বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথা চাড়া দেওয়া কেন সম্ভব নয়

0

 বাংলাদেশে উগ্রবাদ মাথা চাড়া দেওয়া কেন সম্ভব নয়

পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ফিলিস্তিনে উগ্রবাদের উত্থানের পেছনে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক জটিলতা, জাতিগত সংঘাত, ধর্মীয় উন্মাদনা, অস্ত্রের প্রাচুর্য ও ঐতিহাসিক অস্থিরতা। বাংলাদেশে এসব কারণের কোনোটিই নেই। তাই এখানে উগ্রবাদ বড় আকারে টিকতে পারে না।

প্রথমত, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে অবাধ অস্ত্র ও জঙ্গি প্রবাহ, সোভিয়েত-আফগান যুদ্ধ ও ৯/১১-এর পরবর্তী হস্তক্ষেপ উগ্রবাদকে পুষ্ট করেছে। ফিলিস্তিনে দখলদারিত্ব ও দীর্ঘ সংঘাত একই ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে এমন স্থায়ী যুদ্ধক্ষেত্র নেই। ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর দেশ শান্তিপূর্ণভাবে গড়ে উঠেছে। সীমান্ত সাধারণত স্থিতিশীল, পুশইন পুশব্যাক সে তুলনায় সামান্য।

দ্বিতীয়ত, জাতিগত সংঘাত ও অস্ত্র। পাকিস্তানে পাঞ্জাবি-পাঠান-বেলুচ বিভেদ, আফগানিস্তানে পশতুন-তাজিক সংঘাত উগ্রবাদকে জ্বালানি দেয়। অস্ত্র সহজলভ্য। বাংলাদেশ প্রায় পুরোপুরি বাঙালি-প্রধান। জাতিগত বিভেদ নগণ্য। অস্ত্র নিয়ন্ত্রিত।

তৃতীয়ত, ধর্মীয় উন্মাদনা বনাম সিনক্রেটিক ঐতিহ্য। পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ওয়াহাবি-দেওবন্দি কঠোর ব্যাখ্যা প্রভাবশালী। বাংলাদেশে ইসলাম সুফি-প্রভাবিত ও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে মিশ্রিত। সুফি পীর, লালন-বাউল, পুঁথি সাহিত্যে হিন্দু-মুসলিম সম্প্রীতি গভীর। বাঙালি মুসলমান ধর্ম পালন করেন, কিন্তু ধর্মীয় উন্মাদনার ঊর্ধ্বে ভাষা, সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদকে প্রাধান্য দেন। ১৯৭১ ছিল ধর্মের ঊর্ধ্বে বাঙালি পরিচয়ের যুদ্ধ।

বাংলাদেশের মানুষ ধর্মীয় আবেগের বাইরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। গ্রামে-শহরে হিন্দু-মুসলিম পাশাপাশি বাস করে, উৎসব একসঙ্গে উদযাপন করে। এই সম্প্রীতি উগ্রবাদের বিপরীত।

এছাড়া নারী শিক্ষা, কর্মসংস্থান (গার্মেন্টস) ও অর্থনৈতিক প্রগতি যুবসমাজকে উগ্রবাদ থেকে দূরে রাখে। পাকিস্তান-আফগানিস্তানে মাদ্রাসা-কেন্দ্রিক শিক্ষা ও নারীর পশ্চাদপদতা ভিন্ন চিত্র তৈরি করে।

উপসংহারে, বাংলাদেশের মাটি, বাঙালি ঐতিহ্য ও মানুষের চরিত্র উগ্রবাদের অনুকূল নয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা কখনো কখনো ছোট সমস্যা তৈরি করলেও, সহনশীলতা, সম্প্রীতি ও বাঙালিয়ানা তা বড় আকারে মাথা তুলতে দেবে না। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।


No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo