তৃণমূলের নেতা থেকে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক: তারেক রহমানের প্রশাসনিক সংস্কার ও অপচয়হীন জীবনধারা

0

তৃণমূলের নেতা থেকে দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক: তারেক রহমানের প্রশাসনিক সংস্কার ও অপচয়হীন জীবনধারা

রাজনীতিতে ক্ষমতার মসনদে বসার পর সাধারণত প্রথাগত আড়ম্বর ও ভিআইপি কালচারের এক রাজকীয় বলয় তৈরি হয়। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ক্ষমতাকে উদযাপনের মাধ্যম না বানিয়ে, দায়িত্ব ও সেবার এক অনন্য প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরিত করেছেন। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম, কারানির্যাতন ও নির্বাসন শেষে জনগণের গণরায় নিয়ে নির্বাচিত হয়ে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছেন, যা দেশের আমলাতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের মাঝে এক নতুন দিগন্ত সূচনা করেছে।

'মাননীয়' বা 'হিজ এক্সেলেন্সি' বর্জন: দায়িত্ব গ্রহণের পর অনেক প্রশাসনিক সংস্কার তিনি করেছেন। সর্বশেষ ভিআইপি সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় প্রতীকীয় প্রাচীরটি ভেঙে দেন। সরকারি ফাইল, চিঠি বা আনুষ্ঠানিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে তাঁর নামের আগে 'মাননীয়', 'হিজ এক্সেলেন্সি' বা এ জাতীয় আড়ম্বরপূর্ণ পদবি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। নিজের দপ্তর থেকেই তিনি এর বাস্তবায়ন শুরু করে বার্তা দেন যে, পদের চেয়ে দেশের মানুষের কাজ ও সেবাই মুখ্য।

প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ডিজিটাল হাজিরা: প্রশাসনিক জবাবদিহিতা ও সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করতে তিনি কেবল অন্যদের নির্দেশ দিয়েই ক্ষান্ত হননি, নিজে Secretariat ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় ডিজিটাল হাজিরা (Online Attendance) দেওয়া শুরু করেন। সরকারপ্রধান নিজে বায়োমেট্রিক হাজিরা দেওয়ায় পুরো সরকারি আমলাতন্ত্রের কর্মসংস্কৃতিতেই এক আমূল পরিবর্তনের সুর বাজছে। এ যেন নতুন বাংলাদেশের সূচনা। এর আগে সময় মতো অফিসে পৌঁছানোর বাধ্যবাধকতাও তৈরি করেন তিনি। এমনকি শনিবার ছুটির দিনেও নিয়মিত অফিস করছেন। 

সাধারণ পোশাক ও সাদাসিধে জীবনযাপন: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পরও তাঁর পোশাক-আশাকে কোনো অহেতুক আভিজাত্য বা ঝলমলে কৃত্রিমতা আসেনি। অতি সাধারণ দেশি মোটা সুতি কাপড়, মার্জিত পোশাক ও সাদাসিধে উপস্থিতি দিয়ে তিনি বজায় রেখেছেন এক আত্মমর্যাদাশীল ও মাটির কাছাকাছি থাকা রাষ্ট্রপ্রধানের রূপ।

প্রটোকল ছাঁটাই ও ট্রাফিক ভোগান্তি দূরীকরণ: প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময়ে সাধারণ মানুষের তীব্র ট্রাফিক জ্যাম ও সিগন্যালে আটকে পড়ার প্রাচীন প্রথা তিনি বন্ধ করেছেন। তাঁর প্রটোকল বা কনভয়ে অতিরিক্ত গাড়ির সংখ্যা বহুগুণ কমিয়ে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় জরুরি কাজ ছাড়া তিনি অপ্রয়োজনীয় ফ্ল্যাগ কার ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে চলেন।

বাজেট সংকোচন ও খাবারের অপচয় রোধ: সরকারি খরচ ও রাজস্বের অপচয় কমাতে তাঁর কার্যালয় থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নীতি। সরকারি কোনো মিটিং বা রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে দামি আপ্যায়ন বা বিলাসবহুল ভোজের পরিবর্তে সাদামাটা ও পরিমিত আপ্যায়নের নির্দেশনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যয়ে মিতব্যয়িতা এনে সেই অর্থ জনগণের মৌলিক চাহিদায় খরচের কড়া তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

ফটো কালচার ও তোষামোদির অবসান: সরকারি অফিস, লিফলেট, ব্যানার বা সরকারি কার্যক্রমের প্রচারে প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহারের মানসিকতা বন্ধের নির্দেশ দেন তিনি। ব্যক্তিত্ব বন্দনা বাদ দিয়ে দৃশ্যমান কাজে জোর দেওয়াই তাঁর প্রধান দর্শন।

রাজনীতির রাজপুত্র থেকে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই পরিবর্তনগুলো কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত জীবনচর্চা ও কাজের মাধ্যমে ফুটে উঠছে। এই ক্ষুদ্র কিন্তু যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলোই সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের ব্যবধান কমিয়ে এক নতুন ও আধুনিক বাংলাদেশ গঠনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করছে। আশা করি তারেক রহমানের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে নতুন বাংলাদেশ। 

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team