তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়?
ডিজিটাল যুগে একটি ঘটনা শুধু ঘটলেই শেষ হয় না। ঘটনার পরপরই শুরু হয় আরেকটি লড়াই, তথ্যের লড়াই। কে আগে মানুষের সামনে ঘটনার ব্যাখ্যা হাজির করবে, কোন বয়ান সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কোন তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করবে, অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন। আর এক্ষেত্রে অনেকটাই ‘তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার’।
কোনো ঘটনা ঘটার পর অপতথ্য ছড়ানোর গতি অনেক সময় সরকারি তথ্য প্রকাশের গতির চেয়ে বেশি। ফলে তথ্যের শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক বয়ান।
কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ। সামাজিক মাধ্যমে তাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে অপ্রতিমের ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত দাবিটি অসত্য প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে হত্যার পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে।
এখানে মূল সমস্যা শুধু গুজব নয়, গুজব ছড়ানোর সময়ের ব্যবধান। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা তথ্য না আসে, সামাজিক মাধ্যম সেই শূন্যস্থান নিজের মতো করে পূরণ করে। এরপর সত্য তথ্য প্রকাশ করলেও তা অনেক সময় প্রথম তৈরি হওয়া বয়ানের প্রভাব পুরোপুরি কাটাতে পারে না।
প্রতিবেদনে যে তথ্য-প্রবাহের কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বয়ান প্রথমে তৈরি হয়, এরপর বড় পেজ, ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সার সেটিকে ছড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সেটিকে নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে। তারপর তৈরি হয় রিলস, মিম ও ফটোকার্ড। শেষ পর্যায়ে মূলধারার আলোচনা সেটিকে আরও দৃশ্যমান করে। এভাবেই একটি যাচাইহীন দাবিও মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মতো মনে হতে পারে।
তবে সরকারের পালটা ব্যবস্থা নিয়েও একটি ভারসাম্য জরুরি। অপতথ্য মোকাবিলার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত দ্রুত, নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর তথ্য দেওয়া, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পালটা প্রচারণা চালানো নয়।
এই জায়গায় একটি স্বাধীন ও পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সরকারি যোগাযোগকে একই ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রকৃত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।
শেষ পর্যন্ত তথ্যযুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র প্রচারণা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। রাষ্ট্র যদি দ্রুত সত্য তথ্য দেয়, ভুল স্বীকার করে, প্রমাণ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আপডেট দেয়, তাহলে অপতথ্যের জন্য তৈরি হওয়া শূন্যস্থান অনেকটাই সংকুচিত করা সম্ভব। আর সেটিই হতে পারে ডিজিটাল যুগে সরকারের তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।