Showing posts with label জিয়া পরিবার. Show all posts
Showing posts with label জিয়া পরিবার. Show all posts

গ্রেপ্তারকৃত মেজর মোজাফফর এর কাছেই রয়েছে জিয়া হত্যার রহস্য!!!

গ্রেপ্তারকৃত মেজর মোজাফফর এর কাছেই রয়েছে জিয়া হত্যার রহস্য!!!

“৩০ মে, ১৯৮১।

ভোরের আলো ফোটার আগের সেই অন্ধকার মুহূর্ত। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে মধ্যরাতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ঘুম আর ভাঙেনি।

ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে গুলির শব্দ। সেনাবাহিনীর বিপথগামী একটি দল তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি চিরতরে চলে যান।”

“সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়— এটা ছিল ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামের একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের কাজ।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়… কেন হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিয়াউর রহমানের লাশ গোপনে রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হলো? কেন দ্রুত সামরিক আদালতে বিচার শেষ করে সাজা কার্যকর করা হলো? আর কেনইবা মূল অভিযুক্ত মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন?”

“আজ, ৪৫ বছর পর। পলাতক মেজর মোজাফফফরের গ্রেপ্তার নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো জাতিকে।

দীর্ঘদিন ভারতে ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গুঞ্জন আছে— ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে— সেই ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসলে কী ঘটেছিল? মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল? দেশি-বিদেশি কোন শক্তি এর পেছনে ছিল? আর কেন এত বছর ধরে সত্য চাপা পড়ে ছিল?”

“জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সফল রাষ্ট্রপতির মৃত্যু নয়-

এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়।

এখন সময় এসেছে সত্য উদঘাটনের। সবার দাবি- একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থা থাকবে।

জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধানতম এই খুনি মেজর মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর কাছ থেকে যে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, তা পুরো জাতির জন্য অমূল্য।

“ইতিহাসের সত্য উদঘাটন প্রতিহিংসার জন্য নয় — ন্যায়বিচার, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক ইতিহাস রচনার জন্য।

জিয়াউর রহমানের হত্যার রহস্য উন্মোচন এখন আর শুধু দাবি নয় — এটা সময়ের দাবি।”

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচনের দাবি: মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে নতুন করে আলোড়ন

 জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচনের দাবি: মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে নতুন করে আলোড়ন

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ভোরের সেই নির্মম ঘটনার ৪৫ বছর পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড। সম্প্রতি পলাতক মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সত্যিই কী ঘটেছিল সেই ভোরবেলায়? কারা ছিল এর পেছনে? আর কেন এত বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটিত হয়নি?


৩০ মে ১৯৮১ সালের ভোরবেলা। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আগের দিন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যরাতে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁর ওপর গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি নিহত হন।


ঘটনার পর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামধারী কিছু সেনা সদস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অথচ হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিয়াউর রহমানের লাশ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত গতিতে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার শেষ হয় এবং সাজা কার্যকর করা হয়। কিন্তু অভ্যুত্থানে জড়িত মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।


৪৫ বছর পর মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার এই পুরনো ঘটনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—সেই ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসলে কী ঘটেছিল? মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল হত্যার আগে ও পরে? দেশি-বিদেশি কোন কোন পক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল? আর এত বছর তিনি কোথায়, কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন?


বিশেষ করে মেজর মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আজ পর্যন্ত বেসামরিক আদালতে কোনো হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। সামরিক আদালতের দ্রুত বিচারের কারণে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র কখনোই জাতির সামনে উঠে আসেনি। এখন মেজর মোজাফফরের আটকের মাধ্যমে সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তারিত তথ্যনুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অমীমাংসিত অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে।


রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধান করা। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।


এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে এই কমিশনে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো—তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেজর মোজাফফরের কোনো বিচার শুরু না করা। কারণ তাঁর বক্তব্য ও তথ্য থেকে যে রহস্য উন্মোচিত হতে পারে, তা জাতির জন্য অমূল্য হতে পারে।


জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়ের সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবি।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর সত্য উদঘাটনের সোনালী সুযোগ — জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সময় এসেছে

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর সত্য উদঘাটনের সোনালী সুযোগ — জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সময় এসেছে

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেসময় সরকারি বিবৃতিতে ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামে দায় চাপানো হয় এবং লাশ কয়েক ঘণ্টার মধ্যে গোপনে রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হয়। পরে সামরিক আদালতে তড়িঘড়ি বিচার হলেও মূল আসামিদের মধ্যে মেজর মোজাফফর পালিয়ে যান।

এখন ৪৫ বছর পর তাঁর গ্রেপ্তারের ফলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে — সেদিন আসলে কী ঘটেছিল? মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল? দেশি-বিদেশি কোন পক্ষ জড়িত ছিল? তিনি ভারতে ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে কাদের সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন?

এই হত্যাকাণ্ডের সত্য উদঘাটন জাতির দায়িত্ব। মেজর মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে নেপথ্যের কুশীলব ও বিদেশি যোগসাজশ উন্মোচিত হতে পারে। এজন্য অতিসত্বর জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করা উচিত। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতির নেতৃত্বে সেনা, গোয়েন্দা ও প্রশাসনের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিশন গঠন করা যেতে পারে। কমিশনের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেজর মোজাফফরের কোনো তড়িঘড়ি বিচার না করাই শ্রেয়।

সত্য উদঘাটন প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার ও সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য জরুরি। জাতীয় কমিশন গঠন করে এই অমীমাংসিত রহস্যের সমাধান করার সময় এসেছে। জনগণ সত্য জানতে চায়।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর সত্য উদঘাটনের সোনালী সুযোগ — জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সময় এসেছে

 জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড: ৪৫ বছর পর সত্য উদঘাটনের সোনালী সুযোগ — জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের সময় এসেছে

বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অন্ধকার অধ্যায় আবার আলোর মুখ দেখতে চলেছে। ১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরবেলায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যে নির্মম ঘটনা ঘটেছিল, তার অন্যতম আসামি মেজর মোজাফফর অবশেষে ৪৫ বছর পর গ্রেপ্তার হয়েছেন। এই গ্রেপ্তার শুধু একজন পলাতক অভিযুক্তের ধরা পড়া নয়, বরং স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উন্মোচনের এক বিরল সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

সেদিনের ঘটনা সংক্ষেপে এরকম: আগের দিন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যরাতে ঘুমাতে যান রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ভোরবেলায় সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁর ওপর গুলি চালায়। তিনি নিহত হন। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামধারী কিছু সেনা সদস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর লাশ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দ্রুত সামরিক আদালতে বিচার হয় এবং সাজা কার্যকর করা হয়। তবে মূল অভিযুক্তদের মধ্যে মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

এই হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আজ পর্যন্ত বেসামরিক আদালতে কোনো হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। সামরিক আদালতের তড়িঘড়ি বিচারের কারণে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র, দেশি-বিদেশি জড়িত পক্ষ এবং পুরো ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হয়নি। এখন মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে সেই সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিলেন বলে জানা যায়। সেখানে তিনি ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এই তথ্য যদি সত্য হয়, তাহলে প্রশ্ন উঠবেই — জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির হাত ছিল কি না?

বর্তমানে উঠে আসা প্রশ্নগুলো খুবই গুরুতর: চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সেদিন প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল? হত্যার আগে ও পরে মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল? প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত দেশি-বিদেশী পক্ষ কারা? এবং এত বছর তিনি কোথায়, কাদের সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন?

শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীনতার পর সাধারণ জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া এক অসাধারণ জনপ্রিয় নেতা। তাঁর হত্যাকাণ্ড শুধু একজন ব্যক্তির মৃত্যু নয়, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি বড় ট্র্যাজেডি। এই ঘটনার সঠিক তদন্ত না হওয়ায় নানা বিতর্ক ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে। মেজর মোজাফফরের আটক এখন সেই অমীমাংসিত রহস্য উদঘাটনের স্বর্ণসুযোগ সৃষ্টি করেছে। তাঁর বক্তব্য ও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জাতির সামনে প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করা সম্ভব।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধান করা। এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নির্ভুল ইতিহাস সংরক্ষণের বিষয়। স্বাধীনতার পর সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রনায়কের হত্যাকাণ্ডের সত্য উদঘাটন বর্তমান সরকারের জন্য অত্যাবশ্যকীয়।

অতিসত্বর জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করা হোক। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে এর প্রধান করা যেতে পারে। কমিশনে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত। কমিশনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত মেজর মোজাফফরের কোনো তড়িঘড়ি বিচার না করাই বাঞ্ছনীয়। তাঁকে বাঁচিয়ে রেখে পুরো সত্য বের করে আনতে হবে।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের রহস্য ভেদ করা শুধু একটি মামলার সমাধান নয়, এটি জাতির আত্মশুদ্ধি ও ইতিহাসের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্ন। এই সুযোগ হাতছাড়া করলে ইতিহাস কখনো ক্ষমা করবে না। জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে সত্যের মুখোমুখি হওয়ার সময় এসেছে। জনগণ সত্য জানতে চায়।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচনের দাবি: মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে নতুন করে আলোড়ন

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের ৪৫ বছরের পুরনো রহস্য উন্মোচনের দাবি: মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারে নতুন করে আলোড়ন


১৭ জুলাই ২০২৬।

চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের ভোরের সেই নির্মম ঘটনার ৪৫ বছর পর আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড। সম্প্রতি পলাতক মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—সত্যিই কী ঘটেছিল সেই ভোরবেলায়? কারা ছিল এর পেছনে? আর কেন এত বছর ধরে এই হত্যাকাণ্ডের পূর্ণাঙ্গ সত্য উদঘাটিত হয়নি?

৩০ মে ১৯৮১ সালের ভোরবেলা। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। আগের দিন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে মধ্যরাতে তিনি বিশ্রাম নিয়েছিলেন। কিন্তু ভোরের আলো ফোটার আগেই সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁর ওপর গুলি চালায়। মুহূর্তের মধ্যে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি নিহত হন।

ঘটনার পর সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামধারী কিছু সেনা সদস্য এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। অথচ হত্যার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিয়াউর রহমানের লাশ গোপনে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হয়। এরপর দ্রুত গতিতে কয়েকজন সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সামরিক আদালতে বিচার শেষ হয় এবং সাজা কার্যকর করা হয়। কিন্তু অভ্যুত্থানে জড়িত মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

৪৫ বছর পর মেজর মোজাফফরের গ্রেপ্তার এই পুরনো ঘটনাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন প্রশ্ন উঠছে—সেই ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসলে কী ঘটেছিল? মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল হত্যার আগে ও পরে? দেশি-বিদেশি কোন কোন পক্ষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল? আর এত বছর তিনি কোথায়, কার সহায়তায় আত্মগোপনে ছিলেন?

বিশেষ করে মেজর মোজাফফর দীর্ঘদিন ভারতে পলাতক ছিলেন বলে জানা গেছে। সেখানে তিনি ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন এবং ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে ছিলেন বলেও গুঞ্জন রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পেছনে কোনো বিদেশি শক্তির ভূমিকা ছিল কি না, সেটিও এখন তদন্তের আওতায় আসা জরুরি হয়ে পড়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে আজ পর্যন্ত বেসামরিক আদালতে কোনো হত্যা মামলা দায়ের করা হয়নি। সামরিক আদালতের দ্রুত বিচারের কারণে ঘটনার নেপথ্যের প্রকৃত চিত্র কখনোই জাতির সামনে উঠে আসেনি। এখন মেজর মোজাফফরের আটকের মাধ্যমে সেই সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিস্তারিত তথ্যনুসন্ধানের মাধ্যমে বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অমীমাংসিত অধ্যায় উন্মোচিত হতে পারে।

রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো সত্য অনুসন্ধান করা। ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিহিংসার জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য। জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত সত্য উদঘাটন বর্তমান সরকারের জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি উঠেছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের একজন বিচারপতিকে প্রধান করে এই কমিশনে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হলো—তদন্ত কমিশনের কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত মেজর মোজাফফরের কোনো বিচার শুরু না করা। কারণ তাঁর বক্তব্য ও তথ্য থেকে যে রহস্য উন্মোচিত হতে পারে, তা জাতির জন্য অমূল্য হতে পারে।


জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তির মৃত্যু নয়, এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই অধ্যায়ের সত্য উদঘাটন এখন সময়ের দাবি।

© all rights reserved
made with by templateszoo