বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

0

বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

৩০ জুলাই আশুলিয়ায় পাওয়া গেল প্রেশার কুকার বোমা। ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে পাওয়া গেল ছাতার ভেতরে পাইপ বোমা। দুটিই জনবহুল স্থানে, দুটিই অজ্ঞাত পরিচয়ের লোকের রেখে যাওয়া, দুটিই বিস্ফোরণের আগে উদ্ধার হল। নির্বাচন শেষ, বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। ঠিক এই সময়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে।

প্রশ্নটা সোজাসুজি উঠছে—বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে?

২০০৫ সালের স্মৃতি অনেকেরই মনে আছে। সে সময়ও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ক্ষমতায় ছিল। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন খালেদা জিয়া। ১৭ আগস্ট ২০০৫, মাত্র আধাঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬৩ জেলায় প্রায় ৫০০টি বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেসময় জামাআতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) দায় স্বীকার করে। আদালত, সরকারি ভবন, জনসমাগমস্থল—সব জায়গায় বোমা। লিফলেটে ইসলামি শাসনের দাবি। প্রাণহানি কম হলেও সারাদেশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

সেই সময়ও একই প্রশ্ন উঠেছিল। বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এত বড় জঙ্গি তৎপরতা কীভাবে সম্ভব? কেউ কেউ বলেছিলেন, এটি সরকারের ব্যর্থতা। কেউ কেউ বলেছিলেন, এটি পরিকল্পিতভাবে সরকারকে চাপে ফেলার চেষ্টা। সে সময় আওয়ামী লীগ ছিল প্রধান বিরোধী দল। তারাও সরকারের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলার অবনতির অভিযোগ তুলেছিল।

আজকের পরিস্থিতি দেখলে মনে হয়, চক্রটা আবার ঘুরছে।

নির্বাচনে পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ কি এখন আবার সেই পুরনো কৌশল অবলম্বন করছে? দেশে জঙ্গি তৎপরতার ছবি তুলে ধরে নতুন সরকারকে অস্থিতিশীল দেখাতে চাইছে কি? জনগণের কাছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে এই বার্তা দিতে চাইছে যে বিএনপি ক্ষমতায় এলেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হয়?

নাকি এটি আরও জটিল কোনো খেলা? কোনো বিদেশি শক্তি বা আঞ্চলিক স্বার্থগোষ্ঠী বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চাইছে?

২০০৫ সালেও একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছিল। তখনও অনেকে বলেছিলেন, জঙ্গি তৎপরতা শুধু সরকারের ব্যর্থতা নয়, বরং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বাইরের কোনো শক্তির পরিকল্পিত উসকানিও হতে পারে। আজও সেই প্রশ্নগুলো ফিরে এসেছে।

প্রেশার কুকার বোমা বা ছাতায় আইইডি তৈরি করা সহজ কাজ নয়। এতে প্রযুক্তিগত জ্ঞান, উপকরণ ও পরিকল্পনা লাগে। জনবহুল স্থান ও সংবেদনশীল সময় বেছে নেওয়া থেকে বোঝা যায়, উদ্দেশ্য শুধু প্রাণহানি নয়—আতঙ্ক সৃষ্টি এবং সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরা।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় যদি বারবার জঙ্গি বা সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটে, তাহলে সবচেয়ে বেশি লাভ কার হয়? যারা সরকারকে ব্যর্থ দেখাতে চায়, তাদের। যারা জনমনে অবিশ্বাস তৈরি করতে চায়, তাদের। যারা আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়, তাদের।

নতুন সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করা। না হলে পুরনো বয়ান আবার জোরালো হয়ে উঠবে—বিএনপি ক্ষমতায় এলেই জঙ্গি তৎপরতা বাড়ে।

প্রশ্নটা থেকেই যাচ্ছে। ২০০৫ সালে যেমন উঠেছিল, আজও তেমনই। বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে জঙ্গি কার্ড কে খেলে? পতিত ও পরাজিত আওয়ামী লীগ? নাকি কোনো বিদেশি শক্তির ছায়া খেলা? উত্তর না মেলা পর্যন্ত সন্দেহের কালো মেঘ থেকেই যাবে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo