পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত

0

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে সরকারের ঐতিহাসিক ও সাহসী সিদ্ধান্ত

সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে রাষ্ট্রীয় নীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। দীর্ঘদিনের জটিলতা, সীমান্ত পরিস্থিতি, নিরাপত্তা সংকট, ভূমি সমস্যা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে বিচ্ছিন্নভাবে না দেখে এবার একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মকৌশলের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা প্রশংসার দাবিদার। 

প্রধানমন্ত্রীকে সভাপতি করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক জাতীয় কমিটি গঠন এই উদ্যোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলোর একটি।  এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো—সরকার শুধু নিরাপত্তার কথা বলছে না। একই সঙ্গে পাহাড়ে বসবাসরত সব সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও বিচ্ছিন্নতাবাদ দমন, সীমান্ত নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য সামনে রাখা হয়েছে।

অর্থাৎ সরকারের বার্তা পরিষ্কার—পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রয়োজন নিরাপত্তার সঙ্গে উন্নয়ন, শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্প্রীতি এবং রাষ্ট্রীয় কর্তৃত্বের সঙ্গে জনগণের কল্যাণ।

এক্ষেত্রে, জাতীয় কর্মকৌশল তৈরির আগে পরামর্শক কমিটির সুপারিশ নেওয়া হবে। এরপর নির্বাহী কমিটি তার ভিত্তিতে খসড়া তৈরি করবে এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন জাতীয় কমিটি তা চূড়ান্ত করবে। এ ধরনের কাঠামোবদ্ধ উদ্যোগ প্রমাণ করে, সরকার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পথে হাঁটতে চায়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধান পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কারের সুযোগ রাখাও সরকারের বাস্তববাদী ও দায়িত্বশীল দৃষ্টিভঙ্গির প্রকাশ।

সবচেয়ে বড় কথা, এই উদ্যোগ কোনো সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নয়। পাহাড়ে বসবাসরত প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা, উন্নয়ন ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের এই উদ্যোগ তাই নিছক তিনটি কমিটি গঠনের ঘটনা নয়। এটি পার্বত্য চট্টগ্রামকে ঘিরে একটি শক্তিশালী, সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় কর্মকৌশল নির্মাণের ঐতিহাসিক সূচনা।

শান্ত পাহাড়, নিরাপদ চলাচল এবং উন্নত পাহাড়ী জীবন—এটাই হোক বাংলাদেশের অঙ্গীকার।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team