আলোচিত সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড রহস্যজট খুললো!
সাবেক আইজিপি যা বললেন, তাতে প্রমাণিত যে এটা হাসিনার নির্দেশেই হয়েছিল-
শারমিন চৌধুরীর সাক্ষাৎকারে সাবেক আইজিপি বলেছেন, সাগর-রুনি হত্যার রহস্য তাঁর হাতে ছিল না। সাক্ষাৎকারের এক পর্যায়ে তিনি বলেন ‘ভাই থামেন, এটা আমার হাতে নাই।’ এরপর প্রশ্ন একটাই দাঁড়ায়। দেশের পুলিশপ্রধান যদি বলেন তদন্ত তাঁর নিয়ন্ত্রণে ছিল না, তাহলে নিয়ন্ত্রণ কার হাতে ছিল? পরের উত্তরে তিনি বলেন দেশের নির্বাহী প্রধানের হাতে সব ছিল। তার মানে দাঁড়ায় এটা হাসিনার নির্দেশেই হয়েছিল। হাসিনাই সব জানতেন। অথচ কতো নাটক হয়েছিল এটা নিয়ে!
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া ফ্ল্যাটে মাছরাঙার বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে খুন করা হয়। পাশে ছিলেন শিশু মেঘ। রুনির ভাই নওশের আলম রোমান মামলা করেন। তদন্ত গেল থানা থেকে ডিবি, ডিবি থেকে র্যাব, পরে টাস্কফোর্স ও পিবিআই। আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ ১২৯ বার পেছানো হয়েছে। সর্বশেষ তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর।
এতবার সময় নেওয়া মানে তদন্ত চলছে না। মানে তদন্ত আটকে রাখা হয়েছে।
ঘটনার সময় ক্ষমতায় ছিলেন শেখ হাসিনা। আইজিপি ছিলেন হাসান মাহমুদ খন্দকার। খুনের দুই দিন পরই তিনি ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’র কথা বলেছিলেন। তারপর বছরের পর বছর—কোনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন নেই, কোনো মূল হোতা নেই, কোনো রায় নেই। পুলিশপ্রধান যদি সত্যিই বলেন বিষয়টা তাঁর হাতে ছিল না, তাহলে সেই স্বীকারোক্তি সরাসরি প্রধান নির্বাহীর দপ্তরের দিকে আঙুল তোলে। কারণ বাংলাদেশে পুলিশ বাহিনী স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জবাবদিহি করেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে।
আরও দুটো প্রশ্ন মাথায় এল-
প্রথম প্রশ্ন—কে হত্যা করেছে। দ্বিতীয় প্রশ্ন—কে তদন্ত আটকে রেখেছে। সাবেক আইজিপির বক্তব্য দ্বিতীয় প্রশ্নের ওপর নির্ভরশীল। তিনি বলেননি যে, ‘হাসিনা খুনের নির্দেশ দিয়েছেন।’ তিনি বলেছেন, রহস্য তাঁর হাতে ছিল না। অর্থাৎ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পুলিশ কর্মকর্তা নিজেই বলছেন, এই মামলা সাধারণ অপরাধ তদন্তের মতো চলেনি। উপর থেকে চেপে রাখা হয়েছে।
১৪ বছর সেই চাপাই মূল প্রমাণ। আওয়ামী লীগ আমলে এই মামলা শেষ হয়নি। র্যাব তদন্তে রেখেও শেষ করেনি। হাইকোর্ট ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে র্যাব সরিয়ে টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। তারপরও প্রতিবেদন আসেনি। যদি খুনি সাধারণ চোর-ডাকাত হতো, এত বছর ধরে রাষ্ট্র এভাবে চুপ থাকত না।
গত কয়েক দিনে নতুন সূত্র এসেছে অন্য জায়গা থেকে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা বলেছেন, অন্য মামলার সিডিআর ও ডিজিটাল আর্কাইভ ঘাঁটতে গিয়ে সাগর-রুনির সঙ্গে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের নাম উঠেছে। একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সম্পৃক্ততার কথা বলেছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। নাম প্রকাশ করেননি। বলা হয়েছে, খুনের আগের রাতে র্যাবের গোয়েন্দা লাইনকে ‘কালকে কিছু ঘটবে, প্রস্তুত থাকো’ জাতীয় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। নিখোঁজ ডিভাইসের কথাও উঠেছে—সংবেদনশীল নথি থাকার সন্দেহ।
গোয়েন্দা সংস্থা আগের রাতে কেন প্রস্তুতির কথা শুনত? ডিভাইস কেন উধাও? তদন্ত কেন যুগ যুগ ধরে থেমে থাকত?
পলাতক শেখ হাসিনা সাগর রুনি হত্যাকাণ্ডে যে জট রেখে গিয়েছেন তার রহস্য উন্মোচন হবে এবার।সাবেক আইজিপির সাক্ষাৎকারও সেটার প্রমাণ।
যে রাষ্ট্রযন্ত্র তাঁর অধীনে ১৪ বছর এই খুনের নথি আটকে রেখেছে, সেই রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রধান হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক দায় এড়ানো যায় না। নির্দেশ দিয়েছেন কি দেননি, সেটা তদন্ত ও বিচার বলবে। তদন্তকে অচল করে রাখাই প্রমাণ করে যে এটার পেছনে রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর হাত রয়েছে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment