আলাদা প্রদেশের রাজনীতি আর সনাতনীর নামে দণ্ডিত হাসিনার পক্ষে চৈতালী চক্রবর্তী

0

আলাদা প্রদেশের রাজনীতি আর সনাতনীর নামে দণ্ডিত হাসিনার পক্ষে চৈতালী চক্রবর্তী   


ঢাকা। জুন, উনিশ তারিখ, দুই হাজার ছাব্বিশ।  

একজন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবীর কথা দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।  

নাম অ্যাডভোকেট চৈতালী চক্রবর্তী।  

বার অ্যাসোসিয়েশন সদস্য নম্বর ছয় এক শূন্য এক।  

সদস্যপদ উনিশশো ষোলোর বাইশ মে।  

চেম্বার নয়া পল্টন।  

পেশা আইন।  

তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ আমার। আদি বাংলাদেশও আমার।  

আপনারা বেশি বাড়াবাড়ি করলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সাহায্য চেয়ে সনাতনীদের জন্য আলাদা একটি প্রদেশ করব।  

একসময় সেরকমই হবে।  

সনাতনীদের আলাদা প্রদেশ হয়ে যাবে।


এই বাক্যগুলো সংখ্যালঘু সুরক্ষার ভাষা নয়।  

এটি রাষ্ট্রের মানচিত্র নিয়ে কথা।  

বাংলাদেশ এক রাষ্ট্র, এক ভূখণ্ড।  

প্রদেশ ভাগের হুমকি সেই অখণ্ডতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেয়। 


তিনি আরও বলেন, অতীতে হিন্দু-মুসলিম-খ্রিস্টান-বৌদ্ধ একসঙ্গে ছিলেন, এখনও থাকতে চান।  

কিন্তু পরের বাক্যেই আসে বিদেশি সাহায্য।  আসে আলাদা প্রদেশ।  

আসে দাঙ্গা হলে জবাব দেওয়ার ভাষা।  একদিকে সহাবস্থানের দাবি।  অন্যদিকে দেশ ভাগের ইঙ্গিত।  


প্রশ্ন ওঠে, কোন দেশের সাহায্যে আলাদা প্রদেশ চান চৈতালী?  

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সংবিধান রক্ষার কথা বলবেন কিন্তু তিনি সংবিধান নয়, শর্তসাপেক্ষ বিচ্ছিন্নতার কথা বলেন! 


চৈতালী রাজনৈতিক অবস্থানও নতুন নয়। বিভিন্ন সভায় আওয়ামী লীগের স্লোগান দেন- বলেন 

জয় বাংলা। শেখ হাসিনাকে একমাত্র বিকল্প বলে প্রচার করেন। নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের প্রতি সহানুভূতি নিয়েই তিনি আলোচনায় ছিলেন।  

জুলাই-পরবর্তী বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ, হাসিনা পলাতক।  তবু পুরনো রাজনৈতিক ভাষা তিনি ছাড়েননি।

এখন নতুন মঞ্চ রংপুর।  

বাইশ আগস্ট রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় তালাবদ্ধ বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী ও বারো বছরের ছেলে আয়ুশের মরদেহ।  

পরিবারের চারজন একসঙ্গে নিহত। পুলিশ দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে। এখানেও চৈতালী চক্রবর্তী হাজির হয়। সনাতনীদের নিরাপত্তা জন্য রাস্তায় নামে। সরকারকে হুমকি দেয়, শেখ হাসিনার সময় নাকি সনাতনীদের স্বর্ণযুগ ছিল। অর্থাৎ হাসিনাকেই তাদের নিরাপত্তাদাতা বানায় প্রকাশ্যে। এখানে বিচারের পরিবর্তে হাসিনার নরমালাইজেশন রাজনীতি করে চৈতালী।  

ঢাকায় মানববন্ধন করে।  রংপুরে সমাবেশ করে।  

সেই মঞ্চে চৈতালী চক্রবর্তীর উপস্থিতি শুধু বিচারের দাবি হয়ে থাকে না। জুনে যিনি আলাদা প্রদেশের হুমকি দিয়েছিলেন, আগস্টে তিনি হত্যার শোককে রাজনীতির মঞ্চ বানান।  

ক্যামেরার সামনে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা কিন্তু আড়ালে চান পুরনো শক্তির পুনর্বাসন।  

আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ। তাই প্রয়োজন নৈতিক আবরণ।  হিন্দু পরিবারের মৃত্যু সেই আবরণ হয়ে ওঠে।  

আইনশৃঙ্খলা ব্যর্থ—এই বাক্য দিয়ে বর্তমান সরকারকে দায়ী করা। আর সংখ্যালঘু বিপন্ন—এই বাক্য দিয়ে নিষিদ্ধ দলকে রক্ষক করে তোলা।  

মানববন্ধন দেখলে মনে হয় এ তো ভালো আয়োজন- কিন্তু ভেতরে ক্ষমতা হারানোর রাজনীতিকে ফিরে পাবার চেষ্টা। এখানেই সন্দেহের জায়গা তৈরি হয়।  

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন সংখ্যালঘু সুরক্ষার নামে ক্ষমতার রাজনীতি করে আসছে। 

একই সঙ্গে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের মিডিয়াগুলো বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুকে সাম্প্রদায়িক আখ্যান দিয়ে উস্কানি দেয়। চৈতালীর জুনের বক্তব্য ও আগস্টের বক্তব্য সেই দুই সুরের সঙ্গে মিলে যায়।  

সমাজে হিন্দু-মুসলিম উস্কানি, বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ বলে দাঁড় করানো।  আওয়ামী লীগকে নীরবে ফেরানোর চেষ্টা। এটাই চৈতালীর রাজনীতি। 

অপরাধের ওপর দাঁড়িয়ে আওয়ামী লীগকে ফেরানো এবং বাংলাদেশের মধ্যে আলাদা প্রদেশ চাওয়া চৈতালী চক্রবর্তীকে গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা উচিত।  

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দণ্ডিত হাসিনার পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য চৈতালী বিচার হওয়া উচিত।  


No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team