মুসলিম নির্দেশনের নাম-নিশানা মুছে হিন্দুত্বকরণ: মোদি সরকারের নাম পরিবর্তন অভিযান

0

 মুসলিম নির্দেশনের নাম-নিশানা মুছে হিন্দুত্বকরণ: মোদি সরকারের নাম পরিবর্তন অভিযান

নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতে একটি সুপরিকল্পিত অভিযান চলছে। মুসলিম যুগের স্মৃতি বহনকারী নামগুলোকে একে একে মুছে ফেলে হিন্দুত্ববাদী আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে। সমালোচকরা এ প্রক্রিয়াকে সরাসরি ‘হিন্দুত্বকরণ’ বা সাংস্কৃতিক একচ্ছত্রবাদ বলে অভিহিত করছেন।

নাম পরিবর্তনের বড় তালিকা গত কয়েক বছরে যেসব উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে:

  • আল্লাহাবাদ → প্রয়াগরাজ (২০১৮)
  • ফৈজাবাদ → অযোধ্যা (২০১৮)
  • মুঘলসরাই জংশন → পণ্ডিত দীন দয়াল উপাধ্যায় জংশন (২০১৮)
  • ঔরঙ্গাবাদ → ছত্রপতি শম্ভাজী নগর (২০২৩)
  • ওসমানাবাদ → ধারাশিব (২০২৩)
  • মুঘল গার্ডেন্স (রাষ্ট্রপতি ভবনের বাগান) → অমৃত উদ্যান (২০২৩)

এছাড়া আহমেদাবাদকে কর্ণাবতী, হায়দ্রাবাদকে ভাগ্যনগর করার প্রস্তাবও আলোচনায় রয়েছে।

কেন এই অভিযান?

বিজেপি নেতারা দাবি করেন, এটি “সাংস্কৃতিক পুনরুদ্ধার”। মুসলিম শাসনামলে ভারতীয় সংস্কৃতির উপর চাপিয়ে দেওয়া নামগুলোকে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে। কিন্তু বিরোধী দল, ইতিহাসবিদ ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা বলছেন, এর মাধ্যমে ভারতের বহুত্ববাদী চরিত্রকে ধ্বংস করা হচ্ছে। মুঘল যুগের ঐতিহ্যকে ইচ্ছাকৃতভাবে মুছে ফেলে একপেশে হিন্দু আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চলছে।

এই নাম পরিবর্তনগুলো শুধু প্রতীকী নয়, এর গভীর রাজনৈতিক অর্থ রয়েছে।

  • এর মাধ্যমে মুসলিম সম্প্রদায়ের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করা হচ্ছে।
  • শিক্ষা, সংস্কৃতি ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে হিন্দুত্ববাদী আদর্শকে প্রতিষ্ঠিত করার একটি বড় অংশ এই প্রক্রিয়া।
  • অনেকে এটাকে “সাংস্কৃতিক নির্মূলকরণ” বলে আখ্যায়িত করেছেন।

অন্যদিকে, যখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোম্পানিকে হযরত আবু বকর (রা.), হযরত উমর (রা.), হযরত উসমান (রা.) ও হযরত আলী (রা.)-এর নামে নামকরণ করা হয়, তখন ভারতীয় কিছু মহল তাকে “ইসলামীকরণ” বলে তীব্র সমালোচনা করে। অথচ নিজ দেশে একই ধরনের কাজকে “ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার” বলে উদযাপন করা হয়। এটি স্পষ্ট দ্বৈত মানদণ্ডের উদাহরণ।

মোদি সরকারের এই নাম পরিবর্তন অভিযান শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রতারণার অংশ। ভারত বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ দাবি করলেও ধর্মনিরপেক্ষ ও বহুত্ববাদী চেতনা কতটা টিকে থাকবে, তা নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। ইতিহাসকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে ভবিষ্যতে কী ধরনের সমাজ গড়ে উঠবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team