আবু উবাইদা অরিনের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ

0


আবু উবাইদা অরিনের
রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ

গত আগস্ট ২০২৬ তারিখে ভারতের নয়াদিল্লিতে Foreign Correspondents' Club of South Asia আয়োজিত ‘Sheikh Hasina’s Homecoming’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মী আবু উবাইদা অরিন বক্তব্য রাখেন। সাতক্ষীরা সদর থানার পাশের মুনজিতপুর নিচুতলা এলাকার এই বাসিন্দা বর্তমানে ভারতে পড়াশোনা করছেন বলে জানা যায়। অনুষ্ঠানে তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় অংশ নেন এবং সেখানেই রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীকে প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগ তোলেন।

তার বক্তব্যে তিনি দাবি করেন যে, ARSA ও RSO নামের রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী বাংলাদেশ সীমান্তের অভ্যন্তরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এসব গোষ্ঠী ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে। একই সঙ্গে তিনি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ থেকে ৩৬ জনের বেশি ‘জঙ্গি’ পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন।

তবে এসব অভিযোগের সমর্থনে তিনি কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ, সরকারি নথি, তদন্তের ফলাফল, নির্ভরযোগ্য সূত্র বা যাচাইযোগ্য তথ্য উপস্থাপন করেননি। কোনো স্বতন্ত্র অনুসন্ধান বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনেও এ ধরনের দাবির সমর্থন পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলেই প্রতীয়মান হয়।

আবু উবাইদা অরিন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত একজন সক্রিয় রাজনৈতিক কর্মী। তার এই বক্তব্য রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই মনে হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রশিক্ষণের সঙ্গে জড়িয়ে তিনি বাংলাদেশকে একটি জঙ্গি ও সন্ত্রাসী রাষ্ট্র হিসেবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক স্বার্থ ও এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ ধরনের অপ্রমাণিত তথ্য ছড়ানো হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অরিনের বয়স প্রায় ২৫ বছর। তিনি সাতক্ষীরার জাহান প্রেসের মালিক আবু সোয়েব এবেলের বড় ছেলে। লেখাপড়ার জন্য ভারতে অবস্থান করছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়ভাবেও আলোচনা হয়েছে। তবে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ এ বিষয়ে অবগত নয় বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় মানবিক ভূমিকা পালন করে আসছে। সেনাবাহিনীকে এভাবে অপ্রমাণিত অভিযোগের মাধ্যমে কলঙ্কিত করার চেষ্টা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার শামিল। এ ধরনের মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।

অরিনের এই বক্তব্যে কোনো সত্যতা না থাকায় তা প্রত্যাখ্যানযোগ্য এবং দায়িত্বহীন বলেই বিবেচিত হচ্ছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo