শিক্ষার্থী আন্দোলনে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া।
কে লাভবান হচ্ছে? কে উস্কানি দিচ্ছে?
গত ১৪ জুলাই।
ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আন্দোলন।
কারণ বন্যা, জলাবদ্ধতা আর প্রশ্নপত্রের ত্রুটি।
কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই চিত্র পাল্টে যায়।
আন্দোলন আর শুধু পরীক্ষার দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকে না।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান ওঠে সামনে।
এরপর মার্চ টু এডুকেশন মিনিস্ট্রি।
সড়ক অবরোধ। দেশের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ।
এখানে কি শুধু শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি কাজ করছে?
নাকি কিছু মহলের রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশও রয়েছে। আসুন দেখে নেয়া যাক-
এ ধরনের আন্দোলনে ঘি ঢালবে আওয়ামী লীগ।
কিছু শিক্ষার্থীকে উস্কে দিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে ফায়দা লুটার চেষ্টা করবে তারা।
অনলাইন প্রচারণায় ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক হিসেবে পরিচিত একাধিক ব্যক্তির সক্রিয়তা দেখা গেছে।
অতীতেও দেখা গেছে—শিক্ষার্থী আন্দোলনে ঢুকে অরাজকতা তৈরি করে পতিত শক্তি ফেরার সুযোগ খোঁজে।
এবারও সেই পুরনো খেলা চলতে পারে।
একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে এনসিপি ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতারা এখন এনসিপির ব্যানারে শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী।
হাসনাত আবদুল্লাহ।
সারজিস আলম।
তাঁদের বক্তব্যে স্পষ্ট—তারা দাবির যৌক্তিক সমাধানের চেয়ে পদত্যাগ চাপ প্রয়োগের পথেই বেশি জোর দিচ্ছেন।
দেশের বন্যা পরিস্থিতি, পরীক্ষা ব্যবস্থাপনার জটিলতা বাদ দিয়ে কি তাঁরা দ্বিতীয় বিপ্লবের স্বপ্ন দেখছেন?
নাজুক পরিস্থিতি তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা কি চলছে?
অনলাইন অ্যাকটিভিস্টদের ভূমিকা আরও সন্দেহজনক।
দেশের বাইরে বসে যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন, তাঁরা বাস্তব পরিস্থিতি বোঝেন না।
বন্যা, জলাবদ্ধতা, পরীক্ষা কেন্দ্রের অবস্থা—এসব সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট দিয়ে পরিমাপ করা যায় না।
তবুও তাঁরা হ্যাশট্যাগ, ভুয়া ছবি আর উত্তেজক কনটেন্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের উসকাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর দোষ কী?
কোচিং ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ।
যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়া।
শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে আনা।
শিক্ষার মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা।
এগুলো কি অপরাধ?
সচেতন অভিভাবকরা বলছেন—বারবার পরীক্ষা পেছালে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয়ে সেশনজট আর মানসিক চাপ বাড়বে।
তাদের মতে, শুধু বন্যাকবলিত এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে বাকি জায়গায় পরীক্ষা চালিয়ে যাওয়াই বাস্তবসম্মত।
এ ধরনের আন্দোলনে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো ভুয়া খবর আর গুজব।
লাশ সংক্রান্ত সংবাদ।
পুরনো সহিংসতার ভিডিও।
বিভ্রান্তিকর ছবি।
এসব দ্রুত ছড়িয়ে শিক্ষার্থীদের উসকে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
কারা এই পরিকল্পিত প্রচারণা চালাচ্ছে?
শিক্ষার্থীদের দাবি উপেক্ষা করা যায় না।
কিন্তু আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে।
আওয়ামী লীগের পুরনো খেলা।
এনসিপি-জামায়াতের চাপ প্রয়োগ।
বিদেশি অ্যাকটিভিস্টদের উস্কানি।
এবং ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি।
এসব থেকে সতর্ক না থাকলে সাধারণ শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দেশের নাজুক পরিস্থিতিতে আর কোনো অস্থিরতা সহ্য করার মতো অবস্থা নেই।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment