শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢালছে কারা, উস্কানি দিচ্ছে কারা?

0

 শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঘি ঢালছে কারা, উস্কানি দিচ্ছে কারা?

গত ১৪ জুলাই রাজধানীর সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আন্দোলন এখন শুধু পরীক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিতে সীমাবদ্ধ নেই। বন্যা, জলাবদ্ধতা ও প্রশ্নপত্রের ত্রুটিকে কেন্দ্র করে শুরু হলেও আন্দোলন দ্রুত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে রূপ নিয়েছে। এর পেছনে কারা ঘি ঢালছে এবং কারা উস্কানি দিচ্ছে—সে প্রশ্ন এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। গোয়েন্দা পর্যালোচনায় উঠে এসেছে অনলাইন প্রভাবশালীদের তালিকা এবং মাঠ পর্যায়ের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের নাম।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে কয়েকজন প্রভাবশালীকে। ইব্রাহিম খলিল শাওন নামের একজনের ফলোয়ার সংখ্যা প্রায় এক লাখ চুয়ান্ন হাজার। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্চারামপুর এলাকার এই ব্যক্তি ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং দাবি করেছেন যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে ফোন করে তার পোস্ট মুছে ফেলতে বলা হয়েছে। মুন্সিগঞ্জের সাদিকুর রহমান সাদাবের ফলোয়ার এক লাখ চৌষট্টি হাজার। তিনি ১২ জুলাই থেকেই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন। নেত্রকোণার ব্যারিস্টার জহিরুল ইসলামের ফলোয়ার পনেরো লাখ। তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণা চালাচ্ছেন। চট্টগ্রামের নুরুল আজিম রনির ফলোয়ার পাঁচ লাখ চার হাজার। তিনিও আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে পরিচিত এবং উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে আন্দোলনকে উত্তপ্ত করছেন।

ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনও সক্রিয়। ময়মনসিংহের ভালুকার তৌহিদ ইসলাম হৃদয়ের ফলোয়ার বত্রিশ হাজার। তিনি বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছেন। ঢাকার মাকসুদুল আলম বাচ্চুর ফলোয়ার সাড়ে পাঁচ হাজার। তিনিও ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত এবং উস্কানিমূলক কনটেন্ট তৈরি করছেন। আসিফ তালুকদারের ফলোয়ার সাতাশি হাজার। তিনিও একই ধরনের প্রচারণায় জড়িত। এছাড়া হাবিবুর রহমান, আরিফ ইস্তিয়াক, টি আর তাহামিদ ইস্তিয়াক, স্ক ইউসুফ ইসলাম রবিনসহ আরও অনেকে নিরপেক্ষ পরিচয়ে উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছেন। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, অনলাইন প্রচারণাকারীদের প্রায় পঁচিশ শতাংশ আওয়ামী লীগ সমর্থক। বাকিরা নিরপেক্ষ হলেও ভিউ ও জনপ্রিয়তার জন্য আন্দোলনকে উসকে দিচ্ছেন।

মাঠ পর্যায়ে সবচেয়ে সক্রিয় দেখা যাচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতাদের। এনসিপির আহ্বায়ক ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়েছেন। পনেরো জুলাই বগুড়ার এক সমাবেশে তিনি শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানান। কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে সমাবেশ করে শিক্ষার্থীদের সমর্থনে শিক্ষামন্ত্রীর সমালোচনা ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বগুড়ায় জুলাই পদযাত্রায় শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে ক্ষমা চাওয়া এবং দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সরাসরি মন্তব্য না করলেও তার দলের নেতাকর্মীরা মাঠে সক্রিয়। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাসির আহমেদও শিক্ষামন্ত্রীর নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগের বিষয়টি সরকারকে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।

এসব তথ্য থেকে স্পষ্ট যে আওয়ামী লীগ সমর্থক ও ছাত্রলীগের কিছু অংশ অনলাইনে ঘি ঢালছে। অন্যদিকে এনসিপির শীর্ষ নেতারা মাঠ পর্যায়ে পদত্যাগের দাবিকে সামনে এনে আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপ দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি উপেক্ষা করা যায় না। কিন্তু ভুয়া খবর, পুরনো সহিংসতার ভিডিও এবং পরিকল্পিত উস্কানির মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা চলছে। আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহল এটিকে কাজে লাগানোর সুযোগ পাবে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসব রাজনৈতিক খেলা থেকে দূরে থাকা জরুরি। অন্যথায় আন্দোলন তাদের হাতছাড়া হয়ে যাবে এবং অন্য কেউ ফায়দা তুলবে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team