বাংলাদেশের ছাত্ররা ভারতের ছাত্র আন্দোলনে একাত্মতা দেখাতেই পারে, কারণ তারাও দেখিয়েছিল

0


 

বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ভারতের কিছু ছাত্র সংগঠন সেই আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা জানিয়েছিল। কলকাতা ও দিল্লিতে তারা মিছিল করেছিল, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ওপর দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছিল এবং এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারের সংগ্রাম হিসেবে দেখেছিল। সেই একাত্মতা মূলত মতাদর্শগত ও নীতিগত জায়গা থেকে এসেছিল।

এখন যদি উল্টো চিত্র দেখা যায়—অর্থাৎ ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্র সমর্থন জানায়—তাহলে সেটিকে অস্বাভাবিক বলার কোনো যুক্তি নেই। ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সহানুভূতি ও একাত্মতা নতুন কিছু নয়। এক দেশের শিক্ষার্থীরা যখন অন্য দেশের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন জানায়, তখন সেটিকে সাধারণত মানবিক ও গণতান্ত্রিক অবস্থান হিসেবেই দেখা হয়।

ভারতের ছাত্ররা যখন বাংলাদেশের আন্দোলনে একাত্ম হয়েছিল, তখন তারা রাষ্ট্রীয় স্বার্থ বা কূটনৈতিক হিসাব-নিকাশের ঊর্ধ্বে উঠে নীতির জায়গা থেকে দাঁড়িয়েছিল। একই যুক্তিতে, বাংলাদেশের কিছু ছাত্র যদি ভারতের কোনো ছাত্র আন্দোলনে সমর্থন জানায়, তাহলে সেটিকেও একই মানদণ্ডে বিচার করা উচিত। এটি কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ বা ষড়যন্ত্রের প্রমাণ নয়; বরং ছাত্রসমাজের মধ্যে পারস্পরিক সংহতিরই একটি স্বাভাবিক প্রকাশ।

অতএব, ভারতের ছাত্র আন্দোলনে বাংলাদেশের কিছু ছাত্রের সমর্থন থাকা অস্বাভাবিক নয়। এটি সেই একই ধারার ধারাবাহিকতা, যেখানে ছাত্ররা সীমান্তের বাইরেও একে অপরের সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেয়।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo