পরীক্ষায় ফেল মানে কি জীবন শেষ?


পরীক্ষায় ফেল মানে কি জীবন শেষ? 


পরীক্ষায় একটি ফল কখনো একজন মানুষের পুরো ভবিষ্যৎ বা তার মেধার শেষ সীমানা নির্ধারণ করতে পারে না। এসএসসি পরীক্ষা জীবনের একটি ধাপ মাত্র, এটি শেষ গন্তব্য নয়। যারা আশা অনুযায়ী রেজাল্ট করতে পারোনি, তাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। মনে রাখা দরকার, জীবনের আসল পরীক্ষা শ্রেণিকক্ষের বাইরে, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক জিপিএ-৫ এর চেয়ে ইচ্ছাশক্তি, পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাস অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বিশ্বের বহু সফল ও যুগান্তকারী ব্যক্তিত্ব প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফেল করেছিলেন বা ঝরে পড়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে ইতিহাস গড়েছেন:

  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাংলা সাহিত্যের প্রথম নোবেলজয়ী কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রাতিষ্ঠানিক স্কুলশিক্ষায় একেবারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন না। তিনি কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়েছিলেন। অথচ তার লেখা ও সাহিত্য আজও বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।

  • বিল গেটস: বিশ্বের অন্যতম প্রধান তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'মাইক্রোসফট'-এর প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ালেখা শেষ করতে পারেননি। তিনি পরীক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক পড়ালেখায় আটকে না থেকে নিজের স্বপ্ন ও উদ্ভাবনী শক্তিকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন।

  • এডলফ টিমোথি (বা আলবার্ট আইনস্টাইন): পদার্থবিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন ছোটবেলায় স্কুলে প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় বেশ পিছিয়ে ছিলেন। এমনকি মিউনিখ স্কুলে ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তার আপেক্ষিকতার তত্ত্ব আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানকে বদলে দেয়।

  • থমাস আলভা এডিসন: আলোর বাল্ব ও বহু গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের জনক থমাস এডিসনকে ছোটবেলায় স্কুল থেকে 'পড়াশোনায় অক্ষম' বলে বের করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি প্রথাগত ডিগ্রি ছাড়াই নিজের চেষ্টা ও গবেষণায় বিশ্বের অন্যতম সেরা উদ্ভাবক হয়ে ওঠেন।

  • স্টিভ জবস: অ্যাপল (Apple)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস মাত্র এক সেমিস্টার পরেই কলেজ ছেড়ে দেন। প্রাতিষ্ঠানিক সার্টিফিকেট না থাকলেও তার প্রযুক্তিগত দৃষ্টিভঙ্গি পুরো বিশ্বের যোগাযোগ ও স্মার্টফোন শিল্পকে নতুন রূপ দিয়েছে।

  • সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ: বাংলাদেশের টানা দুই মেয়াদের সফল রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ তার ছাত্রজীবনে পরীক্ষার ফলাফলে সবসময় শীর্ষস্থানে ছিলেন না। এমনকি তিনি একাধিকবার প্রাতিষ্ঠানিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য বা প্রত্যাশিত ফল পাননি। কিন্তু তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানুষের সাথে সংযোগ এবং নেতৃত্বের দক্ষতা তাকে দেশের সর্বোচ্চ পদে আসীন করেছে।

এসএসসি পরীক্ষার রেজাল্ট খারাপ হওয়া মানে জীবনের সমাপ্তি নয়, বরং এটি ঘুরে দাঁড়ানোর একটি নতুন সুযোগ। ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের আসল দক্ষতা ও আগ্রহকে খুঁজে বের করাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ। ভবিষ্যতে সাফল্য অর্জনের হাজারো পথ খোলা রয়েছে, প্রয়োজন শুধু ধৈর্য ও নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা।

এসএসসি'র রেজাল্ট একটি অধ্যায় মাত্র, পুরো জীবন নয়


 এসএসসি'র রেজাল্ট একটি অধ্যায় মাত্র, পুরো জীবন নয়

প্রতি বছর যখন এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, তখন লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীর মধ্যে অনেকেই এমন এক ফলাফল হাতে পান, যা তাদের নিজের কাছে, পরিবারের কাছে, প্রতিবেশীর কাছে যথেষ্ট মনে হয় না। কারও জিপিএ কাঙ্ক্ষিত মানের নিচে থাকে, কেউবা এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়। সেই মুহূর্তে মনে হয়, যেন গোটা জীবনের ভবিষ্যৎ একটি কাগজের টুকরোয় লেখা কয়েকটি সংখ্যার মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে। বাড়িতে মন খারাপের ছায়া নামে, বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের প্রশ্ন এড়িয়ে চলতে ইচ্ছা করে, নিজেকে ব্যর্থ মনে হতে থাকে। অথচ ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, পরীক্ষার খাতায় ভালো ফল না করেও অসংখ্য মানুষ পরবর্তী জীবনে এমন উচ্চতায় পৌঁছেছেন, যা কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়।

বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে বড় নাম রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কথাই ধরা যাক। শৈশবে তিনি কলকাতার একাধিক স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন, কিন্তু প্রথাগত শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় মন বসাতে পারেননি এবং প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাজীবন সম্পূর্ণ করেননি। যে মানুষটি পরবর্তী জীবনে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার জিতে সমগ্র এশিয়ার গর্ব হয়ে উঠলেন, তাঁর শুরুটা প্রচলিত অর্থে মোটেও মসৃণ ছিল না। বিদ্যালয়ের গণ্ডির মধ্যে যাকে মাপা যায়নি, তিনিই পরবর্তীতে বিশ্বকবি হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলাদেশের ইতিহাসেও এমন উদাহরণ আছে, যা সরাসরি একজন রাষ্ট্রপ্রধানের নিজের মুখে বলা। সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ একাধিক অনুষ্ঠানে খোলাখুলি বলেছেন, ছাত্রজীবনে তিনি বহুবার পরীক্ষায় ফেল করেছেন, ছাত্র আন্দোলনে সক্রিয় থাকার কারণে যথাসময়ে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পারেননি। কিন্তু তিনি এটাও গর্বের সঙ্গে বলেছেন যে, পাস করার জন্য কখনো নকলের মতো অসৎ পথ বেছে নেননি। যিনি একসময় বারবার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি, তিনিই পরবর্তীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। এই গল্প শুধু ব্যর্থতার নয়, বরং সততা আর অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সেই ব্যর্থতা পেরিয়ে যাওয়ার গল্প।

পশ্চিমা বিশ্বেও এই তালিকা দীর্ঘ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনকে নেতৃত্ব দেওয়া উইনস্টন চার্চিল ছাত্রজীবনে মোটেও উজ্জ্বল ছাত্র ছিলেন না। স্কুলে তাঁর ফলাফল ছিল হতাশাজনক, আর সামরিক প্রশিক্ষণ একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার প্রবেশিকা পরীক্ষায় তিনি একাধিকবার ব্যর্থ হয়েছিলেন। অথচ সেই মানুষটিই পরবর্তী জীবনে একটি জাতিকে যুদ্ধের ভয়াবহতম সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারও অর্জন করেছেন। উদ্ভাবক টমাস আলভা এডিসনের ছেলেবেলাও ছিল প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে বেমানান। তাঁর শিক্ষকরা তাঁকে পড়াশোনায় অমনোযোগী ও দুর্বল বলে মনে করতেন, স্কুলে তাঁর সময়টা ছিল সংক্ষিপ্ত ও কঠিন। অথচ পরবর্তী জীবনে হাজারের বেশি উদ্ভাবনের মাধ্যমে তিনি আধুনিক বিশ্বকে বদলে দিয়েছেন।

প্রযুক্তি জগতের দিকে তাকালেও একই চিত্র। মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েও ডিগ্রি সম্পন্ন করার আগেই পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছিলেন, কারণ তিনি নিজের একটি স্বপ্নকে তাড়া করতে চেয়েছিলেন। প্রথাগত সনদের পথ অনুসরণ না করেও তিনি আজ বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও সফল ব্যক্তিত্ব। তাঁর জীবন প্রমাণ করে, একটি নির্দিষ্ট রাস্তায় না হাঁটলেও সাফল্যের গন্তব্যে পৌঁছানো যায়।

এই সব উদাহরণ থেকে একটি বার্তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরীক্ষার ফল একটি নির্দিষ্ট সময়ে, নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে, নির্দিষ্ট কয়েকটি বিষয়ে একজন শিক্ষার্থীর প্রস্তুতি মূল্যায়ন করে মাত্র। এটি কোনোভাবেই একজন মানুষের মেধা, সম্ভাবনা, চরিত্র বা ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ পরিচয় বহন করে না। জীবনে সাফল্যের পথ অনেক, আর সেই পথের শুরুটা প্রত্যেকের জন্য একরকম হয় না। যে শিক্ষার্থী এবার প্রত্যাশিত ফল পায়নি, তার সামনে এখনও পুরো জীবন পড়ে আছে। দরকার শুধু হতাশায় থমকে না গিয়ে নিজের আগ্রহ, শক্তি আর অধ্যবসায়কে চেনার এবং সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার সাহস। একটি পরীক্ষার ফল দিয়ে কারও গোটা জীবনের মূল্য নির্ধারিত হয় না, বরং জীবন নিজেই বহু পরীক্ষার সমষ্টি, আর প্রকৃত পরীক্ষা হলো হতাশার মুখে দাঁড়িয়ে আবার উঠে দাঁড়ানোর ক্ষমতা। 

ফলে তোমরা যারা পরীক্ষায় একটু কম ভালো রেজাল্ট করেছো, বা অনেকেই এবার কৃতকার্য হতে পারো নি, তার মানে এই নয় যে আগামী তুমি পারবে না। 

প্রতিজ্ঞা কর, আগামীতে তুমিই হবে বোর্ডের সেরা স্টৃুডেন্ট। স্কুলের সেরা ছাত্র বা ছাত্রী। 

পরীক্ষায় ভালো ফল না আসা মানেই জীবনের শেষ নয়। এসএসসি বা যেকোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল যারা পেয়েছ, তোমাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো—


পরীক্ষায় ভালো ফল না আসা মানেই জীবনের শেষ নয়। এসএসসি বা যেকোনো পরীক্ষায় খারাপ ফল যারা পেয়েছ, তোমাদের উদ্দেশ্যে এই কথাগুলো—

রেজাল্ট পাওয়ার পর তোমরা হয়তো অনেকে এখন হতাশ, লজ্জিত বা চিন্তিত। পরিবারের চোখে চোখ রাখতে পারছ না, বন্ধুদের ফল দেখে মন খারাপ হচ্ছে। কিন্তু মনে রেখো—একটা পরীক্ষার নম্বর দিয়ে তোমার পুরো জীবন নির্ধারিত হয় না। জীবন অনেক বড়। ভবিষ্যতে আরও অনেক সুযোগ, অনেক রাস্তা, অনেক সম্ভাবনা অপেক্ষা করছে।

ইতিহাস আমাদের শেখায় যে, যারা একসময় পরীক্ষায় বা স্কুলে ব্যর্থ হয়েছিল, তারাই পরে পৃথিবীকে বদলে দিয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর স্কুলে পড়তে চাইতেন না। সেন্ট জেভিয়ার্স স্কুলে ভর্তি হয়েও প্রমোশন পাননি, বাড়িতে গৃহশিক্ষকের কাছে পড়াশোনা করতেন। কলেজে একদিন গিয়ে আর যাননি। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেননি। কিন্তু সেই ব্যক্তিই নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন, বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরেছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন—শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় পাস করা নয়, মনের দরজা খুলে দেওয়া।

বিল গেটস স্কুলে ভালো ছিলেন, কিন্তু হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময়ই ড্রপ আউট করে মাইক্রোসফট গড়ে তোলেন। তিনি বুঝেছিলেন, সময়ের সুযোগ হাতছাড়া করা যায় না। আজ তিনি বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি।

জ্যাক মা (আলিবাবার প্রতিষ্ঠাতা) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় বারবার ফেল করেছেন। গণিতে একবার মাত্র ১ নম্বর পেয়েছিলেন। তিনবার চেষ্টা করেও ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকতে পারেননি। পরে চাকরির জন্য আবেদন করেও প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। আজ আলিবাবা বিশ্বের অন্যতম বড় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান।

টমাস এডিসনের শিক্ষক বলেছিলেন, “এ ছেলেকে কিছুই শেখানো যাবে না।” স্কুলে মাত্র তিন মাস পড়েই বাদ পড়েন। পরে তিনিই আবিষ্কার করেন বৈদ্যুতিক বাল্বসহ হাজারো জিনিস।

রিচার্ড ব্র্যানসন স্কুল ছেড়ে দিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সে, কোনো ভালো যোগ্যতা ছাড়াই। শিক্ষক বলেছিলেন, “তুমি হয় জেলে যাবে, নয়তো কোটিপতি হবে।” তিনি কোটিপতিই হয়েছেন—ভার্জিন গ্রুপের মালিক।

এসব উদাহরণ শুধু বিদেশের নয়। আমাদের দেশেও অনেক মানুষ আছেন যারা খুব সাধারণ পরিবেশ থেকে উঠে এসেছেন। প্রেসিডেন্ট আব্দুল হামিদ গ্রামের স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করে উচ্চ শিক্ষা নিয়েছেন এবং দেশের সর্বোচ্চ পদে পৌঁছেছেন। গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো—তারা কেউই একটা পরীক্ষার ফলকে জীবনের চূড়ান্ত বিচারক হিসেবে মেনে নেননি।

তোমাদের এসএসসি ফল খারাপ হয়েছে বলে তোমরা ব্যর্থ নও। এটা শুধু একটা ধাপ। এখন যা করবে:

  • নিজেকে দোষারোপ করো না।
  • হতাশায় ভেঙে পড়ো না।
  • পরের ধাপ ঠিক করো—এইচএসসি, ভোকেশনাল, দক্ষতাভিত্তিক কোর্স, ব্যবসা, কারিগরি শিক্ষা—যা তোমার আগ্রহ ও সামর্থ্য অনুযায়ী।
  • পরিশ্রম, ধৈর্য আর শেখার আগ্রহ রাখো।

পরীক্ষার নম্বর জীবনের সবকিছু নয়। জীবন হলো চেষ্টা, সাহস আর নিজের উপর বিশ্বাস। যারা আজ হতাশ, তারাই কাল নতুন করে উঠে দাঁড়াতে পারে। তোমরাও পারবে।

ভবিষ্যৎ এখনো তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। শুধু হাল ছেড়ো না।

পরীক্ষার খাতায় পাওয়া নম্বর তোমার পুরো জীবন নয়


পরীক্ষার খাতার কয়েকটি সংখ্যা তোমার পুরো জীবন নয়

প্রিয় এসএসসি পরীক্ষার্থী,

আজ হয়তো তোমার হাতে ফলাফল এসেছে। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে জল। কেউ জিপিএ-৫ পেয়েছে, কেউ প্রত্যাশার চেয়ে কম পেয়েছে, আবার কেউ হয়তো ফেলও করেছে।

যে ছেলেটা বা মেয়েটা আজ মনে করছে—“আমার জীবন শেষ”, তাকে একটা কথা বলতে চাই:

না, জীবন শেষ হয়নি। বরং জীবনের আসল পরীক্ষাগুলো এখনো শুরুই হয়নি।

এসএসসির ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ—এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ভালো ফলাফল তোমাকে কিছু দরজা খুলে দিতে পারে। কিন্তু একটা পরীক্ষার ফলাফল তোমার বুদ্ধি, সৃজনশীলতা, সাহস, নেতৃত্ব, পরিশ্রম কিংবা ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে পুরোপুরি মাপতে পারে না।

ইতিহাসের দিকে তাকাও।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রথাগত স্কুলশিক্ষার সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেননি। তিনি নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শেষ করেননি; ইংল্যান্ডে গিয়েও তাঁর আনুষ্ঠানিক পড়াশোনা শেষ হয়নি। অথচ সেই মানুষটিই পরে বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে নিয়ে গেলেন এবং ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পেলেন।

বিল গেটস হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েছিলেন, কিন্তু ডিগ্রি শেষ না করেই বেরিয়ে আসেন। সেই সিদ্ধান্তের পর তিনি মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন এবং প্রযুক্তি জগতের অন্যতম প্রভাবশালী উদ্যোক্তা হয়ে ওঠেন।

আরেকটি দারুণ উদাহরণ উইনস্টন চার্চিল। সামরিক কলেজ স্যান্ডহার্স্টে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষায় তিনি প্রথমবার ব্যর্থ হন; শেষ পর্যন্ত তৃতীয় চেষ্টায় উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে তিনিই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়ে ওঠেন।

আলবার্ট আইনস্টাইন সম্পর্কেও একটি প্রচলিত গল্প আছে যে তিনি স্কুলে ফেল করতেন। আসল ঘটনা এতটা সরল নয়। ১৮৯৫ সালে জুরিখের পলিটেকনিকে ভর্তি পরীক্ষায় তাঁর কিছু বিষয়ে প্রয়োজনীয় ফল হয়নি; পরে আরাউয়ের স্কুলে পড়াশোনা করে তিনি পরের বছর যোগ্যতা অর্জন করেন এবং পলিটেকনিকে ভর্তি হন। অর্থাৎ একটি পরীক্ষার ধাক্কা তাঁর ভবিষ্যৎ থামিয়ে দিতে পারেনি।

জ্যাক মা-ও জীবনে পরীক্ষার ব্যর্থতা ও প্রত্যাখ্যানের মুখোমুখি হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় তিনি দুইবার ব্যর্থ হওয়ার পর তৃতীয়বার উত্তীর্ণ হন। পরে ইংরেজির শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করে আলিবাবা প্রতিষ্ঠা করেন।

আর আমাদের দেশের মো. আবদুল হামিদ—যিনি পরবর্তীতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন—তাঁর ক্ষেত্রেও মনে রাখা দরকার, তিনি কিন্তু সব পরীক্ষায় তৃতীয় বিভাগ পাওয়া একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।  তাঁকে দেখলে মনে হয়, জীবনের সাফল্য শুধু পরীক্ষার নম্বরের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে না; দীর্ঘ সংগ্রাম, রাজনীতি, নেতৃত্ব ও মানুষের জন্য কাজ করাও একজন মানুষকে অনেক দূর নিয়ে যেতে পারে।

তাই আজ যারা এসএসসিতে প্রত্যাশিত ফল পাওনি, তাদের বলছি—

নিজেকে একটি রেজাল্ট দিয়ে বিচার করো না।

তুমি হয়তো গণিতে দুর্বল, কিন্তু তুমি অসাধারণ একজন লেখক হতে পারো।
তুমি হয়তো ইংরেজিতে কম নম্বর পেয়েছ, কিন্তু তুমি অসাধারণ উদ্যোক্তা হতে পারো।
তুমি হয়তো পরীক্ষার হলে ভালো করতে পারোনি, কিন্তু বাস্তব জীবনের সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা তোমার অসাধারণ হতে পারে।

আজকের ফলাফল তোমার অবস্থা জানায়; তোমার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না।

তবে একটা কথা মনে রেখো—এই গল্পগুলো শুনে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার কোনো কারণ নেই। রবীন্দ্রনাথ, বিল গেটস বা জ্যাক মার মতো মানুষের গল্পের শিক্ষা “পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ নয়” নয়; শিক্ষা হলো একটি ব্যর্থতা বা একটি প্রথাগত পথের সঙ্গে নিজেকে আটকে রেখো না। সফল মানুষরা নিজেদের শক্তি খুঁজে নিয়ে বছরের পর বছর পরিশ্রম করেছেন। কলেজ ড্রপআউটদের সাফল্য ব্যতিক্রম; শুধু ড্রপআউট হওয়া নিজে কোনো সাফল্যের সূত্র নয়।

তাই আজ যদি তোমার ফলাফল খারাপ হয়, একটু কাঁদতে ইচ্ছে করলে কেঁদে নাও। মন খারাপ হলে মন খারাপ করো। কিন্তু নিজেকে হেরে যাওয়া মানুষ ভাববে না।

কারণ তোমার সামনে এখনো কলেজ আছে।
বিশ্ববিদ্যালয় আছে।
দক্ষতা শেখার সুযোগ আছে।
ব্যবসা করার সুযোগ আছে।
চাকরি আছে।
সৃজনশীলতা আছে।
হাজারো নতুন মানুষ ও নতুন অভিজ্ঞতা আছে।

সবচেয়ে বড় কথা—

তোমার সামনে এখনো পুরো জীবন পড়ে আছে।

এসএসসির রেজাল্ট তোমার জীবনের একটি অধ্যায় মাত্র।
এটা পুরো বই নয়।

আজ যে ফলাফল দেখে তুমি নিজেকে ছোট ভাবছ, একদিন হয়তো পেছনে ফিরে তাকিয়ে বলবে—

“সেদিন আমি ভেবেছিলাম আমি হেরে গেছি। আসলে সেদিনই আমার নতুন করে শুরু হয়েছিল।”

তাই মাথা উঁচু করো।

ফলাফলকে মেনে নাও, ভুল থেকে শেখো, নিজের দুর্বলতা ঠিক করো এবং নতুন করে শুরু করো।

কারণ জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসএসসি নয়—
জীবন যখন তোমাকে বারবার পড়ে যেতে বলবে, তখন তুমি কতবার উঠে দাঁড়াতে পারো, সেটাই আসল পরীক্ষা।

আবু উবাইদা অরিনের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ


আবু উবাইদা অরিনের
রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ

গত আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত ‘Sheikh Hasina’s Homecoming’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী আবু উবাইদা অরিন বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার এই বাসিন্দা বর্তমানে ভারতে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন এবং সেখানেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, ARSA ও RSO নামের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনের বেশি ‘জঙ্গি’ পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ, সরকারি নথি, তদন্তের ফলাফল, নির্ভরযোগ্য সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও এ ধরনের দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেই প্রতীয়মান হয়।

আবু উবাইদা অরিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরিনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি সাতক্ষীরার জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। লেখাপড়ার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সেনাবাহিনীকে এভাবে অপ্রমাণিত অভিযোগের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার চেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অরিনের এই বক্তব্যে কোনো সত্যতা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং দায়িত্বহীন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, সর্বশেষ সমকামী বিয়ের বিতর্ক

 


২০২৩ সালের ১ এপ্রিল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চলমান নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবায়েতবিহীন পরিচালনার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, কিছু গোষ্ঠী সাময়িক অনুমতি নিয়ে পূজা করতে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। তারা মন্দিরকে অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। একজন বিদেশি নাগরিককে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পদে বসিয়ে দান-অনুদানের টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। মন্দিরের নামের সঙ্গে “জাতীয়” উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, মন্দির চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে। সেবায়েতকে অধিকার থেকে সরিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। মন্দিরে আসা দেশি-বিদেশি অতিথিদের দান-অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব নেই বলেও দাবি করা হয়। জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পরও কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করে স্থানীয়দের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করা হচ্ছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

এই অভিযোগগুলোর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরগুলোতেও মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। দেবোত্তর সম্পত্তির দখল, বাণিজ্যিকীকরণ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। মন্দিরের জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের দাবি, মন্দির পরিচালনাকারীরা সম্পত্তি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ না নিয়ে বরং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ও এক হিন্দু যুবকের মধ্যে ধর্মীয় রীতিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। দেশের প্রচলিত আইনে সমকামিতা ও সমলিঙ্গের বিবাহ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এমন আয়োজন হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকরা এ ঘটনাকে আইনের প্রতি অবজ্ঞা, সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং ধর্মীয় পবিত্র স্থানের অপব্যবহার বলে অভিহিত করেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—মন্দির কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন আয়োজন অনুমোদন বা সহ্য করলেন? কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দির কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করে যে তারা বিষয়টি জানতেন না এবং নথিপত্রে জালিয়াতি হয়ে থাকতে পারে। তবুও ঘটনাটি মন্দিরের পরিচালনা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

এসব অভিযোগ ও ঘটনা মিলিয়ে অনেকেই মনে করেন, ঢাকেশ্বরী মন্দির দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিতর্কিত কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেবায়েত ব্যবস্থার দুর্বলতা, আর্থিক হিসাবের অস্বচ্ছতা, সম্পত্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং আইন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি উদাসীনতা—এসব বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। মানববন্ধন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিতর্ক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উঠে আসা অভিযোগগুলো মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

ভারত-মায়ানমারে নেই, বাংলাদেশে আদিবাসী এলো কোথা থেকে?

 পার্বত্য চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে ‘আদিবাসী’ শব্দটির যে রাজনৈতিক ব্যবহার দেখা যাচ্ছে, তা কেবল ঐতিহাসিক সত্যের অপলাপ নয়, বরং একটি সুদূরপ্রসারী ভূ-রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞগণ। ২০০৭ সালে জাতিসংঘের ‘আদিবাসী অধিকার বিষয়ক ঘোষণাপত্র’ (ইউএনডিআরআইপি) গ্রহণের পর থেকে দেশি-বিদেশি একটি বিশেষ মহল বাংলাদেশে বসবাসরত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোকে ‘আদিবাসী’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে মরিয়া। বাংলাদেশের মোট ভূ-খণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে বিস্তৃত এই অঞ্চলটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলের মদদে এক গভীর সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই নৃগোষ্ঠীগুলোর আদি উৎসভূমি হিসেবে পরিচিত প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মায়ানমারে যদি তাদের ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি না থাকে, তবে বাংলাদেশে তারা এই দাবি তোলে কোন যুক্তিতে?

চেহারা ও শারীরিক গঠনে বাংলাদেশের পার্বত্য নৃগোষ্ঠীগুলোর সাথে সমতলের মানুষের মৌলিক পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। নৃ-বিজ্ঞানীদের মতে, এরা তিব্বতি-বর্মি ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, যা বৃহত্তর মঙ্গোলীয় মহাজাতির একটি শাখা। তাদের চ্যাপ্টা নাক, ক্ষুদ্র চোখ, উন্নত গালের হাড় এবং চোখের ওপরের বিশেষ ভাঁজ প্রমাণ করে তাদের আদি বংশধারা উত্তর-পূর্ব এশিয়া এবং মঙ্গোলীয় মালভূমি থেকে এসেছে। নৃ-বিজ্ঞানী স্যার হার্বার্ট রিজলি তার গবেষণায় এদের ‘মঙ্গোলো-দ্রাবিড়’ হিসেবে চিহ্নিত করলেও তাদের আদি বসতি হিসেবে দক্ষিণ চীন, তিব্বত ও মায়ানমার সীমান্তকেই নির্দেশ করেছেন। এই মঙ্গোলীয় চেহারার সাদৃশ্যই বলে দেয় তাদের উৎসভূমি এই বঙ্গীয় বদ্বীপ নয়।


পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীগুলো যে এই ভূ-খণ্ডের ভূমিপুত্র নয়, বরং বিভিন্ন সময়ে অভিবাসিত হয়ে আসা জনগোষ্ঠী, তার ভূরি ভূরি প্রমাণ ঐতিহাসিক দলিলসমূহেও বিদ্যমান। ১৯০৬ সালে প্রকাশিত আর. এইচ. এস হাচিনসনের বিখ্যাত গ্রন্থ “Gazetteer of the Chittagong Hill Tracts”-এ এই অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর অভিবাসনের ইতিহাস অত্যন্ত স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। হাচিনসনের তথ্যমতে, চাকমা, মারমা ও ত্রিপুরাদের মতো বড় গোষ্ঠীগুলো মূলত মায়ানমারের আরাকান ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুদ্ধের কারণে পালিয়ে এসে এখানে আশ্রয় নিয়েছিল।


একইভাবে ১৮৬৯ সালে ব্রিটিশ প্রশাসক ক্যাপ্টেন জে. পি. লুইন তার “The Hill Tracts of Chittagong and the Dwellers Therein” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ব্রিটিশ আগমনের আগেও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীগুলো এক যাযাবর জীবনযাপন করত এবং তারা কোনো স্থায়ী ভূ-খণ্ডের একক মালিক ছিল না। এই ঐতিহাসিক সত্যগুলো প্রমাণ করে যে, বর্তমানে তারা যে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতি চাচ্ছে, তা ঐতিহাসিকভাবে একটি বড় ধরণের বিভ্রান্তি। তারা এই ভূমির আদি বাসিন্দা নয়, বরং বিভিন্ন যুদ্ধ ও রাজনৈতিক ডামাডোলে বিতাড়িত হয়ে পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিল।


আদিবাসী প্রশ্নে ভারতের অবস্থান:

উপমহাদেশের প্রধান রাষ্ট্র ভারতে পৃথিবীর অন্যতম বৃহৎ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীসমূহ বসবাস করে। কিন্তু ভারত রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো জনগোষ্ঠীকে ‘আদিবাসী’ (Indigenous) হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। ভারতের সংবিধানে তাদের ‘Scheduled Tribes’ বা ‘তফসিলি উপজাতি’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার পর ভারত রাষ্ট্রের যুক্তি ছিল অত্যন্ত বলিষ্ঠ—ভারতের সীমানায় বসবাসরত সকল নাগরিকই এই মাটির সন্তান বা মূল নিবাসী। নির্দিষ্ট একটি অংশকে ‘আদিবাসী’ বললে বাকি বিপুল সংখ্যক নাগরিককে পরোক্ষভাবে ‘সেটলার’ বা বহিরাগত হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি থাকে, যা রাষ্ট্রের সংহতির পরিপন্থী। এমনকি ভারত বিতর্কিত আইএলও কনভেনশন-১৬৯ (ILO 169) আজ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেনি। ভারত বিশ্বাস করে, হাজার বছরের সংমিশ্রণের ফলে এখন আর কাউকে এককভাবে আদিবাসী বলার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।


আদিবাসী প্রশ্নে মায়ানমারের নীতি:

ঐতিহাসিক তথ্যানুয়ায়ী পার্বত্য চট্টগ্রামের নৃগোষ্ঠীগুলোর অধিকাংশ গোত্র এ ভূখণ্ডে আসার আগে তাদের বসতি বা তাদের প্রধান উৎসভূমি হলো মায়ানমার (তৎকালীন আরাকান ও পেগু)। অথচ সেই মায়ানমার সরকারও তাদের ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীকে ‘National Races’ বা ‘জাতীয় জাতিসত্তা’ (তাইংয়িনথা) হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও ‘আদিবাসী’ হিসেবে গ্রহণ করেনি। মায়ানমার মনে করে, ‘আদিবাসী’ তকমা বিচ্ছিন্নতাবাদকে উসকে দেয় এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দেয়। বিশেষ করে আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এর ধারাগুলো তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করে তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।


দ্বিমুখী রাজনীতির শিকার বাংলাদেশ:

এখানেই বিস্ময়কর বৈপরীত্য লক্ষ্য করা যায়। যে মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে তারা বাংলাদেশে এলো, সেখানে তারা আদিবাসী নয়। যে ভারতে তাদের স্বগোত্রীয়রা বসবাস করছে, সেখানেও তারা আদিবাসী নয়। অথচ বাংলাদেশে এসে তারা কেন ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের জন্য মরিয়া? এর উত্তর লুকিয়ে আছে বাংলাদেশের ১১ শতাংশ ভূমি বা পার্বত্য চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ হারানোর গভীর ষড়যন্ত্রে। আন্তর্জাতিক দাতাগোষ্ঠী ও কিছু স্বার্থান্বেষী এনজিও-র সহায়তায় এই দাবি তোলা হচ্ছে, যাতে ভবিষ্যতে ‘আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার’ দাবি করে এই অঞ্চলকে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায়।


১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট:

ভারত ও মায়ানমারের এই যৌক্তিক অবস্থান বাংলাদেশের জন্যও একইভাবে প্রযোজ্য। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর এই অঞ্চল যখন পাকিস্তানের অংশ (পূর্ব পাকিস্তান বা পূর্ব বাংলা) হয়, তখন এখানে বসবাসরত অভিবাসী জনগোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃত হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশেও সেই একই ধারা অব্যাহত থাকে। ১৯৭২ সালের সংবিধান অনুযায়ী এ দেশের সকল নাগরিকের পরিচয় হবে ‘বাঙালি’। যদিও পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাতীয়তা ‘বাঙালি’ থেকে ‘বাংলাদেশী’ হিসেবে সংশোধন করে সকল জাতি গোষ্ঠিকে স্বীকৃতি দেন।


স্বাধীনতার পর এক সময়ের বহিরাগত বা অভিবাসী হিসেবে যারা এখানে বসতি স্থাপন করেছিল, রাষ্ট্র উদারভাবে তাদের নাগরিকত্ব দিয়েছে। কিন্তু এই নাগরিকত্বের অর্থ এই নয় যে, তারা রাষ্ট্রের একটি নির্দিষ্ট অংশের একক মালিকানা বা ‘আদিবাসী’ স্ট্যাটাস দাবি করে অন্যদের সেই ভূমি থেকে বিতাড়িত করার অধিকার পাবে। সংবিধানে কোথাও কাউকে ‘আদিবাসী’ বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়নি, বরং ‘উপজাতি’ বা ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী’ হিসেবে তাদের সংস্কৃতির সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে শুরু থেকেই।


আইএলও-১৬৯ ও অনুচ্ছেদ ৩০:

কেন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলো ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের জন্য এত উন্মুখ? এর কারণ কোনো সাংস্কৃতিক আবেগ নয়, বরং রাজনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ। আইএলও কনভেনশন-১৬৯-এর অনুচ্ছেদ ৩০ অনুযায়ী, কোনো দেশে আদিবাসী স্বীকৃতি দেওয়া হলে সেই অঞ্চলে তাদের সম্মতি ছাড়া রাষ্ট্র কোনো সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা বা নিরাপত্তা চৌকি স্থাপন করতে পারবে না। যদি বাংলাদেশ এই দাবি মেনে নেয়, তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামে তার সার্বভৌম রক্ষার নিয়ন্ত্রণ হারাবে। রাষ্ট্র চাইলেও সেখানে সীমান্ত রক্ষা বা সন্ত্রাস দমনে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারবে না। এটি পার্বত্য এলাকায় রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে স্থায়ীভাবে পঙ্গু করে দেওয়ার একটি মরণফাঁদ বা ‘ডেথ ট্র্যাপ’।

ভূমি জরিপ, মালিকানার প্রশ্ন এবং রাজস্ব বঞ্চনা:

২০১০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক ইনকিলাব-এ প্রকাশিত আমার এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এবং ১ মে ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক কালেরকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত “পার্বত্য চট্টগ্রামে ভূমির মালিকানা জটিলতা : জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি” শিরোনামে প্রকাশিত নিবন্ধে দেখিয়েছিলাম যে, পার্বত্য চট্টগ্রামে কোনো ভূমি জরিপ না হওয়ায় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে। সমতলে যেখানে প্রতি ইঞ্চির খাজনা ও মালিকানা সুনির্দিষ্ট, পাহাড়ে সেখানে এক চরম বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে। বর্তমান সরকারের ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন সম্প্রতি স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, “সরকারের এক ইঞ্চি জমির রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না”। সরকারের এই ঘোষণা বাস্তবায়নে পাহাড়ের ভূমি জরিপ করা অপরিহার্য। কিন্তু আদিবাসী দাবিকারীরা ভূমি জরিপের বিরোধিতা করে, কারণ জরিপ হলে তাদের অবৈধ দখলদারিত্ব এবং সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটবে। তারা চায় না দালিলিক প্রমাণ তৈরি হোক, কারণ প্রথাগত অধিকারের দোহাই দিয়ে ভূমি দখলে রাখা তাদের জন্য সহজ।


আমাদের মনে রাখা উচিত, আমরা এখন আর সামন্ত যুগে বাস করছি না। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও সংবিধান অনুযায়ী সকল নাগরিক সমান। কাউকেই এখানে নিজেকে ‘আশরাফ’ বা উচ্চজাতি ভাবার সুযোগ নেই এবং কাউকে ‘জুম্ম’ ভেবে বাড়তি সুবিধা দেওয়ারও অবকাশ নেই। পাহাড়ে প্রচলিত বিশেষ আইনগুলো মূলত সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক এবং সাধারণ পাহাড়ি ও বাঙালিদের অধিকারের পরিপন্থী। সারা দেশে যেমন একই ভূমি আইন চলে, পাহাড়েও তেমনি অভিন্ন আইন ও রাজস্ব কাঠামো কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি।


ভারত ও মায়ানমার যেখানে ঐতিহাসিক ও ভূ-রাজনৈতিক সত্যের ভিত্তিতে ‘আদিবাসী’ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে, সেখানে বাংলাদেশের নমনীয় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ দেশে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী আমাদের সম্মানিত নাগরিক হতে পারে, কিন্তু তারা কোনোভাবেই ‘আদিবাসী’ নয়। ইতিহাস ও দলিল প্রমাণ করে তারা এ ভূখণ্ডে অভিবাসী হিসেবে এসেছে এবং রাষ্ট্র তাদের পরম মমতায় গ্রহণ করেছে। এখন সময় এসেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১ শতাংশ ভূমিতে রাষ্ট্রের পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার।


রাষ্ট্রকে অবশ্যই দ্রুত ভূমি জরিপ সম্পন্ন করতে হবে এবং প্রতি ইঞ্চির মালিকানা ও রাজস্ব নিশ্চিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে, ১১ শতাংশ ভূমির নিয়ন্ত্রণ হারানো মানে হলো সামগ্রিক সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত। লাখো শহীদের রক্তে ভেজা এই মাটির এক ইঞ্চি জমির ওপরও যাতে কেউ অন্যায্য দাবি তুলতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। ভারত বা মায়ানমার যা হতে দেয়নি, বাংলাদেশকেও তা রুখে দাঁড়াতে হবে।

জুলাইয়ের স্মৃতিতে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি: প্রথম আলোর সুক্ষ্ম দেশবিরোধী কারসাজি

 


জুলাইয়ের স্মৃতিতে ‘আদিবাসী’ গ্রাফিতি: প্রথম আলোর সুক্ষ্ম দেশবিরোধী কারসাজি

আগস্টের ৫ তারিখ প্রথম আলোর ‘জুলাইয়ের তরজমা’ কলামে যে গ্রাফিতি ছাপা হয়েছে, তা নিছক কোনো শিল্পকর্মের পুনরুৎপাদন নয়। লক্ষাধিক ছবির মধ্যে থেকে ঠিক সেই বিতর্কিত গ্রাফিতিটি বেছে নেওয়া—যেখানে ‘আদিবাসী’ শব্দটি স্পষ্টভাবে খোদিত—একটি সুক্ষ্ম অথচ সুপরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক অভিযান।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইতোমধ্যেই সেই গ্রাফিতিকে পাঠ্যবইয়ের পেছনের কভার থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। কারণ এটি সংবিধান, পার্বত্য চুক্তি ও নৃতাত্ত্বিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অথচ প্রথম আলো সেই নিষিদ্ধ শব্দকেই আবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট—সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সংবেদনশীল একটি শব্দকে গণআন্দোলনের প্রতীকী ভাষার অংশ করে তোলা।

বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী নেই। পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা মাত্র সাড়ে তিনশো বছর আগে ভারত ও মায়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অভিবাসী হিসেবে এসেছে। তারা নিজেরাও শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে নিজেদের আদিবাসী দাবি করেনি। ২০০৭ সালে আইএলও কনভেনশন ও জাতিসংঘের আদিবাসী ঘোষণাপত্র প্রকাশের পর থেকেই এই দাবি উঠেছে—সুবিধাভোগের লোভে, ভিনদেশি প্রভুদের শিখানো ভাষায়।

এই দাবির পেছনে লুকিয়ে আছে বিচ্ছিন্নতাবাদের নীলনকশা। পার্বত্য চট্টগ্রামকে খণ্ডিত করার সুগভীর পরিকল্পনা। আর সেই পরিকল্পনার রসদ যোগায় প্রথম আলোর মতো কিছু সংবাদমাধ্যম। তারা ‘কালচারাল ফ্যাসিজম’-এর অনুশীলন করে—দেশ ও দেশের মানুষ যা চায় না, সেটাই চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।

৯ আগস্ট জাতিসংঘ ঘোষিত ‘আদিবাসী দিবস’। বাংলাদেশে আদিবাসী না থাকায় এই দিবস পালনের কোনো যৌক্তিকতা নেই। তবু প্রথম আলো এই মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে বিতর্কিত শব্দটিকে আবার প্রতিষ্ঠা করতে চায়। জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতিকে ব্যবহার করে তারা যে ন্যারেটিভ তৈরি করছে, তা গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে বিকৃত করারই অপচেষ্টা।

দেশের মানুষ জানে—জুলাইয়ের অভ্যুত্থান ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের লড়াই। সেই লড়াইয়ের স্মৃতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া কোনো নিরীহ ভুল নয়। এটি ইচ্ছাকৃত, সুপরিকল্পিত এবং দেশবিরোধী।

আবার আসিব ফিরে, ধানমণ্ডি ৩২ এর তীরে!

 আবার আসিব ফিরে, ধানমণ্ডি ৩২ এর তীরে! 


আবার আসিব ফিরে

আবার আসিব ফিরে ধানসিড়িটির তীরে—  

হয়তো মানুষ নয়,  

হয়তো বা শঙ্খচিলের বেশে...হয়তোবা ডাইনির বেশে! 


জীবনানন্দ দাশের এই কবিতাটা হয়তো আপনি পড়েছেন। এখন একটু অন্যভাবে বললাম। 

কেননা, এটা কবির ভাষায় হলেও রাজনীতির ভাষায় ব্যাপারটা কঠিন। 

শেখ হাসিনা বলেছেন, ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।  

চাইলেই কি ফিরে আসা যায়?


আগে তো চাইলেই ক্ষমতায় থাকা যেত।  

চাইলেই নির্বাচন জেতা যেত।  

চাইলেই বিরোধীদের জেলে পোরা যেত।  

চাইলেই গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করা যেত।  

চাইলেই “আমি-ডামি” নির্বাচন করা যেত।


এখন চাইলেই দেশে ফিরে আসা যায়?


মৃত্যুদণ্ডের রায় আছে।  

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা আছে।  

দল নিষিদ্ধ।  

নেতারা কারাগারে।  

পরিবারের প্রায় সবাই বিদেশে নিরাপদ।  

আর তিনি বলছেন—আমি ফিরব।


দেশের বাইরে বসে বলা সহজ—  

“আমি ফিরব। ভয় পাই না। জেলে যেতে রাজি। মৃত্যুদণ্ড হলেও রাজি।”


কিন্তু সত্যিই চাইলেই কি ফিরে আসা যায়?

যদি চাইলেই ফিরে আসা যেত, তাহলে  

— পরিবারের সবাই কি এখনো বিদেশে থাকতেন?  

— নেতারা কি এখনো কারাগারে থাকতেন?  

— দল কি নিষিদ্ধ থাকত?


চাইলেই ক্ষমতা ছাড়া যায়নি।  চাইলেও ক্ষমতায় থাকা যায় নি। অনেক চাওয়ার পরও দেশে থাকা যায় নি। এখন চাইলেই কি ফিরে আসা যাবে? 

বোঝা যাচ্ছে—  

রাজনীতিতে “চাইলেই” শব্দটা খুবই শক্তিশালী হলেও অনেক কঠিন।  বিশেষ করে যখন দেশের বাইরে থেকে বলা হয়। আর দেশের মানুষ যখন বিপক্ষে থাকে। তখন তো আরও কঠিন। 

ডিসেম্বর আসছে।  

দেখা যাক, “চাইলেই” আসলে কতদূর যায়।  


আবার আসিব ফিরে...  

না কি শুধু বলব? আমি আসছি ডিসেম্বরে, কিন্তু কোন ডিসেম্বরে সেটা তো বলিনি। 

Bangladesh's August 5 Foreign Ministry Statement: A Diplomatic Assertion of National Dignity

 


Bangladesh's August 5 Foreign Ministry Statement: A Diplomatic Assertion of National Dignity

On August 5, 2026, Bangladesh marked the second anniversary of the July Revolution by honoring those who lost their lives during the mass uprising. Yet, at the very same time, former Prime Minister Sheikh Hasina was addressing journalists virtually from the Foreign Correspondents' Club in New Delhi.

The decision to allow Hasina to speak from Indian soil triggered a sharp response from Dhaka. Bangladesh's Ministry of Foreign Affairs issued a statement that went far beyond a routine diplomatic protest. It represented one of the strongest and most emotionally charged foreign policy messages the country has delivered in recent years.

The tone of the statement was unusually direct. It opened with the word "outraged" and employed expressions such as "venomous vitriol," "absconding convicted genocider," and "mafia enterprise"—language rarely found in official diplomatic communications. The message targeted not only Sheikh Hasina herself but also the circumstances under which, in Dhaka's view, a convicted fugitive was given a platform abroad to speak against Bangladesh.

The statement framed the issue as more than a political dispute. It described the event as a "grievous insult" to the martyrs of July and an "affront" to Bangladesh's sovereignty, elevating the controversy to one of national dignity rather than partisan politics.

Perhaps its most consequential line was the declaration: "Bangladesh will never be a client State." That single sentence encapsulated the broader message. Dhaka reaffirmed its commitment to sovereign equality, mutual respect, and the principle of non-interference in internal affairs. It also signaled that while Bangladesh seeks constructive relations with all partners, those relationships must be grounded in respect for its sovereignty and national interests.

According to the statement, Bangladesh had communicated its concerns to Indian authorities before the event took place, warning that permitting such a program could negatively affect bilateral relations. Dhaka also says it received assurances that Sheikh Hasina's remarks would not be broadcast. Instead, her speech received extensive coverage across major Indian media outlets, a development Bangladesh viewed as a disregard for its concerns.

The statement also took issue with sections of the Indian media that referred to Sheikh Hasina as an "exiled leader." From Dhaka's perspective, that characterization is inaccurate and misleading. The government maintains that she fled Bangladesh during the July mass uprising amid intense public unrest and that she is a convicted individual facing legal consequences. In that context, officials argue that portraying her as an "exiled leader" distorts the facts surrounding her departure.

The controversy has also renewed questions surrounding India's response to Bangladesh's repeated requests for Sheikh Hasina's return under the existing extradition framework. Dhaka argues that instead of facilitating that process, India has allowed her to publicly address the media from its territory—a development it views as inconsistent with the principles of mutual respect that underpin bilateral relations.

Domestically, the statement received a largely positive response on social media, particularly among supporters of the July Revolution. Many described it as a long-awaited assertion of Bangladesh's sovereign voice. Others praised its firm but measured tone, arguing that it reflected the country's determination to defend its national dignity.

Ultimately, the August 5 statement was more than a diplomatic objection. It was a political and symbolic declaration of how Bangladesh wishes to define itself in its external relations. Rooted in the legacy of the July Revolution, it projected a message that sovereignty, national dignity, and mutual respect will remain central to Bangladesh's diplomatic posture in the years ahead.

ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমকামী বিয়ে: হিন্দু কর্তৃপক্ষের দায় ও ভারতীয় মিডিয়ার ফলাও প্রচার, পেছনে কি অন্য উদ্দেশ্য?


ঢাকেশ্বরী মন্দিরে সমকামী বিয়ে: হিন্দু কর্তৃপক্ষের দায় ও ভারতীয় মিডিয়ার ফলাও প্রচার, পেছনে কি অন্য উদ্দেশ্য? 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কামাল হোসেন ওরফে তাসনুভা আনান শিশিরের তথাকথিত বিয়ের ঘটনা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জন্মগত পুরুষকে নারী সাজিয়ে মন্দিরে সনাতন রীতিতে বিয়ের আয়োজন এবং সেটিকে প্রকাশ্যে প্রচার—এটি আইন ও সামাজিক বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

কেননা বাংলাদেশে ইসলামসহ অন্যান্য প্রধান ধর্মগুলো সমকামিতাকে বৈধতা দেয় নি। তাই কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় বা পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বিতর্কিত কর্মসূচি আয়োজন ধর্মপ্রাণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এবং সামাজিক সম্প্রীতির জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। অন্যদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুটি বিষয় বিশেষভাবে সামনে এসেছে। এক. হিন্দু মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়। দুই. ভারতীয় কিছু মিডিয়ার অতিরিক্ত এবং ফলাও করে প্রচার।

প্রথমে আসে মন্দির কর্তৃপক্ষের দায়। ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির। এখানে বিয়ে সম্পন্ন করতে হলে পরিচয় যাচাইয়ের ন্যূনতম দায়িত্ব থাকা উচিত। মন্দির কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করেছে, তারা প্রতারিত হয়েছেন। ডকুমেন্ট জালিয়াতি করা হয়েছে এবং সত্য গোপন রাখা হয়েছে। প্রশ্ন হলো—জাতীয় মন্দিরে এত বড় অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার আগে কি কোনো যাচাই হয়নি? যদি সত্যিই প্রতারণা হয়ে থাকে, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় মন্দির কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। আর যদি জেনে শুনে করা হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি আরও গুরুতর। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আইন ও সামাজিক সংবেদনশীলতাকে উপেক্ষা করলে তার জবাবদিহিতা থাকা জরুরি।

এবার ভারতীয় মিডিয়ার প্রচারের প্রসঙ্গ। ঘটনাটি প্রকাশের পর ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যম এটিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে ফলাও করে প্রচার করেছে। তারা এটিকে ‘বাংলাদেশের প্রথম সমকামী বিয়ে’ বলে উপস্থাপন করেছে এবং একধরনের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। অথচ বাংলাদেশ একটি মুসলিমপ্রধান দেশ। এখানকার সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক অনুভূতি এ ধরনের ঘটনাকে গ্রহণ করে না। আইনও এটিকে সমর্থন করে না। এ অবস্থায় ভারতীয় মিডিয়ার এতটা ফলাও প্রচার স্বাভাবিক মনে হয় না।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক—এর পেছনে কি অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে? এটি কি শুধু সংবাদ, নাকি উস্কানি? নাকি ইচ্ছে করেই মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত হানার একটা চেষ্টা? বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা ও ধর্মীয় সংবেদনশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য এ ধরনের ঘটনাকে বড় করে তোলা হচ্ছে কি না—এটি খতিয়ে দেখার বিষয়। একদিকে সংখ্যালঘু ইস্যুতে বাংলাদেশকে নিয়মিত চাপের মুখে রাখা, অন্যদিকে এমন ঘটনাকে প্রগতির উদাহরণ হিসেবে উপস্থাপন করা—এই দ্বৈত আচরণ সন্দেহ জাগায়।

মুসলিমপ্রধান দেশে এ ধরনের ঘটনা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তাই শুধু আইন প্রয়োগ করলেই হবে না। মন্দির কর্তৃপক্ষের দায় নির্ধারণ করতে হবে এবং ভারতীয় মিডিয়ার অতিরিক্ত প্রচারের পেছনের উদ্দেশ্যও খতিয়ে দেখা উচিত। কোনো বাহ্যিক মহল যদি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করার চেষ্টা করে, সেটি উপেক্ষা করা যায় না।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আড়ালে কি অন্য কিছু? দান, এনজিও ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন

 


ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আড়ালে কি অন্য কিছু?

দান, এনজিও ও প্রশ্নবিদ্ধ হিসাব নিয়ে কিছু প্রশ্ন 

ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র কেন্দ্র। প্রতিদিন শত শত ভক্ত এখানে আসেন, দান করেন, প্রার্থনা করেন। কিন্তু মন্দিরের দেয়ালের আড়ালে যে অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছে। বিশেষ করে দান-অনুদান, এনজিও সংযোগ এবং হিসাব রক্ষার প্রশ্নগুলো নিয়ে বিতর্ক কখনো থেমে থাকেনি।

২০২৩ সালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কাজী আরেফ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ সরাসরি তোলা হয়। বক্তারা দাবি করেন, কিছু হিন্দু সংগঠিত চক্র মন্দিরকে ধর্মীয় স্থান থেকে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, মন্দিরের প্রধান ক্যাশিয়ার পদে একজন ভারতীয় নাগরিককে বসানো হয়েছে এবং দেবীকে দেওয়া দান-অনুদানের টাকা ভারতে পাচার করা হচ্ছে। এই অভিযোগটি প্রকাশ্যে উঠলেও স্বাধীন তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণের কোনো বড় প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়—জাতীয় মন্দিরের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিদেশি নাগরিকের ভূমিকা কতটা স্বচ্ছ এবং কতটা প্রয়োজনীয়?

দান-অনুদানের হিসাব নিয়েও অস্বচ্ছতার অভিযোগ বারবার শোনা যায়। পর্যটক, মন্ত্রী, দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা—সবাই মন্দিরে কিছু না কিছু দান করেন। কিন্তু সেই অর্থের হিসাব কোথায় যায়, কীভাবে খরচ হয়, তার ওপর কোনো কার্যকর সরকারি নজরদারি নেই বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন। মন্দির “জাতীয়” উপাধি ব্যবহার করে এনজিও ও দাতা সংস্থার কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগও আছে। সরকারি নির্দেশনা ছাড়াই জাতীয় মন্দিরের নাম ব্যবহার করে ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা চলছে বলে মানববন্ধনে বলা হয়।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জমি ও সম্পত্তি সংক্রান্ত পুরনো জটিলতা। ভেস্টেড প্রপার্টি আইনের কারণে মন্দিরের অনেক জমি হারিয়ে গেছে। পরে কিছু জমি ফেরত আনা হলেও দখলদারিত্বের অভিযোগ পুরোপুরি মিটেনি। সেবায়েত পরিবারকে উচ্ছেদ করে নতুন ব্যবস্থাপনা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগও পুরনো। সব মিলিয়ে মন্দিরের পরিচালনা কমিটির স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মন্দিরের ভেতরে যে অর্থনীতি চলে, তা শুধু ধর্মীয় নয়—সেখানে বাণিজ্যিক স্বার্থ, নেটওয়ার্ক এবং প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে বলে অনেকে মনে করেন। দানবাক্সের টাকা থেকে শুরু করে এনজিও প্রকল্প পর্যন্ত—সবকিছুর হিসাব যদি স্বচ্ছ না হয়, তাহলে ভক্তদের বিশ্বাস কতদিন টিকবে? প্রধান ক্যাশিয়ার ভারতীয় কি না, সেই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর এখনো মেলেনি। কিন্তু যে অভিযোগ উঠেছে, তা উপেক্ষা করা যায় না।

ঢাকেশ্বরী মন্দির শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতীক। তার আড়ালে যদি অর্থনৈতিক অস্বচ্ছতা ও বাণিজ্যিক স্বার্থ চাপা থাকে, তাহলে সেই প্রতীকই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। স্বচ্ছ হিসাব, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জবাবদিহিমূলক পরিচালনা—এগুলোই এখন সবচেয়ে জরুরি দাবি।

৫ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি: কূটনীতির ভাষায় জাতীয় আত্মমর্যাদার ঘোষণা

 


৫ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি: কূটনীতির ভাষায় জাতীয় আত্মমর্যাদার ঘোষণা

৫ আগস্ট ২০২৬। জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী। বাংলাদেশ যখন সেই দিনের শহীদদের স্মরণ করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে নয়াদিল্লিতে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে মিডিয়ার সামনে শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল বক্তব্য দিচ্ছেন। দিল্লিতে অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনাকে বক্তব্যের অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ হয়েছে। এরপর  বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে বিবৃতি দিয়ে এর জবাব দিল, তা শুধু একটি প্রতিবাদ ছিল না। এটি ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে কঠোর ও আবেগঘন কূটনৈতিক অবস্থানগুলোর একটি।

বিবৃতিটিতে ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। “Outraged” শব্দটি দিয়ে শুরু হয়েছে। “Venomous vitriol”, “absconding convicted genocider”, “mafia enterprise”—এমন শব্দচয়ন কূটনৈতিক ভাষায় বিরল। এগুলো শুধু হাসিনার বিরুদ্ধে নয়, বরং সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধেও, যেখানে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অবমাননাবোধও সমান তীব্র। জুলাইয়ের শহীদদের প্রতি “grievous insult” এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি “affront”—এই ভাষা দিয়ে মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করেছে যে, বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক নয়, জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রকাশ। “Bangladesh will never be a client State”—এই এক বাক্যেই পুরো বিবৃতির সুর ধরা পড়ে। সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার কথা বলে মন্ত্রণালয় সম্পর্ক রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। কিন্তু সেই সম্পর্ক এখন আর আগের মতো নয়। শর্ত আছে। মর্যাদা আছে।

বিবৃতি প্রকাশের আগেই বাংলাদেশ দিল্লির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল যে, এ ধরনের অনুষ্ঠান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এমনকি আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল যে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা হবে না। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। ভারতের প্রায় সব বড় মিডিয়া সেই বক্তব্যকে বিশাল কভারেজ দিয়েছে। বাংলাদেশের আবেদনকে কার্যত অস্বীকার করা হয়েছে। আরও গুরুতর বিষয় হলো—কিছু ভারতীয় মিডিয়া শেখ হাসিনাকে “নির্বাসিত নেতা” বলে উল্লেখ করছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। তিনি নির্বাসিত নেতা নন। তিনি পলাতক। গণঅভ্যুত্থানের মুখে, জনরোষের চাপে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন আসামি। তাকে “নির্বাসিত নেতা” বলে উপস্থাপন করা ইতিহাস বিকৃতিরই নামান্তর।

ভারতীয় মিডিয়ার এই আচরণ শুধু নিরপেক্ষতার অভাবই নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিকেও অবজ্ঞা করা। একইসঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রদূত ও পররাষ্ট্র মন্ত্রীর ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশ বারবার প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। কিন্তু কোনো কার্যকর সাড়া পাওয়া যায়নি। বরং ভারতের মাটিতে তাকে মিডিয়ার সামনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এটা শুধু কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়, পারস্পরিক সম্মানের নীতিকেও লঙ্ঘন।

বিবৃতি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের একটি বড় অংশ, বিশেষ করে জুলাই চেতনার সমর্থকরা, এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। “অবশেষে কথা বলল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়”, “সার্বভৌমত্ব রক্ষার কণ্ঠস্বর”, “জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান”—এমন মন্তব্যই বেশি দেখা গেছে। অনেকে বিবৃতির ভাষাকে “কঠোর কিন্তু প্রয়োজনীয়” বলেছেন। তাদের কাছে এটি জাতীয় আত্মমর্যাদার প্রতীক।

এই বিবৃতি তাই শুধু প্রতিবাদ নয়। এটি একধরনের ঘোষণা। বাংলাদেশ এখন নিজের মর্যাদা নিজেই নির্ধারণ করতে চায়। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে যে জাতীয় আত্মমর্যাদা গড়ে উঠেছে, তারই কূটনৈতিক প্রকাশ ঘটেছে ৫ আগস্টের এই বিবৃতিতে। ক্ষোভ, অবমাননাবোধ এবং আত্মমর্যাদা—এই তিনটি সুর একসঙ্গে বাজে উঠেছে।

সাকিব আল হাসানকে দিয়ে গেম খেলছে আওয়ামী লীগ?

 

সাকিব আল হাসানকে দিয়ে গেম খেলছে আওয়ামী লীগ?

৫ আগস্ট ২০২৬। দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে শেখ হাসিনার প্রায় দুই বছর পর প্রথম ভার্চুয়াল মিডিয়া ইভেন্ট। সেখানে উপস্থিত হন বাংলাদেশের সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক ও সাবেক আওয়ামী লীগ সাংসদ সাকিব আল হাসান। ঘণ্টাখানেক পর মাগুরায় তার পৈতৃক বাড়িতে ইটপাটকেল, জানালা ভাঙচুর আর পেট্রোল বোমার হামলা। বাড়ি খালি ছিল, কেউ আহত হয়নি।

এই ঘটনাকে ঘিরেই এখন প্রশ্ন উঠছে—সাকিবকে দিয়ে কি আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক গেম খেলছে?

সাকিব ক্রিকেটার হিসেবে জনপ্রিয়। তার জনসমর্থন রাজনৈতিক নেতাদের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের টিকিটে সংসদ সদস্য হয়েছিলেন। ক্ষমতাচ্যুতির পর অনেক নেতা আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেলেও সাকিবের নাম এখনো মানুষের মুখে মুখে। সেই সাকিবকে হাসিনার অনুষ্ঠানে দেখানো, তারপর তার বাড়িতে হামলার খবর ছড়িয়ে দেওয়া—এতে একদিকে সহানুভূতি তৈরি হয়, অন্যদিকে ‘আওয়ামী লীগের ওপর নিপীড়ন’ চলছে বলে প্রচারের সুযোগ তৈরি হয়।

সজীব ওয়াজেদ জয় তার পোস্টে লিখেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য সহিংসতায় রূপ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগও বলেছে, এটি ‘প্রেস কনফারেন্সে অংশ নেওয়ার মূল্য’। অর্থাৎ, সাকিবের অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক সহিংসতার প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। সাকিব কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন, নাকি তাকে ব্যবহার করা হয়েছে? একজন ক্রিকেট তারকাকে রাজনৈতিক মঞ্চে টেনে এনে, তারপর তার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে বড় করে তুলে ধরে সহানুভূতি ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ আদায়ের চেষ্টা কি হচ্ছে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জনপ্রিয় মুখ ব্যবহারের নজির নতুন নয়। সাকিবের ক্ষেত্রেও একই ধরনের হিসাব-নিকাশ কাজ করতে পারে। তার জনপ্রিয়তা ব্যবহার করে একদিকে দলকে ‘নির্যাতিত’ হিসেবে দেখানো, অন্যদিকে বিরোধীদের ‘সহিংস’ বলে চিত্রিত করা—এই খেলায় সাকিব কি শুধু একজন খেলোয়াড়, নাকি গেমের অংশ?

হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে নিন্দনীয়। রাজনৈতিক মতের কারণে কারো সম্পত্তিতে হামলা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু একইসঙ্গে জনপ্রিয় মুখকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক মূলধন তৈরির চেষ্টাও প্রশ্নবিদ্ধ। সাকিব আল হাসান কি সচেতনভাবে এই খেলায় নেমেছেন, নাকি তাকে দিয়ে খেলা হচ্ছে—এই প্রশ্নটাই এখন সবচেয়ে জোরালো।

নিরাপদ অভিবাসন, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ: বিইউপিতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

 

নিরাপদ অভিবাসন, সমৃদ্ধ অর্থনীতি ও সুরক্ষিত বাংলাদেশ: বিইউপিতে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, পিএসসি, জি বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব ও পরিবর্তনশীল ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনা শুধু অর্থনীতি, কর্মসংস্থান কিংবা শ্রমবাজারের বিষয় নয়। এটি একটি দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবিক সুরক্ষা এবং সামগ্রিক জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

তিনি আজ বৃহস্পতিবার (০৬ আগস্ট ২০২৬) রাজধানীর মিরপুর সেনানিবাসে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিইউপি) আয়োজিত “Migration Governance as a National Security Instrument in Bangladesh” শীর্ষক মূল বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপিতে এসে পৌঁছালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মেজর জেনারেল মোঃ মাহবুব-উল আলম, বিএসপি, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল, পিএইচডি তাঁকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে বিইউপির ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, ডিন, শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মূল বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপত্তার ধারণা আর শুধু রাষ্ট্রীয় ভূখণ্ড ও ভৌগোলিক সীমান্ত রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের নিরাপদ চলাচল, বৈধ কর্মসংস্থান, সীমান্ত অতিক্রমের সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও পরিকল্পিত অভিবাসন নিশ্চিত করা না গেলে তা দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং বিদেশগামী নাগরিকদের প্রয়োজনীয় জ্ঞান, প্রশিক্ষণ ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে অনিয়মিত অভিবাসন, প্রতারণা, মানব পাচার ও আন্তর্জাতিক অপরাধচক্রের কার্যক্রম প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরও বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকরা দেশের অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। তাঁদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংকটকালীন সহায়তা প্রদানের সক্ষমতা আরও জোরদার করা প্রয়োজন। একটি সুসংহত, মানবিক ও নিরাপত্তাসচেতন অভিবাসন ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও আরও সুদৃঢ় করবে।

তিনি অভিবাসনের অর্থনৈতিক, মানবিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাগত দিকগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচনা করে একটি কার্যকর ও ভবিষ্যৎমুখী নীতিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী গবেষণা, নির্ভরযোগ্য তথ্যভান্ডার, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মূল বক্তব্যের পর একটি প্রাণবন্ত মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিইউপির শিক্ষার্থীরা অভিবাসন নীতি, মানব পাচার, প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক ভূরাজনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্ন করেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তাঁদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং পরিবর্তিত বিশ্বব্যবস্থায় অভিবাসন ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব সম্পর্কে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠান শেষে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বিইউপির শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গবেষণা, নীতিগত আলোচনা এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে নিরাপত্তাসচেতনতা তৈরিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

কারাগারে দলের বহু নেতাদের বিপদে রেখে শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, এটাই কি আওয়ামী লীগের নীতি?


কারাগারে দলের বহু নেতাদের বিপদে রেখে শেখ পরিবারের সবাই নিরাপদে দেশের বাইরে, এটাই কি আওয়ামী লীগের নীতি?

২০২৪ সালের আগস্টে যখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর একটা চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়- শেখ পরিবারের প্রায় সবাই এবং তাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজন নিরাপদে দেশের বাইরে চলে গেছেন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী কারাগারে।

শেখ হাসিনা নিজে ৫ আগস্ট পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা। রেহানা এর আগে যুক্তরাজ্যে থাকতেন। এখন তিনি লন্ডন ও ভারতের মধ্যে যাতায়াত করেন বলে জানা যায়। ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে ছিলেন। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল তখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক হিসেবে নয়াদিল্লিতে কর্মরত ছিলেন। সরকার পতনের পর তিনিও দিল্লি ও দুবাইয়ের মধ্যে অবস্থান করছেন।

শুধু পরিবার নয়। শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই, চাচাতো ভাই ও তাদের সন্তানদের অনেকেই দেশ ছেড়েছেন। শেখ ফজলুল করিম সেলিম, শেখ হেলাল উদ্দীন, শেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, শেখ তন্ময়, নূর-ই-আলম চৌধুরীসহ অনেকে ভারতে, বিশেষ করে কলকাতার এলিট আবাসিক এলাকায় অবস্থান করছেন বলে বিভিন্ন সময় খবর বেরিয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসও দেশ ছাড়েন।

এই পরিবারের সদস্যরা সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, উপদেষ্টা ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। ক্ষমতার কেন্দ্রে থেকে সুবিধা ভোগ করেছেন। কিন্তু যখন পরিস্থিতি খারাপ হলো, তখন প্রায় সবাই সময়মতো পালিয়ে গেলেন। গ্রেপ্তার এড়াতে সক্ষম হলেন।

অন্যদিকে দলের সাধারণ নেতা-কর্মী ও মধ্যম সারির নেতৃত্বের অনেকেই এখন কারাগারে। মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, দুর্নীতিসহ বিভিন্ন মামলায় শত শত নেতা আটক। অনেকে পলাতক। কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ডের রায় পেয়েছেন। অথচ যারা ক্ষমতার সবচেয়ে কাছাকাছি ছিলেন, তারা নিরাপদে বিদেশে।

এই বৈষম্য ও স্বার্থপর নীতিই আওয়ামী রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। একদিকে শেখ পরিবার ও তাদের নিকটাত্মীয়রা নিরাপদ আশ্রয়ে, অন্যদিকে দলের হাজার হাজার কর্মী কারাগারের অন্ধকারে। অনেকে বলছেন, ক্ষমতা যখন ছিল তখন সবাইকে ব্যবহার করা হয়েছে। যখন বিপদ এল, তখন শুধু পরিবার রক্ষা পেল।

এই স্বার্থপর রাজনীতিই এখন অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ও বিষ্ময় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কে এই “রাজাকারপুত্র” দেবাশীষ রায়?


কে এই “রাজাকারপুত্র” দেবাশীষ রায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা সার্কেলের রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়—অনেক জাতীয়তাবাদী মহলে যাকে সরাসরি “রাজাকারপুত্র” বলে ডাকা হয়। এই রাজাকার পুত্র নামকরণ এসেছে তার বাবা রাজা ত্রিদিব রায়ের ১৯৭১ সালের অবস্থান থেকে।

ত্রিদিব রায় ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান থেকে অ-আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের মধ্যে তিনি অন্যতম। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেন এবং যুদ্ধের শেষ পর্যায়ে রাঙামাটি ছেড়ে পাকিস্তানে চলে যান। সেখানেই তিনি বাকি জীবন কাটান। বাংলাদেশে যখন নতুন রাষ্ট্র জন্ম নিচ্ছিল, তখন তার পরিবারের প্রধান ছিলেন পাকিস্তানের পক্ষে। এই ইতিহাসের কারণেই অনেকে তার পুত্র দেবাশীষকে “রাজাকারপুত্র” বলে ডাকেন। 

পিতার অনুপস্থিতিতে তরুণ দেবাশীষকে চাকমা সার্কেলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ১৯৭৭ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হন। পরে তিনি লন্ডন থেকে ব্যারিস্টারি পাস করেন, সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস শুরু করেন এবং ২০০৮-০৯ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ও বন-পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় কাজ করেন। জাতিসংঘের আদিবাসী বিষয়ক স্থায়ী ফোরামের সদস্যও হয়েছিলেন।

কিন্তু তার এই “রাষ্ট্রীয়” ভূমিকাগুলো আড়ালে রয়েছে কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড। যেমন- 

১৯৯২ সালে তাইওয়ান যাওয়ার সময় বিমানবন্দরে লোগাং হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ও কাগজপত্র তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি টংগ্যা নামে এনজিও এবং হিল ট্র্যাক্টস এনজিও ফোরাম গঠন করেন—যা অনেকের মতে বাঙালিবিদ্বেষী প্রচারণার প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছিল। ‘কর্ণফুলীর কান্না’ ডকুমেন্টারির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগও আছে। বিদেশে, বিশেষ করে নেপালে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সেমিনার আয়োজন বা অংশগ্রহণের কথাও শোনা যায়। এই দেবাশীষ রায়ই পার্বত্য চট্টগ্রামে সরকারের কর্তৃত্ব কমিয়ে আদিবাসী স্বশাসনের নামে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছেন।

এই দেবাশীষ রায় এমন একজন ব্যক্তি, যিনি পিতার রাজনৈতিক ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন—একদিকে রাষ্ট্রের ভেতরে থেকে সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন, অন্যদিকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ইস্যুকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের ঐক্য ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকের মতে- যে পরিবার ১৯৭১-এ স্বাধীনতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের উত্তরসূরি কি আজকের বাংলাদেশের সংবিধান বা রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার যোগ্য? 

এই “রাজাকারপুত্র” পার্বত্য চট্টগ্রামের জটিল রাজনীতিতে এখনো একটি শক্তিশালী ভূমিকা রাখছেন। 

এটি “রাজাকারপুত্র” দেবাশীষ রায় ১৯৭১-এ বাংলাদেশ বিরোধিতা থেকে আজকের পাহাড়ের ক্ষমতা সংঘাত এবং জাতীয় পরিচয়ের দ্বন্দ্বের প্রতীক হয়ে উঠেছে।

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.  

While the people of Bangladesh were remembering the martyrs, the voice of Sheikh Hasina rose from a club in New Delhi.  

Through an audio link. She was not visible on video. But she was speaking.  

She announced that she would return to the country in December.  

And the Ministry of External Affairs of India said—  

“This is a private event. The government has no involvement whatsoever.”


But the question is—  

Does saying “we are not involved” end the responsibility?

Bangladesh was not silent.  

Before the event, Foreign Affairs Adviser Humayun Kabir had formally summoned the Indian High Commissioner and requested that Sheikh Hasina not be allowed to deliver political statements from Indian soil.  

He had clearly stated that such an event could harm the progress of bilateral relations.  


The High Commissioner had given assurances. But the event took place.  


After the event, the statement issued by the Ministry of Foreign Affairs of Bangladesh used extremely strong language.  


The official statement of the Ministry said—  

“Bangladesh is outraged that the absconding convicted genocider Sheikh Hasina was allowed this evening to engage in live interaction with the media in New Delhi where she and her henchmen launched venomous vitriol against the State of Bangladesh and her people.”

The statement further said—  

“Dhaka deeply regrets that in spite of concerns conveyed a priori to the Government of India about the likely ramifications of this event on the reset of our bilateral relations, this public event was permitted to be held.”


The statement clearly stated—  

“On a day when the people of Bangladesh are observing the second anniversary of the July Revolution, this interaction by Sheikh Hasina on the Indian soil stands as an affront to the sovereignty of Bangladesh and a grievous insult to the martyrs of the July Revolution.”


The Ministry further said—  

The denial of facts established by the United Nations, including the gruesome killing of innocent civilians including minor children during July-August 2024 by the fascist regime, stands as a futile attempt by the absconding convicted mass murderer Hasina and her criminal cohort to reverse the tide of history.  

The statement firmly declared—  

“Convicted mass murderer Hasina and her mafia enterprise will never have a place in the polity of Bangladesh.”

Sheikh Hasina is not an ordinary citizen.  

She has been convicted of crimes against humanity by the International Crimes Tribunal.  

She has been sentenced to death.  

She is a state fugitive subject to extradition.  

Such a person is making political declarations before the international media from foreign soil.  

This is not mere personal expression of opinion.  

This is active political activity against a state.  

The host country could have taken many steps if it wanted.  

But India did not take those paths.  

It only said—we are not involved.

At the end of the statement, Bangladesh clearly stated its position—  

“Bangladesh desires to maintain a constructive, mutually beneficial, and forward-looking relationship with India based on sovereign equality, mutual respect, non-interference in each other’s internal affairs, and national dignity.  

Regrettably, Bangladesh’s repeated requests to the Government of India for returning convicted criminal Hasina to Bangladesh under the Extradition Treaty signed between Bangladesh and India in 2013, has not yet elicited a response.  

On the contrary, allowing her the opportunity to openly interact with the media under any pretext is deeply hurtful to our people’s sentiment and detrimental to the development of harmonious bilateral relations between Bangladesh and India.”

Saying “we are not involved” does not end the responsibility.  

Especially when the issue concerns a political platform for a convicted fugitive.  

And the question of a neighbouring country’s sovereignty.  

If India truly follows the principle of non-interference in internal affairs—  

Then it must prove it not only in words, but also in actions.  


Otherwise, the phrase “private event” remains merely a convenient cover for avoiding responsibility.


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?

২০২৬ সালের ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। বাংলাদেশের মানুষ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, তখন নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় এক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে কথা বললেন শেখ হাসিনা। অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়নি। এটা তার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সরাসরি মিডিয়া মতবিনিময়।

শেখ হাসিনা বললেন, ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। গ্রেপ্তার হোক, কারাগারে যাক, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হোক—ভয় পাচ্ছেন না। তিনি দাবি করলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং ‘পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তন’। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও দাবি জানালেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বললেন, ভারত তাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা’ দিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট ও তীব্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে—‘ঢাকা ক্ষুব্ধ’। তারা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল যে এই অনুষ্ঠান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, ভারতীয় মাটিতে থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিষাক্ত আক্রমণ’ চালানো হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অপমান বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি ‘নির্বাসিত নেতা’?

না। তিনি গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে। হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের হিসাবে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণহত্যা রোধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত বলেছে, বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শেখ হাসিনা নিজেকে ‘নির্বাসিত’ দাবি করলেও বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি আদালতের রায় এড়িয়ে পলাতক। আন্তর্জাতিক আইনেও একজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশ থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ।

ভারত কি হস্তক্ষেপ করল?

ভারত সরকার বলেছে, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে। সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো মতামতকে সমর্থনও করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শেখ হাসিনা দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা পাচ্ছেন। প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় ভূখণ্ডে। বাংলাদেশ আগেই আপত্তি জানিয়েছিল। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সরকার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে। একজন দোষী সাব্যস্ত, পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ দেওয়া কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে প্রচেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তাতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে—সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা—এই ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগোতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স শুধু একজন পলাতক নেতার বক্তব্য নয়। এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া, গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ভারত যদি সত্যিই ‘বেসরকারি অনুষ্ঠান’ বলে দায় এড়াতে চায়, তাহলে এমন অনুষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার নৈতিক ও কূটনৈতিক দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়।

False Claims of Attack on Chakma Homes and Buddhist Monastery in Ukhiya: No Verifiable Evidence Found


False Claims of Attack on Chakma Homes and Buddhist Monastery in Ukhiya: No Verifiable Evidence Found

The Global Arakan Network (GAN) recently circulated claims alleging that a Buddhist monastery and homes belonging to the Chakma community in Ukhiya Upazila, Cox's Bazar, were attacked and vandalized. However, an analysis of the images accompanying the allegations has found no visible evidence supporting those claims.

In a post published on 3 August 2026, GAN alleged that on 31 July 2026, a group of approximately 200 people attacked and vandalized four Chakma family homes and a Buddhist monastery in Chenchari (also spelled Chhenchhari) village under Jaliapalong Union in Ukhiya. The post attributed the alleged attack to a land dispute and accused local authorities and the Forest Department of failing to intervene. It further claimed that the attackers were attempting to seize ancestral land belonging to the Chakma community and that statues of the Buddha inside the monastery had been vandalized.

However, an examination of the images circulated in connection with the allegations shows that the Buddha statue and other religious statues inside the monastery appear completely intact. No visible signs of damage, vandalism, or physical destruction can be identified in the available images. As a result, the claim that the monastery was vandalized is not supported by the visual evidence reviewed.

The analysis also found that one of the images had been edited and republished as two separate photographs, suggesting that the visual material may have been deliberately presented in a way that reinforces the narrative of an attack.

The allegations against local authorities and the Forest Department appear to question the effectiveness of state institutions and the protection of minority communities. Observers also note attempts to frame the incident as an issue of international human rights and religious freedom, potentially to draw international attention and undermine Bangladesh's image abroad.

It should be noted that similar allegations have also appeared in some local media reports, and photographs purportedly showing damaged Buddha statues have circulated on social media. However, those images and claims have not yet been independently verified through fact-checking. A thorough investigation by the local administration and the relevant authorities is necessary to establish the facts surrounding the incident.

শেখ হাসিনা ‘নির্বাসিত নেতা’ নন, তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী

 শেখ হাসিনা ‘নির্বাসিত নেতা’ নন, তিনি মানবতা বিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রতিনিয়ত ‘exiled political leader’ বা ‘নির্বাসিত রাজনৈতিক নেতা’ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এটা কেবল ভুল নয়, ইচ্ছাকৃত বিভ্রান্তি। নির্বাসন মানে হলো কোনো শত্রুশক্তি বা বৈদেশিক হস্তক্ষেপে দেশছাড়া হওয়া। হাসিনা সেটা করেননি। তিনি নিজের শাসনামলে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানোর পর জনরোষ থেকে বাঁচতে সামরিক বিমানে দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। সেটা পলায়ন, নির্বাসন নয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র আন্দোলন দমনে হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া, গণহত্যায় উসকানি ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও একই মামলায় মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন। এসব রায় অনুপস্থিতিতে হলেও বাংলাদেশের আদালতের রায়। সেটাই আনুষ্ঠানিক রেকর্ড।

শুধু মানবতাবিরোধী অপরাধ নয়। দুর্নীতির মামলায়ও হাসিনা দোষী। পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে অনিয়মের একাধিক মামলায় তাকে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়কে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও একইভাবে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বিভিন্ন দুর্নীতি মামলায় সাজা হয়েছে।

যারা এখনও হাসিনাকে ‘নির্বাসিত নেতা’ বলে প্রচার করেন, তাদের কাছে একটা সহজ পরীক্ষা রাখা যায়। তাকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বা যেকোনো স্থলসীমান্ত দিয়ে ফিরে আসতে দিন। লাইভ সম্প্রচার করুন। দেখুন বাংলাদেশের জনগণ কীভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানায়। তখনই বোঝা যাবে বাস্তবতা কী।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান- শেখ হাসিনাকে ‘নির্বাসিত’ বলে অপরাধকে ঢেকে রাখা যায় না। হাসিনা দোষী। জয় দোষী। আদালতের রায়ই চূড়ান্ত। সেটাই রিপোর্ট করা উচিত।

Sheikh Hasina is not an ‘exiled leader’. She is a convicted criminal found guilty of crimes against humanity.

 Sheikh Hasina is not an ‘exiled leader’. She is a convicted criminal found guilty of crimes against humanity.


International media outlets routinely describe Sheikh Hasina as an “exiled political leader.” This is not merely inaccurate — it is a deliberate distortion. Exile means being forced out of one’s country by a hostile power or foreign intervention. That is not what happened to Hasina. After ordering a massacre of unarmed students and ordinary citizens during her own rule, she fled the country on a military aircraft to escape the fury of the people she had governed with an iron fist. That was an escape, not exile.


The International Crimes Tribunal has already found her guilty of crimes against humanity and sentenced her to death. The charges proven against her include ordering the use of helicopters, drones and lethal weapons to crush the July-August 2024 student uprising, inciting mass killings, and failing to prevent or punish the atrocities. Former Home Minister Asaduzzaman Khan Kamal received the same death sentence in the same case. Although these verdicts were delivered in absentia, they remain the official judgments of a Bangladeshi court. That is the formal record.


Crimes against humanity are not her only convictions. She has also been found guilty in multiple corruption cases. In several cases involving irregularities in plot allotments under the Purbachal New Town project, she has been sentenced to a total of 21 years in prison. In the same cases, her son Sajeeb Wazed Joy was sentenced to five years’ imprisonment. Her daughter Saima Wazed Putul was likewise convicted. Other members of the family have also received sentences in various corruption cases.


Those who still insist on calling Hasina an “exiled leader” can take a simple test. Let her return through Dhaka’s Hazrat Shahjalal International Airport or any land border of her choosing. Broadcast it live and unedited. Let the world see the reception the people of Bangladesh have prepared for her. Then the reality will speak for itself.


A clear appeal to the international media: calling Sheikh Hasina “exiled” does not erase her crimes. Hasina is convicted. Joy is convicted. The court’s verdict is final. Report it as such.

হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে, বক্তৃতার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে

 হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে, বক্তৃতার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে


ভারত শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগকে মঞ্চ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ভারতের সুপরিকল্পিত কৌশলেরই অংশ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করার এক স্পষ্ট রাজনৈতিক-কূটনৈতিক দুঃসাহসিকতা।


হাসিনা ও তার দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তারপরও ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে এবং তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অবশিষ্টাংশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি শুধু প্রতিবেশী দেশের প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।


ভারত বাংলাদেশ ও তার জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দায় এড়াতে পারে না। হাসিনাকে মঞ্চ দিয়ে ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা এখনো পুরনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরোতে পারেনি। তারা জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে চায় না, কারণ সেই অভ্যুত্থান তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র শক্তিকে উচ্ছেদ করেছে। এ অবস্থায় ভারতের এই অবস্থান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপেরই নামান্তর।


আমরা পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণ স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ধারা থেকে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার শর্তে। হাসিনা ও তার দলকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের সাথে সমমর্যাদার সম্পর্ক চায়, তাহলে তাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। অন্যথায় এই সম্পর্ক শুধু কাগজে-কলমেই থাকবে, বাস্তবে নয়।

উখিয়ায় চাকমা পরিবারের বাড়ি ও বৌদ্ধ বিহারে হামলার ভুয়া অভিযোগ: কোনো সত্যতা মেলেনি



উখিয়ায় চাকমা পরিবারের বাড়ি ও বৌদ্ধ বিহারে হামলার ভুয়া অভিযোগ: কোনো সত্যতা মেলেনি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় চাকমা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ বিহার ও বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক (GAN) সম্প্রতি প্রচারণা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ছবি বিশ্লেষণে সেই দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

গত-এর ৩ আগস্ট ২০২৬-এর এক প্রচারণায় দাবি করা হয়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেঞ্চারী (বা ছেনছড়ি) গ্রামে প্রায় ২০০ জনের একটি দল স্থানীয় চাকমা পরিবারের চারটি বসতবাড়ি ও একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। প্রচারণায় হামলার পেছনে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধকে দায়ী করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনা হয়। আরও বলা হয়, হামলাকারীরা চাকমা সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং বিহারের বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে ঘটনা-সম্পর্কিত প্রচারিত ছবিগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৌদ্ধ বিহারের বুদ্ধমূর্তিসহ অন্যান্য মূর্তিগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কোথাও ভাঙচুর, আঘাত বা ক্ষতিসাধনের কোনো দৃশ্যমান আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে বিহারে ভাঙচুর সংঘটিত হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে প্রচারিত ছবিগুলোর মধ্যে একই ছবিকে সম্পাদনা করে দুটি পৃথক ছবি হিসেবে ব্যবহার করার নমুনাও পাওয়া গেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে ছবিগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও লক্ষ্যণীয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় কিছু প্রতিবেদনেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা মূর্তির ছবি প্রচারিত হয়েছে। তবে সেগুলোর ফ্যাক্ট চেক করে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত জরুরি।

জ্যোতিকা জ্যোতির কান্না: অনুশোচনা, না কৌশল?

 


জ্যোতিকা জ্যোতির কান্না: অনুশোচনা, না কৌশল?

সোমবার সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে অঝোরে কাঁদলেন অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। বললেন, তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। কাজ পাচ্ছেন না। নানা মহল থেকে পরিকল্পিতভাবে একঘরে করা হচ্ছে। এমনকি বলে ফেললেন, “এই বাংলাদেশে জন্ম নিয়েই ভুল করেছি।” কান্নায় ভেঙে পড়া এই দৃশ্য অনেককে নাড়া দিয়েছে। কেউ সহানুভূতি জানিয়েছেন। কেউ বলেছেন, এটা আসল অনুশোচনা। আবার কেউ সন্দেহ করেছেন—এটা কি সত্যিকারের অনুতাপ, নাকি পরিস্থিতির চাপে তৈরি এক কৌশল?

প্রশ্নটা সহজ নয়। জ্যোতিকা জ্যোতি শুধু একজন অভিনেত্রী ছিলেন না। আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠনের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সেই সুবাদে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পরিচালকের পদ পেয়েছিলেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও তিনি সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। পটপরিবর্তনের পর সেই অবস্থানের মূল্য তাকে দিতে হয়েছে। শিল্পকলা থেকে বেরিয়ে যেতে হয়েছে। কাজ কমেছে। সমালোচনার মুখে পড়েছেন। এখন কান্না।

কান্না মানুষের স্বাভাবিক আবেগ। মানসিক চাপে কেউ ভেঙে পড়তেই পারে। কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়। তিনি দায় স্বীকার করছেন না। নিজের অতীত অবস্থান নিয়ে কোনো স্পষ্ট অনুতাপ প্রকাশ করছেন না। বরং নিজেকে শিকার হিসেবে উপস্থাপন করছেন। “আমাকে একঘরে করা হচ্ছে”—এই বয়ান বারবার আসছে। কিন্তু কেন একঘরে হচ্ছেন, সেই প্রশ্নের উত্তর তিনি দিচ্ছেন না। যে রাজনৈতিক শক্তির ছায়ায় তিনি সুবিধা নিয়েছিলেন, সেই শক্তির পতনের পর এখন শুধু কান্না।

এখান থেকে শেখার কিছু আছে। ক্ষমতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা যখন সুবিধা এনে দেয়, তখন অনেকেই নীতি-নৈতিকতার হিসাব করেন না। কিন্তু ক্ষমতা চলে গেলে সেই ঘনিষ্ঠতাই বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। জ্যোতিকা জ্যোতির কান্না সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন। অনুশোচনা যদি সত্যি হয়, তাহলে দায় স্বীকার করতে হয়। ভুল স্বীকার করতে হয়। শুধু কান্না আর আত্মকেন্দ্রিক ব্যথার প্রকাশ যথেষ্ট নয়।

মানুষ কান্না দেখে সহানুভূতি জানাতে পারে। কিন্তু দায় এড়িয়ে যাওয়া কান্না সহজে বিশ্বাসযোগ্য হয় না। জ্যোতিকা জ্যোতির এই আবেগপ্রবণ মুহূর্ত তাই প্রশ্ন তুলেছে—এটা কি সত্যিকারের অনুশোচনা, নাকি পরিস্থিতি সামলানোর এক কৌশল? উত্তরটা সময়ই দেবে। তবে এখন পর্যন্ত যা দেখা যাচ্ছে, তাতে দায় স্বীকারের কোনো ইঙ্গিত নেই। আর দায় স্বীকার না থাকলে কান্না শুধু কান্নাই থেকে যায়।

বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের সংবিধান


বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের সংবিধান

আসছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এই উপলক্ষে আবারও আলোচনা উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের পরিচয় নিয়ে। কেউ কেউ তাদের “আদিবাসী” বলে দাবি করেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান সেই শব্দ ব্যবহার করেনি। সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—“ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও সংগঠন”। এটা কোনো ভুল বা অবহেলা নয়। এটা রাষ্ট্রের সচেতন ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত।

এই শব্দচয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বোঝা দরকার।

প্রথমত, ঐতিহাসিক বাস্তবতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক কালে এই ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করেছে। অনেকে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যদিকে বাঙালিরা এই ভূখণ্ডের সহস্র বছরের বাসিন্দা। “আদিবাসী” শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো “আদি” বা “প্রথম” বাসিন্দা। এই দাবি ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দ্বিতীয়ত, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি নিজেই “উপজাতি” শব্দ ব্যবহার করেছে। পার্বত্য নেতারা তখন নিজেরাই এই পরিভাষা মেনে নিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ আন্তর্জাতিক পরিভাষা আমদানি করে ভিন্ন দাবি তোলা চুক্তির চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

তৃতীয়ত, সাংবিধানিক সাম্যের নীতি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান সব নাগরিককে সমান মর্যাদা দিয়েছে। “আদিবাসী” স্বীকৃতি দিলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বিশেষ ভূমি-অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। আইএলও কনভেনশন ১৬৯-এর মতো কাঠামো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য জটিলতা ডেকে আনতে পারে।

চতুর্থত, রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষা। বাংলাদেশ একটি অভিন্ন জাতিরাষ্ট্র। এখানে “আদিবাসী-অনাদিবাসী” বিভাজন তৈরি করলে সামাজিক সংহতি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংবিধানের ভাষাই তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ পথ।

সংবিধান মানা মানেই রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখানো। ভুল পরিভাষা দিয়ে ইতিহাস আর আইন—দুটোকেই অস্বীকার করা ঠিক নয়। বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট। সেই স্পষ্টতা মেনে চলাই দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা

এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা


পাঁচই আগস্টের পর বাংলাদেশে একটা নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে।  

আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে। মাঝখানে অন্তর্বর্তী  সরকার। এরপর নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করে বিএনপি সরকার গঠন করেছে।  

সরকারের বয়স এখনো ছয় মাসও হয়নি।

কিন্তু এই নতুন অধ্যায়ে এনসিপি আর জামাত যে খেলা খেলছে—তা নিজেদের জন্যই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

তারা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের ছাঁচে ফেলতে চাইছে।  আর তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার জায়গায় বসাতে চাইছে।  

এই চেষ্টা আসলে একটা মারাত্মক ভুল।   

কারণ আওয়ামী লীগের সতেরো বছর আর বিএনপির ছয় মাস—একই পাতায় লেখা যায় না।

আওয়ামী লীগের শাসন ছিল খুন, গুম, দুর্নীতি আর প্রতিহিংসার শাসন।  

বিরোধীদের গলা চেপে ধরার শাসন।  

আর বিএনপির এই ছয় মাসে?  

একটিও গুম হয়নি।  

একটিও রাজনৈতিক হত্যা হয়নি।  

তারেক রহমান একবারও প্রতিহিংসার ভাষা ব্যবহার করেননি।

মানুষ এই তফাত বোঝে।  

আওয়ামী লীাগের শাসনামল দেখেছে। বর্তমানে বিএনপির শাসনামলও দেখছে।  

তাই হাসিনার সঙ্গে তারেক রহমানের তুলনা মানুষ কখনোই মেনে নেবে না। 

অন্যদিকে, এনসিপির পদযাত্রায় জুলাইয়ের চেতনা খুব কম শোনা যায়। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথাও কম শোনা যায়। বরং প্রধানমন্ত্রী আর বিএনপির বিরুদ্ধে কটূক্তি আর উসকানিই বেশি শোনা যায়।  

শুধু বিরোধিতার নামে কি এই বিরোধিতা? গঠনমূলক সমালোচনার বদলে মানুষকে রাগিয়ে তোলার চেষ্টা।  এনসিপি কি জানে না এই পথে জনসমর্থন বাড়ে না। কমে।

পাঁচই আগস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল এনসিপি আর জামাত।  

সেই পরিবর্তন না হলে জামাতের সংসদে যাওয়ার সুযোগ হতো না।  এনসিপির জন্মও হতো না।  

কিন্তু এখন তারা দ্রুত ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে।  

সোজা পথে জনসমর্থন অর্জনের বদলে বাঁকা পথে হাঁটতে চাইছে। আবার বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছে। 

এই কৌশল যদি আওয়ামী লীগকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে—  

তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে এনসিপি আর জামাতেরই।  

বিএনপি আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে টিকেছে। ‍আবারও টিকবে।

নির্বাচন করে আওয়ামী লীগকে পরাজিত করে একাধিকবার ক্ষমতায় গেছে। 

কিন্তু এনসিপি আর জামাতের জন্য সেই সুযোগ আর সহজে আসবে না।

বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা।  তারেক রহমানকে হাসিনার ছাঁচে ফেলার চেষ্টা।  

এই দুটোই আত্মঘাতী রাজনীতি।  

এই ভুল পথ শুধু তাদের নয়—দেশের রাজনীতিকেও বিষিয়ে তুলতে পারে।

এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা


এনসিপি-জামাতের বিপজ্জনক কৌশল: বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা

পাঁচই আগস্টের পর বাংলাদেশে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। আওয়ামী লীগের পতনের পর জায়গা করে নিয়েছে বিএনপি। সরকারের বয়স এখনো ছয় মাসও হয়নি। এই স্বল্প সময়ে তেলের দাম বৃদ্ধি, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক মন্দা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা—সব মিলিয়ে চাপের মুখে পড়েছে সরকার। বিদ্যুৎ সমস্যা আছে, দ্রব্যমূল্যের চাপ আছে। মানুষের দুর্ভোগও আছে। কিন্তু এই বাস্তবতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার বদলে এনসিপি ও জামাত যে পথে হাঁটছে, তা নিজেদের জন্যই সবচেয়ে বিপজ্জনক।

তারা চেষ্টা করছে বিএনপিকে আওয়ামী লীগের জায়গায় বসাতে। তারেক রহমানকে শেখ হাসিনার জায়গায় দাঁড় করাতে। এই তুলনা নিজেদের পায়ে কুড়াল মারার সমান। আওয়ামী লীগের সতেরো বছরের শাসন ছিল দুর্নীতি, খুন, গুম, প্রতিহিংসা আর নির্মম দমনের ইতিহাস। বিরোধীদের ওপর যে মাত্রার নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে অতুলনীয়। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ ও সংস্কৃতি সেই পথে হাঁটেনি। ছয় মাসের শাসনে একটিও গুম হয়নি, একটিও রাজনৈতিক হত্যা হয়নি। তারেক রহমান একবারও প্রতিহিংসার ভাষা ব্যবহার করেননি। হাসিনার সঙ্গে তার তুলনা মানুষ গ্রহণ করবে না। কারণ মানুষ ইতিহাস দেখেছে এবং বর্তমানও দেখছে।

এনসিপি যে পদযাত্রা করছে, তাতে জুলাইয়ের চেতনা বা আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কথা খুব কমই শোনা যায়। বরং প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির বিরুদ্ধে কটূক্তি, গালিগালাজ আর উসকানিমূলক ভাষাই বেশি শোনা যায়। শুধুমাত্র বিরোধিতার নামে বিরোধিতা। গঠনমূলক সমালোচনার বদলে মানুষকে ক্ষিপ্ত করার চেষ্টা। এই পথে হাঁটলে জনসমর্থন বাড়ে না, কমে। বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরোধী দল হিসেবে যে জনপ্রিয়তা তারা অর্জন করেছিল, সেটাই এখন হারাতে বসেছে।

পাঁচই আগস্টের সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী ছিল এনসিপি ও জামাত। সেই পরিবর্তন না হলে জামাতের সংসদে আসার সুযোগ হতো না, এনসিপির জন্মও হতো না। বিএনপি সুষ্ঠু নির্বাচন পেলে ক্ষমতায় আসতই। কিন্তু এখন তারা দ্রুত ক্ষমতার স্বপ্ন দেখছে। সোজা পথে জনসমর্থন অর্জনের বদলে বাঁকা পথে হাঁটতে চাইছে। এই কৌশল যদি আওয়ামী লীগকে নতুন করে প্রাসঙ্গিক করে তোলে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হবে এনসিপি ও জামাতেরই। বিএনপি আগেও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিরোধী দল হিসেবে টিকেছে। তারা আবারও টিকবে। কিন্তু এনসিপি ও জামাতের জন্য সেই সুযোগ আর সহজে আসবে না।

আওয়ামী লীগ এখনো জনগণের ওপর ভরসা করে না। তাদের ভরসা আমেরিকা, ভারত আর তথাকথিত ডিপ স্টেটের ওপর। জনগণের বিপক্ষে গিয়ে যারা ক্ষমতা ধরে রেখেছিল, তারা আবারও সেই পথেই হাঁটতে চায়। কিন্তু কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘদিন জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারে না। এনসিপি ও জামাত যদি এই সত্য ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র সরকারবিরোধী উসকানিমূলক রাজনীতি করে, তাহলে তারা নিজেরাই নিজেদের ধ্বংসের পথ তৈরি করবে।

তাদের উচিত ছিল আদর্শ বিরোধী দল হিসেবে থেকে সরকারকে সময় দেওয়া। গঠনমূলক সমালোচনা করা। তারপর নির্বাচনে জনগণের রায় নেওয়া। কিন্তু তারা সেই পথ ছাড়ছে। বিএনপিকে আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা এবং তারেক রহমানকে হাসিনার ছাঁচে ফেলার চেষ্টা—এই দুটোই আত্মঘাতী। এই ভুল কৌশল শুধু তাদের নয়, পুরো দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকেও বিষিয়ে তুলতে পারে।

© all rights reserved
made with by templateszoo