ভারতীয় সেনাবাহিনীর হিন্দুত্ববাদী রণধ্বনি: মোদির সাম্প্রদায়িকীকরণের নতুন অধ্যায়
ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিভিন্ন রেজিমেন্টের ঐতিহ্যবাহী রণধ্বনি (Battle Cry) পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয় যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী নীতি সেনাবাহিনীকেও সাম্প্রদায়িক রূপ দিচ্ছে। অধিকাংশ রেজিমেন্টের যুদ্ধস্লোগান সরাসরি হিন্দু দেব-দেবী, অবতার ও পুরাণকাহিনির সঙ্গে যুক্ত। এটি ভারতের সেক্যুলার সামরিক ঐতিহ্য থেকে সরে আসার একটি স্পষ্ট ইঙ্গিত।
শিখ রেজিমেন্টের “জো বোলে সো নিহাল, সত শ্রী আকাল”, গোর্খা রাইফেলসের “জয় মহাকালী, আয়ো গোর্খালী”, রাজপুত রেজিমেন্টের “বোল বজরং বলী কী জয়”, রাজপুতানা রাইফেলসের “রাজা রামচন্দ্র কী জয়”, গাড়ওয়াল ও কুমায়ুন রেজিমেন্টের কালী-বদ্রীনাথ-বজরং বলীর জয়ধ্বনি, ডোগরা ও জম্মু-কাশ্মীর রাইফেলসের দুর্গা মাতার নাম, মারাঠা লাইট ইনফ্যান্ট্রির “হর হর মহাদেব”—এসব স্লোগান ঐতিহাসিকভাবে হিন্দু ধর্মীয় পরিচয় বহন করে। এমনকি মিশ্র রেজিমেন্টেও হিন্দু দেবীর নাম প্রাধান্য পায়।
মোদি সরকারের আমলে এই রণধ্বনিগুলোকে আরও জোরালোভাবে প্রচার ও প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করা হচ্ছে। শহর-স্থাপনার নাম পরিবর্তনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর এই ধর্মীয় রূপান্তর ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ সামরিক ঐতিহ্যকে সংকুচিত করছে। সমালোচকরা একে হিন্দুত্ববাদী ফ্যাসিবাদের সামরিকীকরণ বলে অভিহিত করছেন, যা সংখ্যালঘু সৈনিকদের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি করতে পারে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি নতুন ব্যাটালিয়নের কোম্পানিগুলোকে চার খলিফার নামে নামকরণ করায় কিছু মহল ‘ইসলামীকরণ’ বলে সমালোচনা করছে। এখানে দ্বৈতমান স্পষ্ট। ভারতে হিন্দু দেব-দেবীর নামে রণধ্বনি ও নামকরণকে ‘ঐতিহ্য’ বলা হলেও, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে ইসলামী ঐতিহ্যের প্রতিফলনকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয় যে, মোদির হিন্দুত্ব নীতি ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ধর্মনিরপেক্ষতা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। এটি দীর্ঘমেয়াদে দেশটির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের উচিত এই দ্বৈতমানের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment