ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, সর্বশেষ সমকামী বিয়ের বিতর্ক

0

 


২০২৩ সালের ১ এপ্রিল শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে চলমান নানাবিধ অনিয়ম, দুর্নীতি ও সেবায়েতবিহীন পরিচালনার অবসান ঘটিয়ে প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন যে, কিছু গোষ্ঠী সাময়িক অনুমতি নিয়ে পূজা করতে এসে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে ফেলেছে। তারা মন্দিরকে অর্থ উপার্জনের উৎস হিসেবে বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করছে। একজন বিদেশি নাগরিককে গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পদে বসিয়ে দান-অনুদানের টাকা দেশের বাইরে পাচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়। মন্দিরের নামের সঙ্গে “জাতীয়” উপাধি ব্যবহার করে বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়া, মন্দির চত্বরে বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণ এবং পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত ভবন বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠে। সেবায়েতকে অধিকার থেকে সরিয়ে দেবোত্তর সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা চলছে বলেও বক্তারা অভিযোগ করেন। মন্দিরে আসা দেশি-বিদেশি অতিথিদের দান-অনুদানের স্বচ্ছ হিসাব নেই বলেও দাবি করা হয়। জমি সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের পরও কৃত্রিম জটিলতা তৈরি করে স্থানীয়দের সঙ্গে সম্প্রীতি নষ্ট করা হচ্ছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়।

এই অভিযোগগুলোর ধারাবাহিকতায় পরবর্তী বছরগুলোতেও মন্দির পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে। দেবোত্তর সম্পত্তির দখল, বাণিজ্যিকীকরণ এবং স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা অব্যাহত থাকে। মন্দিরের জমির একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত অবস্থায় রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেকের দাবি, মন্দির পরিচালনাকারীরা সম্পত্তি রক্ষায় যথাযথ উদ্যোগ না নিয়ে বরং ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন।

সবচেয়ে সাম্প্রতিক ও বিতর্কিত ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের জুলাই মাসে। ঢাকেশ্বরী মন্দির প্রাঙ্গণে এক ট্রান্সজেন্ডার ব্যক্তি ও এক হিন্দু যুবকের মধ্যে ধর্মীয় রীতিতে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয় বলে খবর প্রকাশিত হয়। দেশের প্রচলিত আইনে সমকামিতা ও সমলিঙ্গের বিবাহ নিষিদ্ধ এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়া সত্ত্বেও এমন আয়োজন হওয়ায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন সংগঠন ও বিশিষ্ট নাগরিকরা এ ঘটনাকে আইনের প্রতি অবজ্ঞা, সামাজিক মূল্যবোধের পরিপন্থী এবং ধর্মীয় পবিত্র স্থানের অপব্যবহার বলে অভিহিত করেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন—মন্দির কর্তৃপক্ষ কীভাবে এমন আয়োজন অনুমোদন বা সহ্য করলেন? কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়, মন্দির কর্তৃপক্ষ পরে দাবি করে যে তারা বিষয়টি জানতেন না এবং নথিপত্রে জালিয়াতি হয়ে থাকতে পারে। তবুও ঘটনাটি মন্দিরের পরিচালনা ও নৈতিক অবস্থান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তোলে।

এসব অভিযোগ ও ঘটনা মিলিয়ে অনেকেই মনে করেন, ঢাকেশ্বরী মন্দির দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং বিতর্কিত কার্যকলাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সেবায়েত ব্যবস্থার দুর্বলতা, আর্থিক হিসাবের অস্বচ্ছতা, সম্পত্তির বাণিজ্যিকীকরণ এবং আইন ও সামাজিক রীতিনীতির প্রতি উদাসীনতা—এসব বিষয় বারবার আলোচনায় এসেছে। মানববন্ধন থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক বিতর্ক পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে উঠে আসা অভিযোগগুলো মন্দির পরিচালনার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার প্রয়োজনীয়তাকেই সামনে নিয়ে এসেছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo