সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে: এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক — ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান।

0

সরকারের দৃষ্টিকোণ থেকে: এইচএসসি পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক — ছাত্রদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান। 

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যেও এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে কিছু অংশের প্রতিবাদ উঠেছে। তবে শিক্ষামন্ত্রী ড. এএনএম এহসানুল হক মিলনের নেতৃত্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির এই সিদ্ধান্ত ছাত্রদের শিক্ষাজীবনকে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করেছে বলে মনে করছে সরকার।

স্থানীয় প্রশাসন, আবহাওয়া অধিদপ্তর ও শিক্ষা বোর্ডের রিপোর্ট অনুসারে দেশের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র সচল ছিল। মাত্র কয়েকটি জেলায় (বিশেষ করে চট্টগ্রাম বিভাগ) স্থানীয়ভাবে স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। সারাদেশে একযোগে পরীক্ষা স্থগিত করলে একাডেমিক ক্যালেন্ডার পুরোপুরি ভেঙে পড়ত, বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা বিলম্বিত হতো এবং লাখ লাখ শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ত। সরকার এই ঝুঁকি নেয়নি।

শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, “পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” অনেক জেলায় পরীক্ষার্থীরা নিয়মিত অংশ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই থেকে পুনরায় শুরু হবে। যারা আবহাওয়ার কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তাদের জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটি কোনো অবহেলা নয়, বরং দায়িত্বশীলতার প্রমাণ।

প্রতিবাদকারীদের কিছু দাবি যৌক্তিক হলেও, এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অংশ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। শিক্ষা খাতে সরকারের অভূতপূর্ব উন্নয়ন — অবকাঠামো, ডিজিটাল শিক্ষা, বৃত্তি বৃদ্ধি — কে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই ইস্যুকে ব্যবহার করা হচ্ছে। মন্ত্রীকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে “পদত্যাগ” দাবি করা অযৌক্তিক। তিনি সবসময় ছাত্র-অভিভাবকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন।

সরকারের পক্ষ থেকে জোর দেওয়া হয়েছে যে, তিন বছর ধরে মনসুনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল রাখতে কাজ চলছে। আগামী বছরের সময়সূচি আরও বাস্তবসম্মত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় সেনাবাহিনীসহ সরকারি সংস্থাগুলো ত্রাণ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।

ছাত্রদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান: “পড়াশোনায় মনোযোগ দিন। আপনাদের স্বপ্ন পূরণে সরকার পাশে আছে।” প্রতিবাদের নামে রাস্তা অবরোধ করে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টি না করে, সংলাপের পথে সমস্যা সমাধান করা উচিত।

এই সিদ্ধান্ত ছাত্রদের স্বার্থেই নেওয়া হয়েছে। সরকার শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে শক্তিশালী করছে। রাজনৈতিক অপপ্রচারের ঊর্ধ্বে উঠে সকলকে এই ইতিবাচক যাত্রায় শামিল হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo