“ইসলামীকরণ” নাকি জাতীয় পরিচয়ের প্রতিফলন?

0

 “ইসলামীকরণ” নাকি জাতীয় পরিচয়ের প্রতিফলন?

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন ব্যাটালিয়ন নিয়ে অযথা বিতর্ক


সম্প্রতি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি নবগঠিত ব্যাটালিয়নের চারটি কোম্পানির নামকরণ করেছে ইসলামের খোলাফায়ে রাশেদীন—হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.), হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.), হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) এবং হযরত আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর নামে।

এই খবর প্রকাশের পর ডাক্তার আইজুদ্দিনের মতো কিছু ব্যক্তি এবং নর্থ ইস্ট নিউজের মতো কিছু মাধ্যম এটাকে “সেনাবাহিনীর মধ্যে ইসলামীকরণের লক্ষণ” বলে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবতা কি তাই?

ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে এর আগেও বিভিন্ন ইউনিটের কোম্পানিগুলোর নামকরণ করা হয়েছে বীরশ্রেষ্ঠদের নামে — যাঁরা ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, সিপাহী হামিদুর রহমান, সিপাহী মোস্তফা কামালসহ সাতজন শহীদের নামে ইতোমধ্যে সম্মান প্রদর্শন করা হয়েছে।

খলিফাদের নামকরণ সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। একটি মুসলিম-প্রধান দেশে জাতীয় বীরদের পাশাপাশি ইসলামী ইতিহাসের মহান ব্যক্তিত্বদের নামে সেনা ইউনিটের নামকরণ খুবই স্বাভাবিক।

একটু খেয়াল করে দেখুন- আওয়ামী লীগের আমলে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নাম হযরত শাহজালাল (র.)-এর নামে, চট্টগ্রামের বিমানবন্দর শাহ আমানত (র.)-এর নামে করলে এগুলোকে কেউ “ইসলামীকরণ” বলে চিৎকার করে না। তাহলে সেনাবাহিনীর কোম্পানির নাম খলিফাদের নামে হলে হঠাৎ এত সমস্যা কেন?

আমি তো মনে করি, এই তালিকায় আরও একটি নাম যোগ করা উচিত — হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা.)। তিনি “সাইফুল্লাহ” (আল্লাহর তরবারি) উপাধিতে ভূষিত, ইসলামের ইতিহাসের অন্যতম সর্বশ্রেষ্ঠ সামরিক কৌশলবিদ। রোমান ও পারস্য সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তাঁর বিজয়গুলো আজও যুদ্ধবিদ্যায় অনুপ্রেরণা। তাঁর নামে একটি কোম্পানি বা ব্যাটালিয়ন হলে সেনাসদস্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে আরও বেশি অনুপ্রাণিত হবেন।

প্রশ্ন হলো-

যারা এই নামকরণে আপত্তি করছেন, তাঁরা আসলে কী চান? ব্যাটালিয়নের কোম্পানির নাম কি রামায়ণ-মহাভারতের চরিত্র বা নারায়ণ-রামচন্দ্রের নামে রাখা হোক?

বাংলাদেশের সংবিধানে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের ৯০% এর বেশি মানুষ মুসলমান। এখানে সেনাবাহিনী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা জনজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইসলামী ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো কোনো “অপরাধ” নয়, বরং জাতীয় পরিচয়ের স্বাভাবিক প্রকাশ।

সেনাবাহিনী মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় গড়ে উঠেছে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুপ্রেরণা ও জাতীয় গৌরব একসাথে চলতে পারে — এতে কোনো বৈপরীত্য নেই।

যারা এটাকে সমস্যা বানাচ্ছেন, তাদের আসলে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়েই সমস্যা।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে শক্তিশালী, পেশাদার ও জনগণের আস্থাভাজন রাখতে এ ধরনের ইতিবাচক উদ্যোগকে স্বাগত জানানো উচিত।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo