরীক্ষা আয়োজনে অনুকূল পরিবেশ থাকায়, বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সর্বস্মতিক্রমে গৃহীত হয়। সামনের দিনগুলোতেও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য একদিকে দেশজুড়ে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থীবান্ধব যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যে কোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত তারা নিতে পারবেন। যদি বিরুপ আবহাওয়ার কারনে দেশের কোথাও কোন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিতে না পারে, তবে তারা চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত হওয়া পরীক্ষার সঙ্গে একই দিনে অংশগ্রহণ করতে পারবে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের প্রশ্নে দুটি ভুল পাওয়ার তথ্য এসেছে। উক্ত প্রশ্নের জন্য সবাইকে ফুল মার্কস দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত, সেটি শিক্ষার্থীবান্ধব নীতিরই প্রতিফলন।


গতকাল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে নৌকায় পরীক্ষার্থী পারাপারের ছবি বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ১৯৩টি কেন্দ্রের মধ্যে আকস্মিক জলাবদ্ধতার কারণে, মূলত এই একটি কেন্দ্রের ৯৮৭ জন পরীক্ষার্থী সাময়িক সমস্যায় পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার, সিটি করপোরেশন এবং শিক্ষা বোর্ডের সমন্বিত সিদ্ধান্তে ওই কেন্দ্রের পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরীক্ষার পূর্ণ সময় নিশ্চিত করা হয়। পাশাপাশি যাতায়াতের জন্য আলোচিত সেই ছবির মতো বহুমুখী উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনিক পদক্ষেপে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয়। কেবল একটি কেন্দ্রের এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও, কুমিল্লা বোর্ডের বাকি ১৯২টি কেন্দ্রের প্রায় সকল শিক্ষার্থীর পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে।


সারা দেশে ২,৬৯৭টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তার মধ্যে মুষ্টিমেয় কিছু কেন্দ্রের ছবি ও ভিডিও নিশ্চয়ই পুরো পরীক্ষা ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে না। মিথ্যা-পুরনো ছবি ও ভিডিও দিয়ে অপপ্রচার চালানো, কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল ও উস্কানি প্রদান গণআকাঙ্খার সাথে সাংঘর্ষিক। এ বিষয়ে কোমলতি শিক্ষার্থীরা নিশ্চয় সজাগ রয়েছে।


গণতান্ত্রিক যে মূল্যবোধ আমরা ধারণ করি, সেখানে গঠনমূলক ও ইতিবাচক সমালোচনা অবশ্যই থাকবে। মতের পার্থক্যও থাকবে, কিন্তু দেশের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের ঐকমত্য থাকতে হবে। আমরা বিশ্বাস করি, বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে শিক্ষার্থীবান্ধব প্রতিটি মানুষের ঐক্য প্রয়োজন। কারণ দেশটা আমাদের সবার। এই শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের সবার। এই শিক্ষার্থীরাই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবে। তাদের সহযোগিতা করা ও প্রেরণা যোগানো আমাদের সবার সমন্বিত দায়িত্ব।


শিক্ষার্থীদের প্রতি প্রবল দায়বদ্ধতা ও অবারিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে দেশ পরিচালনায় বর্তমান সরকার ব্রত রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিপুলসংখ্যক জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও চাহিদার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাঝে পরীক্ষা দিতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীর কষ্ট হয়েছে, এটি যেমন সত্য; তেমনি বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী নির্বিঘ্নে পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছে, এটিও সত্য। কিছু পরীক্ষা কেন্দ্রে অনেক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে, এটি যেমন সত্য; দেশের বিরাট অংশের শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের বন্যা, জলাবদ্ধতার বা দুর্ভোগে পড়েনি, এটিও সত্য।


এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাই আগামীর দেশ বিনির্মাণের কারিগর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দায়বদ্ধ। তাই সব ধরনের দ্বিধা ও অস্থিরতা পেছনে ফেলে, নিজের মেধা ও যোগ্যতার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে, দেশের সকল পরীক্ষার্থীদের মূল মনোযোগ হওয়া উচিত পড়ালেখায় মনোনিবেশ করে সর্বোচ্চ ফলাফল অর্জন করা। এই পরীক্ষা কেবল একটি সার্টিফিকেট পাওয়ার লড়াই নয়, বরং নিজের লক্ষ্যে পৌঁছার এবং দেশকে এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব, এমন পরিবেশ অটুট রাখা, যেন শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত না হয় বা তাদের আত্মবিশ্বাস কোনভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়। আগামী দিনের পরীক্ষাগুলোতে শিক্ষার্থীরা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে অংশগ্রহণ করবে, নিজেদের সাফল্যে নিশ্চিত করবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, ইনশাআল্লাহ।

এনসিপির নেতারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে না বসিয়ে রাস্তায় ডাকছেন কেন?

 এনসিপির নেতারা এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে না বসিয়ে রাস্তায় ডাকছেন কেন?


এনসিপির নেতারা আবার তাদের পুরনো খেলায় মেতে উঠেছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীকে “স্ট্যান্ডবাজি ও টেন্ডারবাজিতে ওস্তাদ” বলে আক্রমণ করছেন এবং এখনই পদত্যাগের দাবি তুলছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মন্ত্রীকে “ফার্মের মুরগি” বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলছেন। সারজিস আলমও একই সুরে বক্তব্য দিচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এনসিপির এই নেতারা শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসিয়ে পরীক্ষা দিতে উৎসাহ দিচ্ছেন না কেন? বরং তাদের রাস্তায় নামিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন কেন?

শিক্ষার্থীদের বৃষ্টি-বন্যার কষ্ট অস্বীকার করা হচ্ছে না। কিন্তু এই কষ্টকে পুঁজি করে পুরো আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোটা কি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে? হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো নেতা যখন আইনশৃঙ্খলার উন্নতি না হলে “জনগণ আবার রাজপথে নামবে” বলে হুমকি দেন, তখন স্পষ্ট হয় যে এটা শিক্ষার্থীদের দাবি নয় — এটা এনসিপির রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা। তারা চায় ছাত্ররা পড়াশোনা ছেড়ে রাস্তায় নামুক, যাতে দেশে অস্থিরতা তৈরি হয় এবং তারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন।


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী শিক্ষামন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে বলে যখন “ছাত্রসমাজ আল্লাহ ছাড়া কাউকে পরোয়া করে না” বলেন, তখন বোঝা যায় তারা শিক্ষার্থীদের আবেগকে উস্কে দিয়ে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াতে চাইছেন। সারজিস আলমও একইভাবে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে বিষয়টাকে জটিল করে তুলছেন।


এনসিপির এই নেতারা কি আসলেই চান শিক্ষার্থীরা সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা দিয়ে ভবিষ্যৎ গড়ুক? নাকি চান তারা রাস্তায় নেমে দেশকে অস্থিতিশীল করুক? যারা নিজেরা জুলাই আন্দোলনের সময় ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছেন, তারা এখন আবার ছাত্রদের পিঠে চড়ে একই খেলা খেলতে চাইছেন।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি — এনসিপির এই নেতাদের রাজনৈতিক উস্কানিতে কান দেবেন না। আপনাদের দাবি যৌক্তিক হলে সরকার বিবেচনা করবে। কিন্তু কেউ যদি আপনাদেরকে পড়ার টেবিল থেকে রাস্তায় টেনে নিয়ে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়, তাহলে সেটা আপনাদের ভবিষ্যতের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।


এনসিপির নেতারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। এটা আর গোপন নেই। ছাত্ররা সজাগ থাকুন। পড়াশোনায় মনোযোগ দিন, রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হবেন না।

এনসিপির নেতাদের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার নোংরা খেলা

 এনসিপির নেতাদের শিক্ষার্থী আন্দোলন নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার নোংরা খেলা


এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে কষ্টের ইস্যুকে পুঁজি করে এনসিপির নেতারা আবার তাদের পুরনো রাজনৈতিক খেলা শুরু করেছেন। হাসনাত আব্দুল্লাহ “স্টান্টবাজ মন্ত্রী” বলে চিৎকার করছেন, সারজিস আলম মন্ত্রীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলছেন, আর দলের অন্য নেতারা পুরো আন্দোলনটাকে নিজেদের রাজনৈতিক অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছেন। এটা কি শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দার জন্য?


জুলাই আন্দোলনের সময় যেভাবে ছাত্রদের সামনে রেখে ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিলেন, এখন আবার সেই একই ফর্মুলা প্রয়োগ করছেন। বন্যা-জলাবদ্ধতার কষ্টকে সহানুভূতির পরিবর্তে রাজনৈতিক উস্কানিতে পরিণত করা হচ্ছে। হাসনাত আব্দুল্লাহর মতো নেতা যখন শিক্ষামন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে “ফার্মের মুরগি” প্রসঙ্গ তুলে আনেন, তখন বোঝা যায় এটা আর শিক্ষার্থীদের দাবি নয় — এটা এনসিপির রাজনৈতিক এজেন্ডা।


এনসিপির এই নেতারা কি আসলেই চান শিক্ষার্থীরা নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করে পরীক্ষা দিক? নাকি চান রাস্তায় নেমে আরেকটা অস্থিরতা তৈরি হোক, যাতে তারা রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারেন? ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাদেরকে আন্দোলনের ময়দানে ঠেলে দেওয়া কোনো দায়িত্বশীল রাজনীতি নয়। এটা নিছক সুযোগসন্ধানী রাজনীতি।

যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন শিক্ষা খাতে কোনো সংস্কার করেননি, আজ তারাই শিক্ষামন্ত্রীর সংস্কারমূলক পদক্ষেপের (কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁস দমন, মেধাবীদের মূল্যায়ন) বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। কারণ এই সংস্কার তাদের পুরনো সিন্ডিকেটের স্বার্থে আঘাত করছে। তাই তারা শিক্ষার্থীদের কষ্টকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়েছেন।


শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলছি — এনসিপির এই নেতাদের রাজনৈতিক উস্কানিতে কান দেবেন না। আপনাদের দাবি ন্যায্য হলে সরকার অবশ্যই বিবেচনা করবে। কিন্তু কেউ যদি আপনাদের পিঠে চড়ে ক্ষমতার স্বপ্ন দেখে, তাহলে সেটা আপনাদের ভবিষ্যতের সাথে ছিনিমিনি খেলা।


এনসিপির নেতারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটা আর গোপন নেই। শিক্ষার্থীরা সজাগ থাকুন। পড়াশোনা আর ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে মনোযোগ দিন, রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হবেন না।

শিক্ষামন্ত্রীর সাথে এই আচরণ কেন?

 শিক্ষামন্ত্রীর সাথে এই আচরণ কেন?


একজন মন্ত্রী যিনি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে চান, প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ভাঙতে চান, ইংলিশ মিডিয়ামের অস্বচ্ছ বাণিজ্যে লাগাম টানতে চান, দুর্নীতির জাল ছিঁড়তে চান এবং প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চান — তার সাথে হঠাৎ এমন বিরূপ আচরণ কেন?


শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন যখন শিক্ষা খাতের পুরনো ক্ষতগুলোতে হাত দিয়েছেন, তখনই দেখা যাচ্ছে একশ্রেণির মানুষ তাঁকে ‘টার্গেট’ বানিয়ে ফেলেছে। বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে পরীক্ষা চলার ইস্যুকে পুঁজি করে রাস্তায় নামানো, “স্টান্টবাজ”, “ফার্মের মুরগি” বলে ব্যক্তিগত আক্রমণ, পদত্যাগের দাবি — এসব কি আসলেই শিক্ষার্থীদের স্বার্থে, নাকি সিন্ডিকেটের স্বার্থে?


যারা দীর্ঘদিন ধরে কোচিং ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছেন, প্রশ্নফাঁসের মাধ্যমে অসাধু উপায়ে সুবিধা নিয়েছেন, ইংলিশ মিডিয়ামের নামে অতিরিক্ত ফি আদায় করেছেন — তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থে আঘাত লেগেছে। এখন তারা শিক্ষার্থীদের আবেগকে উস্কে দিয়ে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে চাইছে। প্রশ্ন হলো — যিনি শিক্ষাকে বাণিজ্যমুক্ত করতে চান, তাঁর সাথে এই আচরণ কেন?


একজন মন্ত্রী যদি সহজ পথ বেছে নিতেন — কোচিং চলতে দিতেন, প্রশ্নফাঁস উপেক্ষা করতেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন — তাহলে আজ তিনি ‘জনপ্রিয়’ থাকতেন। কিন্তু তিনি সেই সহজ পথে যাননি। তিনি কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন। আর সেটাই তার ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।



শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ স্বাভাবিক। বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে পরীক্ষা দেওয়া কষ্টের। কিন্তু সেই কষ্টকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে মন্ত্রীকে বিপদে ফেলার চেষ্টা কি ন্যায়সঙ্গত? যারা এখন সবচেয়ে বেশি চিৎকার করছেন, তারা কি আগে কখনো শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এতটা সোচ্চার ছিলেন? নাকি এখন শুধু সিন্ডিকেটের স্বার্থ রক্ষায় নেমেছেন?


শিক্ষামন্ত্রীর সাথে এই আচরণ আসলে শিক্ষা খাতের সংস্কারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ। যারা শিক্ষাকে ব্যবসা বানিয়ে রেখেছিল, তারা এখন ভয় পেয়েছে। তাই তাদের আক্রোশ পড়ছে মন্ত্রীর ওপর।


সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বুঝতে হবে — প্রকৃত পরিবর্তন কখনো সহজ হয় না। যিনি সংস্কার করতে চান, তাঁকে সমর্থন করুন। সিন্ডিকেটের পক্ষে না দাঁড়িয়ে শিক্ষার স্বার্থে দাঁড়ান।


শিক্ষামন্ত্রীর সাথে এই আচরণ আসলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সিন্ডিকেটমুক্ত করার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। এটা বুঝে নেওয়ার সময় এসেছে।

কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট দমন — এগুলোই কি শিক্ষামন্ত্রীর ‘অপরাধ’?

 কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট দমন — এগুলোই কি শিক্ষামন্ত্রীর ‘অপরাধ’?


শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন যখন শিক্ষা খাতের গভীর ক্ষতগুলোতে হাত দিচ্ছেন, তখনই তিনি কিছু মহলের চোখে ‘জনকাল’ হয়ে উঠছেন। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ইংলিশ মিডিয়ামের অস্বচ্ছ বাণিজ্য ভাঙার চেষ্টা, দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা এবং প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়নের নীতি — এসবই যেন তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোচিং সেন্টারগুলো টাকার বিনিময়ে গাইড বই আর প্রশ্ন সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট পরীক্ষার আগে রাতারাতি ধনী হয়েছে। ইংলিশ মিডিয়ামের কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আর অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ব্যবসা ফাঁদছে। মন্ত্রী যখন এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন, তখনই এই সিন্ডিকেটগুলো এবং তাদের মদদদাতারা সরব হয়ে উঠল।


এখন এইচএসসি পরীক্ষার সময় বৃষ্টি-বন্যার ইস্যুকে পুঁজি করে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের আগুন জ্বালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — যিনি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে সাধারণ ছাত্রদের সুযোগ করে দিতে চান, প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চান, দুর্নীতির জাল ছিঁড়তে চান — তিনি কি আসলেই ‘জনবিরোধী’? নাকি তিনি তাদের বিরোধী, যারা শিক্ষাকে ব্যবসা বানিয়ে লাভের পাহাড় গড়েছে?


শিক্ষামন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো যদি সফল হয়, তাহলে শিক্ষা খাত থেকে বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট উঠে যাবে। প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পাবে। অভিভাবকদের অর্থের অপচয় কমবে। কিন্তু এতে যাদের ব্যবসা বন্ধ হবে, তারাই এখন সোচ্চার। তারা শিক্ষার্থীদের আবেগকে উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।


একজন মন্ত্রী যদি সত্যিকারের সংস্কার করতে চান, তাহলে তাকে এই ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়তেই হয়। শিক্ষামন্ত্রী যদি কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যেতেন, প্রশ্নফাঁসকে উপেক্ষা করতেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন — তাহলে আজ তিনি ‘জনপ্রিয়’ থাকতেন। কিন্তু তিনি সেই সহজ পথ বেছে নেননি।


সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত এই সত্যটা বুঝে নেওয়া। শিক্ষা খাতের সংস্কার কখনো সহজ হয় না। যারা এখন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার, তারা আসলে শিক্ষার স্বার্থে নয় — নিজেদের স্বার্থে সোচ্চার।


শিক্ষামন্ত্রীকে তার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য সমর্থন দেওয়া উচিত। কারণ সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে এভাবেই — যখন কেউ জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন।


সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই চলুক। প্রকৃত শিক্ষার জয় হোক।

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে: এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক — ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান।

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে: এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক — ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান। 

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু অংশের প্রতিবাদ উঠেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলনের নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত ছাত্রদের শিক্ষাজীবনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছে সরকার।

স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডের রিপোর্ট অনুসারে দেশের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র সচল ছিল। মাত্র কয়েকটি জেলায় (বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগ) স্থানীয়ভাবে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা স্থগিত করলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বিলম্বিত হতো এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত। সরকার এই ঝুঁকি নেয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অনেক জেলায় পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হবে। যারা আবহাওয়ার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি কোনো অবহেলা নয়, বরং দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।

প্রতিবাদকারীদের কিছু দাবি যৌক্তিক হলেও, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অংশ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা খাতে সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন — অবকাঠামো, ডিজিটাল শিক্ষা, বৃত্তি বৃদ্ধি — কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ইস্যুকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে “পদত্যাগ” দাবি করা অযৌক্তিক। তিনি সবসময় ছাত্র-অভিভাবকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে যে, তিন বছর ধরে মনসুনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে কাজ চলছে। আগামী বছরের সময়সূচি আরও বাস্তবসম্মত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীসহ সরকারি সংস্থাগুলো ত্রাণ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান: “পড়াশোনায় মনোযোগ দিন। আপনাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার পাশে আছে।” প্রতিবাদের নামে রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করে, সংলাপের পথে সমস্যা সমাধান করা উচিত।

এই সিদ্ধান্ত ছাত্রদের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শক্তিশালী করছে। রাজনৈতিক অপপ্রচারের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে এই ইতিবাচক যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে এনসিপির নতুন চাল: পড়ালেখায় উৎসাহ না দিয়ে আন্দোলনের উস্কানি

এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে এনসিপির নতুন চাল: পড়ালেখায় উৎসাহ না দিয়ে আন্দোলনের উস্কানি

ছাত্রদের মাঠে নামিয়ে আন্দোলনের স্বপ্ন এখনো চোখে লেগে আছে নাকি? এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা বৃষ্টি-বন্যার মধ্যে কেন্দ্রে যাচ্ছে, কেউ কেউ ভিজে ভিজে পরীক্ষা দিচ্ছে — আর এনসিপির নেতারা হঠাৎ করে তাদের “মহান সমর্থক” বনে গেলেন। পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে বলবেন? না বাবা, সেটা তো তাদের এজেন্ডায় নেই। বরং “স্টান্টবাজ মন্ত্রী”, “ফার্মের মুরগি”, “এক্সপেরিমেন্ট বন্ধ করুন” — এসব উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়ে ছাত্রদের আরও রাস্তায় নামিয়ে আনার নতুন চাল চালছেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ তো সোজা বলেই দিলেন — শিক্ষামন্ত্রী স্টান্টবাজ! সারজিস আলম বললেন, মন্ত্রীকে ছাত্রদের কাছে গিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে। ভালো কথা। কিন্তু একটা কথা বলুন তো নেতারা — আপনারা কি ছাত্রদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে দিতে চান, নাকি রাস্তায় নামিয়ে আরেকটা “জুলাই-টু” বানাতে চান? বন্যা-জলাবদ্ধতার মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া নিয়ে সমালোচনা করা যায়, কিন্তু সেটাকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার হাতিয়ার বানানোটা কি নৈতিকতার মধ্যে পড়ে?

এনসিপির এই নেতারা নিজেরাই তো ছাত্র আন্দোলনের পুরনো ফর্মুলায় বিশ্বাসী। জুলাইয়ের সময় যেভাবে ছাত্রদের সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা তুলেছিলেন, এখন আবার সেই একই খেলা। পড়াশোনা শেষ করে ভবিষ্যৎ গড়ার কথা বলবেন না কেন? বরং “আন্দোলন করো, দাবি আদায় করো” — এই উস্কানি দিয়ে লাখ লাখ পরীক্ষার্থীর ক্যারিয়ার নিয়ে ছিনিমিনি খেলছেন।

সাধারণ ছাত্র-অভিভাবকরা বুঝে গেছেন। দেশ চায় শান্তি, চায় পড়াশোনা, চায় স্থিতিশীলতা। এনসিপির এই “ছাত্রবন্ধু” চেহারার আড়ালে যে রাজনৈতিক এজেন্ডা লুকানো আছে, সেটা আর গোপন নেই। পড়ালেখায় উৎসাহ দিন, আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢালবেন না। ছাত্ররা পরীক্ষা দিয়ে রেজাল্ট করুক, দেশ এগোক। এভাবে “জুলাই” আর ফিরবে না — এটা মাথায় গেঁথে নিন।

ছাত্রদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি বন্ধ করুন।

কথায় কথায় আন্দোলনের চিন্তা বাদ দিন

 কথায় কথায় আন্দোলনের চিন্তা বাদ দিন

আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় রিল, কনটেন্ট আর টিকটক বানানোর জন্য শিক্ষার্থীদের অসীম ধৈর্য ও পরিশ্রম দেখা যায়। নাচ না জানলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কসরত করে বিভিন্ন মুদ্রা অনুকরণ করতে হয়। লিপ-সিঙ্ক হুবুহু মেলাতে বারবার রিটেক দিতেও তাদের কোনো অসুবিধা হয় না। কিন্তু একই শিক্ষার্থীরা যখন পরীক্ষায় কঠিন প্রশ্ন আসে কিংবা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মুখোমুখি হয়, তখনই তাদের আসল সমস্যা শুরু হয়। কথায় কথায় আন্দোলনের চিন্তা মাথায় আসে।

বিশ্ব এখন এই বাস্তবতা বুঝতে শুরু করেছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল ইতিমধ্যে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। আগামী বছর থেকে যুক্তরাজ্য ১৬ বছরের নিচের সব শিশু-কিশোরের জন্য টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও ইনস্টাগ্রামসহ প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে। ফ্রান্স, স্পেন, ডেনমার্কসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও অনেক দেশ এই পথে হাঁটার বিষয়ে গুরুতর চিন্তাভাবনা করছে।

বাংলাদেশেও এখন সময় এসেছে এই বাস্তবতা মেনে নেওয়ার। আমাদের শিশু-কিশোরদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত রাখতে এবং তাদের শিক্ষা ও মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

অযথা আন্দোলন আর অস্থিরতার পরিবর্তে মনোযোগ দিতে হবে পড়াশোনা, দক্ষতা ও আসল প্রতিযোগিতায়। সোশ্যাল মিডিয়ার আসক্তি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীরা যদি নিজেদের যোগ্য করে তোলে, তবেই তাদের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হবে।

আশা করি, বর্তমান সরকার শিশু-কিশোরদের সুরক্ষা ও শিক্ষার স্বার্থে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি দ্রুত ও গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে।

সময় এসেছে আসল সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়ার।

একটা সময় ছিল, যখন পরীক্ষা না দিয়েও পাশ করা যেত

 একটা সময় ছিল, যখন পরীক্ষা না দিয়েও পাশ করা যেত

একটা সময় ছিল, যখন শিক্ষা ব্যবস্থা ছিল পুরোপুরি দুর্নীতিগ্রস্ত ও অযোগ্যতার আশ্রয়স্থল। পরীক্ষা না দিয়েই পাশের সংস্কৃতি চালু ছিল। ‘অটোপাশ’ ছিল স্বাভাবিক ঘটনা। পুরো পরীক্ষা না দিয়েও ছাত্র-ছাত্রীরা পাস করে যেত। পরীক্ষার আগের রাতে প্রশ্ন ফাঁস হতো, প্রশ্ন কেনাবেচার বাজার বসতো। শিক্ষকরা যদি কোনো ছাত্রকে কম নম্বর দিতেন, তাহলে তাদের চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়তো। রাজনৈতিক প্রভাব, টাকার খেলা আর ক্ষমতার দাপটে শিক্ষা ব্যবস্থা হয়ে উঠেছিল একটা বড় ধরনের প্রহসন। মেধা নয়, সুপারিশ আর কোটা আর দুর্নীতির জোরেই চলতো সবকিছু।

কিন্তু এটা সেই সময় নয়। এটা আর সেই অন্ধকার যুগ নয়।

২০২৪ সালের পর, ২০২৬ এ বাংলাদেশে যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ফসল। এটি কোটার নয়, মেধার সরকার, ভোটের সরকার। এটা দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সরকার। এখন আর প্রশ্ন ফাঁসের রাত জাগা নেই, অটোপাশের স্বপ্ন দেখারও সুযোগ নেই। শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। পরীক্ষায় নকল, প্রশ্নপত্র ফাঁস বা অন্যায় সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে এখন কঠোর শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা: আগের মতো পরীক্ষা না দিয়ে পাশের চিন্তা বাদ দিন। এখন মেধা ও পরিশ্রমের মূল্যায়ন হবে। যারা পড়াশোনা করে, যারা সততার সঙ্গে পরীক্ষা দেয়, তারাই সফল হবে। যোগ্যতাই এখন একমাত্র পথ। কোটা-সুবিধা নয়, ন্যায্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সবাইকে এগোতে হবে।

এই পরিবর্তন শুধু শিক্ষা খাতে নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরে সততা ও মেধার চর্চা প্রতিষ্ঠা করবে। আন্দোলনের সরকারের কাছে এটাই প্রত্যাশা। ছাত্র সমাজকেও এই নতুন বাস্তবতা মেনে নিয়ে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। পরিশ্রম করুন, স্বপ্ন দেখুন—কিন্তু সেই স্বপ্ন অসৎ পথে পূরণ করার চেষ্টা করবেন না।

এখন সময় বদলেছে। শিক্ষা ব্যবস্থাও বদলাবে। মেধাই হবে একমাত্র মানদণ্ড।

এই জেনারেশন সব করে, পড়াশোনা ছাড়া

 এই জেনারেশন সব করে, পড়াশোনা ছাড়া

সম্প্রতি ৪৭তম বিসিএস-এ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে বহু ক্যাডার পদ ফাঁকা রয়েছে। দেশে চাকরির জন্য লাখ লাখ যুবক হাহাকার করছে, অথচ মেধাবী প্রার্থী না পেয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি পড়ে থাকছে। এই চিত্রটা লজ্জাজনক।

২০২৪-এর কোটা বিরোধী আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন। মেধার ভিত্তিতে চাকরি চেয়ে এত রক্ত ঝরানোর পরও আজ বিসিএসে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠতেই পারে — এত আত্মত্যাগ কি একেবারে বৃথা গেল?

শাহবাগের রাস্তায় দাঁড়িয়ে, রাস্তা অবরোধ করে, মিছিল করে, চাঁদাবাজি করে, কিশোর কালচার চালিয়ে দেশ বদলানো যায় না। একজন ছাত্রের মূল কাজ একটাই — পড়াশোনা করা। পরীক্ষাকে পরীক্ষা মনে করে, শিক্ষামন্ত্রীর ভুল খুঁজে না বের করে, প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসতে হবে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে এটাই আশা করে।

কিন্তু বাস্তবতা কী? আজকের বড় অংশের জেনারেশন রিলস বানায়, ফেসবুকে লাইভ দেয়, আন্দোলন করে, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে — কিন্তু বইয়ের পাতা ওলটাতে চায় না। কোচিংয়ের নোট মুখস্থ করে, শর্টকাট খোঁজে, আর ফলাফল শূন্য। তারপর দোষ দেয় সিস্টেমকে, সরকারকে, সমাজকে।

সত্যি কথাটা কড়া করে বলি: তোমরা রাস্তায় নামতে পারো, কিন্তু পড়ার টেবিলে বসতে পারো না। আন্দোলন করতে পারো, কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো না। এই মানসিকতা নিয়ে কোনো জাতি এগোয় না। ১৪০০ শহীদের রক্ত যদি বৃথা না যেতে চাও, তাহলে এখনই পরিবর্তন করো।

ফোন বন্ধ করো। রিলস বন্ধ করো। পড়ার টেবিলে বসো। ৪৭তম বিসিএস-এর ফাঁকা পদগুলো তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে মেধাবী প্রশাসক, দক্ষ অফিসার, সৎ কর্মকর্তা চায় — রাস্তার আন্দোলনকারী নয়।

যারা সত্যিকারের পরিবর্তন চাও, তারা রাস্তায় নয়, লাইব্রেরিতে ও পড়ার টেবিলে থাকো। নইলে আন্দোলনের রক্ত, জাতির আশা — সবই বৃথা যাবে।


বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি: অর্থনৈতিক সুযোগ ও কৌশলগত অগ্রগতি

 বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি: অর্থনৈতিক সুযোগ ও কৌশলগত অগ্রগতি

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এই চুক্তি রপ্তানি বাজার সুরক্ষা ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। এটি কৌশলগতভাবে ব্যবহার করে দেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের পথ প্রশস্ত করবে।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি গন্তব্য। এখানে মোট রপ্তানির প্রায় ১৮ শতাংশ যায়, যার মধ্যে তৈরি পোশাক খাতের বড় অংশ রয়েছে। চুক্তির ফলে শুল্ক অনিশ্চয়তা কমে লাখো শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হয়েছে। এই সুবিধা না থাকলে উচ্চ শুল্কের হুমকিতে অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগতে পারত। চুক্তিটি অনিশ্চয়তা কমিয়ে বাণিজ্যের স্থিতিশীলতা এনেছে।

চুক্তির বিশেষ ব্যবস্থায় মার্কিন তুলা ব্যবহার করে পোশাক রপ্তানিতে শুল্ক সুবিধা পাওয়া যাবে। সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়ন, ফ্রি ট্রেড জোন ও কাস্টমস আধুনিকীকরণের মাধ্যমে এ সুবিধা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো সম্ভব। এতে শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, সামগ্রিক রপ্তানি প্রতিযোগিতা বাড়বে। চুক্তি শ্রম অধিকার, ডিজিটাল বাণিজ্য ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিনিয়োগ পরিবেশকে আকর্ষণীয় করে তুলছে।

চুক্তিতে জ্বালানি, অবকাঠামো, টেলিযোগাযোগ ও লজিস্টিকস খাতে বিনিয়োগ সহজ হয়েছে। এটি প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে এবং দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। শ্রমমান উন্নয়ন, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও নিয়ন্ত্রক স্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলো দীর্ঘদিনের অসমাপ্ত সংস্কারকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছে। এসব সংস্কার বাংলাদেশকে উচ্চ মূল্যের বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে অন্তর্ভুক্ত করবে।

ক্রয়-প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চুক্তির সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জগুলো কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে মোকাবিলা করা সম্ভব। এই চুক্তি ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার মাঝে দেশের স্বার্থ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক রূপান্তরের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

সার্বিকভাবে, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক অবদান রাখবে। সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়িয়ে বাংলাদেশকে উন্নত অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেবে। চুক্তির সুযোগগুলোকে জাতীয় স্বার্থে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর: অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য

 চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডর: অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও ভূরাজনৈতিক তাৎপর্য।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অবকাঠামো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনার পাশাপাশি চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডরের প্রস্তাব সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই করিডর বাস্তবায়িত হলে শুধু তিন দেশের মধ্যে যোগাযোগ বাড়বে না, বরং বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সমীকরণেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে।

এই ধারণা নতুন নয়। ১৯৯০-এর দশকে বিসিআইএম (বাংলাদেশ-চীন-ভারত-মিয়ানমার) করিডরের প্রস্তাব উঠলেও রাজনৈতিক কারণে তা স্থবির হয়ে পড়ে। বর্তমান প্রস্তাবটি তারই পরিবর্তিত রূপ, যেখানে ভারত নেই। সম্ভাব্য রুট বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে মিয়ানমারের রাখাইন ও মান্দালয় হয়ে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিং পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। ঐতিহাসিক বাণিজ্যপথকে আধুনিক রূপে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ আঞ্চলিক সংযোগকে নতুন মাত্রা দেবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

বাংলাদেশের জন্য অর্থনৈতিক লাভের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্য। মোংলা, চট্টগ্রাম, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরগুলো আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ট্রানজিট দেশের চেয়ে উৎপাদন ও সরবরাহশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান, রপ্তানি বৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগের নতুন দুয়ার খুলবে। এছাড়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগ বাড়িয়ে ‘পূর্বমুখী নীতি’ বাস্তবায়নে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

তবে ভূরাজনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে হরমুজ প্রণালিসহ বিভিন্ন সংকটের কারণে বিকল্প পথের চাহিদা বেড়েছে। চীনের জন্য এই করিডর বঙ্গোপসাগরে অর্থনৈতিক উপস্থিতি জোরদার করবে। ভারতের কৌশলগত বিশ্লেষকরা এতে বঙ্গোপসাগরে চীনের প্রভাব বৃদ্ধির আশঙ্কা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, যদিও চীন মিয়ানমারের কিয়াউকফিউ বন্দরসহ অন্যান্য প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে অঞ্চলে উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, তবু এই করিডর আঞ্চলিক বাণিজ্যকে আরও কার্যকর করার অর্থনৈতিক উদ্যোগ হিসেবেও দেখা যায়। ভারতও ‘অ্যাক্ট ইস্ট’ নীতির আওতায় একই ধরনের সংযোগ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যা প্রতিযোগিতার পাশাপাশি সহযোগিতার সম্ভাবনাও তুলে ধরে।

নিরাপত্তা ঝুঁকি উপেক্ষা করা যায় না। করিডরের সম্ভাব্য অংশ রাখাইন অঞ্চলের মধ্য দিয়ে যেতে পারে, যেখানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও রোহিঙ্গা সংকট বিদ্যমান। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হবে। চীনের প্রভাবশালী ভূমিকা এখানে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ স্থিতিশীলতায় ইতিবাচক অবদান রাখতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

অর্থনৈতিক ঝুঁকিও বিবেচনাযোগ্য। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের কিছু প্রকল্পে ঋণের বোঝা, স্বচ্ছতার অভাব ও পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাই বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা, জাতীয় স্বার্থ ও নিরাপত্তা সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বজায় রেখে চীন, ভারত, জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়াই বাংলাদেশের জন্য সঠিক পথ। এই করিডর যথাযথভাবে ব্যবহার করতে পারলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের নতুন দিগন্ত খুলবে, কিন্তু সতর্কতা অবলম্বন ছাড়া ঝুঁকিও বাড়বে।

পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’র বার্তা: তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য।

 পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’র বার্তা: তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য।  

ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হলেও, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ভারত এ সফরের দিকে গভীর নজর রেখেছিল।


বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সফর বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক ছিল, যদিও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তা শীতল ছিল। ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়ে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের মতো।


তারেক রহমানের সফরকে অনেকে তাঁর পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ হিসেবে দেখছেন। ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক-কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। বর্তমান সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে মোংলা সমুদ্রবন্দরের সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর অন্যতম।


এছাড়াও মোংলা বন্দরকে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের উপযোগী করতে চীনের সহায়তায় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করলেও চীনা অর্থছাড়ে বিলম্ব হয়। সফরে এতে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাস্তবায়িত হলে বন্দরটি বার্ষিক ৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে শুধু বাল্ক কার্গোর ওপর নির্ভরশীল মোংলা ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। চীনা ইপিজেডের সঙ্গে যুক্ত হলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।


অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ীসহ বন্দরগুলোকে আঞ্চলিক হাবে রূপান্তর করবে এবং আসিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে। চীন এতে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা দিয়েছে। আফগান যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও চীনের উত্থানের মধ্যে ছোট দেশগুলোর জন্য সুষম পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য। সরকারের লক্ষ্য কোনো দেশের বিরোধিতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।


তারেক রহমানের চীন সফর শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিন্দুত্ববাদী রণধ্বনি: মোদির সাম্প্রদায়িকীকরণের নতুন অধ্যায়

 ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিন্দুত্ববাদী রণধ্বনি: মোদির সাম্প্রদায়িকীকরণের নতুন অধ্যায়


ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের ঐতিহ্যবাহী রণধ্বনি (Battle Cry) পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী নীতি সেনাবাহিনীকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিচ্ছে। অধিকাংশ রেজিমেন্টের যুদ্ধস্লোগান সরাসরি হিন্দু দেব-দেবী, অবতার ও পুরাণকাহিনির সঙ্গে যুক্ত। এটি ভারতের সেক্যুলার সামরিক ঐতিহ্য থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।


শিখ রেজিমেন্টের “জো বোলে সো নিহাল, সত শ্রী আকাল”, গোর্খা রাইফেলসের “জয় মহাকালী, আয়ো গোর্খালী”, রাজপুত রেজিমেন্টের “বোল বজরং বলী কী জয়”, রাজপুতানা রাইফেলসের “রাজা রামচন্দ্র কী জয়”, গাড়ওয়াল ও কুমায়ুন রেজিমেন্টের কালী-বদ্রীনাথ-বজরং বলীর জয়ধ্বনি, ডোগরা ও জম্মু-কাশ্মীর রাইফেলসের দুর্গা মাতার নাম, মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির “হর হর মহাদেব”—এসব স্লোগান ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় বহন করে। এমনকি মিশ্র রেজিমেন্টেও হিন্দু দেবীর নাম প্রাধান্য পায়।


মোদি সরকারের আমলে এই রণধ্বনিগুলোকে আরও জোরালোভাবে প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হচ্ছে। শহর-স্থাপনার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর এই ধর্মীয় রূপান্তর ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামরিক ঐতিহ্যকে সংকুচিত করছে। সমালোচকরা একে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের সামরিকীকরণ বলে অভিহিত করছেন, যা সংখ্যালঘু সৈনিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে।


অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি নতুন ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোকে চার খলিফার নামে নামকরণ করায় কিছু মহল ‘ইসলামীকরণ’ বলে সমালোচনা করছে। এখানে দ্বৈতমান স্পষ্ট। ভারতে হিন্দু দেব-দেবীর নামে রণধ্বনি ও নামকরণকে ‘ঐতিহ্য’ বলা হলেও, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলনকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, মোদির হিন্দুত্ব নীতি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের উচিত এই দ্বৈতমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

© all rights reserved
made with by templateszoo