কেপিআই এলাকায় ওয়ারেন্ট অফিসারকে মারধরের অভিযোগ, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা ১ অক্টোবর ২০২৬। সকাল নয়টা পেরিয়ে গেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাউঞ্জের বেল্টে যাত্রীরা দাঁড়িয়ে আছে। দোহা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশের বিজি-৩৩৮ নির্ধারিত সময় ৯টা ২ মিনিটের বদলে ৯টা ২৫ মিনিটে নামে। বিমান দাঁড়ায় রিমোট বে বি-১৪/বি-১৫-এ। ব্যাগ টার্মিনালে আসতে লাগে প্রায় এক ঘণ্টা। এতে ব্যাগের লাইন অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের ক্ষোভ প্রকাশ পায় এবং সেটা স্বাভাবিক।
এই সময়, অনুমান ১০টা ৪০ মিনিটে, বেল্ট এলাকায় ঢোকেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। সঙ্গে কয়েকজন প্রটোকল সহকারী। এসেই রাগারাগি শুরু করেন, ব্যাগ কেন দেরিতে নামছে সে কথা বলতে পারতেন। কারণ জানতে চাইতে পারতেন, কিন্তু তা না করে এসেই উচ্চস্বরে চিতকার করা শুরু করেন “আমি পিটিয়ে সাইজ করে দেব।” “Get out from here।” “তাকে ধরে কইরা দে।” “কাজ জানেন না, তদবির করেন, ঘুষ দিয়ে চাকরিতে ঢুকেন।” “পেটাতে এ আসবেন।” “মাইর খাইতে চান।” ইত্যাদি কথা বার্তা বলতে থাকেন।
কথাগুলো অভিযোগ নয়, হুমকি। একটা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কেপিআই এলাকায়, যেখানে দায়িত্বরত মানুষকে কাজ করতে হয়, সেখানে গলা চড়িয়ে মারের কথা বলা মানে শৃঙ্খলা ভাঙা। মেজর আখতারুজ্জামান এর সঙ্গের প্রটোকল সহকারীরা ফোন দিয়ে ভিডিও ধরেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল করার হুমকি দেন। ঘটনাকে প্রমাণ করার চেষ্টা নয়। চাপ তৈরির চেষ্টা। এতে নিরাপত্তা আরও নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, বিডি/৪৬৫৬৩৫৫, পিতা মো. জালাল উদ্দিন, তখন নিষেধ করেন। কেপিআই-ভুক্ত এলাকায় ভিডিও বন্ধ করতে বলেন। এটা তার কাজ। এজাহারে বলা হয়েছে,। জবাবে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার দিকে এগিয়ে যান। অকথ্য ভাষায় গালি দেন। তারপর একতরফা মারধর করেন। সিসিটিভির বাইরে এই ঘটনা। প্রমাণ তাই ভিকটিমের শরীর ও যারা দেখেছেন তাদের সাক্ষ্য।
মারধর থামলেও আচরণ থামে না। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধি এলে তার সঙ্গেও অশোভন ও মারমুখী ব্যবহার। তারপর সাধারণ যাত্রীদের জমজমের পানির বোতল। ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলা। ক্ষতি করা। যে পানির জন্য যাত্রীরা অপেক্ষা করছিল, সেই বোতলই তার হাতে অস্ত্র হয়ে ওঠে।
সাড়ে এগারোটার মধ্যে বেল্ট এলাকার ছবিটা এজাহারে এই। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর, সরকারি ইউনিফর্মধারী এক ওয়ারেন্ট অফিসারকে গালি দিয়ে হাত তুলছেন। প্রটোকলের মানুষ ভিডিও করছে। যাত্রীর জিনিস মাটিতে পড়ছে। দায়িত্ব পালন থেমে যাওয়ার উপক্রম।
অভিযোগ লেখেন নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সাজিব, পিতা মো. মহসিন আলী। সাক্ষী রাখেন ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন (বিডি/৮০০৩০৩৮) ও ওয়ারেন্ট অফিসার মো. ইয়াসিন (বিডি/৮৮৫১৪৫)। ২ অক্টোবর ভোর ৩টা ২০ মিনিটে বিমানবন্দর থানায় এজাহার ওঠে। মামলা নম্বর ৬, জিডি ৩৫২। ধারা ১৮৬, ১৮৯, ২৯৪, ৩২৩, ৩৫২, ৩৫৩, ৫০৪, ৫০৬। সরকারি কাজে বাধা, দায়িত্বরত ব্যক্তিকে আঘাত, অশ্লীল গালি, ভয়ভীতি। রেকর্ড করেন ইন্সপেক্টর কামরুল হাসান তালুকদার। তদন্তে সাব-ইন্সপেক্টর মাজেদুল ইসলাম।
ব্যাগ দেরিতে আসা বিমানবন্দরের একটি স্বাভাবিক ঘটনা। সেই দুর্বলতার আড়ালে একজন মানুষের এই আচরণ মেনে নেয়া যায় না। যে এলাকায় ক্যামেরা নিষেধ, সেখানে ভিডিও করেন মেজর আখতারুজ্জামান এর সহকারীরা। যারা নিষেধ করছেন তাদেরকেই মারধোরের চেষ্টা করেন। দুর্ব্যবহার করেন গালি দেন। এজাহার এই আচরণকে অপরাধ বলে দাখিল করেছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৩৮ ফ্লাইটের যাত্রীরা বিমানবন্দরে নেমে তাদের সঙ্গে আনা জমজমের পানি সময়মতো পাচ্ছিলেন না।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে বিমান জানতে পেরেছ, কন্টেইনার অফলোডিং এবং পরিচালনগত গাফিলতির কারণেই ব্যাগেজ বেল্টে সময়মতো জমজমের পানি পৌঁছাতে দেরি হয়। আর এ কারণেই মেজর আখতারুজ্জামান বাকবিতণ্ডায় ও মারমুখী হয়ে ওঠেন।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment