যুদ্ধ নয়, মানবতাই হোক পথের দিশা — জাতিসংঘে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

0

যুদ্ধ নয়, মানবতাই হোক পথের দিশা — জাতিসংঘে তারেক রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে ২৫ সেপ্টেম্বর ভাষণ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ভাষণের শুরুতেই তিনি বিশ্ব নেতাদের সামনে তুলে ধরেন একটি প্রশ্ন— যুদ্ধ, সংঘাত আর অস্ত্রের রণন যখন বিশ্বকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে, তখন মানবতার পথে হাঁটা ছাড়া বিকল্প নেই।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই ভাষণে তুলে ধরেন তিনটি স্তম্ভ, যা তার সরকারের আগামী দিনের পথচলার ভিত্তি নির্ধারণ করবে।

প্রথমত, শান্তি ও কূটনীতি। কোনো দেশের নাম না নিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতের সমাধান হতে হবে সংলাপ, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে। ফিলিস্তিন প্রশ্নে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন— স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি আসবে না, আর বিশ্বের শান্তিও নিরাপদ থাকবে না। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারও তিনি তুলে ধরেন ।

দ্বিতীয়ত, রাষ্ট্র পুনর্গঠন। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দেন, দীর্ঘ সময়ের ক্ষয়ক্ষতির পর বাংলাদেশকে পুনরুদ্ধারের জন্য তার সরকার গ্রহণ করেছে ‘থ্রি-আর’ কৌশল— রিকভারি, রেস্টোরেশন, রিকনস্ট্রাকশন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন ‘সম্ভাবনার এক বিশাল দিগন্তে’ দাঁড়িয়ে আছে। শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ, পাঁচ বছরে জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত শিক্ষা ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা, ২৫ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি, ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন, তিস্তা মাস্টার প্লান ও পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্প— এসবই এই পুনর্গঠনের অংশ ।

তৃতীয়ত, জনগণের ক্ষমতায়ন। নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি বলেন, পরিবার কার্ড নারীর নামে ইস্যু করা হচ্ছে। নারীদের জন্য স্নাতক পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। ৫ কোটি ডলার বরাদ্দ রাখা হয়েছে তরুণ উদ্যোক্তা ও গবেষকদের জন্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে ‘আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন কালকের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়’— এই সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সাশ্রয়ী প্রবেশাধিকারের দাবি জানান ।

ভাষণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল রোহিঙ্গা সংকট। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন— ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গার নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। তিনি সতর্ক করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হয়, তবে বড় মানবিক সংকট তৈরি হবে। মিয়ানমারকেই এই সংকট সমাধানে নেতৃত্ব দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন ।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি, যদিও কার্বন নির্গমনে ভклад минимален। তিনি জলবায়ু ন্যায্যতা, জলবায়ু অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানান এবং কপ-৩১ সম্মেলনে বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ।

অর্থনৈতিক প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত তিন শতাংশ পয়েন্ট বাড়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে চায়— ধনী দেশগুলোর কাছে সাহায্যের হাত পাততে তিনি রাজি নন ।

ভাষণের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার গড়তে চায় একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর ও কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক সমাজ— যেখানে তরুণরা নির্ভয়ে স্বপ্ন দেখতে পারবে, নারীরা আত্মবিশ্বাসে জীবন পরিচালনা করতে পারবে, এবং প্রতিটি শিশু নিজের সম্ভাবনা বিকশিত করার সুযোগ পাবে ।

দেশের কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ভাষণে তারেক রহমান কেবল বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেননি— বরং জিয়া পরিবারের উত্তরাধিকারের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নতুন অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team