মক্কা প্যাক্ট ও বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত: বাংলাদেশ ফার্স্ট
মক্কা প্যাক্ট নিয়ে এখন যে আলোচনা চলছে, তার বড় একটি অংশ তথ্যের চেয়ে প্রচারণানির্ভর। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্যটি হলো—বাংলাদেশ এখনো এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে বিষয়টিকে বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবেই বিবেচনা করছে এবং জাতীয় স্বার্থের আলোকে সব দিক পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মক্কা প্যাক্ট বাংলাদেশের জন্য নতুন কৌশলগত ও কূটনৈতিক সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে। বৃহত্তর নিরাপত্তা সহযোগিতা, নতুন অংশীদারিত্ব এবং বহুমাত্রিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—এসব দিক থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। অবশ্যই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশের লাভ, সম্ভাব্য ঝুঁকি এবং দায়বদ্ধতাগুলো সতর্কতার সঙ্গে মূল্যায়ন করবে।
কিন্তু বাংলাদেশে মক্কা প্যাক্ট নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই ভারতের কিছু গণমাধ্যম ও ইনফ্লুয়েন্সাররা বিষয়টিকে মূলত ভারতের নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে আলোচনা করছে। কোথাও বাংলাদেশের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে, কোথাও এমন বার্তা দেওয়া হচ্ছে যেন বাংলাদেশের কৌশলগত সিদ্ধান্ত ভারতের নিরাপত্তা বিবেচনা করেই নিতে হবে।
ভারতের নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের অধিকার অবশ্যই আছে। কিন্তু বাংলাদেশেরও একটি মৌলিক অধিকার আছে—নিজের জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী স্বাধীনভাবে পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণের।
এখানে বিষয়টি পরিষ্কার করা জরুরি: বাংলাদেশ ভারতের বিরুদ্ধে নয়। বাংলাদেশ ভারতকে শত্রু মনে করে না। ভারত আমাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং আঞ্চলিক অংশীদার। ভৌগোলিক বাস্তবতা, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার কারণে ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক উভয় দেশের স্বার্থেই গুরুত্বপূর্ণ।
কিন্তু সুসম্পর্ক মানে নির্ভরশীলতা নয়।
বন্ধুত্ব মানে নিজের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ছেড়ে দেওয়া নয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল শক্তি হওয়া উচিত strategic autonomy। অর্থাৎ, কোনো একটি দেশের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে বহুমুখী অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা। ভারত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু বাংলাদেশের কৌশলগত সম্পর্ক শুধু একটি দেশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে পারে না। চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাপান, মধ্যপ্রাচ্য, তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক থাকবে বাংলাদেশের প্রয়োজন ও জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী।
মক্কা প্যাক্টে যোগ দেওয়ার প্রশ্নটিও তাই বাংলাদেশের নিজস্ব কৌশলগত সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশ যদি মনে করে এই অংশীদারিত্ব তার নিরাপত্তা, কূটনৈতিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক অবস্থানকে শক্তিশালী করবে, তাহলে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে এগিয়ে নেওয়ার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরুদ্ধে জোট করার জন্য সিদ্ধান্ত নেবে না। আবার কোনো দেশের আপত্তির কারণে নিজের কৌশলগত বিকল্পও বন্ধ করবে না।
সিদ্ধান্ত হবে একটিমাত্র মানদণ্ডে—
এতে বাংলাদেশের লাভ কী? বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাড়বে কি? বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতা শক্তিশালী হবে কি?
উত্তর যদি হ্যাঁ হয়, বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।
কারণ আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি খুবই স্পষ্ট:
কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়। কোনো দেশের অধীনেও নয়।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment