কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট দমন — এগুলোই কি শিক্ষামন্ত্রীর ‘অপরাধ’?

0

 কোচিং বাণিজ্য বন্ধ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেট দমন — এগুলোই কি শিক্ষামন্ত্রীর ‘অপরাধ’?


শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলন যখন শিক্ষা খাতের গভীর ক্ষতগুলোতে হাত দিচ্ছেন, তখনই তিনি কিছু মহলের চোখে ‘জনকাল’ হয়ে উঠছেন। কোচিং বাণিজ্য বন্ধের উদ্যোগ, প্রশ্নফাঁস সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান, ইংলিশ মিডিয়ামের অস্বচ্ছ বাণিজ্য ভাঙার চেষ্টা, দুর্নীতির জাল ছিন্ন করা এবং প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়নের নীতি — এসবই যেন তার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কোচিং সেন্টারগুলো টাকার বিনিময়ে গাইড বই আর প্রশ্ন সরবরাহ করে লাখ লাখ টাকা কামিয়েছে। প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট পরীক্ষার আগে রাতারাতি ধনী হয়েছে। ইংলিশ মিডিয়ামের কিছু প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত ফি আর অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ব্যবসা ফাঁদছে। মন্ত্রী যখন এসবের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিলেন, তখনই এই সিন্ডিকেটগুলো এবং তাদের মদদদাতারা সরব হয়ে উঠল।


এখন এইচএসসি পরীক্ষার সময় বৃষ্টি-বন্যার ইস্যুকে পুঁজি করে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আন্দোলনের আগুন জ্বালানো হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো — যিনি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করে সাধারণ ছাত্রদের সুযোগ করে দিতে চান, প্রশ্নফাঁসের সিন্ডিকেট ভেঙে প্রকৃত মেধাবীদের মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে চান, দুর্নীতির জাল ছিঁড়তে চান — তিনি কি আসলেই ‘জনবিরোধী’? নাকি তিনি তাদের বিরোধী, যারা শিক্ষাকে ব্যবসা বানিয়ে লাভের পাহাড় গড়েছে?


শিক্ষামন্ত্রীর এই পদক্ষেপগুলো যদি সফল হয়, তাহলে শিক্ষা খাত থেকে বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট উঠে যাবে। প্রকৃত মেধাবীরা সুযোগ পাবে। অভিভাবকদের অর্থের অপচয় কমবে। কিন্তু এতে যাদের ব্যবসা বন্ধ হবে, তারাই এখন সোচ্চার। তারা শিক্ষার্থীদের আবেগকে উস্কে দিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।


একজন মন্ত্রী যদি সত্যিকারের সংস্কার করতে চান, তাহলে তাকে এই ধরনের বিরোধিতার মুখে পড়তেই হয়। শিক্ষামন্ত্রী যদি কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যেতেন, প্রশ্নফাঁসকে উপেক্ষা করতেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দিতেন — তাহলে আজ তিনি ‘জনপ্রিয়’ থাকতেন। কিন্তু তিনি সেই সহজ পথ বেছে নেননি।


সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উচিত এই সত্যটা বুঝে নেওয়া। শিক্ষা খাতের সংস্কার কখনো সহজ হয় না। যারা এখন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সোচ্চার, তারা আসলে শিক্ষার স্বার্থে নয় — নিজেদের স্বার্থে সোচ্চার।


শিক্ষামন্ত্রীকে তার এই সাহসী পদক্ষেপের জন্য সমর্থন দেওয়া উচিত। কারণ সত্যিকারের পরিবর্তন আসবে এভাবেই — যখন কেউ জনপ্রিয়তার চেয়ে সঠিক কাজকে অগ্রাধিকার দেবেন।


সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে লড়াই চলুক। প্রকৃত শিক্ষার জয় হোক।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo