কূটনৈতিক এলাকায় ইমেইল হুমকি: হোয়াক্স নাকি পুরোনো নেটওয়ার্কের নতুন খেলা?

0

কূটনৈতিক এলাকায় ইমেইল হুমকি: হোয়াক্স নাকি পুরোনো নেটওয়ার্কের নতুন খেলা?

আগস্ট ২০২৬-এ ঢাকার চীনা দূতাবাসসহ কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে ইমেইলের মাধ্যমে হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ এটিকে প্রাথমিকভাবে হোয়াক্স বা ভুয়া গ্রুপের কাজ বলে সন্দেহ করছে, যার উদ্দেশ্য হতে পারে আতঙ্ক ছড়ানো, দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা বা সরকারকে বিব্রত করা।

১৭ থেকে ১৯ আগস্টের দিকে “Latbiya” নামে ইমেইল যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, চীনা দূতাবাস, রাশিয়া, সৌদি, তুরস্ক ও পাকিস্তান হাইকমিশনে। বিকাশ ও ক্রিপ্টোতে টাকা চাওয়া হয়। চীনা দূতাবাসের ইমেইলে দূতাবাস ও চীনা প্রকল্পে হামলার হুমকি ছিল বলে সূত্র জানায়। ২০ আগস্ট সিটিটিসি চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে বৈঠক করে। বারিধারা-গুলশানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি অনলাইনের ভুয়া গ্রুপ; বিকাশ নম্বরধারী কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলেও তারা নির্দোষ। কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

এখানে একটা প্রশ্ন থেকে যায়—কেন ঠিক চীনা দূতাবাসকে আলাদা করে হামলার হুমকি দেওয়া হলো? কেন একই সময়ে একাধিক মিশন টার্গেট করা হলো?

এখানেই পুরোনো এক প্রতিবেদনগুলো আবার আলোচনায় আসে। আমার দেশ পত্রিকা ২০২৫ সালের নভেম্বরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে লিখেছিল, বাংলাদেশকে ব্যবহার করে চীনবিরোধী কার্যক্রম চালাতে RAW-এর একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে। সেই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কিছু নেতা, যাদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। নাম উঠেছিল ছাত্রলীগের আমিনুল ইসলাম বুলবুল, আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক উপকমিটির মুফতি মাসুম বিল্লাহ নাফিসহ কয়েকজনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতীয় গণমাধ্যমে ছোট অনুষ্ঠানকে বড় করে প্রচার করা হতো এবং চীনা দূতাবাস তখন উদ্বেগ জানিয়ে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। ওই প্রতিবেদনটি সম্প্রতি আবারও প্রচারিত হয়েছে।

সরাসরি প্রমাণ নেই যে আগস্টের ইমেইলগুলো সেই নেটওয়ার্ক পাঠিয়েছে। পুলিশও সেই দাবি করেনি। কিন্তু ধরনটা মিলে যায়—চীনকে লক্ষ্য করে চাপ তৈরি, কূটনৈতিক মিশনকে অস্বস্তিতে ফেলা, আর সরকারকে “নিরাপত্তা দিতে পারছে না” এমন চিত্র দাঁড় করানো। আওয়ামী লীগ এখন নিষিদ্ধ, অনেক নেতা বিদেশে পলাতক, ডিসেম্বরে তারা দেশে ফেরার চেষ্টা করছে। আর এমন পরিস্থিতিতে টাকা দিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিযোগও উঠছে।

কিছুদিন পরপর এরকম “ভুয়া ইমেইল” পাঠিয়ে সরকারকে বিব্রত করাই উদ্দেশ্য নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও কোনো বৃহৎ ষড়যন্ত্র তা খতিয়ে দেখছে সরকার। চীনা দূতাবাসকে হামলার হুমকি দেওয়ার মতো নির্দিষ্ট বাক্য কে লিখল? হোয়াক্স হলেও হোয়াক্সের পেছনে উদ্দেশ্য থাকে। সেই উদ্দেশ্য খুঁজতে গেলে শুধু ইমেইল সার্ভার নয়, পুরোনো রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা নেটওয়ার্কও দেখতে হয়। তদন্ত সেদিকে যাবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team