আওয়ামী লীগ ভাবে—দিল্লিই তাদের আবার ক্ষমতায় বসাবে!
কিন্তু বাস্তবতা হলো—
বাংলাদেশের ক্ষমতার চাবি দিল্লির হাতে নেই।
চাবি বাংলাদেশের জনগণের হাতে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল।
আর সেই আন্দোলন দমাতে রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল ভয়াবহ মাত্রায়।
জাতিসংঘের তদন্ত বলছে—
নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে শত শত মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।
হয়েছে নির্বিচার আটক ও নির্যাতন।
জাতিসংঘের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১,৪০০ জন।
তদন্তে এসব ঘটনাকে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এই অভিযোগের রাজনৈতিক ও আইনি দায় এখন এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
শেখ হাসিনা ২০২৫ সালের নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত হয়েছেন।
তারপরও দিল্লি থেকে বার্তা—
তিনি দেশে ফিরবেন।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
ফিরবেন কী নিয়ে?
শুধু পুরনো রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে?
নাকি কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে?
আওয়ামী লীগ যদি মনে করে দিল্লির সমর্থনই তাদের প্রত্যাবর্তনের রাস্তা খুলে দেবে,
তাহলে সেটাই হয়তো তাদের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল হিসাব।
কারণ ভারত হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে—
কিন্তু সেটাকে বাংলাদেশের জনগণের রাজনৈতিক ম্যান্ডেট বলা যায় না।
আর বিদেশের মাটি থেকে ঘোষণা দিলেই
দেশের মানুষের আস্থা ফিরে আসে না।
আওয়ামী লীগের সামনে তাই প্রথম প্রশ্ন ক্ষমতায় ফেরা নয়।
প্রথম প্রশ্ন—
২০২৪-এর রক্তপাতের জবাবদিহি কী?
দ্বিতীয় প্রশ্ন—
যে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল, সেই জনগণের কাছে তারা কী জবাব দেবে?
আর তৃতীয় প্রশ্ন—
বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে দিল্লি কি সেই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারবে?
পারবে না।
কারণ একটি দলের ক্ষমতায় ফেরার বৈধ রাজনৈতিক ভিত্তি কোনো বিদেশি রাজধানী নয়—
বাংলাদেশের জনগণের ভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।
তাই আওয়ামী লীগের জন্য বার্তাটা পরিষ্কার—
দিল্লির ওপর রাজনৈতিক ভরসা নয়।
আগে জনগণের আস্থা ফিরে পাওয়ার প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
হতে হবে বিচারের মুখোমুখি। তারপর ফেরা না ফেরা।
হুমকি, ষড়যন্ত্র ও গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশের রাজধানীতে ফেরা এত সহজ নয়।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment