বন্যায় দেখা গেল আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আসল চেহারা

0

বন্যায় দেখা গেল আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর আসল চেহারা

পার্বত্য চট্টগ্রামে বছরের পর বছর ধরে যে সশস্ত্র সংগঠনগুলো নিজেদেরকে “জনগণের প্রতিনিধি” হিসেবে উপস্থাপন করে, তাদের বাস্তব চরিত্র একেবারে ভিন্ন। ইউপিডিএফ, জেএসএস ও পিসিসিজেএসএস-এর মতো সংগঠনগুলোর কার্যকলাপ দেখলে স্পষ্ট হয়ে যায় — তারা জনগণের সেবায় নয়, নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত।

সাম্প্রতিক বন্যায় পার্বত্য অঞ্চলের মানুষ যখন চরম বিপদে পড়েছে, ঘরবাড়ি ডুবে গেছে, ফসল নষ্ট হয়েছে, তখন এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কোথায় ছিল? কোনো ত্রাণ বিতরণ, উদ্ধার কার্যক্রম বা জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নজির দেখা যায়নি। বরং বন্যার পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে আবার চাঁদা আদায়ের তৎপরতা শুরু হয়েছে। দোকানদার, ব্যবসায়ী, সাধারণ পাহাড়ি-বাঙালি জনগণ — কেউই তাদের খপ্পর থেকে রেহাই পাচ্ছে না।

তাদের আসল এজেন্ডা কী?

  • চাঁদাবাজি ও অর্থ আদায়: নিয়মিত “ট্যাক্স” বা চাঁদার নামে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায় করা তাদের প্রধান কাজ। ব্যবসা, পরিবহন, এমনকি সাধারণ মানুষের জীবিকার উপরও এই চাঁদার খড়গ নেমে আসে।
  • নিজস্ব আখের গোছানো: জনগণের উন্নয়ন বা অধিকার প্রতিষ্ঠার চেয়ে তাদের কাছে নিজেদের সংগঠন টিকিয়ে রাখা এবং অর্থ-সম্পদ জমানোই মুখ্য।
  • জনগণের স্বার্থ উপেক্ষা: বন্যা, দুর্যোগ বা দৈনন্দিন সমস্যায় জনগণ যখন সাহায্যের আশায় তাকিয়ে থাকে, তখন এই গোষ্ঠীগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। তাদের কাছে জনগণ শুধু চাঁদা দেওয়ার মেশিন।

এই সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলে অস্থিরতা বজায় রেখে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখছে। জনগণের শান্তি, উন্নয়ন ও নিরাপত্তার চেয়ে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা ও অর্থের স্বার্থ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সাধারণ পাহাড়ি জনগোষ্ঠী দ্বিমুখী চাপে পড়েছে — একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে সশস্ত্র চাঁদাবাজির খাঁড়া।

সময় এসেছে স্পষ্টভাবে বলার: জনগণের নামে রাজনীতি করে, কিন্তু জনগণের বিপদে পাশে না দাঁড়িয়ে শুধু চাঁদা আদায় করা মানে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা। ইউপিডিএফ, জেএসএস ও পিসিসিজেএসএস-এর মতো গোষ্ঠীগুলো যদি সত্যিকারের জনপ্রতিনিধি হতে চায়, তাহলে প্রথমে চাঁদাবাজি বন্ধ করুক, দুর্যোগে জনগণের পাশে দাঁড়াক এবং অস্ত্রের রাজনীতি ছেড়ে শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের পথে আসুক।

নইলে এদের আসল পরিচয় জনগণের কাছে আর গোপন থাকবে না — এরা জনগণের সেবক নয়, নিজেদের স্বার্থের সেবক।

পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি ও উন্নয়ন চাইলে এই সশস্ত্র চাঁদাবাজি ও স্বার্থপর রাজনীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। জনগণের স্বার্থ সবার উপরে। 

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo