জাতিসংঘ মঞ্চে তারেক রহমান: শান্তি, পুনর্গঠন ও সম্ভাবনার বাংলাদেশের নতুন ভাষ্য
২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রথমবারের মতো ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
ভাষণে তিনি বৈশ্বিক শান্তি, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার রূপরেখা তুলে ধরেন। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও টেকসই সমাধানের জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানান তিনি। জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও জলবায়ু ন্যায়বিচার নিশ্চিতের তাগিদ দেন। পাশাপাশি শিক্ষা, প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তরুণদের কর্মসংস্থানমুখী এক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের রূপরেখা পেশ করেন।
বিভিন্ন দেশে সংঘাতের কারণে বাস্তুচ্যুতি, মানবিক সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তাহীনতা ও ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে আলোচনা, কূটনীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ ও অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাসহ ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান।
চার দিনের এই সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকসহ মোট ৩০টি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জনশক্তি রপ্তানি, জ্বালানি নিরাপত্তা, আঞ্চলিক সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকট, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও আন্তর্জাতিক শান্তিসহ বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে যুক্ত ছিলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান, ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী প্লেনকোভিচ, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তোবগে এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী চার্নভিরাকুল। এছাড়া মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট, কুয়েতের যুবরাজ, সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের উপপ্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠক করেন তিনি।
বিশ্ব ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিব, জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনার এবং শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের সঙ্গেও বৈঠক হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ সম্ভাবনা এবং রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের বিষয় বিশেষভাবে আলোচিত হয়।
সফরকালে বাংলাদেশ বিমান বোয়িং কোম্পানির সঙ্গে ১১টি বিমান কেনার চুক্তি করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে ভাষণ দিলেন। এর আগে ১৯৮০ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পাঁচবার বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছিলেন।
সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।
দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে এই সফরকে নতুন উচ্চতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ মঞ্চে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের উপস্থিতি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে বাংলাদেশ বহুপাক্ষিক কূটনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment