ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আড়ালে কি অন্য কিছু?
দান, এনজিও ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন
ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত ভক্ত এখানে আসেন, দান করেন, প্রার্থনা করেন। কিন্তু মন্দিরের দেয়ালের আড়ালে যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে দান-অনুদান, এনজিও সংযোগ এবং হিসাব রক্ষার প্রশ্নগুলো নিয়ে বিতর্ক কখনো থেমে থাকেনি।
২০২৩ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ সরাসরি তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, কিছু হিন্দু সংগঠিত চক্র মন্দিরকে ধর্মীয় স্থান থেকে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের প্রধান ক্যাশিয়ার পদে একজন ভারতীয় নাগরিককে বসানো হয়েছে এবং দেবীকে দেওয়া দান-অনুদানের টাকা ভারতে পাচার করা হচ্ছে। এই অভিযোগটি প্রকাশ্যে উঠলেও স্বাধীন তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কোনো বড় প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—জাতীয় মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিদেশি নাগরিকের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ এবং কতটা প্রয়োজনীয়?
দান-অনুদানের হিসাব নিয়েও অস্বচ্ছতার অভিযোগ বারবার শোনা যায়। পর্যটক, মন্ত্রী, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা—সবাই মন্দিরে কিছু না কিছু দান করেন। কিন্তু সেই অর্থের হিসাব কোথায় যায়, কীভাবে খরচ হয়, তার ওপর কোনো কার্যকর সরকারি নজরদারি নেই বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। মন্দির “জাতীয়” উপাধি ব্যবহার করে এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আছে। সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই জাতীয় মন্দিরের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা চলছে বলে মানববন্ধনে বলা হয়।
এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত পুরনো জটিলতা। ভেস্টেড প্রপার্টি আইনের কারণে মন্দিরের অনেক জমি হারিয়ে গেছে। পরে কিছু জমি ফেরত আনা হলেও দখলদারিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি মিটেনি। সেবায়েত পরিবারকে উচ্ছেদ করে নতুন ব্যবস্থাপনা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পুরনো। সব মিলিয়ে মন্দিরের পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
মন্দিরের ভেতরে যে অর্থনীতি চলে, তা শুধু ধর্মীয় নয়—সেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ, নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে বলে অনেকে মনে করেন। দানবাক্সের টাকা থেকে শুরু করে এনজিও প্রকল্প পর্যন্ত—সবকিছুর হিসাব যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে ভক্তদের বিশ্বাস কতদিন টিকবে? প্রধান ক্যাশিয়ার ভারতীয় কি না, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। কিন্তু যে অভিযোগ উঠেছে, তা উপেক্ষা করা যায় না।
ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতীক। তার আড়ালে যদি অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ চাপা থাকে, তাহলে সেই প্রতীকই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ হিসাব, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিমূলক পরিচালনা—এগুলোই এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment