রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আম্মারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম

0


 রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আম্মারের সন্ত্রাসী কার্যক্রম

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির রিডিং রুম। জ্ঞানচর্চার স্থান। সেখানেই সোমবার (২৭ জুলাই) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যে দৃশ্য দেখা গেছে, তা কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য শোভনীয় নয়। রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের হাতে লাঠি, বেলচা। তার সঙ্গে শিবির নেতাকর্মীরা। তিন শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ। ভিডিওতে দেখা যায়, আম্মারকে বেলচা হাতে লাইব্রেরির দিকে এগোতে চেষ্টা করতে, সহকর্মীরা তাকে আটকানোর চেষ্টা করছে। ভেতরে লাঠি, বাঁশ, রড, বেল্ট দিয়ে হামলার দৃশ্য।

এতদিন তার মুখের অশ্লীল বাক্য, গালিগালাজ, শিক্ষক-কর্মকর্তাদের প্রতি হুমকিমূলক পোস্ট শোনা যেত। এখন সেই ভাষা বাস্তবে রূপ নিয়েছে দেশীয় অস্ত্র হাতে প্রকাশ্য উপস্থিতিতে। প্রক্টর অফিস থেকে শুরু করে রাকসু ভবন, তারপর লাইব্রেরি—ঘটনার ধারাবাহিকতায় আম্মার ও তার সঙ্গীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশ্নটা সোজা। সে কি ছাত্রলীগ হয়ে উঠছে? ছাত্রলীগের যে সংস্কৃতি একসময় ক্যাম্পাসকে জিম্মি করে রেখেছিল—লাঠি, হুমকি, প্রতিপক্ষকে চিহ্নিত করে মারধর—সেই সংস্কৃতিরই প্রতিচ্ছবি কি এখন নতুন মুখোশে ফিরে আসছে? আম্মার নিজে জুলাই অভ্যুত্থানের সমন্বয়ক ছিলেন। আধিপত্যবিরোধী ঐক্যের ব্যানারে জিএস হয়েছেন। কিন্তু ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পর তার আচরণে যে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে, তাতে অনেকের মনেই এই তুলনা জাগছে।

আরও গভীর প্রশ্ন—শিবিরের রগকাটা প্রকৃতি কি আবার ফিরে আসছে? রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের অতীত ইতিহাস কেউ ভোলেনি। নব্বইয়ের দশক থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে যে সহিংসতার ধারা দেখা গিয়েছিল, তার ছায়া কি আবার ঘন হচ্ছে? রাকসুতে শিবির-সমর্থিত নেতৃত্বের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। আম্মার যদিও আলাদা প্যানেল থেকে এসেছেন, বাস্তবে তার কর্মকাণ্ডে শিবির নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ও সমন্বয় স্পষ্ট। লাইব্রেরির ঘটনায় শিবির নেতাদের নামও উঠে এসেছে।

একে থামানোর কেউ নেই? প্রশাসন কোথায়? প্রক্টরিয়াল বডি কী করছে? পুলিশ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছে, কিন্তু মূল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেই। শিক্ষার্থীরা ভয়ে কথা বলতে চাইছে না। যারা মার খেয়েছে, তারা হাসপাতালে। প্রতিবাদ করলে পরের লক্ষ্য হওয়ার ভয়।

বিশ্ববিদ্যালয় মানে শুধু ডিগ্রি নয়। এটা চিন্তার স্বাধীনতার জায়গা। লাইব্রেরিতে লাঠি-বেলচা নিয়ে ঢোকা, শিক্ষার্থীদের মারধর—এসব কোনো ছাত্রনেতার কাজ নয়। এটা সন্ত্রাসী কার্যক্রমেরই নামান্তর। যারা একসময় ছাত্রলীগের সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিল, তারাই যদি একই পথে হাঁটে, তাহলে জুলাইয়ের আদর্শ কোথায় গেল?

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এই সংস্কৃতি চলতে দিলে ক্যাম্পাস আবার সেই পুরনো অন্ধকারে ফিরে যাবে। আম্মারকে থামানোর দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়—সচেতন শিক্ষার্থী সমাজেরও। নইলে আজ লাইব্রেরি, কাল পুরো ক্যাম্পাস।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo