চৈতালী কি আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ন্যারেটিভে মাঠে? খেলছেন সংখ্যালঘু কার্ড

0

চৈতালী কি আওয়ামী লীগকে ফেরানোর ন্যারেটিভে মাঠে? খেলছেন সংখ্যালঘু কার্ড

ফ্যাসিস্ট ও পলাতক শেখ হাসিনার শাসনামলকে সনাতনীদের জন্য “স্বর্ণের যুগ” বলা এবং একইসঙ্গে শেখ হাসিনার “কোনো বিকল্প নেই”—এই বক্তব্য দিয়ে চৈতালী জুলাই অভ্যুত্থানে ১৪০০র বেশি শহীদদের অপমান করছেন। তিনি এবার মাঠে নেমেছেন এবং খেলছেন রংপুরে হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারকে নিয়ে নতুন সংখ্যালঘু কার্ড। চৈতালীর কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে এর পেছনে উদ্দেশ্য হলো আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা ফিরিয়ে আনার একটি পরিচিত ন্যারেটিভ? 

শুধু সংখ্যালঘু নয়, প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ইস্যুই সরকারের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু যখন সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয় যেন একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় থাকলেই তারা নিরাপদ, তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে কথা বলা হচ্ছে, নাকি সংখ্যালঘু কার্ড ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির প্রত্যাবর্তনের ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে?

আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ককে প্রভাবিত করতে বিদেশি ভূরাজনৈতিক স্বার্থ কোনোভাবে ভূমিকা রাখছে কি না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিদেশি প্রভাবের সম্ভাবনা এবং তার পেছনে একটিভ কাজ করছে এই চৈতালীরা। 

একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—

বাংলাদেশের হিন্দু নাগরিকদের নিরাপত্তা আওয়ামী লীগের সম্পত্তি নয়।

তাদের নিরাপত্তা কোনো রাজনৈতিক দলের দয়া নয়। এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

তাই “শেখ হাসিনার আমলই ছিল স্বর্ণের যুগ” এবং “শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই”—এই ধরনের বক্তব্য সংখ্যালঘু অধিকার নিয়ে নিরপেক্ষ আলোচনার সীমা অতিক্রম করে সরাসরি একটি রাজনৈতিক ন্যারেটিভ তৈরি করে।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকেই ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে?

চৈতালীর বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার সেটাই তাদের উদ্দেশ্য মনে হলো। 

বাংলাদেশ এমন এক রাষ্ট্র যেখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সবার নিরাপত্তা রাষ্ট্র নিশ্চিত করছে বর্তমান সরকার। শুধু সংখ্যালঘু নয়, সবার অধিকার রক্ষায় সরকার সচেষ্ট। কিন্তু সংখ্যালঘুদের অহেতুক ভয়কে রাজনৈতিক অস্ত্র বানানো যাবে না।

আর কোনো বিদেশি স্বার্থ যদি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধেও থাকতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতা।

বাংলাদেশের রাজনীতি বাংলাদেশের জনগণ নির্ধারণ করবে।

কোনো বিদেশি প্রেসক্রিপশন নয়। কোনো সংখ্যালঘু কার্ডের রাজনৈতিক ব্যবহার নয়।

Bangladesh First. বাংলাদেশের স্বার্থ সবার আগে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team