জামায়াত নেতাদের নৈতিক স্খলন, দ্বিচারিতা ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের রাজনীতি (আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার)

0


জামায়াত নেতাদের নৈতিক স্খলন, দ্বিচারিতা ও ড্যামেজ কন্ট্রোলের রাজনীতি (আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার)

জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নৈতিকতার দুর্গ বলে দাবি করে এসেছে। তারা সমাজে নারী পর্দা, পারিবারিক মূল্যবোধ ও ইসলামী আদর্শের কথা বলে ভোট চায়। কিন্তু বাস্তবে তাদের নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের অনেক ঘটনা সেই দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। সাম্প্রতিক সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ঘটনা এর সর্বশেষ উদাহরণ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, এমপি এক তরুণীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। প্রথমে দল ও সমর্থকরা দাবি করেন, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি। পরে এমপি নিজেই বলেন, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী। বিয়ের কাবিননামা ও পরিবারের সম্মতির কথাও তোলা হয়। কিন্তু বায়োডাটায় দেখা যায়, দাবিকৃত বিয়ের পরও তরুণীকে ‘অবিবাহিত’ দেখানো হয়েছে এবং এমপি নিজেই তাতে সুপারিশ করেছেন। তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করে। এটাই তাদের ড্যামেজ কন্ট্রোল—আগে অস্বীকার, পরে স্বীকার, তারপর বহিষ্কার।

এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে জামায়াত নেতাদের ব্যক্তিগত জীবনের ভিডিও ফাঁস হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নেতাদের নৈতিক স্খলনের অভিযোগ উঠেছে। ভিডিও ফাঁস হলেই প্রথমে ‘ষড়যন্ত্র’ বা ‘এআই’ বলে চালানোর চেষ্টা হয়। ব্যর্থ হলে দ্রুত দলীয় ব্যবস্থা নিয়ে ভাবমূর্তি রক্ষার চেষ্টা চলে। এটা নীতির প্রয়োগ নয়, রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ।

জামায়াতের নীতির দ্বিচারিতা আরও স্পষ্ট হয় নারী ইস্যুতে। একদিকে তারা নারী সুরক্ষা, আলাদা পরিবহন, কর্মঘণ্টা কমানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। অন্যদিকে দলের শীর্ষ পদে নারীকে অযোগ্য ঘোষণা করে। নারীকে ‘আমির’ হিসেবে পুরুষকেই মানতে হয়—এমন ব্যাখ্যা তারা দিয়ে থাকে। অথচ নিজেদের নেতারা যখন নৈতিক সীমারেখা লঙ্ঘন করেন, তখন সেই একই নীতির কঠোর প্রয়োগ হয় না। বরং ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের রাজনীতিই প্রাধান্য পায়।

এই দ্বিচারিতা দলের আদর্শিক অবস্থানকে দুর্বল করে। যারা সমাজে নৈতিকতার পাহারাদার সেজে রাজনীতি করেন, তাদের নিজেদের ঘরের অভ্যন্তরীণ স্খলন জনগণের আস্থা নষ্ট করে। বারবার ভিডিও ফাঁস হওয়া এবং তারপর দ্রুত বহিষ্কারের কৌশল দেখিয়ে দিচ্ছে—জামায়াত নৈতিকতার চেয়ে রাজনৈতিক টিকে থাকাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। নীতির নামে যে আদর্শ তারা প্রচার করেন, বাস্তবে তার প্রয়োগেই তারা ব্যর্থ।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo