সর্বশেষ

Top Hits

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি, পার্বত্য চট্টগ্রাম

জিয়া পরিবার । সংখ্যালঘু

জিয়া পরিবার, সংখ্যালঘু ইস্যু

আওয়ামী লীগ

আওয়ামী লীগ

পরীক্ষায় ফেল মানে কি জীবন শেষ?


পরীক্ষায় ফেল মানে কি জীবন শেষ? 


পরীক্ষায় একটি ফল কখনো একজন মানুষের পুরো ভবিষ্যৎ বা তার মেধার শেষ সীমানা নির্ধারণ করতে পারে না। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র, এটি শেষ গন্তব্য নয়। যারা আশা অনুযায়ী রেজাল্ট করতে পারোনি, তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মনে রাখা দরকার, জীবনের আসল পরীক্ষা শ্রেণিকক্ষের বাইরে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জিপিএ-৫ এর চেয়ে ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বহু সফল ও যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফেল করেছিলেন বা ঝরে পড়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছেন:

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাংলা সাহিত্যের প্রথম নোবেলজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলশিক্ষায় একেবারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়েছিলেন। অথচ তার লেখা ও সাহিত্য আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

  • বিল গেটস: বিশ্বের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'মাইক্রোসফট'-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। তিনি পরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় আটকে না থেকে নিজের স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

  • এডলফ টিমোথি (বা আলবার্ট আইনস্টাইন): পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলায় স্কুলে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ পিছিয়ে ছিলেন। এমনকি মিউনিখ স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানকে বদলে দেয়।

  • থমাস আলভা এডিসন: আলোর বাল্ব ও বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জনক থমাস এডিসনকে ছোটবেলায় স্কুল থেকে 'পড়াশোনায় অক্ষম' বলে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথাগত ডিগ্রি ছাড়াই নিজের চেষ্টা ও গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম সেরা উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।

  • স্টিভ জবস: অ্যাপল (Apple)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মাত্র এক সেমিস্টার পরেই কলেজ ছেড়ে দেন। প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকলেও তার প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি পুরো বিশ্বের যোগাযোগ ও স্মার্টফোন শিল্পকে নতুন রূপ দিয়েছে।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ: বাংলাদেশের টানা দুই মেয়াদের সফল রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার ছাত্রজীবনে পরীক্ষার ফলাফলে সবসময় শীর্ষস্থানে ছিলেন না। এমনকি তিনি একাধিকবার প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা প্রত্যাশিত ফল পাননি। কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানুষের সাথে সংযোগ এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন করেছে।

এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়া মানে জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ঘুরে দাঁড়ানোর একটি নতুন সুযোগ। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের আসল দক্ষতা ও আগ্রহকে খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জনের হাজারো পথ খোলা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু ধৈর্য ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।

এসএসসি'র রেজাল্ট একটি অধ্যায় মাত্র, পুরো জীবন নয়


 এসএসসি'র রেজাল্ট একটি অধ্যায় মাত্র, পুরো জীবন নয়

প্রতি বছর যখন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, তখন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই এমন এক ফলাফল হাতে পান, যা তাদের নিজের কাছে, পরিবারের কাছে, প্রতিবেশীর কাছে যথেষ্ট মনে হয় না। কারও জিপিএ কাঙ্ক্ষিত মানের নিচে থাকে, কেউবা এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। সেই মুহূর্তে মনে হয়, যেন গোটা জীবনের ভবিষ্যৎ একটি কাগজের টুকরোয় লেখা কয়েকটি সংখ্যার মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। বাড়িতে মন খারাপের ছায়া নামে, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে ইচ্ছা করে, নিজেকে ব্যর্থ মনে হতে থাকে। অথচ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পরীক্ষার খাতায় ভালো ফল না করেও অসংখ্য মানুষ পরবর্তী জীবনে এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাই ধরা যাক। শৈশবে তিনি কলকাতার একাধিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় মন বসাতে পারেননি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করেননি। যে মানুষটি পরবর্তী জীবনে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতে সমগ্র এশিয়ার গর্ব হয়ে উঠলেন, তাঁর শুরুটা প্রচলিত অর্থে মোটেও মসৃণ ছিল না। বিদ্যালয়ের গণ্ডির মধ্যে যাকে মাপা যায়নি, তিনিই পরবর্তীতে বিশ্বকবি হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও এমন উদাহরণ আছে, যা সরাসরি একজন রাষ্ট্রপ্রধানের নিজের মুখে বলা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ একাধিক অনুষ্ঠানে খোলাখুলি বলেছেন, ছাত্রজীবনে তিনি বহুবার পরীক্ষায় ফেল করেছেন, ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে যথাসময়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। কিন্তু তিনি এটাও গর্বের সঙ্গে বলেছেন যে, পাস করার জন্য কখনো নকলের মতো অসৎ পথ বেছে নেননি। যিনি একসময় বারবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তিনিই পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই গল্প শুধু ব্যর্থতার নয়, বরং সততা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই ব্যর্থতা পেরিয়ে যাওয়ার গল্প।

পশ্চিমা বিশ্বেও এই তালিকা দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেওয়া উইনস্টন চার্চিল ছাত্রজীবনে মোটেও উজ্জ্বল ছাত্র ছিলেন না। স্কুলে তাঁর ফলাফল ছিল হতাশাজনক, আর সামরিক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। অথচ সেই মানুষটিই পরবর্তী জীবনে একটি জাতিকে যুদ্ধের ভয়াবহতম সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছেন। উদ্ভাবক টমাস আলভা এডিসনের ছেলেবেলাও ছিল প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বেমানান। তাঁর শিক্ষকরা তাঁকে পড়াশোনায় অমনোযোগী ও দুর্বল বলে মনে করতেন, স্কুলে তাঁর সময়টা ছিল সংক্ষিপ্ত ও কঠিন। অথচ পরবর্তী জীবনে হাজারের বেশি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি আধুনিক বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন।

প্রযুক্তি জগতের দিকে তাকালেও একই চিত্র। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও ডিগ্রি সম্পন্ন করার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজের একটি স্বপ্নকে তাড়া করতে চেয়েছিলেন। প্রথাগত সনদের পথ অনুসরণ না করেও তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, একটি নির্দিষ্ট রাস্তায় না হাঁটলেও সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

এই সব উদাহরণ থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরীক্ষার ফল একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি মূল্যায়ন করে মাত্র। এটি কোনোভাবেই একজন মানুষের মেধা, সম্ভাবনা, চরিত্র বা ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ পরিচয় বহন করে না। জীবনে সাফল্যের পথ অনেক, আর সেই পথের শুরুটা প্রত্যেকের জন্য একরকম হয় না। যে শিক্ষার্থী এবার প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তার সামনে এখনও পুরো জীবন পড়ে আছে। দরকার শুধু হতাশায় থমকে না গিয়ে নিজের আগ্রহ, শক্তি আর অধ্যবসায়কে চেনার এবং সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও গোটা জীবনের মূল্য নির্ধারিত হয় না, বরং জীবন নিজেই বহু পরীক্ষার সমষ্টি, আর প্রকৃত পরীক্ষা হলো হতাশার মুখে দাঁড়িয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। 

ফলে তোমরা যারা পরীক্ষায় একটু কম ভালো রেজাল্ট করেছো, বা অনেকেই এবার কৃতকার্য হতে পারো নি, তার মানে এই নয় যে আগামী তুমি পারবে না। 

প্রতিজ্ঞা কর, আগামীতে তুমিই হবে বোর্ডের সেরা স্টৃুডেন্ট। স্কুলের সেরা ছাত্র বা ছাত্রী। 

পরীক্ষায় ভালো ফল না আসা মানেই জীবনের শেষ নয়। এসএসসি বা যেকোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল যারা পেয়েছ, তোমাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো—


পরীক্ষায় ভালো ফল না আসা মানেই জীবনের শেষ নয়। এসএসসি বা যেকোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল যারা পেয়েছ, তোমাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো—

রেজাল্ট পাওয়ার পর তোমরা হয়তো অনেকে এখন হতাশ, লজ্জিত বা চিন্তিত। পরিবারের চোখে চোখ রাখতে পারছ না, বন্ধুদের ফল দেখে মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু মনে রেখো—একটা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে তোমার পুরো জীবন নির্ধারিত হয় না। জীবন অনেক বড়। ভবিষ্যতে আরও অনেক সুযোগ, অনেক রাস্তা, অনেক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।

ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, যারা একসময় পরীক্ষায় বা স্কুলে ব্যর্থ হয়েছিল, তারাই পরে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কুলে পড়তে চাইতেন না। সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হয়েও প্রমোশন পাননি, বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করতেন। কলেজে একদিন গিয়ে আর যাননি। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেননি। কিন্তু সেই ব্যক্তিই নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় পাস করা নয়, মনের দরজা খুলে দেওয়া।

বিল গেটস স্কুলে ভালো ছিলেন, কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ড্রপ আউট করে মাইক্রোসফট গড়ে তোলেন। তিনি বুঝেছিলেন, সময়ের সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি।

জ্যাক মা (আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বারবার ফেল করেছেন। গণিতে একবার মাত্র ১ নম্বর পেয়েছিলেন। তিনবার চেষ্টা করেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। পরে চাকরির জন্য আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। আজ আলিবাবা বিশ্বের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।

টমাস এডিসনের শিক্ষক বলেছিলেন, “এ ছেলেকে কিছুই শেখানো যাবে না।” স্কুলে মাত্র তিন মাস পড়েই বাদ পড়েন। পরে তিনিই আবিষ্কার করেন বৈদ্যুতিক বাল্বসহ হাজারো জিনিস।

রিচার্ড ব্র্যানসন স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সে, কোনো ভালো যোগ্যতা ছাড়াই। শিক্ষক বলেছিলেন, “তুমি হয় জেলে যাবে, নয়তো কোটিপতি হবে।” তিনি কোটিপতিই হয়েছেন—ভার্জিন গ্রুপের মালিক।

এসব উদাহরণ শুধু বিদেশের নয়। আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন যারা খুব সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ গ্রামের স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন এবং দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—তারা কেউই একটা পরীক্ষার ফলকে জীবনের চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে মেনে নেননি।

তোমাদের এসএসসি ফল খারাপ হয়েছে বলে তোমরা ব্যর্থ নও। এটা শুধু একটা ধাপ। এখন যা করবে:

  • নিজেকে দোষারোপ করো না।
  • হতাশায় ভেঙে পড়ো না।
  • পরের ধাপ ঠিক করো—এইচএসসি, ভোকেশনাল, দক্ষতাভিত্তিক কোর্স, ব্যবসা, কারিগরি শিক্ষা—যা তোমার আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী।
  • পরিশ্রম, ধৈর্য আর শেখার আগ্রহ রাখো।

পরীক্ষার নম্বর জীবনের সবকিছু নয়। জীবন হলো চেষ্টা, সাহস আর নিজের উপর বিশ্বাস। যারা আজ হতাশ, তারাই কাল নতুন করে উঠে দাঁড়াতে পারে। তোমরাও পারবে।

ভবিষ্যৎ এখনো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু হাল ছেড়ো না।

পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বর তোমার পুরো জীবন নয়


পরীক্ষার খাতার কয়েকটি সংখ্যা তোমার পুরো জীবন নয়

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী,

আজ হয়তো তোমার হাতে ফলাফল এসেছে। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল। কেউ জিপিএ-৫ পেয়েছে, কেউ প্রত্যাশার চেয়ে কম পেয়েছে, আবার কেউ হয়তো ফেলও করেছে।

যে ছেলেটা বা মেয়েটা আজ মনে করছে—“আমার জীবন শেষ”, তাকে একটা কথা বলতে চাই:

না, জীবন শেষ হয়নি। বরং জীবনের আসল পরীক্ষাগুলো এখনো শুরুই হয়নি।

এসএসসির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ—এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ভালো ফলাফল তোমাকে কিছু দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু একটা পরীক্ষার ফলাফল তোমার বুদ্ধি, সৃজনশীলতা, সাহস, নেতৃত্ব, পরিশ্রম কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি মাপতে পারে না।

ইতিহাসের দিকে তাকাও।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথাগত স্কুলশিক্ষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। তিনি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেননি; ইংল্যান্ডে গিয়েও তাঁর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হয়নি। অথচ সেই মানুষটিই পরে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে নিয়ে গেলেন এবং ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন।

বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু ডিগ্রি শেষ না করেই বেরিয়ে আসেন। সেই সিদ্ধান্তের পর তিনি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন।

আরেকটি দারুণ উদাহরণ উইনস্টন চার্চিল। সামরিক কলেজ স্যান্ডহার্স্টে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষায় তিনি প্রথমবার ব্যর্থ হন; শেষ পর্যন্ত তৃতীয় চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন সম্পর্কেও একটি প্রচলিত গল্প আছে যে তিনি স্কুলে ফেল করতেন। আসল ঘটনা এতটা সরল নয়। ১৮৯৫ সালে জুরিখের পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর কিছু বিষয়ে প্রয়োজনীয় ফল হয়নি; পরে আরাউয়ের স্কুলে পড়াশোনা করে তিনি পরের বছর যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পলিটেকনিকে ভর্তি হন। অর্থাৎ একটি পরীক্ষার ধাক্কা তাঁর ভবিষ্যৎ থামিয়ে দিতে পারেনি।

জ্যাক মা-ও জীবনে পরীক্ষার ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয়বার উত্তীর্ণ হন। পরে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন।

আর আমাদের দেশের মো. আবদুল হামিদ—যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন—তাঁর ক্ষেত্রেও মনে রাখা দরকার, তিনি কিন্তু সব পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পাওয়া একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।  তাঁকে দেখলে মনে হয়, জীবনের সাফল্য শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দীর্ঘ সংগ্রাম, রাজনীতি, নেতৃত্ব ও মানুষের জন্য কাজ করাও একজন মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।

তাই আজ যারা এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল পাওনি, তাদের বলছি—

নিজেকে একটি রেজাল্ট দিয়ে বিচার করো না।

তুমি হয়তো গণিতে দুর্বল, কিন্তু তুমি অসাধারণ একজন লেখক হতে পারো।
তুমি হয়তো ইংরেজিতে কম নম্বর পেয়েছ, কিন্তু তুমি অসাধারণ উদ্যোক্তা হতে পারো।
তুমি হয়তো পরীক্ষার হলে ভালো করতে পারোনি, কিন্তু বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা তোমার অসাধারণ হতে পারে।

আজকের ফলাফল তোমার অবস্থা জানায়; তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

তবে একটা কথা মনে রেখো—এই গল্পগুলো শুনে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। রবীন্দ্রনাথ, বিল গেটস বা জ্যাক মার মতো মানুষের গল্পের শিক্ষা “পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়” নয়; শিক্ষা হলো একটি ব্যর্থতা বা একটি প্রথাগত পথের সঙ্গে নিজেকে আটকে রেখো না। সফল মানুষরা নিজেদের শক্তি খুঁজে নিয়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছেন। কলেজ ড্রপআউটদের সাফল্য ব্যতিক্রম; শুধু ড্রপআউট হওয়া নিজে কোনো সাফল্যের সূত্র নয়।

তাই আজ যদি তোমার ফলাফল খারাপ হয়, একটু কাঁদতে ইচ্ছে করলে কেঁদে নাও। মন খারাপ হলে মন খারাপ করো। কিন্তু নিজেকে হেরে যাওয়া মানুষ ভাববে না।

কারণ তোমার সামনে এখনো কলেজ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
দক্ষতা শেখার সুযোগ আছে।
ব্যবসা করার সুযোগ আছে।
চাকরি আছে।
সৃজনশীলতা আছে।
হাজারো নতুন মানুষ ও নতুন অভিজ্ঞতা আছে।

সবচেয়ে বড় কথা—

তোমার সামনে এখনো পুরো জীবন পড়ে আছে।

এসএসসির রেজাল্ট তোমার জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র।
এটা পুরো বই নয়।

আজ যে ফলাফল দেখে তুমি নিজেকে ছোট ভাবছ, একদিন হয়তো পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলবে—

“সেদিন আমি ভেবেছিলাম আমি হেরে গেছি। আসলে সেদিনই আমার নতুন করে শুরু হয়েছিল।”

তাই মাথা উঁচু করো।

ফলাফলকে মেনে নাও, ভুল থেকে শেখো, নিজের দুর্বলতা ঠিক করো এবং নতুন করে শুরু করো।

কারণ জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসএসসি নয়—
জীবন যখন তোমাকে বারবার পড়ে যেতে বলবে, তখন তুমি কতবার উঠে দাঁড়াতে পারো, সেটাই আসল পরীক্ষা।

আবু উবাইদা অরিনের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ


আবু উবাইদা অরিনের
রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ

গত আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত ‘Sheikh Hasina’s Homecoming’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী আবু উবাইদা অরিন বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার এই বাসিন্দা বর্তমানে ভারতে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন এবং সেখানেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, ARSA ও RSO নামের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনের বেশি ‘জঙ্গি’ পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ, সরকারি নথি, তদন্তের ফলাফল, নির্ভরযোগ্য সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও এ ধরনের দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেই প্রতীয়মান হয়।

আবু উবাইদা অরিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরিনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি সাতক্ষীরার জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। লেখাপড়ার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সেনাবাহিনীকে এভাবে অপ্রমাণিত অভিযোগের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার চেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অরিনের এই বক্তব্যে কোনো সত্যতা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং দায়িত্বহীন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, সর্বশেষ সমকামী বিয়ের বিতর্ক

 


২০২৩ সালের ১ এপ্রিল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চলমান নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবায়েতবিহীন পরিচালনার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, কিছু গোষ্ঠী সাময়িক অনুমতি নিয়ে পূজা করতে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। তারা মন্দিরকে অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। একজন বিদেশি নাগরিককে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পদে বসিয়ে দান-অনুদানের টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। মন্দিরের নামের সঙ্গে “জাতীয়” উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, মন্দির চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে। সেবায়েতকে অধিকার থেকে সরিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। মন্দিরে আসা দেশি-বিদেশি অতিথিদের দান-অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব নেই বলেও দাবি করা হয়। জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পরও কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করে স্থানীয়দের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করা হচ্ছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

এই অভিযোগগুলোর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরগুলোতেও মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। দেবোত্তর সম্পত্তির দখল, বাণিজ্যিকীকরণ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। মন্দিরের জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের দাবি, মন্দির পরিচালনাকারীরা সম্পত্তি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ না নিয়ে বরং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ও এক হিন্দু যুবকের মধ্যে ধর্মীয় রীতিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। দেশের প্রচলিত আইনে সমকামিতা ও সমলিঙ্গের বিবাহ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এমন আয়োজন হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকরা এ ঘটনাকে আইনের প্রতি অবজ্ঞা, সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং ধর্মীয় পবিত্র স্থানের অপব্যবহার বলে অভিহিত করেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—মন্দির কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন আয়োজন অনুমোদন বা সহ্য করলেন? কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দির কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করে যে তারা বিষয়টি জানতেন না এবং নথিপত্রে জালিয়াতি হয়ে থাকতে পারে। তবুও ঘটনাটি মন্দিরের পরিচালনা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

এসব অভিযোগ ও ঘটনা মিলিয়ে অনেকেই মনে করেন, ঢাকেশ্বরী মন্দির দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিতর্কিত কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেবায়েত ব্যবস্থার দুর্বলতা, আর্থিক হিসাবের অস্বচ্ছতা, সম্পত্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং আইন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি উদাসীনতা—এসব বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। মানববন্ধন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিতর্ক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উঠে আসা অভিযোগগুলো মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ভারত-মায়ানমারে নেই, বাংলাদেশে আদিবাসী এলো কোথা থেকে?

 পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে ‘আদিবাসী’ শব্দটির যে রাজনৈতিক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’ (ইউএনডিআরআইপি) গ্রহণের পর থেকে দেশি-বিদেশি একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। বাংলাদেশের মোট ভূ-খণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের মদদে এক গভীর সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই নৃগোষ্ঠীগুলোর আদি উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মায়ানমারে যদি তাদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি না থাকে, তবে বাংলাদেশে তারা এই দাবি তোলে কোন যুক্তিতে?

চেহারা ও শারীরিক গঠনে বাংলাদেশের পার্বত্য নৃগোষ্ঠীগুলোর সাথে সমতলের মানুষের মৌলিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, এরা তিব্বতি-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা বৃহত্তর মঙ্গোলীয় মহাজাতির একটি শাখা। তাদের চ্যাপ্টা নাক, ক্ষুদ্র চোখ, উন্নত গালের হাড় এবং চোখের ওপরের বিশেষ ভাঁজ প্রমাণ করে তাদের আদি বংশধারা উত্তর-পূর্ব এশিয়া এবং মঙ্গোলীয় মালভূমি থেকে এসেছে। নৃ-বিজ্ঞানী স্যার হার্বার্ট রিজলি তার গবেষণায় এদের ‘মঙ্গোলো-দ্রাবিড়’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাদের আদি বসতি হিসেবে দক্ষিণ চীন, তিব্বত ও মায়ানমার সীমান্তকেই নির্দেশ করেছেন। এই মঙ্গোলীয় চেহারার সাদৃশ্যই বলে দেয় তাদের উৎসভূমি এই বঙ্গীয় বদ্বীপ নয়।


পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীগুলো যে এই ভূ-খণ্ডের ভূমিপুত্র নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে অভিবাসিত হয়ে আসা জনগোষ্ঠী, তার ভূরি ভূরি প্রমাণ ঐতিহাসিক দলিলসমূহেও বিদ্যমান। ১৯০৬ সালে প্রকাশিত আর. এইচ. এস হাচিনসনের বিখ্যাত গ্রন্থ “Gazetteer of the Chittagong Hill Tracts”-এ এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অভিবাসনের ইতিহাস অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাচিনসনের তথ্যমতে, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের মতো বড় গোষ্ঠীগুলো মূলত মায়ানমারের আরাকান ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছিল।


একইভাবে ১৮৬৯ সালে ব্রিটিশ প্রশাসক ক্যাপ্টেন জে. পি. লুইন তার “The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটিশ আগমনের আগেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো এক যাযাবর জীবনযাপন করত এবং তারা কোনো স্থায়ী ভূ-খণ্ডের একক মালিক ছিল না। এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তারা যে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি চাচ্ছে, তা ঐতিহাসিকভাবে একটি বড় ধরণের বিভ্রান্তি। তারা এই ভূমির আদি বাসিন্দা নয়, বরং বিভিন্ন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ডামাডোলে বিতাড়িত হয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিল।


আদিবাসী প্রশ্নে ভারতের অবস্থান:

উপমহাদেশের প্রধান রাষ্ট্র ভারতে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ বসবাস করে। কিন্তু ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ (Indigenous) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ভারতের সংবিধানে তাদের ‘Scheduled Tribes’ বা ‘তফসিলি উপজাতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত রাষ্ট্রের যুক্তি ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ—ভারতের সীমানায় বসবাসরত সকল নাগরিকই এই মাটির সন্তান বা মূল নিবাসী। নির্দিষ্ট একটি অংশকে ‘আদিবাসী’ বললে বাকি বিপুল সংখ্যক নাগরিককে পরোক্ষভাবে ‘সেটলার’ বা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি থাকে, যা রাষ্ট্রের সংহতির পরিপন্থী। এমনকি ভারত বিতর্কিত আইএলও কনভেনশন-১৬৯ (ILO 169) আজ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেনি। ভারত বিশ্বাস করে, হাজার বছরের সংমিশ্রণের ফলে এখন আর কাউকে এককভাবে আদিবাসী বলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


আদিবাসী প্রশ্নে মায়ানমারের নীতি:

ঐতিহাসিক তথ্যানুয়ায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশ গোত্র এ ভূখণ্ডে আসার আগে তাদের বসতি বা তাদের প্রধান উৎসভূমি হলো মায়ানমার (তৎকালীন আরাকান ও পেগু)। অথচ সেই মায়ানমার সরকারও তাদের ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে ‘National Races’ বা ‘জাতীয় জাতিসত্তা’ (তাইংয়িনথা) হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ‘আদিবাসী’ হিসেবে গ্রহণ করেনি। মায়ানমার মনে করে, ‘আদিবাসী’ তকমা বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দেয় এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এর ধারাগুলো তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।


দ্বিমুখী রাজনীতির শিকার বাংলাদেশ:

এখানেই বিস্ময়কর বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। যে মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা বাংলাদেশে এলো, সেখানে তারা আদিবাসী নয়। যে ভারতে তাদের স্বগোত্রীয়রা বসবাস করছে, সেখানেও তারা আদিবাসী নয়। অথচ বাংলাদেশে এসে তারা কেন ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের জন্য মরিয়া? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ১১ শতাংশ ভূমি বা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ হারানোর গভীর ষড়যন্ত্রে। আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও কিছু স্বার্থান্বেষী এনজিও-র সহায়তায় এই দাবি তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’ দাবি করে এই অঞ্চলকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।


১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:

ভারত ও মায়ানমারের এই যৌক্তিক অবস্থান বাংলাদেশের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর এই অঞ্চল যখন পাকিস্তানের অংশ (পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা) হয়, তখন এখানে বসবাসরত অভিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশেও সেই একই ধারা অব্যাহত থাকে। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী এ দেশের সকল নাগরিকের পরিচয় হবে ‘বাঙালি’। যদিও পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তা ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে সংশোধন করে সকল জাতি গোষ্ঠিকে স্বীকৃতি দেন।


স্বাধীনতার পর এক সময়ের বহিরাগত বা অভিবাসী হিসেবে যারা এখানে বসতি স্থাপন করেছিল, রাষ্ট্র উদারভাবে তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। কিন্তু এই নাগরিকত্বের অর্থ এই নয় যে, তারা রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অংশের একক মালিকানা বা ‘আদিবাসী’ স্ট্যাটাস দাবি করে অন্যদের সেই ভূমি থেকে বিতাড়িত করার অধিকার পাবে। সংবিধানে কোথাও কাউকে ‘আদিবাসী’ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, বরং ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে তাদের সংস্কৃতির সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে শুরু থেকেই।


আইএলও-১৬৯ ও অনুচ্ছেদ ৩০:

কেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের জন্য এত উন্মুখ? এর কারণ কোনো সাংস্কৃতিক আবেগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ। আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এর অনুচ্ছেদ ৩০ অনুযায়ী, কোনো দেশে আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেই অঞ্চলে তাদের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র কোনো সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা বা নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করতে পারবে না। যদি বাংলাদেশ এই দাবি মেনে নেয়, তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে তার সার্বভৌম রক্ষার নিয়ন্ত্রণ হারাবে। রাষ্ট্র চাইলেও সেখানে সীমান্ত রক্ষা বা সন্ত্রাস দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এটি পার্বত্য এলাকায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি মরণফাঁদ বা ‘ডেথ ট্র্যাপ’।

ভূমি জরিপ, মালিকানার প্রশ্ন এবং রাজস্ব বঞ্চনা:

২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইনকিলাব-এ প্রকাশিত আমার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এবং ১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত “পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমির মালিকানা জটিলতা : জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি” শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে দেখিয়েছিলাম যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ভূমি জরিপ না হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সমতলে যেখানে প্রতি ইঞ্চির খাজনা ও মালিকানা সুনির্দিষ্ট, পাহাড়ে সেখানে এক চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বর্তমান সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সম্প্রতি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না”। সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়নে পাহাড়ের ভূমি জরিপ করা অপরিহার্য। কিন্তু আদিবাসী দাবিকারীরা ভূমি জরিপের বিরোধিতা করে, কারণ জরিপ হলে তাদের অবৈধ দখলদারিত্ব এবং সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটবে। তারা চায় না দালিলিক প্রমাণ তৈরি হোক, কারণ প্রথাগত অধিকারের দোহাই দিয়ে ভূমি দখলে রাখা তাদের জন্য সহজ।


আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা এখন আর সামন্ত যুগে বাস করছি না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক সমান। কাউকেই এখানে নিজেকে ‘আশরাফ’ বা উচ্চজাতি ভাবার সুযোগ নেই এবং কাউকে ‘জুম্ম’ ভেবে বাড়তি সুবিধা দেওয়ারও অবকাশ নেই। পাহাড়ে প্রচলিত বিশেষ আইনগুলো মূলত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের অধিকারের পরিপন্থী। সারা দেশে যেমন একই ভূমি আইন চলে, পাহাড়েও তেমনি অভিন্ন আইন ও রাজস্ব কাঠামো কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।


ভারত ও মায়ানমার যেখানে ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক সত্যের ভিত্তিতে ‘আদিবাসী’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে বাংলাদেশের নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ দেশে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আমাদের সম্মানিত নাগরিক হতে পারে, কিন্তু তারা কোনোভাবেই ‘আদিবাসী’ নয়। ইতিহাস ও দলিল প্রমাণ করে তারা এ ভূখণ্ডে অভিবাসী হিসেবে এসেছে এবং রাষ্ট্র তাদের পরম মমতায় গ্রহণ করেছে। এখন সময় এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ শতাংশ ভূমিতে রাষ্ট্রের পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার।


রাষ্ট্রকে অবশ্যই দ্রুত ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রতি ইঞ্চির মালিকানা ও রাজস্ব নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ১১ শতাংশ ভূমির নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে হলো সামগ্রিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটির এক ইঞ্চি জমির ওপরও যাতে কেউ অন্যায্য দাবি তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। ভারত বা মায়ানমার যা হতে দেয়নি, বাংলাদেশকেও তা রুখে দাঁড়াতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

জুলাই গণঅভ্যুত্থান

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি

সশস্ত্রবাহিনী ও প্যারামিলিটারি

জিয়া পরিবার

জিয়া পরিবার

পার্বত্য চট্টগ্রাম

পার্বত্য চট্টগ্রাম

ভারত ইস্যু

ভারত ইস্যু

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক ইস্যু

ধর্ম ও সাম্প্রদায়িক ইস্যু

চলমান ইস্যু

চলমান ইস্যু

কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি

কূটনীতি ও পররাষ্ট্রনীতি
© all rights reserved
made with by templateszoo