ভারতে ছাত্র আন্দোলন: দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তনের ছায়ায় এবার কি মোদির গদিই টার্গেট?
ভারতে এই মুহূর্তে যে ছাত্র আন্দোলন চলছে, তা শুধু পরীক্ষা ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়। এটি মোদি সরকারের শিক্ষা নীতি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাবের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের গভীর ক্ষোভের প্রকাশ। ২০২৬ সালের এনইইটি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে। জুন মাস থেকেই দিল্লির জন্তর মন্তরে ককরোচ জান্তা পার্টির ব্যানারে যুবকেরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও দোষীদের শাস্তির দাবি নিয়ে তারা মিছিল করেছে। পুলিশের লাঠিচার্জ, টিয়ার গ্যাস ও শতাধিক শিক্ষার্থীর আহত হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। বিরোধী দলগুলো এখন এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছে। রাহুল গান্ধীর মতো নেতারাও আটক হয়েছেন। সাধারণ মানুষ খাবার ও পানি পাঠিয়ে সহানুভূতি জানাচ্ছেন। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহের মতো ব্যক্তিত্বরাও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এই আন্দোলন শুধু শিক্ষা সংকটের প্রকাশ নয়। এটি যুব বেকারত্ব, শিক্ষা ব্যবস্থার বাণিজ্যিকীকরণ ও সরকারের প্রতি আস্থার সংকটকেও সামনে এনেছে। মোদি সরকার দীর্ঘদিন ধরে যুবশক্তির কথা বলে আসছে। কিন্তু বাস্তবে পরীক্ষা ফাঁস, চাকরির অভাব ও স্বচ্ছতার অভাবে তরুণরা হতাশ হয়ে পড়েছে। সরকারের কঠোর মনোভাব আন্দোলনকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছে। সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ফলে দেশজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখলে এই চিত্র আরও স্পষ্ট হয়। শ্রীলঙ্কায় অর্থনৈতিক সংকটের মুখে গণআন্দোলন রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ ঘটিয়েছিল। নেপালেও রাজনৈতিক অস্থিরতা ও যুব ক্ষোভ বারবার সরকার পরিবর্তনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশে ছাত্রদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান ক্ষমতার পালাবদল এনেছে। এই তিন দেশের ঘটনায় একটি সাধারণ সূত্র দেখা যায়—যখন তরুণ প্রজন্ম শিক্ষা, চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নিরাশ হয় এবং সরকার তা উপেক্ষা করে, তখন রাস্তার আন্দোলন রাজনৈতিক পরিবর্তনের পথ খুলে দেয়।
ভারত অবশ্য অনেক বড় ও জটিল গণতন্ত্র। এখানে প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং নির্বাচনী ব্যবস্থা নিয়মিত চলে। তাই সরাসরি তুলনা করা যায় না। তবুও ছাত্রদের এই ক্ষোভ উপেক্ষা করা বিপজ্জনক। পরীক্ষা ফাঁসের মতো ঘটনা বারবার ঘটলে এবং পুলিশি দমন অব্যাহত থাকলে যুবসমাজের আস্থা আরও ক্ষয় হবে। মোদি সরকার যদি শিক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনতে ব্যর্থ হয়, তাহলে এই আন্দোলন শুধু দিল্লিতে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্যান্য রাজ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
ইতিহাস বলে, যখন শাসকগোষ্ঠী তরুণদের কণ্ঠস্বরকে দমন করতে চায়, তখন সেই কণ্ঠস্বর আরও জোরে প্রতিবাদী হয়। ভারতের ছাত্ররা এখন সেই পথেই হাঁটছে। শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও বাংলাদেশের ঘটনা যদি কোনো শিক্ষা দেয়, তা হলো—যুব ক্ষোভকে উপেক্ষা করা যায় না। ভারতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সরকার কীভাবে এই সংকট মোকাবিলা করে তার ওপর। শিক্ষার্থীদের দাবি যদি উপেক্ষিত হয়, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের সম্ভাবনা একেবারে অস্বীকার করা যায় না।
#IndiaStudentProtests #NEETLeakCrisis #SouthAsiaYouthMovement
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment