Showing posts with label ভারত ইস্যু. Show all posts
Showing posts with label ভারত ইস্যু. Show all posts

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.

The 5th of August. The second anniversary of the July Mass Uprising.  

While the people of Bangladesh were remembering the martyrs, the voice of Sheikh Hasina rose from a club in New Delhi.  

Through an audio link. She was not visible on video. But she was speaking.  

She announced that she would return to the country in December.  

And the Ministry of External Affairs of India said—  

“This is a private event. The government has no involvement whatsoever.”


But the question is—  

Does saying “we are not involved” end the responsibility?

Bangladesh was not silent.  

Before the event, Foreign Affairs Adviser Humayun Kabir had formally summoned the Indian High Commissioner and requested that Sheikh Hasina not be allowed to deliver political statements from Indian soil.  

He had clearly stated that such an event could harm the progress of bilateral relations.  


The High Commissioner had given assurances. But the event took place.  


After the event, the statement issued by the Ministry of Foreign Affairs of Bangladesh used extremely strong language.  


The official statement of the Ministry said—  

“Bangladesh is outraged that the absconding convicted genocider Sheikh Hasina was allowed this evening to engage in live interaction with the media in New Delhi where she and her henchmen launched venomous vitriol against the State of Bangladesh and her people.”

The statement further said—  

“Dhaka deeply regrets that in spite of concerns conveyed a priori to the Government of India about the likely ramifications of this event on the reset of our bilateral relations, this public event was permitted to be held.”


The statement clearly stated—  

“On a day when the people of Bangladesh are observing the second anniversary of the July Revolution, this interaction by Sheikh Hasina on the Indian soil stands as an affront to the sovereignty of Bangladesh and a grievous insult to the martyrs of the July Revolution.”


The Ministry further said—  

The denial of facts established by the United Nations, including the gruesome killing of innocent civilians including minor children during July-August 2024 by the fascist regime, stands as a futile attempt by the absconding convicted mass murderer Hasina and her criminal cohort to reverse the tide of history.  

The statement firmly declared—  

“Convicted mass murderer Hasina and her mafia enterprise will never have a place in the polity of Bangladesh.”

Sheikh Hasina is not an ordinary citizen.  

She has been convicted of crimes against humanity by the International Crimes Tribunal.  

She has been sentenced to death.  

She is a state fugitive subject to extradition.  

Such a person is making political declarations before the international media from foreign soil.  

This is not mere personal expression of opinion.  

This is active political activity against a state.  

The host country could have taken many steps if it wanted.  

But India did not take those paths.  

It only said—we are not involved.

At the end of the statement, Bangladesh clearly stated its position—  

“Bangladesh desires to maintain a constructive, mutually beneficial, and forward-looking relationship with India based on sovereign equality, mutual respect, non-interference in each other’s internal affairs, and national dignity.  

Regrettably, Bangladesh’s repeated requests to the Government of India for returning convicted criminal Hasina to Bangladesh under the Extradition Treaty signed between Bangladesh and India in 2013, has not yet elicited a response.  

On the contrary, allowing her the opportunity to openly interact with the media under any pretext is deeply hurtful to our people’s sentiment and detrimental to the development of harmonious bilateral relations between Bangladesh and India.”

Saying “we are not involved” does not end the responsibility.  

Especially when the issue concerns a political platform for a convicted fugitive.  

And the question of a neighbouring country’s sovereignty.  

If India truly follows the principle of non-interference in internal affairs—  

Then it must prove it not only in words, but also in actions.  


Otherwise, the phrase “private event” remains merely a convenient cover for avoiding responsibility.


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?


ভারত কি শেখ হাসিনাকে প্রেস কনফারেন্স করতে দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করল?

২০২৬ সালের ৫ আগস্ট। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী। বাংলাদেশের মানুষ যখন শহীদদের স্মরণ করছে, তখন নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় এক ভার্চুয়াল প্রেস কনফারেন্সে কথা বললেন শেখ হাসিনা। অডিও লিঙ্কের মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যায়নি। এটা তার গণঅভ্যুত্থানের পর প্রথম সরাসরি মিডিয়া মতবিনিময়।

শেখ হাসিনা বললেন, ডিসেম্বরে তিনি বাংলাদেশে ফিরবেন। গ্রেপ্তার হোক, কারাগারে যাক, এমনকি মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হোক—ভয় পাচ্ছেন না। তিনি দাবি করলেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ছাত্র আন্দোলন ছিল না, বরং ‘পরিকল্পিত শাসন পরিবর্তন’। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ারও দাবি জানালেন। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বললেন, ভারত তাকে ‘রাষ্ট্রপ্রধানের মর্যাদা’ দিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিল স্পষ্ট ও তীব্র। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে বলেছে—‘ঢাকা ক্ষুব্ধ’। তারা আগেই ভারতকে জানিয়েছিল যে এই অনুষ্ঠান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে ‘পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী’ বলে উল্লেখ করা হয় এবং বলা হয়, ভারতীয় মাটিতে থেকে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বিষাক্ত আক্রমণ’ চালানো হয়েছে। এটাকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অপমান বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি ‘নির্বাসিত নেতা’?

না। তিনি গণঅভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে যাওয়া নেতা। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে তার ১৫ বছরের শাসনের পতন ঘটে। হাজারো মানুষের প্রাণহানি ঘটে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের হিসাবে প্রায় ১৪০০ মানুষ নিহত হন।

২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তাকে অনুপস্থিতিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়। ট্রাইব্যুনাল বলেছে, তিনি বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং গণহত্যা রোধে ব্যর্থ হয়েছিলেন। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার বারবার ভারতের কাছে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানিয়েছে। ভারত বলেছে, বিষয়টি পরীক্ষা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

শেখ হাসিনা নিজেকে ‘নির্বাসিত’ দাবি করলেও বাংলাদেশের আইনি বাস্তবতা ভিন্ন। তিনি আদালতের রায় এড়িয়ে পলাতক। আন্তর্জাতিক আইনেও একজন দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশ থেকে রাজনৈতিক মঞ্চ দেওয়া স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ।

ভারত কি হস্তক্ষেপ করল?

ভারত সরকার বলেছে, অনুষ্ঠানটি বেসরকারি উদ্যোগে হয়েছে। সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, কোনো মতামতকে সমর্থনও করে না। কিন্তু বাস্তবতা হলো—শেখ হাসিনা দুই বছর ধরে ভারতে অবস্থান করছেন। নিরাপত্তা পাচ্ছেন। প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে ভারতীয় ভূখণ্ডে। বাংলাদেশ আগেই আপত্তি জানিয়েছিল। তবু অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশ সরকার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ’ হিসেবেই দেখছে। একজন দোষী সাব্যস্ত, পলাতক এবং মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে অন্য দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাষ্ট্র, সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলার সুযোগ দেওয়া কূটনৈতিক সৌজন্যের সীমা অতিক্রম করে। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লবের বার্ষিকীতে।

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠনের যে প্রচেষ্টা চলছে, এই ঘটনা তাতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। বাংলাদেশ স্পষ্ট করেছে—সার্বভৌমত্ব, পারস্পরিক সম্মান এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা—এই ভিত্তিতেই সম্পর্ক এগোতে পারে।

শেখ হাসিনার প্রেস কনফারেন্স শুধু একজন পলাতক নেতার বক্তব্য নয়। এটি বাংলাদেশের বিচারিক প্রক্রিয়া, গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি এবং প্রতিবেশী দেশের কূটনৈতিক দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ভারত যদি সত্যিই ‘বেসরকারি অনুষ্ঠান’ বলে দায় এড়াতে চায়, তাহলে এমন অনুষ্ঠান অনুমোদন না দেওয়ার নৈতিক ও কূটনৈতিক দায়িত্বও তার ওপর বর্তায়।

হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে, বক্তৃতার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে

 হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে, বক্তৃতার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে


ভারত শেখ হাসিনা ও তার সন্ত্রাসী সংগঠন আওয়ামী লীগকে মঞ্চ দিয়ে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি কোনো সাধারণ কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এটি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার ভারতের সুপরিকল্পিত কৌশলেরই অংশ এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তাকে বিপন্ন করার এক স্পষ্ট রাজনৈতিক-কূটনৈতিক দুঃসাহসিকতা।


হাসিনা ও তার দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ইতোমধ্যে তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তারপরও ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে, নিরাপত্তা দিয়েছে এবং তার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের অবশিষ্টাংশকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিয়েছে। এটি শুধু প্রতিবেশী দেশের প্রতি অবজ্ঞা নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ।


ভারত বাংলাদেশ ও তার জনগণের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের দায় এড়াতে পারে না। হাসিনাকে মঞ্চ দিয়ে ভারত প্রমাণ করেছে যে তারা এখনো পুরনো পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতি থেকে বেরোতে পারেনি। তারা জুলাই অভ্যুত্থানকে স্বীকার করতে চায় না, কারণ সেই অভ্যুত্থান তাদের দীর্ঘদিনের মিত্র শক্তিকে উচ্ছেদ করেছে। এ অবস্থায় ভারতের এই অবস্থান বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতায় হস্তক্ষেপেরই নামান্তর।


আমরা পারস্পরিক সম্মান ও মর্যাদার ভিত্তিতে মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক চাই। কিন্তু সেই সম্পর্ক হতে হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পূর্ণ স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ধারা থেকে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়ার শর্তে। হাসিনা ও তার দলকে কোনোভাবেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিসরে ফিরে আসার সুযোগ দেওয়া যাবে না। ভারত যদি সত্যিই বাংলাদেশের সাথে সমমর্যাদার সম্পর্ক চায়, তাহলে তাদের এই বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। অন্যথায় এই সম্পর্ক শুধু কাগজে-কলমেই থাকবে, বাস্তবে নয়।

হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

 


হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ঢাকার পুরানা পল্টনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা হয়। ছয় দিন পর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। হত্যার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার সহযোগী আলমগীর হোসেন ঘটনার পর সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। ২০২৬ সালের মার্চে পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ভারতীয় পুলিশ।

এরপর থেকেই প্রশ্ন উঠেছে—এই দুই অভিযুক্তকে কবে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে ভারত?

এপ্রিলে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠকে নীতিগত সম্মতি হয়। প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাদের ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জুন মাসে আশা প্রকাশ করেন যে ভারত তাদের ফেরত দেবে। কিন্তু জুলাই শেষেও বাস্তবে কোনো হস্তান্তর হয়নি।

এটা সত্য যে, প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ নয়। আনুষ্ঠানিক নোট, আদালতের অনুমতি, কাগজপত্র যাচাই—এসব ধাপ পেরোতে সময় লাগে। তবে হাদি হত্যাকাণ্ড যে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপ তৈরি করেছে, তাতে এই বিলম্ব প্রশ্নবিদ্ধ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। অথচ ভারতীয় পক্ষ থেকে স্পষ্ট সময়সীমা বা অগ্রগতির কোনো স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি।

এই ধীরগতি শুধু একটি মামলার বিষয় নয়। এটি দুই দেশের মধ্যে আইনি সহযোগিতা ও রাজনৈতিক ইচ্ছার পরীক্ষা। হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে প্রধান আসামিদের উপস্থিতি অপরিহার্য। তাদের অনুপস্থিতিতে তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

জনমনে প্রশ্ন রয়েছে—যদি চুক্তি অনুযায়ী ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়, তাহলে বাস্তবে কেন এত দেরি? আইনি জটিলতা না কি অন্য কোনো বিবেচনা কাজ করছে? এই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়।

হাদির পরিবার ও তার সমর্থকরা ন্যায়বিচার চান। সেই ন্যায়বিচারের জন্য অভিযুক্তদের দেশে ফেরত আনা জরুরি। ভারত যদি সত্যিই আইনের শাসন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির প্রতি সম্মান দেখায়, তাহলে এই প্রক্রিয়া আরও দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। অন্যথায় ‘সম্মতি’ শুধু কূটনৈতিক কথাবার্তায় সীমাবদ্ধ থেকে যাবে।

প্রশ্নটা এখনও একই—হাদির খুনিদের কবে ফেরত দেবে ভারত?

তেলাপোকা আন্দোলনের জয় ও মোদি সরকারের ব্যর্থতা


তেলাপোকা আন্দোলনের জয় ও মোদি সরকারের ব্যর্থতা

ভারতের রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা সাধারণ রাজনৈতিক বিক্ষোভের চেয়ে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ। একদল তরুণ, যাদের অনেকেই নিজেদের ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি বলে পরিচয় দিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করাতে বাধ্য করেছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিও জনগণের ক্ষোভের মুখে নতি স্বীকার করতে পারেন। শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন ভেঙে পড়া শিক্ষাব্যবস্থার প্রতীক। তাঁর সরে যাওয়া জরুরি ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্তে দেরি করে মোদি সরকার নিজের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

এই তরুণেরা কোনো ঐতিহ্যবাহী বিরোধী দলের ব্যানারে নয়, বরং নিজেদের মতো করে রাস্তায় নেমেছে। তারা জাতীয় সংগীত ও বন্দে মাতরম গেয়ে দেখিয়েছে যে জাতীয়তাবাদ কোনো এক দলের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। তাদের দাবি ছিল শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও কর্মসংস্থান। মোদি সরকার গত এক যুগে অনেক নতুন সড়ক, বন্দর ও বিমানবন্দর তৈরি করেছে। মধ্যবিত্তের এক অংশ প্রথমে এতে আনন্দিত হয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সত্যিটা সামনে এসেছে। এই অবকাঠামো তাদের ব্যক্তিগত জীবনে বাস্তব কোনো উন্নতি আনেনি। তারা এখনো দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তার চক্রে বন্দী।

পরীক্ষা পাস করার পর চাকরি খোঁজার নতুন দুর্ভোগ শুরু হয়। বেসরকারি খাতে যোগ্যতা প্রমাণ করা কঠিন। সরকারি চাকরির সংখ্যা দিন দিন কমে আসছে। যাদের সামর্থ্য আছে, তারা বিদেশে চলে যায় অর্থনৈতিক শরণার্থী হিসেবে। দেশের ভেতরে থেকে যাওয়া তরুণরা হতাশ। মোদি সরকারের প্রচারিত ‘উন্নয়ন’ তাদের কাছে কেবল শব্দ মাত্র। যদি সত্যিই জীবনমান উন্নত হতো, তবে হাজার হাজার তরুণ রাজপথে নামত না।

সিজেপির আন্দোলন দেখিয়েছে যে নতুন প্রজন্ম পুরনো রাজনৈতিক কাঠামো মেনে নিতে চায় না। তারা চায় এমন নেতৃত্ব, যারা বংশানুক্রমিক সুবিধাবাদের বাইরে থেকে আসে। ধর্মনিরপেক্ষতা ও হিন্দুত্বের পুরনো বিতর্ক এখন অর্থহীন হয়ে পড়েছে। তরুণরা চায় বাস্তব সমস্যার সমাধান—শিক্ষা, চাকরি ও মর্যাদার জীবন। মোদি সরকার যদি এই ক্ষোভকে উপেক্ষা করে, তাহলে আগামী নির্বাচনে তার মূল্য দিতে হতে পারে। এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতা যতই শক্তিশালী হোক, জনগণের সম্মিলিত কণ্ঠস্বরকে দীর্ঘদিন চাপা রাখা যায় না। তেলাপোকার মতোই তারা টিকে থাকবে এবং পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে যাবে।

#YouthRebellion #ModiFailure #CockroachMovement

বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা


বাংলাদেশি পরিচয়ে নির্যাতন: ভারতের সেই পুরনো মানসিকতা

সম্প্রতি ভারতের বেঙ্গালুরুতে এক ডাক্তার দুই বাংলাদেশিকে পিটিয়েছেন। কারণ স্পষ্ট—তারা বাংলাদেশি। অবৈধ অভিবাসী সন্দেহে তিনি রাস্তায় তাদের থামিয়ে গালিগালাজ করে মারধর করেন। নসরীনা ও তার স্বামী মোহাম্মদ বিলালের ওপর এই আক্রমণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ডাক্তারকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ভুক্তভোগীরা সত্যিই বাংলাদেশি। এ ঘটনা নতুন নয়। বাংলাদেশি পরিচয় শুনলেই ভারতের অনেক জায়গায় মব বা ব্যক্তিগত আক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে ইদানীং। মুসলিম পরিচয় আর বাংলাদেশি পরিচয় দুটোই অনেকের কাছে সন্দেহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কয়েক মাস আগে অভিনেতা মোশাররফ করিম কলকাতায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিবকে এয়ারপোর্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে রাখার মতো ঘটনাও ঘটেছে। এসব দেখে স্পষ্ট যে, ভারতে বাংলাদেশিদের প্রতি সহনশীলতা কমে গেছে। তবুও অনেকে ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য লম্বা সিরিয়ালে দাঁড়ান। কেন?  একটু ভেবে দেখুন, ভ্রমণ বা শপিং এর জন্য কি এত ঝুঁকি নেওয়ার দরকার আছে?

অন্তর্বর্তী  সরকারের সময় ভিসা বন্ধ বা সীমিত করার সময় ভারতের মেডিকেল ট্যুরিজম ও হোটেল ব্যবসায় বড় ধাক্কা লেগেছিল। অনেক হোটেল প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ভারতের কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে রাস্তায় ফেলে বিক্ষোভ করেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা আত্মচিৎকার করেছেন। বাংলাদেশিরা না গেলে তারা দুমুঠো খেতে পারবে না বলে অনেকে বলেছিলেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র। অথচ সেসময় কিন্তু বাংলাদেশে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। চিকিৎকার কথা যদি বলি ভারত না গিয়ে বরং চীন, তুরস্ক, ইরানসহ অন্যান্য দেশে সস্তায় চিকিৎসার সুযোগ তৈরি হয়েছে। দেশের হাসপাতালগুলোতে আস্থা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা সেই সময়ে তেমন ক্ষতিগ্রস্ত হননি। বরং ভারতের ন্যারেটিভ ভেঙে গেছে। তারা ছাড়া বাংলাদেশ অচল—এ ধারণা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। এখন ট্যুরের জন্য নেপাল, ভুটান, থাইল্যান্ড, চীনসহ পুরো বিশ্ব খোলা। সেখানে ধর্মীয় প্রতিহিংসা বা মবের ভয় নেই। স্ক্যামারদেরও কম। তাহলে শুধু ভারতেই ভিড় করার কী প্রয়োজন? বেইজ্জতির ঝুঁকি নিয়ে কেন যেতে হবে?

জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে যাওয়া যায়। কিন্তু আনন্দ ভ্রমণ বা সাধারণ ট্যুরের জন্য এ মুহূর্তে ভারতের পরিবেশ উপযোগী নয়। বিশেষ করে পশ্চিম বঙ্গে যখন বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে তখন থেকে পরিবেশটা অনেক খারাপ হয়ে গেছে। এর চেয়ে বরং দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত করার পরামর্শ দিন। ডাক্তার-হাসপাতাল-টেস্ট-ঔষধ ব্যবসায় স্বচ্ছতা আনুন। বাইরের দরজা খোলা আছে। নিরাপদ জায়গা বেছে নিন।

#BoycottIndiaTourism #ProtectBangladeshis #SafeTravelChoices

বাংলাদেশের ছাত্ররা ভারতের ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা দেখাতেই পারে, কারণ তারাও দেখিয়েছিল


 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের কিছু ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়েছিল। কলকাতা ও দিল্লিতে তারা মিছিল করেছিল, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রাম হিসেবে দেখেছিল। সেই একাত্মতা মূলত মতাদর্শগত ও নীতিগত জায়গা থেকে এসেছিল।

এখন যদি উল্টো চিত্র দেখা যায়—অর্থাৎ ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্র সমর্থন জানায়—তাহলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলার কোনো যুক্তি নেই। ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও একাত্মতা নতুন কিছু নয়। এক দেশের শিক্ষার্থীরা যখন অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানায়, তখন সেটিকে সাধারণত মানবিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হয়।

ভারতের ছাত্ররা যখন বাংলাদেশের আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিল, তখন তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বা কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে নীতির জায়গা থেকে দাঁড়িয়েছিল। একই যুক্তিতে, বাংলাদেশের কিছু ছাত্র যদি ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানায়, তাহলে সেটিকেও একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত। এটি কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়; বরং ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সংহতিরই একটি স্বাভাবিক প্রকাশ।

অতএব, ভারতের ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্রের সমর্থন থাকা অস্বাভাবিক নয়। এটি সেই একই ধারার ধারাবাহিকতা, যেখানে ছাত্ররা সীমান্তের বাইরেও একে অপরের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেয়।

ভারতে ছাত্র আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনের ছায়ায় এবার কি মোদির গদিই টার্গেট?

 ভারতে ছাত্র আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনের ছায়ায় এবার কি মোদির গদিই টার্গেট?

ভারতে এই মুহূর্তে যে ছাত্র আন্দোলন চলছে, তা শুধু পরীক্ষা ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়। এটি মোদি সরকারের শিক্ষা নীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের গভীর ক্ষোভের প্রকাশ। ২০২৬ সালের এনইইটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। জুন মাস থেকেই দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জান্তা পার্টির ব্যানারে যুবকেরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে তারা মিছিল করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও শতাধিক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এখন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। রাহুল গান্ধীর মতো নেতারাও আটক হয়েছেন। সাধারণ মানুষ খাবার ও পানি পাঠিয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছেন। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের মতো ব্যক্তিত্বরাও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

এই আন্দোলন শুধু শিক্ষা সংকটের প্রকাশ নয়। এটি যুব বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারের প্রতি আস্থার সংকটকেও সামনে এনেছে। মোদি সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুবশক্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা ফাঁস, চাকরির অভাব ও স্বচ্ছতার অভাবে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সরকারের কঠোর মনোভাব আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ফলে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখলে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে গণআন্দোলন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘটিয়েছিল। নেপালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুব ক্ষোভ বারবার সরকার পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান ক্ষমতার পালাবদল এনেছে। এই তিন দেশের ঘটনায় একটি সাধারণ সূত্র দেখা যায়—যখন তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাশ হয় এবং সরকার তা উপেক্ষা করে, তখন রাস্তার আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়।

ভারত অবশ্য অনেক বড় ও জটিল গণতন্ত্র। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়মিত চলে। তাই সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবুও ছাত্রদের এই ক্ষোভ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। পরীক্ষা ফাঁসের মতো ঘটনা বারবার ঘটলে এবং পুলিশি দমন অব্যাহত থাকলে যুবসমাজের আস্থা আরও ক্ষয় হবে। মোদি সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।

ইতিহাস বলে, যখন শাসকগোষ্ঠী তরুণদের কণ্ঠস্বরকে দমন করতে চায়, তখন সেই কণ্ঠস্বর আরও জোরে প্রতিবাদী হয়। ভারতের ছাত্ররা এখন সেই পথেই হাঁটছে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনা যদি কোনো শিক্ষা দেয়, তা হলো—যুব ক্ষোভকে উপেক্ষা করা যায় না। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে তার ওপর। শিক্ষার্থীদের দাবি যদি উপেক্ষিত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের সম্ভাবনা একেবারে অস্বীকার করা যায় না।

#IndiaStudentProtests #NEETLeakCrisis #SouthAsiaYouthMovement

ধীরে ধীরে শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে ভারতের গণতন্ত্র


ধীরে ধীরে শূন্যে মিলিয়ে যাচ্ছে ভারতের গণতন্ত্র

অনেক ত্রুটি সত্ত্বেও গণতান্ত্রিক একটি ব্যবস্থা বহু বছর বজায় রেখেছিল ভারত। এ জন্য গোটা বিশ্বে শ্রদ্ধাও পেয়েছিল। মোটামুটি নিরপেক্ষ নির্বাচন হতো, সরকার গঠিত হতো, সাধারণ মানুষ রাজ্য ও কেন্দ্রের আইনসভায় বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব করতেন। বহু দেশ থেকে মানুষ এসেছেন, সমীক্ষা করেছেন বহুত্ববাদী এ প্রক্রিয়া নিয়ে, যে প্রক্রিয়া প্রায় দেড় শ কোটি মানুষকে অসংখ্য দলের হয়ে ধর্ম-বর্ণ-জাতি-গোষ্ঠীনির্বিশেষে আইনসভায় প্রতিনিধিত্বের সুযোগ করে দিয়েছে। বহু পণ্ডিত বলেছেন, স্বাধীনতা–উত্তর ভারতে গণতন্ত্র সফল হয়েছে।

এ কথা এখন আর বলা যাবে না। এখন বলতে হবে, এ প্রক্রিয়া ধ্বংস হয়ে অন্য কিছু হতে চলেছে। এখন প্রায় নিয়মিতভাবেই গণমাধ্যমে দেখা যায়, একটি দল ভেঙে প্রধান ক্ষমতাসীন দল বিজেপিতে মিশে গেল বা কোনো দল সিদ্ধান্ত নিল, বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও তারা কেন্দ্রীয় আইনসভায় বিজেপিকেই সমর্থন দেবে। এখন বিজেপিবিরোধী নেতারা খোলাখুলিই বলছেন, তাঁদের কাছে আর্থিক কেলেঙ্কারির কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) বা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) ফোন এসেছিল, তাই তাঁরা তাঁদের দল ছেড়ে দিলেন। দিন কয়েক আগেই পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা মদন মিত্র ‘নতুন’ তৃণমূল কংগ্রেসে চলে গেলেন ‘পুরোনো’ অর্থাৎ মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে। কারণ, ১৪ জুলাই তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি আর ১৫ জুলাই দল পাল্টে ফেললেন মদন।

গত সপ্তাহে সকালে বিজেপিতে যোগ দিয়ে বিকেলে রাজ্যসভায় বিজেপির মনোনয়ন পেয়ে গেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার তিন সংসদ সদস্য সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব ও প্রকাশ চিক বরাইক। বিষয়টি এতটাই ন্যক্কারজনক যে বিজেপির ভেতরের একাংশ গণমাধ্যমে বলছেন, এটা মেনে নেওয়া সম্ভব নয় যে যাঁদের বিরুদ্ধে তাঁরা লড়েছেন, তাঁরাই বিজেপির দখল নিচ্ছেন। তাঁদের শান্ত করতে রাজ্যের নেতৃত্ব বলেছে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা-নেত্রীদের নিজেদের দিকে আনতে হচ্ছে। এর দুটি কারণ আছে—একটি কেন্দ্রের জন্য প্রযোজ্য, অপরটি রাজ্যের জন্য।

কেন্দ্রে পার্লামেন্টের দুই কক্ষে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর (ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স) এক্ষুনি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা চাই। কারণ, তারা পার্লামেন্টের আসন্ন অধিবেশনে সংবিধান সংশোধনী বিল পাস করাতে চায়, যে জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন। এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনডিএর নেই। তাই তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে রাতারাতি নতুন দলে তৃণমূলের এমপিদের যোগ দেওয়াতে হচ্ছে। বিষয়টি হাস্যকর জায়গায় পৌঁছেছে। ভারতের লোকসভা সচিবালয় ইতিমধ্যে বলেছে, তৃণমূল কংগ্রেসের এমপি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে যে ২০ জন ২০২৩ সালে পশ্চিমবঙ্গে নথিভুক্ত সম্পূর্ণ অজানা দল ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়ায় (এনসিপিআই) যোগ দিয়েছেন, তাঁরা মমতাপন্থী তৃণমূল কংগ্রেসে এখনো থাকা তাঁদের সাবেক ৮ সহকর্মীর থেকে কিছুটা দূরে বসবেন লোকসভায়। অর্থাৎ তাঁরা কার্যত স্বীকৃতি পেলেন। তাঁরা যে ভবিষ্যতে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএকে ভারতের লোকসভায় বিল পাস করাতে সাহায্য করবেন, তা বলা বাহুল্য। কারণ, তাঁদের সাহায্যেই সুদীপ-গোষ্ঠী আজ এনডিএর শরিক।

অথচ কস্মিনকালে ভারতে কেউ এনসিপিআই দলের নাম শোনেনি। সপ্তাহ কয়েক আগে শুনল; কারণ তৃণমূল কংগ্রেসের এমপিরা ওই দলে যোগ দিলেন। বিষয়টি এতটাই হাস্যকর যে অনেকে সামাজিক মাধ্যমে রসিকতা করে লিখেছেন, ‘এত দিন “শেল কোম্পানি” বা গোপন কোম্পানির কথা শুনেছি, এখন “শেল” রাজনৈতিক দলের কথাও শুনছি।’

আবার রাজ্যস্তরে একটি ‘নতুন’ তৃণমূল রাতারাতি গঠিত হয়ে গেল। এই তৃণমূলের নেতাই রাজ্যের আইনসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হয়ে গেলেন। আদালত সেটি আপাতত মেনেও নিলেন। অর্থাৎ যে তৃণমূল কংগ্রেস ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠা করে এত দিন লড়াই করলেন এবং মুখ্যমন্ত্রী রইলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই দল আর তাঁর দল রইল না, সেটি একসময় সিপিআই-এম থেকে বহিষ্কৃত এক নেতার দল হয়ে গেল। এটি বিশ্বের কোন গণতন্ত্রে হয়? এটি করা হলো, যাতে পশ্চিমবঙ্গ বিরোধীশূন্য করে তা শাসন করতে পারে বিজেপি।

এ ঘটনা যে শুধু পশ্চিমবঙ্গে ঘটছে তা নয়, কোনো না কোনোভাবে গোটা ভারতে ঘটছে। প্রায় প্রতিটি রাজ্যে বিজেপিবিরোধী দলগুলো ভেঙে টুকরা টুকরা হয়ে যাচ্ছে। দিল্লিতে আম আদমি পার্টি ভেঙে নেতারা সদলবল বিজেপিতে যোগ দিলেন। মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ভেঙে গেল। এখন বলা হচ্ছে, মহারাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী বিরোধীদলীয় নেতা শারদ পাওয়ার, যিনি এখন পর্যন্ত বিজেপিবিরোধী কেন্দ্রীয় জোট ‘ইন্ডিয়া’র কাগজে-কলমে শরিক, তিনি আসন্ন বিলে এনডিএর পক্ষে দাঁড়াবেন।

আর এসব ঘটনার প্রচারমাধ্যমে একধরনের ‘সেলিব্রেশন’ বা উৎসব চলছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় খবর আসছে, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট অন্য দল ভাঙিয়ে এখন ৩০৫ থেকে ৩১০ বা ৩১০ থেকে ৩২০–এ পৌঁছে গেল। এটা যেন একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ—লাফিয়ে লাফিয়ে স্কোর বাড়ছে আর এনডিএ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। সারাক্ষণ গণমাধ্যমে নানান ‘স্পেকুলেশন’ বা জল্পনাও চলছে—আজ কি উত্তর প্রদেশের সমাজবাদী পার্টি ভেঙে তাদের এমপিরা বিজেপিতে চলে যাবেন, নাকি সপ্তাহের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে? তামিলনাড়ুর প্রধান বিরোধী দ্রাবিড় মুনেত্র খাজাগম কাল ভাঙবে, না আগামী সপ্তাহে বিল পেশের আগে?

দুইভাবে দলগুলোকে ভাঙা হচ্ছে। হয় সরাসরি টাকা দেওয়া হচ্ছে, যেমনটা মহারাষ্ট্রে বলেছেন উদ্ধব ঠাকরেপন্থী শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। অভিযোগ, সেখানে মোটামুটি ১৫ থেকে ৫০ কোটি দেওয়া হয়েছে এমপিপিছু; যদিও এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিবসেনার অপর অংশের নেতা একনাথ শিন্ডে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে এখনো আছেন, এমন এক এমপি সম্প্রতি টেলিফোনে আমাকে বললেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে এমএলএদের দর যাচ্ছে মোটামুটি ২০ থেকে ৪০ কোটি, এমপিদের দর উঠেছে ৫০ থেকে ৭০ কোটি। আমি এখনো যাইনি, কিন্তু আমাকে ১০০ কোটি “অফার” করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আপনিই বলুন, এ অবস্থায় কেন কেউ কোনো দল ভাঙবে না?’

ভারতে এমএলএ–এমপি কেনাবেচা অতীতে হয়নি, তা নয়। অসংখ্যবার হয়েছে এবং তা নিয়ে তদন্তও হয়েছে। কংগ্রেসের নরসীমা রাও প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে ১৯৯৩ সালে সংসদ সদস্য কেনাবেচা করে অনাস্থা প্রস্তাব থেকে তাঁর সরকারকে বাঁচিয়েছিলেন। কিন্তু এসবই ছিল ব্যতিক্রম। ঢালাওভাবে দল ভেঙে দেওয়া হয়নি বা প্রতিষ্ঠাতার থেকে নিয়ে নেওয়া হয়নি, ক্ষমতাসীন দলে যেতে বাধ্য করা হয়নি বা না গেলে গ্রেপ্তার করা হয়নি ইত্যাদি। সবচেয়ে বড় কথা, এই অনৈতিক কাজের সামাজিক স্বীকৃতি ছিল না। সাধারণভাবে মানুষ এই বেচাকেনা পছন্দ করতেন না, যে কারণে বলা হতো, ভারতের গণতন্ত্রে ভুলত্রুটি থাকলেও মানুষ চেষ্টা করছেন এটিকে উন্নত করার।

এখন আর এ আচরণের কোনো সমালোচনা হয় না। এ ধরনের ঘটনা ঘিরে সমাজে ও মাঠপর্যায়ে আন্দোলন হয় না। বিষয়টি সয়ে গিয়েছে; বরং একধরনের ‘সেলিব্রেশন’ চোখে পড়ছে। একটা ‘কী, বিজেপি কেমন সবাইকে বোকা বানিয়ে দিল’ গোছের আস্ফালন দেখা যাচ্ছে। মমতাকে কেমন শিক্ষা দেওয়া গেল, পশ্চিমে শিবসেনাকে ভেঙে টুকরা টুকরা করা গেল বা এবার দক্ষিণে ডিএমকে এবং উত্তরে সমাজবাদী পার্টিকে করা যাবে, এ নিয়ে একটা ‘সেলিব্রেশন’ রয়েছে, আস্ফালন রয়েছে, একটা সার্কাস, একটা টি-টুয়েন্টি, একটা রসিকতা রয়েছে। হ্যাঁ, সেটাই। ভারতে গণতন্ত্র রসিকতায় পরিণত হয়েছে।

আর রসিকতায় যেমনটা হয়, একজন হাসায়, অন্যরা হাসে, সেটাই হচ্ছে। একটি দল হাসাচ্ছে, পাবলিক হাসছে। কারণ, তারা জানে, সবকিছুই একটি দলের—মাঠ তাদের, রেফারি তাদের, দুই পক্ষের প্লেয়ারও তাদের। হাসা ছাড়া দর্শকদের আপাতত আর কিছু করার নেই। ভারতে তাই আজ নির্দিষ্ট দল যখন নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারপ্রান্তে, তখন গণতন্ত্র নামের বস্তুটি শূন্য থেকে মহাশূন্য হয়ে মহাকালে বিলীয়মান।

ভারতে মন্দির নির্মাণের অর্থেও দুর্নীতি: মোদি-বিজেপির হিন্দুত্বের আসল চেহারা উন্মোচিত

 ভারতে মন্দির নির্মাণের অর্থেও দুর্নীতি: মোদি-বিজেপির হিন্দুত্বের আসল চেহারা উন্মোচিত

অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি কোটি টাকার দান আত্মসাতের অভিযোগে ট্রাস্টের জেনারেল সেক্রেটারি চম্পত রাইকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনা মোদি সরকার ও বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির চরম দ্বিমুখীতা ও দুর্নীতিকে আবারও উন্মোচিত করেছে।

শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট সোমবার বৈঠক করে চম্পত রাইয়ের পদত্যাগ গ্রহণ করে অন্তর্বর্তীকালীন জেনারেল সেক্রেটারি নিয়োগ করেছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে নরেন্দ্র মোদি যে মন্দির উদ্বোধন করেন, তা তাঁর অন্যতম বড় রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু মন্দির চালু হওয়ার পরই দানের টাকা নিয়ে বড় ধরনের কেলেঙ্কারি বেরিয়ে এসেছে। ট্রাস্টের হিসাবে ৫৮২ কোটি রুপি দান সংগ্রহিত হয়েছে, যার মধ্যে ৩১৯ কোটি খরচ দেখানো হয়েছে। অথচ সাবেক অ্যাকাউন্টস কর্মকর্তার অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকা চুরি হয়েছে। এসআইটি তদন্তে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মোদি-বিজেপির দুর্নীতি ও ভণ্ডামি

মোদি ও আরএসএস-বিজেপি জোট ধর্মের নামে হিন্দুত্বের ঢোল বাজিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। রাম মন্দিরকে তারা জাতীয় গর্ব ও হিন্দু জাগরণের প্রতীক বানিয়েছে। অথচ সেই মন্দিরের দানের টাকাই চুরি হয়ে যাচ্ছে তাদের নিজস্ব লোকজনের দ্বারা। এটা স্পষ্ট করে দেয় যে, মোদির ‘ডেভেলপমেন্ট’ ও ‘স্বচ্ছতা’র বুলি শুধুই রাজনৈতিক প্রচারণা। ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করে ভোট আদায় করা, আর বাস্তবে দুর্নীতির রাজত্ব চালানো—এটাই বিজেপির আসল চরিত্র।

১৯৯২ সালের বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর যে দাঙ্গায় দু’হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল, সেই রক্তের ওপর দাঁড় করানো মন্দিরেও যখন এমন লুটপাট চলে, তখন বোঝা যায় হিন্দু রাষ্ট্রের স্বপ্ন কতটা ফাঁপা। মোদি সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দুর্নীতি, ক্রোনি ক্যাপিটালিজম ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের যে চিত্র দেখা যায়, রাম মন্দির কেলেঙ্কারি তারই নতুন উদাহরণ।

তবুও প্রতিবেশী দেশের প্রতি নজর-

তাদের অভ্যন্তরীণ এই দুর্নীতি ও অরাজকতা সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তাদের নজর কমেনি। বাংলাদেশসহ আশপাশের দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, প্রচারণা চালানো এবং হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করে।

এ ঘটনা আরও একবার প্রমাণ করে যে, ধর্মের নামে রাজনীতি করা শক্তি শেষ পর্যন্ত নিজেদেরই ক্ষতি করে। ভারতের জনগণের উচিত এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

নরেন্দ্র মোদির স্ত্রীর আবেদন, নিরাপত্তা চান তিনি!

 নরেন্দ্র মোদির স্ত্রীর আবেদন, নিরাপত্তা চান তিনি! 


নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পৃথকভাবে বসবাসরত স্ত্রী যশোদাবেন। তিনি নিজের নিরাপত্তা ব্যবস্থার আইনি ভিত্তি এবং একজন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে কী কী সুবিধা পাওয়ার অধিকারী—সেসব তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের (RTI) আওতায় আবেদন করেছেন।


অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক যশোদাবেন গুজরাট সরকারের কাছে তথ্য অধিকার আইনে (RTI) আবেদন করেন। তিনি গুজরাটের মেহসানা জেলায় তাঁর ভাইয়ের সঙ্গে বসবাস করেন।


২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নরেন্দ্র মোদি প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে স্বীকার করেন যে তিনি বিবাহিত। তাঁদের বিয়ে হয়েছিল যখন দুজনেরই বয়স ছিল ১৭ বছর। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আলাদা থাকছেন।


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মোদি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে চলেছেন। সমালোচকদের মতে, মূল হিন্দুত্ববাদী সমর্থকদের কাছে নিজেকে ব্রহ্মচারী বা অবিবাহিতসদৃশ ভাবমূর্তিতে উপস্থাপন করতেই তিনি বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন।


২০১৪ সালের নির্বাচনে মোদির জয়ের পর যশোদাবেনকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়।


RTI আবেদনে তিনি লিখেছেন, “আমি ভারতের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী। আমাকে কোন আইন ও সাংবিধানিক বিধানের আওতায় নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে, তা জানতে চাই। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে আমি আর কী কী সুবিধা পাওয়ার অধিকারী, সেটিও জানতে চাই।”


তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমি গণপরিবহনে চলাচল করি, অথচ আমার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা সরকারি গাড়িতে যাতায়াত করেন।”


আবেদনে যশোদাবেন বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে নিহত হয়েছিলেন। তাই নিরাপত্তারক্ষীদের উপস্থিতি আমাকে আতঙ্কিত করে। আমার নিরাপত্তায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হোক।”


এর আগে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যশোদাবেন জানান, তিনি মাসে ১৪ হাজার রুপি পেনশন পান।


তিনি দাবি করেন, বিয়ের প্রায় তিন বছর পর নরেন্দ্র মোদি তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এই সময়ে তারা মোটামুটি তিন মাস একসঙ্গে সংসার করেছিলেন এবং পরে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই আলাদা হয়ে যান।


দীর্ঘদিন ধরে সমালোচকদের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (RSS)-এ যোগ দেওয়ার পর নরেন্দ্র মোদি তাঁর স্ত্রীকে কার্যত পরিত্যাগ করেন। ব্রহ্মচর্যকে আদর্শ হিসেবে মূল্যায়নকারী এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পরই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


সমালোচকদের আরও দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে স্ত্রীকে প্রকাশ্যে স্বীকৃতি না দেওয়ার ঘটনা নারীদের প্রতি মোদির দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কে প্রশ্নের জন্ম দেয়। 


খবর: বিবিসি। তারিখ ২৫ নভেম্বর ২০১৪।

অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি কোটি রুপির অনুদান তছরুপের অভিযোগ, তদন্তে SIT

 
অযোধ্যার রাম মন্দিরে কোটি কোটি রুপির অনুদান তছরুপের অভিযোগ, তদন্তে SIT

অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপির অনুদান তছরুপের অভিযোগে ভারতে ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উদ্বোধন করা এই মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্ট অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তবে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত দল (SIT) গঠন করেছে।

এসআইটির অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পুলিশ আটজনের বিরুদ্ধে আত্মসাতের মামলা করেছে। তাদের সবাইকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ভারতের অন্যতম বৃহৎ তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত এই মন্দিরে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ হাজার দর্শনার্থী আসেন; ছুটির দিন ও উৎসবে এ সংখ্যা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ট্রাস্টের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪–২৫ অর্থবছরে মন্দিরটির অনুদান থেকে আয় হয়েছে ৩.২৭ বিলিয়ন রুপি (প্রায় ৩২৭ কোটি রুপি)। তবে সাবেক এক স্থানীয় আইনপ্রণেতার অভিযোগ, এর মধ্যে ৭ কোটি রুপিরও বেশি অনুদানের হিসাব মিলছে না।

অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনেন ট্রাস্টের সাবেক হিসাব তত্ত্বাবধায়ক মহিপাল সিং। তিনি দাবি করেন, অনুদানের অর্থ ও স্বর্ণ-রৌপ্যের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর তাঁকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তিনি প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার কথাও জানান।

বিরোধী দল সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব এবং আরও কয়েকজন রাজনীতিক আদালতের তত্ত্বাবধানে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্টে একাধিক আবেদনও দায়ের হয়েছে।

অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে আগাম দোষী না সাব্যস্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যার কাছে প্রমাণ রয়েছে, তিনি যেন তদন্তকারীদের কাছে তা জমা দেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে।

ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিন্দুত্ববাদী রণধ্বনি: মোদির সাম্প্রদায়িকীকরণের নতুন অধ্যায়

 ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিন্দুত্ববাদী রণধ্বনি: মোদির সাম্প্রদায়িকীকরণের নতুন অধ্যায়


ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের ঐতিহ্যবাহী রণধ্বনি (Battle Cry) পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী নীতি সেনাবাহিনীকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিচ্ছে। অধিকাংশ রেজিমেন্টের যুদ্ধস্লোগান সরাসরি হিন্দু দেব-দেবী, অবতার ও পুরাণকাহিনির সঙ্গে যুক্ত। এটি ভারতের সেক্যুলার সামরিক ঐতিহ্য থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।


শিখ রেজিমেন্টের “জো বোলে সো নিহাল, সত শ্রী আকাল”, গোর্খা রাইফেলসের “জয় মহাকালী, আয়ো গোর্খালী”, রাজপুত রেজিমেন্টের “বোল বজরং বলী কী জয়”, রাজপুতানা রাইফেলসের “রাজা রামচন্দ্র কী জয়”, গাড়ওয়াল ও কুমায়ুন রেজিমেন্টের কালী-বদ্রীনাথ-বজরং বলীর জয়ধ্বনি, ডোগরা ও জম্মু-কাশ্মীর রাইফেলসের দুর্গা মাতার নাম, মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির “হর হর মহাদেব”—এসব স্লোগান ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় বহন করে। এমনকি মিশ্র রেজিমেন্টেও হিন্দু দেবীর নাম প্রাধান্য পায়।


মোদি সরকারের আমলে এই রণধ্বনিগুলোকে আরও জোরালোভাবে প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হচ্ছে। শহর-স্থাপনার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর এই ধর্মীয় রূপান্তর ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামরিক ঐতিহ্যকে সংকুচিত করছে। সমালোচকরা একে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের সামরিকীকরণ বলে অভিহিত করছেন, যা সংখ্যালঘু সৈনিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে।


অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি নতুন ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোকে চার খলিফার নামে নামকরণ করায় কিছু মহল ‘ইসলামীকরণ’ বলে সমালোচনা করছে। এখানে দ্বৈতমান স্পষ্ট। ভারতে হিন্দু দেব-দেবীর নামে রণধ্বনি ও নামকরণকে ‘ঐতিহ্য’ বলা হলেও, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলনকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এই বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, মোদির হিন্দুত্ব নীতি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের উচিত এই দ্বৈতমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।

ভারত কি নিরাপদ? নারীদের জন্য ভ্রমণের স্থান নয়—বাংলাদেশিরা সাবধান!

ভারত কি নিরাপদ? নারীদের জন্য ভ্রমণের স্থান নয়—বাংলাদেশিরা সাবধান!

ভারতে কোনো নারী নিরাপদ নয়—শুধু ভারতীয় নয়, বিদেশি বা বাংলাদেশি নারীও নয়। জাতীয় অপরাধ রেকর্ড ব্যুরো (এনসিআরবি) অনুসারে প্রতি বছর ভারতে প্রায় ৩১,০০০ এর বেশি ধর্ষণের মামলা নথিভুক্ত হয়। ২০২১ সালে ছিল ৩১,৬৭৭টি, যা গড়ে প্রতিদিন ৮৬টিরও বেশি। অনেক ক্ষেত্রে অভিযোগ দায়ের হয় না বলে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি। স্প্যানিশ, সুইসসহ বিদেশি পর্যটক নারীদের উপর গণধর্ষণের ঘটনা বারবার ঘটছে। গুগলে সার্চ দিলেই এমন অসংখ্য নিউজ বেরিয়ে আসবে—যা বিশ্বের আর কোনো দেশে এত ব্যাপকভাবে পাওয়া যায় না। এখন এর সাথে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ-বিদ্বেষ। বাংলাদেশি পরিচয় পেলেই ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ভারত নিজেদের অর্থনৈতিক স্বার্থে ভিসা খুলেছে। কলকাতাসহ পর্যটন খাতে লোকসান পুষিয়ে নিতে বাংলাদেশিদের টেনে আনা হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তার কোনো গ্যারান্টি নেই। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার আসার পর মুসলিম-বিদ্বেষ আরও বেড়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মতো নেতাদের বিষাক্ত বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ালেও নিজ দেশের নারী নির্যাতন লুকাতে পারছে না।

আপনি হয়তো ভাবছেন—আমি হিন্দু, বা আওয়ামী লীগ করি, তাহলে কিছু হবে না। কিন্তু বাস্তবে গিয়ে দেখবেন পরিস্থিতি ভিন্ন। বাংলাদেশি পরিচয়ই যথেষ্ট ঝুঁকির জন্য। পুশ-ইন, মসজিদ ধ্বংস এবং সিএএ-এনআরসির মতো নীতির মধ্যে ভারত প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে সদাচরণ করছে না।

  • পরিসংখ্যানের ভয়াবহতা: প্রতি বছর ৩১,০০০+ ধর্ষণের মামলা, গড়ে প্রতি ১৫ মিনিটে একজন নারী।

  • বাংলাদেশ-বিদ্বেষ যুক্ত হয়েছে: বাংলাদেশি নারীদের জন্য ঝুঁকিটা বেশি।

  • ভিসার আসল উদ্দেশ্য: নিজেদের ব্যবসায়িক লোকসান পুষিয়ে নেওয়া, বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা নয়।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের, বিশেষ করে নারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভারতে ভ্রমণের আগে দুইবার চিন্তা করুন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করুন।

#IndiaNotSafeForWomen #ProtectBangladeshiCitizens

পশ্চিমবঙ্গ কি নিরাপদ? বিজেপি আসার পর মুসলিমদের উপর অত্যাচার বেড়েছে—কলকাতায় যাবার আগে একবার ভাবুন

পশ্চিমবঙ্গ কি নিরাপদ? বিজেপি আসার পর মুসলিমদের উপর অত্যাচার বেড়েছে—কলকাতায় যাবার আগে একবার ভাবুন

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি কি সত্যিই স্বাভাবিক হয়েছে? নাকি মুসলিমদের উপর অত্যাচারের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে? বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা খুলে দেয়ার ঘোষণার পর এই প্রশ্ন আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। কলকাতায় যাওয়ার আগে প্রত্যেক বাংলাদেশিকে একবার ভাবতে হবে—সেখানে নিরাপত্তা আছে তো? বিজেপির উত্থানের সাথে সাথে মুসলিম-বিরোধী রাজনীতি এবং সহিংসতা বেড়েছে, যা বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্যও বড় হুমকি। ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা ঢেকে রাখলেও বাস্তবতা ভিন্ন।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ বিজেপি নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট মুসলিম-বিদ্বেষ। তিনি মুসলিমদেরকে হুমকি দিয়ে "গাজা-সদৃশ শিক্ষা" দেওয়ার কথা বলেছেন, তাদেরকে রোহিঙ্গা বলে অপমান করেছেন এবং হিন্দুদের জন্য আলাদা কাজ করার ঘোষণা দিয়েছেন। এই ধরনের বিষাক্ত রাজনীতির ফলে পশ্চিমবঙ্গে মুসলিমদের উপর হামলা, হয়রানি এবং সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কলকাতার ব্যবসায়ীরা ভিসা চালুর পর মিষ্টি বিতরণ করলেও বাস্তবে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী ও পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ নেই।

ভারতজুড়ে বিজেপি শাসিত রাজ্যে মসজিদ-মাদ্রাসা ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। গত মাসগুলোতে ২৩টিরও বেশি ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে। সিএএ-এনআরসির মতো বৈষম্যমূলক আইন মুসলিমদের নাগরিকত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। পুশ-ইনের মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জোর করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়ার ঘটনাও অব্যাহত। ভারত প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সাথে সদাচরণ না করে অভ্যন্তরীণ বিদ্বেষ ছড়িয়ে চলেছে। শেখ হাসিনা-মোদি যুগের নীতি বাংলাদেশকে দুর্বল করেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার সেই শৃঙ্খল ভাঙছে।

  • পশ্চিমবঙ্গের বাস্তবতা: বিজেপি আসার পর মুসলিমদের উপর অত্যাচার বেড়েছে—কলকাতা এখন ঝুঁকিপূর্ণ।

  • ভিসা খোলার চক্রান্ত: ব্যবসায়ীদের লাভের জন্য বাংলাদেশিদেরকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

  • সতর্কতা জরুরি: ধর্মীয় বিদ্বেষ, মসজিদ ধ্বংস এবং পুশ-ইনের পরিপ্রেক্ষিতে ভারতে ভ্রমণের আগে চিন্তা করুন।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ভারতের এই দ্বিমুখী নীতির বিরুদ্ধে সজাগ থাকুন। দেশের স্বার্থ ও নাগরিকদের নিরাপত্তা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হোন।

#IndiaHypocrisy #ProtectBangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা: ভারত-কলকাতা নিরাপদ নয়, ভিসা খোলার আসল উদ্দেশ্য কী?

বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা: ভারত-কলকাতা নিরাপদ নয়, ভিসা খোলার আসল উদ্দেশ্য কী?

ভারত সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা খুলে দেয়ার ঘোষণা করেছে জুন ২৮, ২০২৬ থেকে। কিন্তু এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নামে এটি কি একটি ফাঁদ? নাকি বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সরকারের আরেকটি চক্রান্ত যাতে বাংলাদেশিদেরকে টেনে এনে হয়রানি, পুশ-ইন এবং ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার করা যায়? ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা এবং সীমান্তে অব্যাহত পুশ-ইনের ঘটনা দেখে স্পষ্ট যে ভিসা খোলা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ার একটি কৌশল।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ বিভিন্ন এলাকায় বাংলাদেশিদের উপর অব্যাহত হয়রানি ও পুশ-আউটের ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। জুন ২০২৬-এ পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম বাংলাদেশিদের ধরে সীমান্তে পুশ করে দেয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যা ধর্মীয় উন্মাদনা এবং বিজেপির অ্যান্টি-মুসলিম নীতির প্রতিফলন। বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অন্তত ১৮টি পুশ-ইন প্রচেষ্টা ঠেকিয়েছে, যাতে শতাধিক মানুষকে জোর করে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। কলকাতায় বাংলাদেশিরা নিরাপদ নয়—সেখানে সাম্প্রতিক সহিংসতা, মারধর এবং বিজেপি-সমর্থকদের হামলার খবর বারবার উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ভিসা খুলে বাংলাদেশিদের টেনে আনা মানে তাদেরকে ঝুঁকিতে ফেলা।

ভারতীয় মিডিয়া অব্যাহতভাবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে, হিন্দু সংখ্যালঘুদের নির্যাতনের গুজব ছড়িয়ে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। অথচ ভারতে মুসলিমদের উপর বিজেপির অত্যাচার, লিঞ্চিং, মসজিদ ভাঙচুর এবং সিএএ-এনআরসির মতো বৈষম্যমূলক আইনের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মুসলিমকে নাগরিকত্বহীন করার ষড়যন্ত্র চলছে। শেখ হাসিনা-নরেন্দ্র মোদির সময়কার নীতিগুলো বাংলাদেশকে ভারতের প্রতি নতজানু করে রেখেছিল, কিন্তু বর্তমান সরকার সেই দাসত্বের শৃঙ্খল ভাঙছে। ভারত তার প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের সাথে সদাচরণ করছে না, বরং পুশ-ইন, সীমান্ত উত্তেজনা এবং মিডিয়া যুদ্ধের মাধ্যমে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।

  • সতর্কতা অবলম্বন করুন: বাংলাদেশিরা ভারতে ভ্রমণের আগে দ্বিবার চিন্তা করুন। কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে মুসলিম ও বাংলাদেশি-বিরোধী পরিবেশ বিপজ্জনক।

  • ভিসার আসল উদ্দেশ্য: এটি সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ নয়, বরং বাংলাদেশিদের নজরদারি, হয়রানি এবং ধর্মীয় রাজনীতির শিকার করার কৌশল।

  • বিজেপির বৈষম্য: সিএএ, এনআরসি এবং এসআইআরের মতো নীতি ভারতের মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রমাণ, যা প্রতিবেশীদের জন্যও হুমকি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারতের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করুন।

#IndiaHypocrisy #ProtectBangladeshis

বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা: ভারত-কলকাতা নিরাপদ নয়, ভিসা খোলার আসল উদ্দেশ্য কী?

বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা: ভারত-কলকাতা নিরাপদ নয়, ভিসা খোলার আসল উদ্দেশ্য কী?

ভারত সরকার সম্প্রতি বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা খুলে দেয়ার ঘোষণা করেছে জুন ২৮, ২০২৬ থেকে। কিন্তু এর পেছনে আসল উদ্দেশ্য কী? বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার নামে এটি কি একটি ফাঁদ? নাকি বিজেপির নেতৃত্বাধীন ভারতীয় সরকারের আরেকটি চক্রান্ত যাতে বাংলাদেশিদেরকে টেনে এনে হয়রানি, পুশ-ইন এবং ধর্মীয় নির্যাতনের শিকার করা যায়? ভারতীয় মিডিয়ার প্রোপাগান্ডা এবং সীমান্তে অব্যাহত পুশ-ইনের ঘটনা দেখে স্পষ্ট যে ভিসা খোলা নিরাপদ ভ্রমণের জন্য নয়, বরং বাংলাদেশিদের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয়ার একটি কৌশল।

কলকাতায় ভিসা চালুর পর ব্যবসায়ীরা মিষ্টি বিতরণ করে উৎসব করেছে। কিন্তু এই মিষ্টির আড়ালে লুকিয়ে আছে বাস্তবতা—গত দুই বছরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞায় কলকাতার অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে পড়েছিল। বাংলাদেশি পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের অনুপস্থিতিতে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোর আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এখন ভিসা খুলে আবার লাভের আশায় বাংলাদেশিদের টেনে আনা হচ্ছে, কিন্তু নিরাপত্তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

পশ্চিমবঙ্গে এখন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার মুসলিম-বিদ্বেষী বক্তব্য দিয়ে পরিচিত। তিনি মুসলিমদেরকে হুমকি দিয়ে "গাজা-সদৃশ শিক্ষা" দেওয়ার কথা বলেছেন, মুসলিম ভোটারদের লক্ষ্য করে বিভেদ সৃষ্টি করেছেন। এমন পরিবেশে কলকাতা বাংলাদেশি মুসলিমদের জন্য নিরাপদ নয়। ভারতজুড়ে মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনাও অব্যাহত—বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে গত মাসগুলোতে ২৩টিরও বেশি মসজিদ, মাদ্রাসা ধ্বংস করা হয়েছে। সিএএ-এনআরসির মতো বৈষম্যমূলক আইনের সাথে এসব ঘটনা ভারতের মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রমাণ।

  • সতর্কতা অবলম্বন করুন: বাংলাদেশিরা ভারতে ভ্রমণের আগে দ্বিবার চিন্তা করুন। কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন শহরে মুসলিম ও বাংলাদেশি-বিরোধী পরিবেশ বিপজ্জনক।

  • ভিসার আসল উদ্দেশ্য: এটি সম্পর্ক স্বাভাবিককরণ নয়, বরং বাংলাদেশিদের নজরদারি, হয়রানি এবং ধর্মীয় রাজনীতির শিকার করার কৌশল।

  • বিজেপির বৈষম্য: সিএএ, এনআরসি এবং মসজিদ ধ্বংসের মতো নীতি ভারতের মুসলিমদের উপর অত্যাচারের প্রমাণ, যা প্রতিবেশীদের জন্যও হুমকি।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে নাগরিকদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভারতের এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকুন এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করুন।

#IndiaHypocrisy #ProtectBangladeshis #AntiBJPPropaganda

মুসলিম নির্দেশনের নাম-নিশানা মুছে হিন্দুত্বকরণ: মোদি সরকারের নাম পরিবর্তন অভিযান

 মুসলিম নির্দেশনের নাম-নিশানা মুছে হিন্দুত্বকরণ: মোদি সরকারের নাম পরিবর্তন অভিযান

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে একটি সুপরিকল্পিত অভিযান চলছে। মুসলিম যুগের স্মৃতি বহনকারী নামগুলোকে একে একে মুছে ফেলে হিন্দুত্ববাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমালোচকরা এ প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘হিন্দুত্বকরণ’ বা সাংস্কৃতিক একচ্ছত্রবাদ বলে অভিহিত করছেন।

নাম পরিবর্তনের বড় তালিকা গত কয়েক বছরে যেসব উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে:

  • আল্লাহাবাদপ্রয়াগরাজ (২০১৮)
  • ফৈজাবাদঅযোধ্যা (২০১৮)
  • মুঘলসরাই জংশনপণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশন (২০১৮)
  • ঔরঙ্গাবাদছত্রপতি শম্ভাজী নগর (২০২৩)
  • ওসমানাবাদধারাশিব (২০২৩)
  • মুঘল গার্ডেন্স (রাষ্ট্রপতি ভবনের বাগান) → অমৃত উদ্যান (২০২৩)

এছাড়া আহমেদাবাদকে কর্ণাবতী, হায়দ্রাবাদকে ভাগ্যনগর করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

কেন এই অভিযান?

বিজেপি নেতারা দাবি করেন, এটি “সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধার”। মুসলিম শাসনামলে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর চাপিয়ে দেওয়া নামগুলোকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল, ইতিহাসবিদ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এর মাধ্যমে ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মুঘল যুগের ঐতিহ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলে একপেশে হিন্দু আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

এই নাম পরিবর্তনগুলো শুধু প্রতীকী নয়, এর গভীর রাজনৈতিক অর্থ রয়েছে।

  • এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে।
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়া।
  • অনেকে এটাকে “সাংস্কৃতিক নির্মূলকরণ” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোম্পানিকে হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.)-এর নামে নামকরণ করা হয়, তখন ভারতীয় কিছু মহল তাকে “ইসলামীকরণ” বলে তীব্র সমালোচনা করে। অথচ নিজ দেশে একই ধরনের কাজকে “ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার” বলে উদযাপন করা হয়। এটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ।

মোদি সরকারের এই নাম পরিবর্তন অভিযান শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতারণার অংশ। ভারত বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করলেও ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী চেতনা কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমাজ গড়ে উঠবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Corruption in India's Armed Forces: Why Worry About Neighbours Before Fixing Your Own House?

 Corruption in India's Armed Forces: Why Worry About Neighbours Before Fixing Your Own House?

Allegations of corruption within India's armed forces continue to surface with alarming regularity. According to official data and reports published by Indian newspapers, more than 1,080 corruption cases have been recorded since 2010, with nearly 97% involving the Indian Army. Major Indian media outlets, including The Times of India, Hindustan Times, and The Indian Express, have repeatedly reported on such incidents.

Recently, Hindustan Times reported that the Central Bureau of Investigation (CBI) had registered 11 corruption cases involving 15 military officers. The Times of India reported the arrest of a Lieutenant Colonel on bribery charges. Meanwhile, The Indian Express covered the conviction of an Army Colonel in Ladakh, who was sentenced to six years' imprisonment and dismissed from service for corruption. In another high-profile case, court-martial proceedings are underway against 20 individuals, including a Major General, over the Kapurthala SSB recruitment scandal.

These cases point to irregularities in procurement, recruitment, construction projects, and logistics, highlighting concerns across multiple sectors of the defence establishment. Although India's Ministry of Defence continues to emphasize a policy of "zero tolerance" toward corruption, many analysts argue that the problem is not isolated but rather systemic and structural.

At the same time, certain circles in India frequently criticize the internal affairs of neighbouring countries' armed forces, including issues such as the naming of battalions or military companies. According to analysts, such criticism appears inconsistent when viewed against the backdrop of widespread corruption allegations within India's own military establishment.

Many observers warn that unless India can ensure greater transparency and accountability despite its massive defence budget, corruption will continue to undermine both national security and the morale of its armed forces. They argue that India's foremost priority should be addressing corruption within its own military before directing criticism toward its neighbours.

Sources: The Times of India, Hindustan Times, The Indian Express, and official information presented in the Rajya Sabha.

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে দুর্নীতির জাল: নিজের ঘর সামলানোর আগে প্রতিবেশী নিয়ে মাথাব্যথা কেন?

ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে দুর্নীতির জাল: নিজের ঘর সামলানোর আগে প্রতিবেশী নিয়ে মাথাব্যথা কেন?

নয়াদিল্লি: ভারতের সশস্ত্র বাহিনীতে দুর্নীতির অভিযোগ যেন থামছেই না। সরকারি তথ্য এবং ভারতীয় পত্রিকার রিপোর্ট অনুসারে ২০১০ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১,০৮০টির বেশি দুর্নীতির মামলা রেকর্ড হয়েছে, যার মধ্যে সেনাবাহিনীতে প্রায় ৯৭ শতাংশ। Times of India, Hindustan Times এবং Indian Express-এর মতো প্রধান পত্রিকায় বারবার এ ধরনের খবর প্রকাশিত হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে Hindustan Times জানিয়েছে, সিবিআই একসঙ্গে ১৫ জন অফিসারের বিরুদ্ধে ১১টি দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে। Times of India-এ প্রকাশিত হয়েছে, একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেল ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। Indian Express-এ লাদাখে এক কর্নেলকে দুর্নীতির দায়ে ৬ বছরের কারাদণ্ড ও চাকরিচ্যুতির খবর এসেছে। কাপুরথালা SSB নিয়োগ কেলেঙ্কারিতে মেজর জেনারেলসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে কোর্ট মার্শাল চলছে।

এসব ঘটনায় প্রকিউরমেন্ট, নিয়োগ, নির্মাণ প্রকল্প এবং লজিস্টিক্স খাতে অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় “জিরো টলারেন্স” নীতির কথা বললেও, বিশ্লেষকরা বলছেন, সমস্যাটি বিচ্ছিন্ন নয় বরং কাঠামোগত।

অথচ ভারতের কিছু মহল প্রায়ই প্রতিবেশী দেশগুলোর সশস্ত্র বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়, যেমন ব্যাটালিয়ন বা কোম্পানির নামকরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে। বিশ্লেষকদের মতে, নিজের বাহিনীতে এত ব্যাপক দুর্নীতির ঘটনা ঘটার পর প্রতিবেশীর দিকে আঙুল তোলা দ্বিচারিতার লক্ষণ।

ভারত তার প্রতিরক্ষা খাতে বিশাল বাজেট ব্যয় করেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করতে পারলে জাতীয় নিরাপত্তা ও সেনাদের মনোবল ক্ষুণ্ণ হবে বলে সতর্ক করেছেন অনেকে। ভারতের উচিত নিজের সশস্ত্র বাহিনীকে দুর্নীতিমুক্ত করার দিকে প্রাথমিক মনোযোগ দেওয়া।

(তথ্যসূত্র: Times of India, Hindustan Times, Indian Express, রাজ্যসভা তথ্য)

© all rights reserved
made with by templateszoo