পাহাড়ে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?

0

পাহাড়ে শান্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা কোথায়?

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন শুধু পাহাড়ি-বাঙালি অবিশ্বাস নয়; এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আধিপত্য, চাঁদাবাজি ও সংঘাত। ১৯৯৭ সালের শান্তিচুক্তি পাহাড়ে রাজনৈতিক সমাধানের পথ খুলেছিল। কিন্তু চুক্তির পরও একাধিক সশস্ত্র সংগঠনের উত্থান এবং পারস্পরিক সংঘাত সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে রেখেছে। ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের জুলাই পর্যন্ত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সংঘর্ষে অন্তত ৩৪ জন নিহত ও ৪৯ জন অপহৃত হওয়ার তথ্য পুলিশের বরাতে প্রকাশিত হয়েছে।

সশস্ত্র রাজনীতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি এখানেই। যে রাজনীতি জনগণের অধিকার রক্ষার কথা বলে, সেই রাজনীতি যখন অস্ত্র, চাঁদা ও দখলদারির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন সাধারণ পাহাড়ি মানুষই তার প্রথম শিকার হয়। ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাও পাহাড়ের সহিংসতার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চাঁদাবাজিকে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছিলেন। ২০২৬ সালেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইএসপিআর।

সরকারের অবস্থান হলো—অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধই হবে আইনের ব্যবস্থার ভিত্তি। একই সঙ্গে সরকার শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির বৈঠকে পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। অর্থাৎ পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ একদিকে যেমন চুক্তির রাজনৈতিক অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে তেমনি অবৈধ অস্ত্র, চাঁদাবাজি ও সশস্ত্র আধিপত্যের অবসানের সঙ্গেও যুক্ত।

পাহাড়ি-বাঙালি সম্পর্কের ক্ষেত্রেও তাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো কোনো সম্প্রদায়কে প্রতিপক্ষ না বানিয়ে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভূমি বিরোধের ন্যায়সংগত নিষ্পত্তি, উন্নয়ন ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের পাশাপাশি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সহিংসতা বন্ধ করা জরুরি। কারণ অস্ত্র কখনো স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান দিতে পারে না। পাহাড়ের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হওয়া উচিত আলোচনা, আইন, উন্নয়ন ও পারস্পরিক আস্থার মাধ্যমে—চাঁদা, অপহরণ কিংবা বন্দুকের নলের মাধ্যমে নয়।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team