ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমকামী বিয়ে: হিন্দু কর্তৃপক্ষের দায় ও ভারতীয় মিডিয়ার ফলাও প্রচার, পেছনে কি অন্য উদ্দেশ্য?
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কামাল হোসেন ওরফে তাসনুভা আনান শিশিরের তথাকথিত বিয়ের ঘটনা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জন্মগত পুরুষকে নারী সাজিয়ে মন্দিরে সনাতন রীতিতে বিয়ের আয়োজন এবং সেটিকে প্রকাশ্যে প্রচার—এটি আইন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কেননা বাংলাদেশে ইসলামসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলো সমকামিতাকে বৈধতা দেয় নি। তাই কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিতর্কিত কর্মসূচি আয়োজন ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এক. হিন্দু মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়। দুই. ভারতীয় কিছু মিডিয়ার অতিরিক্ত এবং ফলাও করে প্রচার।
প্রথমে আসে মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়। ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির। এখানে বিয়ে সম্পন্ন করতে হলে পরিচয় যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্ব থাকা উচিত। মন্দির কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করেছে, তারা প্রতারিত হয়েছেন। ডকুমেন্ট জালিয়াতি করা হয়েছে এবং সত্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হলো—জাতীয় মন্দিরে এত বড় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার আগে কি কোনো যাচাই হয়নি? যদি সত্যিই প্রতারণা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় মন্দির কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আর যদি জেনে শুনে করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আইন ও সামাজিক সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করলে তার জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।
এবার ভারতীয় মিডিয়ার প্রচারের প্রসঙ্গ। ঘটনাটি প্রকাশের পর ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম এটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ফলাও করে প্রচার করেছে। তারা এটিকে ‘বাংলাদেশের প্রথম সমকামী বিয়ে’ বলে উপস্থাপন করেছে এবং একধরনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। অথচ বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতি এ ধরনের ঘটনাকে গ্রহণ করে না। আইনও এটিকে সমর্থন করে না। এ অবস্থায় ভারতীয় মিডিয়ার এতটা ফলাও প্রচার স্বাভাবিক মনে হয় না।
প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—এর পেছনে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে? এটি কি শুধু সংবাদ, নাকি উস্কানি? নাকি ইচ্ছে করেই মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানার একটা চেষ্টা? বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এ ধরনের ঘটনাকে বড় করে তোলা হচ্ছে কি না—এটি খতিয়ে দেখার বিষয়। একদিকে সংখ্যালঘু ইস্যুতে বাংলাদেশকে নিয়মিত চাপের মুখে রাখা, অন্যদিকে এমন ঘটনাকে প্রগতির উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা—এই দ্বৈত আচরণ সন্দেহ জাগায়।
মুসলিমপ্রধান দেশে এ ধরনের ঘটনা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না। মন্দির কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণ করতে হবে এবং ভারতীয় মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রচারের পেছনের উদ্দেশ্যও খতিয়ে দেখা উচিত। কোনো বাহ্যিক মহল যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment