জিয়াউল আহসান মামলার সাক্ষীকে কাফনের কাপড় ও হুমকির চিঠি
রংপুরের হাজিরহাট এলাকায় এক বাড়ির সামনে রবিবার রাতে একটা ছোট ব্যাগ পাওয়া গেছে। ব্যাগের ভিতরে ছিল সাদা কাফনের কাপড় আর একটা চিঠি। চিঠিতে হুমকি লেখা ছিল। বাড়ির মালিক ওয়ারেন্ট অফিসার ইমরুল কায়েস মামুন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্য। আর তিনিই সেই ব্যক্তি, যিনি কয়েক সপ্তাহ আগে আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন যে সাবেক মেজর জেনারেল (কুখ্যাত) জিয়াউল আহসান অনেক মানুষকে গুম করে হত্যা করেছেন।
জিয়াউল আহসান আওয়ামী লীগ সরকারের সময় র্যাবের গোয়েন্দা শাখার পরিচালক ছিলেন। পরে তিনি জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মহাপরিচালকও হয়েছিলেন। সেই সময় অনেক মানুষ রাতের অন্ধকারে উধাও হয়ে যেত। পরিবার খুঁজে পেত না। এখন আদালতে অভিযোগ উঠেছে যে জিয়াউল আহসানের নির্দেশে বা নেতৃত্বে একশোরও বেশি মানুষকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হতো, বস্তায় বেঁধে ফেলা হতো। ইমরুল কায়েস সে সময় জিয়াউল আহসানের দেহরক্ষী বা রানার হিসেবে কাজ করতেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত তিনি তার পাশে ছিলেন।
গত১ জুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিতে গিয়ে ইমরুল কায়েস বলেছিলেন, তিনি নিজের চোখে দেখেছেন অন্তত দেড় থেকে দুই শ মানুষকে বিভিন্নভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিছু অভিযানে তিনি নিজেও সঙ্গে ছিলেন। কিছু অভিযান জিয়াউল আহসান একাই করতেন। সাক্ষ্য দেওয়ার পর কয়েক সপ্তাহ কেটেছে। এখন তার বাড়িতে কাফনের কাপড় এসেছে। মৃত্যুর প্রতীক। হুমকির চিঠি।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে কাপড় আর চিঠি উদ্ধার করেছে। ইমরুল কায়েস হাজিরহাট থানায় জিডি করেছেন। রংপুর মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তারা বলছে, কে পাঠিয়েছে, কেন পাঠিয়েছে, এর পেছনে কোনো বড় পরিকল্পনা আছে কি না—সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদালতের প্রসিকিউশনও বিষয়টি জানতে পেরেছে। তারা সাক্ষীর নিরাপত্তা নিয়ে ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়েছে।
এ ঘটনা শুধু একজনের ওপর চাপ নয়। এটি সেই সময়ের ছায়া। যে সময় মানুষ ভয়ে কথা বলত না। এখন যখন সেই গুম-খুনের কথা আদালতে উঠছে, তখন সাক্ষীদের বাড়িতে কাফনের কাপড় পৌঁছে যাচ্ছে। ইমরুল কায়েস সাক্ষ্য দিয়েছেন বলেই কি এই হুমকি এসেছে?
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মামলায় আরও সাক্ষী এসেছেন। কেউ বলেছেন কীভাবে বন্দিদের চোখ-হাত বেঁধে নদীতে নিয়ে যাওয়া হতো। কেউ বলেছেন গুলির আগে বালিশ ঠেকানো হতো। কেউ বলেছেন লাশের পেট কেটে নদীতে ফেলা হতো। ইমরুল কায়েসের সাক্ষ্য সেই ধারায় আরও একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ যোগ করেছে। তিনি শুধু দেখেছেন না, অনেক সময় লাশ সরানোর কাজেও যুক্ত ছিলেন বলে স্বীকার করেছেন। সেই স্বীকারোক্তিই এখন তার ওপর হুমকি ডেকে আনছে।
পুলিশ তদন্ত করছে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়। আওয়ামী আমলের সেই গুম-খুনের কাহিনি যখন আদালতে উঠছে, তখন পুরনো শক্তিরা কি আবার চাপ তৈরি করছে? কাফনের কাপড় শুধু একটা কাপড় নয়। এটি একটা বার্তা। বার্তাটি পরিষ্কার—কথা বললে এর পরিণতি হতে পারে মৃত্যু। এরকম একজন কুখ্যাত লোকের পক্ষে এখনও সাফাই গাইছে আওয়ামী লীগ। এখনো তাদের সোশ্যাল মিডিয়া থেকে জিয়াউল আহসানকে হিরো হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment