সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

0

 সেনাপ্রধানের নিয়মিত দরবারকে ‘জরুরি অভিযানের সংকেত’ শিরোনামে ভুল ভিডিও বিশ্লেষণ বানানো হয়েছে

১ অক্টোবর সেনাসদরে যা হয়েছে, সেটা সামরিক প্রটোকলের নিয়মিত অনুষ্ঠান। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান সেনাসদস্যদের উদ্দেশে নিয়মিত দরবারে পেশাগত দক্ষতা, শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতার কথা বলেছেন এবং সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল বিবৃতিতে একে ‘নিয়মিত দরবার’ বলা হয়েছে। জরুরি বৈঠক, নতুন ম্যান্ডেট বা সর্বাত্মক মাঠ অভিযানের কোনো ইঙ্গিত সেখানে নেই।

একই দিন তিনি রাঙামাটির বিলাইছড়ি ও কাপ্তাই জোনের ক্যাম্প পরিদর্শন করেছেন। দূরবর্তী পার্বত্য ক্যাম্পে কমান্ডারের সফর সেনাবাহিনীর স্বাভাবিক কমান্ড অনুশীলন। একে ‘সফর বাতিল করে জরুরি দরবার’ বলার কোনো ভিত্তি নেই। অক্টোবরের শুরুতে কোনো পূর্বঘোষিত সফর বাতিলের আনুষ্ঠানিক তথ্যও প্রকাশিত হয়নি।

সেনা দরবার সেনাপ্রধানের নিয়মিত যোগাযোগমাধ্যম। এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবার করেছেন—সেটাও প্রাতিষ্ঠানিক অনুষ্ঠান ছিল, এটা কোনো সংকটের সংকেত নয়। শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের কথা বলা মানে নতুন অভিযানের ঘোষণা নয়।

আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন আলাদা। আইনশৃঙ্খলা কোনো সেনাবাহিনীর বিষয় না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই দিন স্পষ্ট করেছেন, যৌথ অভিযানের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি; পুলিশ, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসারের সমন্বিত কাজ চলমান রুটিন প্রক্রিয়া। সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট দায়িত্বে আছে—নির্বাচনী নিরাপত্তা, পার্বত্য এলাকা, সহায়ক শক্তি হিসেবে। তার মানে এই নয় যে একটি নিয়মিত দরবারকে কেন্দ্র করে বাহিনী ‘পূর্ণ শক্তিতে’ নতুন করে নামছে।

কাজী রুনা ও নবনীতার ইউটিউব বিশ্লেষণে রুটিন অনুষ্ঠানকে অরাজকতা, চাঁদাবাজি ও মব সন্ত্রাসের সঙ্গে জুড়ে ‘সময়ের দাবি’ বানানো হয়েছে। অফিসিয়াল ভাষ্য, মূলধারার প্রতিবেদন এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য—তিনটিই এই ফ্রেমকে সমর্থন করে না। সেনাবাহিনী কী করবে, তা সেনাসদরের বিজ্ঞপ্তিতে থাকে; ইউটিউব ভিডিওর অনুমানে নয়।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team