এই জেনারেশন সব করে, পড়াশোনা ছাড়া

0

 এই জেনারেশন সব করে, পড়াশোনা ছাড়া

সম্প্রতি ৪৭তম বিসিএস-এ যোগ্য প্রার্থীর অভাবে বহু ক্যাডার পদ ফাঁকা রয়েছে। দেশে চাকরির জন্য লাখ লাখ যুবক হাহাকার করছে, অথচ মেধাবী প্রার্থী না পেয়ে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো খালি পড়ে থাকছে। এই চিত্রটা লজ্জাজনক।

২০২৪-এর কোটা বিরোধী আন্দোলনে প্রায় ১৪০০ মানুষ জীবন দিয়েছেন। মেধার ভিত্তিতে চাকরি চেয়ে এত রক্ত ঝরানোর পরও আজ বিসিএসে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। প্রশ্ন উঠতেই পারে — এত আত্মত্যাগ কি একেবারে বৃথা গেল?

শাহবাগের রাস্তায় দাঁড়িয়ে, রাস্তা অবরোধ করে, মিছিল করে, চাঁদাবাজি করে, কিশোর কালচার চালিয়ে দেশ বদলানো যায় না। একজন ছাত্রের মূল কাজ একটাই — পড়াশোনা করা। পরীক্ষাকে পরীক্ষা মনে করে, শিক্ষামন্ত্রীর ভুল খুঁজে না বের করে, প্রতিদিন পড়ার টেবিলে বসতে হবে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে এটাই আশা করে।

কিন্তু বাস্তবতা কী? আজকের বড় অংশের জেনারেশন রিলস বানায়, ফেসবুকে লাইভ দেয়, আন্দোলন করে, বিপ্লবের স্বপ্ন দেখে — কিন্তু বইয়ের পাতা ওলটাতে চায় না। কোচিংয়ের নোট মুখস্থ করে, শর্টকাট খোঁজে, আর ফলাফল শূন্য। তারপর দোষ দেয় সিস্টেমকে, সরকারকে, সমাজকে।

সত্যি কথাটা কড়া করে বলি: তোমরা রাস্তায় নামতে পারো, কিন্তু পড়ার টেবিলে বসতে পারো না। আন্দোলন করতে পারো, কিন্তু পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পারো না। এই মানসিকতা নিয়ে কোনো জাতি এগোয় না। ১৪০০ শহীদের রক্ত যদি বৃথা না যেতে চাও, তাহলে এখনই পরিবর্তন করো।

ফোন বন্ধ করো। রিলস বন্ধ করো। পড়ার টেবিলে বসো। ৪৭তম বিসিএস-এর ফাঁকা পদগুলো তোমাদের জন্যই অপেক্ষা করছে। জাতি তোমাদের কাছ থেকে মেধাবী প্রশাসক, দক্ষ অফিসার, সৎ কর্মকর্তা চায় — রাস্তার আন্দোলনকারী নয়।

যারা সত্যিকারের পরিবর্তন চাও, তারা রাস্তায় নয়, লাইব্রেরিতে ও পড়ার টেবিলে থাকো। নইলে আন্দোলনের রক্ত, জাতির আশা — সবই বৃথা যাবে।


No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo