সর্বশেষ

Top Hits

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি, পার্বত্য চট্টগ্রাম, Propaganda, রোহিঙ্গা,

রাজনীতি

বিএনপি, এনসিপি, জামায়াত, আওয়ামী লীগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান,

জাতীয়

প্রধানমন্ত্রী

সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

 সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

১ অক্টোবর সেনাসদরে যা হয়েছে, সেটা সামরিক প্রটোকলের নিয়মিত অনুষ্ঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে নিয়মিত দরবারে পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার কথা বলেছেন এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল বিবৃতিতে একে ‘নিয়মিত দরবার’ বলা হয়েছে। জরুরি বৈঠক, নতুন ম্যান্ডেট বা সর্বাত্মক মাঠ অভিযানের কোনো ইঙ্গিত সেখানে নেই।

একই দিন তিনি রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই জোনের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। দূরবর্তী পার্বত্য ক্যাম্পে কমান্ডারের সফর সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কমান্ড অনুশীলন। একে ‘সফর বাতিল করে জরুরি দরবার’ বলার কোনো ভিত্তি নেই। অক্টোবরের শুরুতে কোনো পূর্বঘোষিত সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।

সেনা দরবার সেনাপ্রধানের নিয়মিত যোগাযোগমাধ্যম। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার করেছেন—সেটাও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল, এটা কোনো সংকটের সংকেত নয়। শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের কথা বলা মানে নতুন অভিযানের ঘোষণা নয়।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন আলাদা। আইনশৃঙ্খলা কোনো সেনাবাহিনীর বিষয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই দিন স্পষ্ট করেছেন, যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি; পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারের সমন্বিত কাজ চলমান রুটিন প্রক্রিয়া। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্বে আছে—নির্বাচনী নিরাপত্তা, পার্বত্য এলাকা, সহায়ক শক্তি হিসেবে। তার মানে এই নয় যে একটি নিয়মিত দরবারকে কেন্দ্র করে বাহিনী ‘পূর্ণ শক্তিতে’ নতুন করে নামছে।

কাজী রুনা ও নবনীতার ইউটিউব বিশ্লেষণে রুটিন অনুষ্ঠানকে অরাজকতা, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জুড়ে ‘সময়ের দাবি’ বানানো হয়েছে। অফিসিয়াল ভাষ্য, মূলধারার প্রতিবেদন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য—তিনটিই এই ফ্রেমকে সমর্থন করে না। সেনাবাহিনী কী করবে, তা সেনাসদরের বিজ্ঞপ্তিতে থাকে; ইউটিউব ভিডিওর অনুমানে নয়।

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে

বিমানবন্দরে নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, অশালীন ভাষা ব্যবহার এবং দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সবুজ।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ১ অক্টোবর ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিট থেকে ১১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ২ নম্বর গেটসংলগ্ন এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারী জানান, ওই সময় বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় আখতারুজ্জামানের সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের সময় আখতারুজ্জামান নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন এবং অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগপত্রে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য বিমানবন্দরের CCTV ফুটেজ, প্রবেশ ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত রেকর্ড, ফ্লাইট রেকর্ডসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংরক্ষণ ও সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও নিরাপত্তাকর্মীদের বক্তব্য গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালনরত কর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার জন্য উদ্বেগের বিষয়। অভিযোগকারী পক্ষ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে।

পরে নথিতে সংযুক্ত প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে ঘটনার সময়, স্থান, অভিযোগকারী ও অভিযুক্তের পরিচয়সহ অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয়। সেখানে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪ ও ৫০৬ ধারার উল্লেখ রয়েছে।

একজন জনপরিচিত বা রাজনৈতিক ব্যক্তিকে ঘিরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে এ ধরনের আচরণের অভিযোগ ওঠা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তল্লাশি ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ম মেনে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের সঙ্গে শালীন ও সহযোগিতামূলক আচরণ করার প্রত্যাশা থাকে।

এছাড়াও, ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে চেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর এ  নেতা অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান।

জমজমের পানি পেতে দেরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার ক্ষোভ প্রকাশ করে এ হুমকি দেন তিনি।

এদিন সকালে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ওমরাহ যাত্রীদের জমজমের পানি সরবরাহে বিলম্ব ঘটে। পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ঘটনাটি নিয়ে মেজর আখতারুজ্জামান এর বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় একটি এজহার নথিভুক্ত করা করা হয়েছে। 

কেপিআই এলাকায় ওয়ারেন্ট অফিসারকে মারধরের অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা

কেপিআই এলাকায় ওয়ারেন্ট অফিসারকে মারধরের অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা ১ অক্টোবর ২০২৬। সকাল নয়টা পেরিয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাউঞ্জের বেল্টে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। দোহা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ নির্ধারিত সময় ৯টা ২ মিনিটের বদলে ৯টা ২৫ মিনিটে নামে। বিমান দাঁড়ায় রিমোট বে বি-১৪/বি-১৫-এ। ব্যাগ টার্মিনালে আসতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এতে ব্যাগের লাইন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ পায় এবং সেটা স্বাভাবিক।

এই সময়, অনুমান ১০টা ৪০ মিনিটে, বেল্ট এলাকায় ঢোকেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সঙ্গে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী। এসেই রাগারাগি শুরু করেন, ব্যাগ কেন দেরিতে নামছে সে কথা বলতে পারতেন। কারণ জানতে চাইতে পারতেন, কিন্তু তা না করে এসেই উচ্চস্বরে চিতকার করা শুরু করেন “আমি পিটিয়ে সাইজ করে দেব।” “Get out from here।” “তাকে ধরে কইরা দে।” “কাজ জানেন না, তদবির করেন, ঘুষ দিয়ে চাকরিতে ঢুকেন।” “পেটাতে এ আসবেন।” “মাইর খাইতে চান।” ইত্যাদি কথা বার্তা বলতে থাকেন। 

কথাগুলো অভিযোগ নয়, হুমকি। একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায়, যেখানে দায়িত্বরত মানুষকে কাজ করতে হয়, সেখানে গলা চড়িয়ে মারের কথা বলা মানে শৃঙ্খলা ভাঙা। মেজর আখতারুজ্জামান এর সঙ্গের প্রটোকল সহকারীরা ফোন দিয়ে ভিডিও ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন। ঘটনাকে প্রমাণ করার চেষ্টা নয়। চাপ তৈরির চেষ্টা। এতে নিরাপত্তা আরও নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। 

নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, বিডি/৪৬৫৬৩৫৫, পিতা মো. জালাল উদ্দিন, তখন নিষেধ করেন। কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও বন্ধ করতে বলেন। এটা তার কাজ। এজাহারে বলা হয়েছে,। জবাবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে এগিয়ে যান। অকথ্য ভাষায় গালি দেন। তারপর একতরফা মারধর করেন। সিসিটিভির বাইরে এই ঘটনা।  প্রমাণ তাই ভিকটিমের শরীর ও যারা দেখেছেন তাদের সাক্ষ্য।

মারধর থামলেও আচরণ থামে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধি এলে তার সঙ্গেও অশোভন ও মারমুখী ব্যবহার। তারপর সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল। ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলা। ক্ষতি করা। যে পানির জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিল, সেই বোতলই তার হাতে অস্ত্র হয়ে ওঠে।

সাড়ে এগারোটার মধ্যে বেল্ট এলাকার ছবিটা এজাহারে এই। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর, সরকারি ইউনিফর্মধারী এক ওয়ারেন্ট অফিসারকে গালি দিয়ে হাত তুলছেন। প্রটোকলের মানুষ ভিডিও করছে। যাত্রীর জিনিস মাটিতে পড়ছে। দায়িত্ব পালন থেমে যাওয়ার উপক্রম।

অভিযোগ লেখেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সাজিব, পিতা মো. মহসিন আলী। সাক্ষী রাখেন ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (বিডি/৮০০৩০৩৮) ও ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ইয়াসিন (বিডি/৮৮৫১৪৫)। ২ অক্টোবর ভোর ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর থানায় এজাহার ওঠে। মামলা নম্বর ৬, জিডি ৩৫২। ধারা ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪, ৫০৬। সরকারি কাজে বাধা, দায়িত্বরত ব্যক্তিকে আঘাত, অশ্লীল গালি, ভয়ভীতি। রেকর্ড করেন ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান তালুকদার। তদন্তে সাব-ইন্সপেক্টর মাজেদুল ইসলাম।

ব্যাগ দেরিতে আসা বিমানবন্দরের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সেই দুর্বলতার আড়ালে একজন মানুষের এই আচরণ মেনে নেয়া যায় না। যে এলাকায় ক্যামেরা নিষেধ, সেখানে ভিডিও করেন মেজর আখতারুজ্জামান এর সহকারীরা। যারা নিষেধ করছেন তাদেরকেই মারধোরের চেষ্টা করেন। দুর্ব্যবহার করেন গালি দেন। এজাহার এই আচরণকে অপরাধ বলে দাখিল করেছে।  

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমে তাদের সঙ্গে আনা জমজমের পানি সময়মতো পাচ্ছিলেন না।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিমান জানতে পেরেছ, কন্টেইনার অফলোডিং এবং পরিচালনগত গাফিলতির কারণেই ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হয়। আর এ কারণেই মেজর আখতারুজ্জামান বাকবিতণ্ডায় ও মারমুখী হয়ে ওঠেন। 

রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়

 


রোহিঙ্গা সংকট: বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয়

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের জন্য ক্রমেই বড় মানবিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাজনিত চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ এক দশকের কাছাকাছি সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অবস্থান করছে এবং তাদের বড় অংশই মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে ক্যাম্পগুলোতে খাদ্য, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে সীমিত আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ২০২৬ সালে জাতিসংঘ ও অংশীদাররা রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ৭১০.৫ মিলিয়ন ডলারের সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে।

বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মতে, সংকটের টেকসই সমাধান হলো রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন। তাই মিয়ানমারে অনুকূল পরিবেশ তৈরি এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর সহযোগিতার মাধ্যমে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করাই বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়?

তথ্যযুদ্ধে সরকারের চ্যালেঞ্জ কোথায়? 

ডিজিটাল যুগে একটি ঘটনা শুধু ঘটলেই শেষ হয় না। ঘটনার পরপরই শুরু হয় আরেকটি লড়াই, তথ্যের লড়াই। কে আগে মানুষের সামনে ঘটনার ব্যাখ্যা হাজির করবে, কোন বয়ান সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়বে এবং শেষ পর্যন্ত মানুষ কোন তথ্যকে সত্য হিসেবে গ্রহণ করবে, অনেক সময় সেটিই হয়ে ওঠে মূল প্রশ্ন। আর এক্ষেত্রে অনেকটাই ‘তথ্যযুদ্ধে পিছিয়ে সরকার’। 

কোনো ঘটনা ঘটার পর অপতথ্য ছড়ানোর গতি অনেক সময় সরকারি তথ্য প্রকাশের গতির চেয়ে বেশি। ফলে তথ্যের শূন্যস্থান দখল করে নেয় অনুমান, গুজব ও রাজনৈতিক বয়ান। 

কুমিল্লার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড এর একটি সাম্প্রতিক উদাহরণ। সামাজিক মাধ্যমে তাকে হিন্দু পরিচয় দিয়ে হত্যাকে সাম্প্রদায়িক ঘটনার রূপ দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে অপ্রতিমের ধর্মীয় পরিচয়সংক্রান্ত দাবিটি অসত্য প্রমাণিত হয়। অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে হত্যার পেছনে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসে। 

এখানে মূল সমস্যা শুধু গুজব নয়, গুজব ছড়ানোর সময়ের ব্যবধান। ঘটনার প্রথম কয়েক ঘণ্টায় যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে যাচাই করা তথ্য না আসে, সামাজিক মাধ্যম সেই শূন্যস্থান নিজের মতো করে পূরণ করে। এরপর সত্য তথ্য প্রকাশ করলেও তা অনেক সময় প্রথম তৈরি হওয়া বয়ানের প্রভাব পুরোপুরি কাটাতে পারে না।

প্রতিবেদনে যে তথ্য-প্রবাহের কাঠামোর কথা বলা হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। একটি বয়ান প্রথমে তৈরি হয়, এরপর বড় পেজ, ইউটিউবার বা ইনফ্লুয়েন্সার সেটিকে ছড়িয়ে দেন। রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সেটিকে নিজেদের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্ত করে। তারপর তৈরি হয় রিলস, মিম ও ফটোকার্ড। শেষ পর্যায়ে মূলধারার আলোচনা সেটিকে আরও দৃশ্যমান করে। এভাবেই একটি যাচাইহীন দাবিও মানুষের কাছে প্রতিষ্ঠিত তথ্যের মতো মনে হতে পারে। 

তবে সরকারের পালটা ব্যবস্থা নিয়েও একটি ভারসাম্য জরুরি। অপতথ্য মোকাবিলার নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা হলে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে। সরকারের দায়িত্ব হওয়া উচিত দ্রুত, নির্ভুল ও প্রমাণনির্ভর তথ্য দেওয়া, রাজনৈতিক স্লোগান দিয়ে পালটা প্রচারণা চালানো নয়।

এই জায়গায় একটি স্বাধীন ও পেশাদার ফ্যাক্ট-চেকিং কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফরেনসিক, তথ্য যাচাই এবং দ্রুত সরকারি যোগাযোগকে একই ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে গুজব ছড়িয়ে পড়ার আগেই প্রকৃত তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব।

শেষ পর্যন্ত তথ্যযুদ্ধে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র প্রচারণা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। রাষ্ট্র যদি দ্রুত সত্য তথ্য দেয়, ভুল স্বীকার করে, প্রমাণ প্রকাশ করে এবং নিয়মিত আপডেট দেয়, তাহলে অপতথ্যের জন্য তৈরি হওয়া শূন্যস্থান অনেকটাই সংকুচিত করা সম্ভব। আর সেটিই হতে পারে ডিজিটাল যুগে সরকারের তথ্য-যোগাযোগ ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি

জিয়া পরিবার

জিয়া পরিবার

পার্বত্য চট্টগ্রাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

ভারত ইস্যু

ভারত ইস্যু

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক ইস্যু

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক ইস্যু

চলমান ইস্যু

চলমান ইস্যু

কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি

কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team