হাসিনার আমল সনাতনীদের স্বর্ণযুগ ছিল না—চৈতালী ক্ষমতার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন, নিরাপত্তা নয়

0

হাসিনার আমল সনাতনীদের স্বর্ণযুগ ছিল না—চৈতালী ক্ষমতার প্রাসঙ্গিকতা খুঁজছেন, নিরাপত্তা নয়

আলাদা প্রদেশ চাওয়া সেই আলোচিত অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী বলেছেন, পনেরো বছর তাঁরা শান্তিতে ছিলেন, সেটা সনাতনীদের “গোল্ডেন যোগ” ছিল; এখন তৌহিদী জনতার হাতে নির্যাতিত। তিনি সংখ্যালঘুর অহেতুক ভয়কে আওয়ামী লীগ ফেরানোর সিঁড়ি বানাচ্ছেন। যে দল নিষিদ্ধ, যে দলের নেতা বিদেশে পলাতক, তাঁদের ফিরিয়ে আনতে চৈতালীদের ধর্মীয় আতঙ্কই সবচেয়ে সস্তা টুলস্।

কিন্তু আওয়ামী লীগের আমলে সনাতনী বা সংখ্যালঘুরা কেমন ছিল?

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের হিসাব: ২০১৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত—অর্থাৎ হাসিনার শাসনেই—হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর ৩,৬৭৯টি হামলার নথি। ২০২১ সালের দুর্গাপূজায় ২৭ জেলায় শতাধিক মন্দিরে হামলার খবর। নাসিরনগর ২০১৬, রামু ২০১২, জমি দখল, উচ্ছেদ—এগুলো আওয়ামী আমলের ঘটনা। তখন অপরাধীদের বিচার কম হয়েছে, দোষ গিয়েছে বিরোধীর ঘাড়ে। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিকের মতো হিন্দু নেতা বলেছেন, ১৯৫৫ থেকে এই সম্প্রদায়কে আওয়ামী লীগ জিম্মি করে রেখেছে। হিন্দুদের নিয়ে রাজনীতির সিংহভাগই আওয়ামী লীগের হাতে।

২০২৪-এর আগস্টে হাসিনা পতনের হিন্দুদের নিয়ে গুজব বেড়েছে। কিন্তু তদন্ত ও ফ্যাক্টচেক বারবার দেখিয়েছে, সংখ্যা লঘুদের নিয়ে অনেক ঘটনার মিথ্যা গুজব ছড়িয়েছে। ভারতীয় কিছু মিডিয়া সাম্প্রদায়িক হামলা, নির্যাতনের ফ্রেম বানিয়েছে, আবার পতিত আওযামী পন্থী হিন্দুরা দেশের ভেতরেও অতিরঞ্জন ছড়িয়েছে। চৈতালীরা তাদের মধ্যে অন্যতম।

প্রশ্ন হলো: হাসিনা থাকলে কি হিন্দুরা নিরাপদ ছিলেন, নাকি দলের ছত্রছায়ায় কিছু নেতা নিরাপদ ছিলেন? সাধারণ সনাতনীর জমি, মন্দির, মেয়ের নিরাপত্তা কি সেই আমলে আলাদা আইন পেয়েছিল? উত্তর নেই। ছিল শুধু এই বার্তা—আমাদের সঙ্গে থাকো, নাহলে বিরোধী এলে খেয়ে ফেলবে। এটা নিরাপত্তা নীতি নয়, ভোটের জামিন।

চৈতালী যা চান, তা তার বক্তব্য দেখে স্পষ্ট। তিনি চান ফ্যাসিস্ট হাসিনা ফিরুক, আওয়ামী লীগ আবার প্রাসঙ্গিক হোক। সংখ্যালঘু সেই প্রকল্পের মুখোশ। যে হাসিনার আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, জুলাইয়ে নির্মম গুলি, নির্বাচনহীন ক্ষমতা—সেই শাসনকে হিন্দুর স্বর্ণযুগ বলা মানে ইতিহাস মুছে দল বাঁচানো। সনাতনীর অধিকার রাষ্ট্রের দায়, এক দলের দয়া নয়।

চৈতালীরা সেই লক্ষ্যে মাঠে নেমেছে। এটা আওয়ামী লীগের প্রেসক্রিপশন। পেছনে রয়েছে ভারত।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team