গ্রেপ্তারকৃত মেজর মোজাফফর এর কাছেই রয়েছে জিয়া হত্যার রহস্য!!!

0

গ্রেপ্তারকৃত মেজর মোজাফফর এর কাছেই রয়েছে জিয়া হত্যার রহস্য!!!

“৩০ মে, ১৯৮১।

ভোরের আলো ফোটার আগের সেই অন্ধকার মুহূর্ত। চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে মধ্যরাতে বিশ্রাম নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই ঘুম আর ভাঙেনি।

ভোরের নিস্তব্ধতা ভেঙে গুলির শব্দ। সেনাবাহিনীর বিপথগামী একটি দল তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি চিরতরে চলে যান।”

“সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়— এটা ছিল ‘বিপ্লবী পরিষদ’ নামের একদল বিপথগামী সেনা সদস্যের কাজ।

কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়… কেন হত্যার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জিয়াউর রহমানের লাশ গোপনে রাঙ্গুনিয়ায় কবর দেওয়া হলো? কেন দ্রুত সামরিক আদালতে বিচার শেষ করে সাজা কার্যকর করা হলো? আর কেনইবা মূল অভিযুক্ত মেজর খালেদ ও মেজর মোজাফফর পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেন?”

“আজ, ৪৫ বছর পর। পলাতক মেজর মোজাফফফরের গ্রেপ্তার নতুন করে নাড়িয়ে দিয়েছে পুরো জাতিকে।

দীর্ঘদিন ভারতে ‘জয় ব্যানার্জি’ ছদ্মনামে আত্মগোপনে ছিলেন তিনি। গুঞ্জন আছে— ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার আশ্রয়ে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে— সেই ভোরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে আসলে কী ঘটেছিল? মেজর মোজাফফরের ভূমিকা কী ছিল? দেশি-বিদেশি কোন শক্তি এর পেছনে ছিল? আর কেন এত বছর ধরে সত্য চাপা পড়ে ছিল?”

“জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড শুধু একজন সফল রাষ্ট্রপতির মৃত্যু নয়-

এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামরিক ইতিহাসের এক অমীমাংসিত অধ্যায়।

এখন সময় এসেছে সত্য উদঘাটনের। সবার দাবি- একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ জাতীয় তদন্ত কমিশন গঠনের। যেখানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, দেশের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য সংস্থা থাকবে।

জিয়াউর রহমানকে হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রধানতম এই খুনি মেজর মোজাফফরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর কাছ থেকে যে তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, তা পুরো জাতির জন্য অমূল্য।

“ইতিহাসের সত্য উদঘাটন প্রতিহিংসার জন্য নয় — ন্যায়বিচার, জাতীয় আস্থা পুনর্গঠন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সঠিক ইতিহাস রচনার জন্য।

জিয়াউর রহমানের হত্যার রহস্য উন্মোচন এখন আর শুধু দাবি নয় — এটা সময়ের দাবি।”

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo