শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

0

 শেখ হাসিনা কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি ‘ফিরতেই হবে’ বলে এই কৌশলী ঘোষণা?

২০২৪ সালের জুলাইয়ে ঢাকার রাস্তায় যে গণঅভ্যুত্থানের ঝড় উঠেছিল, তার ধাক্কায় ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া শেখ হাসিনা এখন আবার মুখ খুলতে শুরু করেছেন। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের দিকে দেশে ফিরতে চান—দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে। সরাসরি আত্মসমর্পণ করেই।

তিনি আরও বলেন, “তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে। তবুও আমাকে যেতেই হবে।” এই ‘যেতেই হবে’ শব্দ দুটি এখন বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। তিনি কি সত্যিই ফিরবেন, নাকি নির্বাসন থেকে রাজনৈতিক জায়গা ধরে রাখার জন্য একটি ঘোষণা দিচ্ছেন?

কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে আহত-নিহতদের ব্যাপারে এখনো তাদের কোনো অনুশোচনা নেই, দায় স্বীকার বা দুঃখ প্রকাশের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। বরং হুমকি-ধামকি ও ‘দেখে নেব’ ধরনের কথাবার্তা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণেই জনগণের মধ্যে তাদের প্রতি ঘৃণা এত তীব্র।

বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার ব্যাপারে ভারতের সাথে কথাবার্তা ও কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। ইতোমধ্যে ভারত সরকারকে চিঠিও দেয়া হয়েছে। এও বলা হচ্ছে- হাসিনা ফিরলে তাকে ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আদালত রায় সংশোধন করতে পারে বলেও ইঙ্গিত রয়েছে। অন্যদিকে, ভারত থেকে ফেরার পথও সহজ নয়। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়টিকে 'আইনি' ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে ভারত বলেছে, এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, 'এই নির্দিষ্ট বিষয়ে আমাদের অবস্থান পরিবর্তন হয়নি। যেকোনো প্রত্যর্পণই আইনি বিষয় এবং এ বিষয়টিও সে অনুযায়ীই পরিচালিত হবে।' এমন পরিস্থিতিতে হাসিনার ‘আমাকে যেতেই হবে’—এই কথা কি সত্যিকারের সাহস, নাকি দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখার কৌশল?

ঢাকার রাজনৈতিক মহলে অনেকে মনে করেন, এটা শুধুই ঘোষণা। আসলে ফেরার সম্ভাবনা খুব কম। আবার কেউ কেউ বলছেন, যদি ডিসেম্বরে সত্যিই পা রাখেন, তাহলে রাজনৈতিক সমীকরণ পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। যদিও হাসিনা নিজে বলছেন, জনগণই তার ভাগ্য নির্ধারণ করবে। কিন্তু জনগণের রায় নেওয়ার আগেই এই ‘ফিরতেই হবে’ ঘোষণা রাজনীতিতে হাসিনার নতুন কৌশল।

শেষ পর্যন্ত সময়ই বলে দেবে তিনি ফিরবেন কি না। তবে পলাতক আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাদের মতে, হাসিনার এই বক্তব্য কৌশল নাকি সত্যিকারের ফেরা তা সময়ই বলে দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, তার রাজনৈতিক কৌশল? জনগণের ঘৃণা ও গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি যেখানে এখনো তাজা, সেখানে এই ঘোষণার ওজন কতটা, তা ভবিষ্যৎই নির্ধারণ করবে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo