টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, সেনাবাহিনী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার-ত্রাণ অব্যাহত

0


টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানে ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত, সেনাবাহিনী ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে উদ্ধার-ত্রাণ অব্যাহত

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে প্রায় ১৫১ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জুলাই মাসের প্রথমার্ধে আট দিনের অবিরাম বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে জেলার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতায় প্রায় ৬১ কিলোমিটার এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও স্থানীয় সরকারের আওতায় আরও প্রায় ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একাধিক সেতু ও কালভার্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পাহাড়ধস ও সড়কের ওপর মাটি জমে যাওয়ার কারণে রুমা, থানচি, রোয়াংছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার সঙ্গে জেলা সদরের সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বান্দরবান-রাঙ্গামাটি সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেইলি সেতু ধসে পড়ায় প্রায় দুই সপ্তাহ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ছিল।

এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, সেনাবাহিনী ভূমিধসের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে প্রায় ২২১টি পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছে। বান্দরবান থেকে ১৪০ জন পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। সাজেকে আটকে পড়া প্রায় ৬০০ পর্যটকের মধ্যে প্রথম ধাপে ১৫০ জনকে নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করা হয়।

সেনাবাহিনীর প্রকৌশল ইউনিট ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পাহাড়ধসের মাটি ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ পুনরুদ্ধারে কাজ করেছে। রুমা সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কার করা হয়। পাশাপাশি রান্না করা খাবার, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১২২টি পরিবারের (যার মধ্যে ১১৬ জন পর্যটক) প্রায় ৬০০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়। খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ৪৮ জনকে জরুরি চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়। বান্দরবান-রোয়াংছড়ি সড়কে গাছ ও ধ্বংসাবশেষ অপসারণ করে যোগাযোগ সচল করা হয়।

জেলা প্রশাসন ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে এবং জরুরি কন্ট্রোল রুম চালু রেখেছে। ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম উপজেলা পর্যায়ে অব্যাহত রয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও সড়ক মেরামতে কাজ করেছে। রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কের ধসে পড়া বেইলি সেতু ১৩ দিন পর সংস্কার করে পুনরায় চালু করা হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের মেরামত ব্যয় নির্ধারণ করে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও বেসামরিক প্রশাসনের সমন্বিত প্রয়াস স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।








No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo