জুলাই অভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার আওয়ামী লীগের মিথ্যা ন্যারেটিভ: পুরোনো ভিডিও-নতুন ক্যাপশনের ডিজিটাল কৌশল

0

জুলাই অভ্যুত্থানকে মুছে ফেলার আওয়ামী লীগের মিথ্যা ন্যারেটিভ: পুরোনো ভিডিও-নতুন ক্যাপশনের ডিজিটাল কৌশল

রাজনৈতিক অঙ্গনে তথ্যযুদ্ধ এখনো তীব্র। জুলাই ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক পরিবর্তন এসেছে, তাকে মুছে ফেলতে পতিত আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনগুলো সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন করে পুরোনো ভিডিও, ছবি ও ঘটনাকে বিকৃত করে প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি তাদের দীর্ঘদিনের ডিজিটাল প্রোপাগান্ডারই ধারাবাহিকতা।

সম্প্রতি তুরাগ নদীতে সাধারণ মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা পুরোনো দুর্ঘটনার ভিডিও ও ছবি ব্যবহার করে দাবি করছে যে, রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগ কর্মীরা। কিন্তু পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে—এ ধরনের কোনো গণহত্যা বা রাজনৈতিক হামলা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত মরদেহগুলো দুর্ঘটনাজনিত। তবু ভাইরাল পোস্টগুলোতে পুরোনো ফুটেজ নতুন তারিখ ও ক্যাপশন দিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

সবচেয়ে বড় প্রোপাগান্ডা চলছে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে। নিষিদ্ধ দলটির সমর্থকরা কয়েক বছর আগের বড় মিছিল, সমাবেশের ছবি-ভিডিও নিয়ে নতুন করে “জনসমর্থন” দেখানোর চেষ্টা করছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সময়কার ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ভিডিওকেও বিকৃত করে আওয়ামী লীগ কর্মীদের ওপর “হামলা” হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। এই কৌশলে মূলত জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানকে “ষড়যন্ত্র” বা “বিদেশি চক্রান্ত” হিসেবে উপস্থাপন করে দলটির অত্যাচার, গুম, খুন ও দুর্নীতির ইতিহাসকে ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে।

কেন এই মিথ্যা ন্যারেটিভ সফল হওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে? প্রথমত, পুরোনো ভিডিও আসল দেখে মানুষ সহজে আবেগে ভাসে। দ্বিতীয়ত, আবেগীয় কনটেন্ট সোশ্যাল মিডিয়া অ্যালগরিদমে দ্রুত ছড়ায়। তৃতীয়ত, অনেকে যাচাই না করেই শেয়ার করে। ফলে জুলাই অভ্যুত্থানের সত্য ইতিহাসকে বিকৃত করে একটি মিথ্যা ভিকটিম ন্যারেটিভ তৈরি করা হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, “জুলাইকে ভুলিয়ে দিতে আওয়ামী লীগ এখন তথ্যযুদ্ধের নতুন অস্ত্র ব্যবহার করছে। নিষিদ্ধ হওয়ার পরও তারা ফেক অ্যাকাউন্ট ও সমর্থক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে, যাতে জনগণের অর্জিত গণতান্ত্রিক পরিবর্তনকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়।”

তুরাগ নদীর ঘটনায় দেখা গেছে, মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শত শত অ্যাকাউন্ট থেকে একই ধরনের বিকৃত পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সমস্যা মোকাবিলায় ফ্যাক্ট-চেকিং, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং প্ল্যাটফর্মের সতর্কতা জরুরি। সাধারণ নাগরিকদের উচিত জুলাইয়ের স্মৃতি রক্ষায় সত্য যাচাই করে তথ্য প্রচার করা।

জুলাই অভ্যুত্থানের নায়করা ও সাধারণ জনতা বলছেন, “একটি মিথ্যা ন্যারেটিভ দিয়ে ইতিহাসকে মুছে ফেলা যাবে না। আমরা সত্যের সঙ্গে আছি।”

তথ্যযুদ্ধের এই নতুন রূপ গণতন্ত্রের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাইয়ের রক্তঝরা সংগ্রামকে বিকৃত না করে, সত্যকে ধরে রাখা ও প্রচার করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সত্য যাচাই না করে কোনো প্রোপাগান্ডায় বিশ্বাস না করাই এখন সময়ের দাবি।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo